Thursday, January 5, 2017

বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস!

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও আশপাশের দেশগুলোতে ২৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর হয়েছে চার। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একই দিনে দুটি ভূমিকম্প হয়। অবস্থানগত কারণে এগুলো ততটা শক্তিশালী না হলেও তা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছরের সার্বিক পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। ছোট ছোট এই ভূমিকম্পগুলো যদিও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ডেকে আনেনি তবে এটি তার সতর্কবার্তা দিচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে।
২০১৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে নেপালে সংঘটিত ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। গত বছরের ৪ জানুয়ারি মনিপুরের ইম্ফলে সংঘটিত হয় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। গত পাঁচ বছর আগে সিকিমে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সিকিমে একটি, আসামে ছয়টি, মেঘালয়ে একটি, পশ্চিমবাংলায় তিনটি, মিজোরামে দুটি এবং মিয়ানমারে একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পগুলোর সবই ৫ দশমিক ৭ মাত্রার চেয়ে কম হলেও তা বাংলাদেশে অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভৈরবে ৩ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। তার মাত্র ছয়দিন পর রাঙামাটিতে ৪ দশমিক ২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হয়।১৭ এপ্রিল রংপুরের চিলমারীতে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি এবং খুলনার শরণখোলায় ৪ দশমিক ২ মাত্রায় আরও একটি ভূমিকম্প হয়।

আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, গেল বছর একই মাসে তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর ঢাকা থেকে ১৫৬ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। একই বছরের ২৩ আগস্ট ঢাকা থেকে ২৬২ কিলোমিটার দূরে রংপুরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হয়েছে। এর তিনদিন পর ২৬ আগস্ট ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা বান্দরবানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ । ১৫ নভেম্বর ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হয়। এটি দেশের সিলেট অঞ্চলে আঘাত হানে।
এছাড়া গত চার বছর আগে সিলেটে ৪ দশমিক ২ ও পাঁচ বছর আগে ঢাকার দোহারে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এছাড়া চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহেই গত ৩ জানুয়ারি পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রথমটি বিকেলে ভারতের ত্রিপুরা থেকে উৎপত্তি হয়ে সারাদেশে অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। এটি ঢাকা থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরে ভারতের ত্রিপুরায় উৎপত্তি হয়।
একই দিন রাত ১২টা ৫২ মিনিটে আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এটির উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মাওলাইক এলাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৯৩ দশমিক ২ কিলোমিটার।
গত ৯০ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প হয়নি। আমরা বলি অতীতে হয়েছে বর্তমানেও হতে পারে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশে যে ভূমিকম্প হচ্ছে সেগুলো আমাদের জন্য ঝুঁকি না, সতর্কবার্তা।
বিগত সময়ে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্য এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।এসব ভূমিকম্প খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও দেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

No comments:

Post a Comment