Saturday, January 7, 2017

পিতার আর্তনাদ: ‘ছেলের মুখ থেকে শুনতে পারলাম না, সে সত্যি জঙ্গি কি না!’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নুরুল ইসলাম মারজান যদি সত্যি জঙ্গি হয়ে থাকে, তবে তার উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে মনে করছেন তার মা-বাবা।গ্রামের বাড়িতে শোকাচ্ছন্ন স্বজনরা,তার মা কাঁদছেন;শোকে বিহ্বল বাবা নিজাম উদ্দিন। তিনি বললেন, ‘মারজান যদি অপরাধী হয়, তাহলে সরকার তার বিচার করেছে। তবে ছেলের মুখ থেকে শুনতে পারলাম না যে, সে সত্যি জঙ্গির সঙ্গে জড়িত কি না। এখন সরকার যদি আমার ছেলের লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে দাফনের ব্যবস্থা করব। আর না দিলে আমার সামর্থ্য নেই যে ঢাকায় গিয়ে ছেলের লাশ নিয়ে আসব।’
ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন মারজানসহ দুজন। মারজানের বাড়ি পাবনার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া গ্রামে। ১০ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন মারজান।পড়ালেখা করতেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে। গত বছরের জানুয়ারিতে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসে খালাতো বোন প্রিয়তীকে বিয়ে করে চলে যান চট্টগ্রামে। তার পর থেকে যোগাযোগ ছিল না পরিবারের সঙ্গে। এর মাঝে গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনায় আসে মারজানের নাম। গত আগস্টে তার ছবি প্রকাশ করে নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে মারজানকে নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার হিসেবে দাবি করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এর পর ১৫ আগস্ট তার নাম-পরিচয় উদ্ঘাটন করেন পাবনার গণমাধ্যমকর্মীরা।টেলিভিশনে মারজানের নিহতের খবর জানতে পারেন এলাকাবাসীসহ তার স্বজনরা। তার মৃত্যুতে খুশি আফুরিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ।মারজানের বাড়িতে সাধারণ মানুষের ভিড়। কেউ আসছেন, কেউ ফিরছেন। মারজানের মা সালমা খাতুন ঘরে বসে কাঁদছেন। শোকে বিহ্বল মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন।
মারজান এলাকায় থাকার সময় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু কীভাবে সে জঙ্গির পথে পা বাড়িয়েছে, তা কেউ বুঝতে পারেননি। তবে সে যেহেতু সন্ত্রাসের পথে ছিল, তাই তার মৃত্যুতে খুশি তারা। এলাকাবাসীর দাবি, আর যেন কেউ এভাবে জঙ্গি সন্ত্রাসের পথে পা না বাড়ায়।মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন জানান,প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ছেলের নিহতের খবর জানতে পারি। এখন মারজান যদি অপরাধী হয়, তাহলে সরকার তার বিচার করেছে। তবে ছেলের মুখ থেকে শুনতে পারলাম না যে, সে সত্যি জঙ্গির সঙ্গে জড়িত কি না। মারজানের মা সালমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের মতো ছেলে এলাকায় নেই, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন। তবে আমার ছেলে অপরাধ করছে, তাই তার শাস্তি হইছে, আমার কিছু বলার নাই। আমার কোনো দাবি বা চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। আমিতো আগেই বলেছিলাম, মারজান যদি অপরাধী হয়, তাহলে তার সাজা হোক।

No comments:

Post a Comment