সৌদি নারীর রঙিন পোশাকে উত্তেজক মিউজিক ভিডিও
কালো হিজাবে ঢাকা চুল। চোখ দুটি বাকি রেখে নেকাব ঢেকে নিয়েছে মুখমণ্ডলের পুরোটা। তবে বোরকা ও স্কার্ফ উপেক্ষা করে উড়ছে তিন সৌদি নারীর রঙিন পোশাক। সোল্লাসে স্কেট ভাসিয়ে, স্কুটার চালিয়ে চিত্তাকর্ষক সুরে গান করে যাচ্ছেন তারা— ‘সব পুরুষ বিস্মৃতিতে ডুবে যেত এবং যদি একমাত্র ঈশ্বর আমাদেরকে পুরুষদের থেকে পরিত্রাণ দিতেন।’ এ নারীত্রয় স্পন্দনশীল পোশাকে ক্রমাগত নাচ ও রাস্তায় প্যারেড করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যার সবকিছুই সৌদি আরবে নিষিদ্ধ। এটা ভাবাটাও কঠিন!
বলা হচ্ছিল উত্তেজক একটি মিউজিক ভিডিওর কথা। সম্প্রতি ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ইউটিউবে আপলোড হওয়ার পর তা দেখা হয়েছে ৩০ লাখের বেশি। গানে সৌদি সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভিডিওটি করেছে রিয়াদভিত্তিক প্রডাকশন কোম্পানি ‘এইটিজ স্টুডিওজে’। এটি পরিচালনা করেছেন মাজেদ আল-এসা। নারীরা মাথা থেকে পা পর্যন্ত সবটা ঢেকেও যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিয়ন রঙের স্নিকারস পরে হেলেদুলে নেচে যাচ্ছিল, তাতে উপেক্ষিত ও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছিল পুরুষদের আবদ্ধ করার উসকানি। ভিডিওতে ঐতিহ্যগত সৌদি সাজসজ্জার দুজন পুরুষের উপস্থিতি ছিল। গাড়িতে বসে তারা কর্তৃত্বধারী চোখে নারীদের দিকে তাকাচ্ছিল। আঙুল তুলে ইশারা করছিল রাস্তা ধরে এগিয়ে যাওয়া উত্ফুল্ল নারীদের দিকে। ভিডিওটি টুইটারে শেয়ার করে তাতে ডজন ডজন কমেন্ট ও প্রশংসা করেছেন সৌদি নারীরা।
সৌদি রাজপুত্রের সাবেক স্ত্রী ও নারী অধিকার-বিষয়ক উকিল আমিরাহ আল-তাওয়িল ভিডিও ক্লিপটি তার ১ কোটি ৪০ লাখ অনুসারীর সঙ্গে শেয়ার করেছেন। গানের ছন্দ ও উজ্জ্বল রঙ দ্বারা সৌদি আরবে নারীদের প্রতি নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতির দিকে সমালোচনামূলক আঙুল তুলে ধরা হয়েছে। সমাজকর্মীরা তাদের দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিবাদ করেছেন। যে সমাজব্যবস্থা পুরুষের অনুমতি ব্যতীত নারীদের ভ্রমণ, বিয়ে এমনকি কলেজে অংশগ্রহণ করতেও বাধা দেয়। যেখানে পুরুষ নারীর অভিভাবক বলে বিবেচিত।
নিউইয়র্ক টাইমস সৌদি আরবের নারীদের ব্যক্তিগত ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বসবাস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রায় ছয় হাজার নারী নিজেদের ভয়, হতাশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেন।
No comments:
Post a Comment