Thursday, January 5, 2017

৫ জানুয়ারি

বরিশালে আ’লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ!

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ আহত-২০

৫ জানুয়রির কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনে জাড়িয়েছেন বরিশালের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা কর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বিএনপির নাটক বলেছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার গোলাম রউফ জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদর রোড তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিতে থাকে। একই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও কিছুটা দূরে সদর রোডে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিক থেকে একটি বোতল ছুড়ে মারা হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিকে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
আহতদের মধ্যে আজাদ নামে একজনকে দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার দলীয় পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের পর বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বিএনপি হামলার নাটক সাজিয়েছে। তারা নিজেরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
সংঘর্ষের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মীদের লাঠি হাতে চড়াও হতে দেখা যায়। কিছু সময় পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে গোলাম রউফের ভাষ্য। এরপর দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মহানগর বিএনপির সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা খানম রোজি ও বিএনপির কর্মী বাবুসহ কয়েকজনকে টানাহেঁচড়া করে ছাত্রলীগের লোকজন।
প্রসঙ্গত বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসা বিএনপি ঢাকা বাদে সারা দেশে বৃহস্পতিবার কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করে আসা আওয়ামী লীগ আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছিল, জনগণ বিএনপিকে রাজপথে নামতে দেবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ আহত ২০

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে শহরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত রোববার রাত থেকে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী মিজান গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখল করে রাখে।
অফিস রুম বন্ধ থাকায় পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে বাইরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কমিটি সকাল থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি রনি শহরের বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করে চৌরাস্তায় পৌঁছালে বিদ্রোহী গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
পরে রনি গ্রুপ জেলা কার্যালয় দখলে নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ ছাত্রলীগের কর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রনি গ্রুফকে সরিয়ে দিলে বিদ্রোহী গ্রুপ আবার ব্যারিকেড ভেঙে শহরের চৌরাস্তা দখলে নেয়।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের দুইভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। জেলা নেতাদের দ্বারা গঠিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। মিজান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপির ছত্রছায়ায় চলেন। অন্যদিকে কেন্দ্র অনুমোদিত কমিটির সভাপতি রনি। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের অনুসারী।
কেন্দ্র ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুর রহমান রনি জানান, ‘আমরা ছাত্রলীগের আসল কমিটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা উদ্যাপন করব সবাইকে নিয়ে। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপ আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আসতে বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে।’
অন্যদিকে বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি মিজান জানান, ‘আমরা ছাত্রলীগের মাঠের নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। ওই গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগ গঠনে কোনো অবদান নেই। আমরা দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি। রনি গ্রুপের লোকজন আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা তাদের ধাওয়া দেই।’
এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই দলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment