Thursday, April 12, 2018

দেহে লাগালে রোদ বাড়বে গোপনশক্তি,কমবে মেদ 


শিরোনাম পড়ে অবিশ্বাস্য মনে হলেও গবেষণা বলছে এরকমটা৷ দিনে অন্তত দু’ঘণ্টা রোদ দেহে লাগান৷ সবসময় ছায়া বা ছাতা খুঁজবেন না৷ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় আসা তথ্য অনুযায়ী,রোদ নাকি যৌনক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে দারুণ ওষুধ৷ চিকিৎসকরা বলছেন, পুরুষের রক্তে যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন ভিটামিন ডি'র মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়। আর ভিটামিন ডি'র প্রধান উৎস হল সূর্যালোক। ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে রক্তে ভিটামিন ডি'র মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গবেষকরা জানিয়েছেন,রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ভিটামিন ডি'র পরিমাণ যত বেশি হবে পুরুষের যৌন ক্ষমতা তত বাড়বে!
এছাড়াও শরীরে রোদ লাগানোর উপকার রয়েছে আরও অনেক:রোদে কিছু সময় হাঁটলে কী হয় জানেন? খুব ঘাম হতে থাকে। সেই সঙ্গেও পিপাসাও পায়। আর তখন আমরা লিটার লিটার পানি খেয়ে থাকি। যত বেশি করে পানি খাই, তত বেশি বেশি প্রস্রাব হয়। ফলে শরীরের অন্দরে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যায়। সেইসঙ্গে ঘামের মাধ্যমে ত্বকের ছিদ্রে জমে থাকা ময়লাও বেরিয়ে যায়। ফলে ত্বক এবং শরীর, উভয়ই সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে তাই বলে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে হাঁটবেন না যেন, শরীর খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু! টানা চার সপ্তাহ অল্প সময়ের জন্য সূর্যের আলো গায়ে লাগালে সোরিয়াসিসসহ একাধিক ত্বকের রোগ সেরে যায়। তবে বেলা ১২টার আগে এই কাজটা করবেন। কারণ বেলা বাড়লে রোদের তেজও বেড়ে যায়। ফলে এমন সময় সূর্য়ের আলো গায়ে লাগাতে কষ্ট হতে পারে।
ব্রেস্ট,কোলোন এবং প্রস্টেট ক্যান্সার রোধে সূর্যের আলোর কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, সারাশরীরে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করে ফেলতেও সূর্যের আলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বেলা বাড়ার পর বেশিক্ষণ সূর্যের নিচে কাটালে স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই যতটা পারবেন সকাল বেলা সূর্য়ের আলো গায়ে লাগানোর চেষ্টা করবেন। যারা অনিদ্রায় ভুগছেন, তারা কাল থেকেই রোদ লাগানো শুরু করুন গায়ে। এমনটা করলে দেখবেন রাতে ঘুম না আসার সমস্যা দূর হবে। আসলে সূর্যের আলো চোখে লাগা মাত্র অপটিকাল নার্ভ মারফত আমাদের মস্তিষ্কে একটি বিশেষ সিগনাল যায়, যা মেলাটোনিন রাসায়নিকের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এই রাসায়নিকের ক্ষরণ যত বাড়তে থাকে, তত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে সূর্য়ের আলো গায়ে লাগলে আমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা নিমেষে মনকে ভাল করে দেয়। সেই সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তিও দূর করে।

Sunday, April 8, 2018

সফল হতে জীবনযাত্রায় আনুন ৫ পরিবর্তন
সফল হতে জীবনযাত্রায় আনুন ৫ পরিবর্তন

বারবার রুটিন তৈরি করে ব্যর্থ হয়েছেন, নিয়মানুবর্তিতায় বাঁধতে পারছেন না নিজেকে। মনে রাখবেন সাফল্য একটি অভ্যাস, কোনও কাজ নয়। লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে কয়েকটি উপায় মাথায় রাখুন। সেই ৫টি উপায় হলঃ
১) তালিকা তৈরী করুনঃ- প্রথমে আপনার লক্ষ্যের একটি তালিকা তৈরি করুন। আবেগের উপর ভরসা না করে মাথা দিয়ে ভাবুন। তালিকা তৈরির সময়ে কখনওই এটা ভাববেন না, আপনার লক্ষ্যপূরণ একটি কষ্টকর বিষয়। তালিকা তৈরির পর সেটি এমন জায়গায় টাঙিয়ে রাখুন যাতে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত আপনার চেখে পড়ে। 
২) আপনার কাজের জায়গা পরিষ্কার করে রাখুনঃ- বিশৃঙ্খলা মানুষকে সর্বদাই বিভ্রান্ত করে। আপনার কাজের অথবা পড়ার জায়গা ‌যদি অপরিষ্কার ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে তবে আপনি কোনও কিছুতেই মনোনিবেশ করতে পারবেন না।
৩) মনোযোগ নষ্ট হয় এমন জিনিস সরিয়ে রাখুনঃ- যেই সময়টুকু আপনি আপনার কাজ করছেন অন্তত: সেই সময়ে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-পরিজন, স্মার্ট ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া কোনও কিছুতেই সময় নষ্ট করবেন না।
৪) ভোরে ওঠার অভ্যাস করুনঃ- প্রথম প্রথম একটু অসুবিধে হলেও সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে পড়তে পারলে কাজের জন্য অনেকটা সময় পাওয়া ‌যায়। তাছাড়া ভোরে উঠলে ধৈর্যশক্তি বাড়ে, একাগ্রতাও বাড়ে।
৫) সপ্তাহের শেষে আনন্দ করুনঃ- সারা সপ্তাহ কাজ করার পর হাতে এক বা দুই দিন রাখুন আরাম এবং আনন্দ করার জন্য। এই সময় কাজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয়ের কথা ভাববেন না। ছুটি শেষে পরের দিন সকালের জন্য সবকিছু গুছিয়ে রাখুন, যাতে পরের দিন তাড়াহুড়ো না করতে হয়।  

Wednesday, April 4, 2018

ভাষা ও অঙ্ক শেখাচ্ছে রোবট

হিউম্যানয়েড রোবট এলিয়াস ও ওভোট একটু ব্যতিক্রম ধরনের। তারা এখন বাচ্চাদের স্কুলে অঙ্ক ও ভাষা শিক্ষার ক্লাস নেয়। পাইলট প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে চারটি রোবট ফিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ট্যাম্পার সিটির একটি প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভাষা শেখানোর মেশিনকে হিউম্যানয়েড রোবট এলিয়াসে পরিণত করে চালানো হচ্ছে ভাষা শিক্ষার ক্লাস। এক ফুট উচ্চতার এ রোবটটি চালানো হয় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। রোবটটি ২৩টি ভাষা বুঝতে পারে। শুধু তা-ই নয়, বাচ্চাদের একঘেয়েমি দূর করতে সে গ্যাংনাম স্টাইলে নাচতেও পারে। এতে এমন একটি সফটওয়্যার আছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করে এবং শিখতে উৎসাহ দেয়। ক্লাস নেয়ার সময় একাধিকবার একই জিনিস আওড়াতে তাদের কোনো বিরক্তি নেই। তাই কেউ বারবার একই প্রশ্ন করলেও তাকে বিব্রত হতে হয় না। আপাতত রোবটটি শুধু ইংরেজি, ফিনিশ ও জার্মান ভাষায় কথাবার্তা বলতে পারছে। রোবটটি মানুষের দক্ষতাগুলো চিনতে পারে এবং সেই অনুযায়ী প্রশ্ন সাজিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কেও রোবটটি শিক্ষকদের তথ্য দিতে পারে। অঙ্কের রোবটটির নাম ওভোট। এর উচ্চতা ১০ ইঞ্চি।
নীল রঙের প্যাঁচার মতো দেখতে এ রোবট তৈরি করেছে ফিনিশ এআই রোবটস। মোট তিনটি ওভোট আগামী এক বছরের জন্য স্কুলটিতে অঙ্ক শেখাবে। অনেক শিক্ষকই রোবটটিকে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা জানান, এলিয়াস রোবটটি ক্লাসরুমে ভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার একটি মাধ্যম। ক্লাসরুমে রোবটের ব্যবহার এবারই প্রথম নয়। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোয়ও সম্প্রতি রোবটের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

Monday, April 2, 2018

ব্যাংকে তারল্য আসছে বাড়বে মূল্যস্ফীতি


  


আগে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি আমানতের ৭৫ শতাংশ রাখা হতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। আর ২৫ শতাংশ পেত বেসরকারি ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকের মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে এখন ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এতেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আসবে। ফলে তারল্যসংকট অনেকটা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এত পরিমাণ টাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে দেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি বাড়বে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তবে অর্থনীতিবিদরা তার সাথে দ্বিমত হয়ে বলেছেন, এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার অশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকে তারল্যসংকটের কারণে ঋণের সুদহার দুই সংখ্যায় উঠেছে। তাই তারল্য বাড়াতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) ১ শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে অর্থ প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। এর প্রভাবে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ আসবে। যা নির্বাচনি বছরে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নেওয়া হয়নি। এটা মূলত ব্যাংকগুলোকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। তারল্যসংকট মোকাবিলা ও ঋণের সুদহার কমানোর জন্য এটি করা হলেও বাস্তবে ঋণের সুদ ব্যাংকগুলো কমাবে বলে মনে হয় না। অন্যদিকে, এ সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ আসায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে। যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৩২ ভাগ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (প্রথম প্রান্তিক) গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ অবস্থায় টাকার প্রবাহ বাড়ায় মূল্যস্ফীতি হাড় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। ফলে বেশি সুদে ঋণ নিয়ে, বেশি দামেই পণ্য কিনতে হবে গ্রাহকদের। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তারল্যসংকট কমাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সুবিধা দিলেও তার দাবি অনুযায়ী ঋণের সুদহার এক সংখ্যায় সহসাই নামবে না। অর্থমন্ত্রী চেয়েছিলেন এক মাসের মধ্যেই সুদের হার এক সংখ্যায় নামিয়ে আনতে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বড়ো বিনিয়োগে অর্থায়ন করছে। এটা ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী মোটেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেও তিনি বলেন। এ বিষয়ে বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অতি দ্রুত সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে। তবে এক মাসের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বাস্তবসম্মত কথা বলেননি। সুদের হার কমাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে এ অর্থ ব্যাংকগুলোর তারল্যসংকট দূর করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি বলেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশকিছু দুর্বল দিক রয়েছে। এ ব্যাংকগুলো নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ঋণ দিলে তা আদায় করতে পারে না তারা। ঋণগুলো ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে। এখান থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী বিনিয়োগ বন্ধে দুমাস আগে এডি রেশিও কমানো হয়েছিল। এখন সিআরআর কমিয়ে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত তহবিল তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলো আবারও আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে মেতে উঠতে পারে। জানা গেছে, ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাড়ে ৬ শতাংশ নগদ জমা রাখতে (সিআরআর) হয়, তা ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। এই এক শতাংশ পরিমাণ টাকা ব্যাংকগুলো ব্যবহার করতে পারবে। ফলে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যাংকগুলোর হাতে চলে আসবে। এতে তারল্যসংকট কমে গেলে সুদের হারও কমে আসার কথা। আরো জানা গেছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বরের আগে জুন মাসে তার প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে। এ সময়ে যদি আরও কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করতে হয় তাও করা হবে।

প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে শুক্রগ্রহে!

সৌরমণ্ডলে কি পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? এতকাল বিজ্ঞানীরা বলে এসেছেন, সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতেই পারে। এত অজুত-নিযুত নক্ষত্রমণ্ডলীর কোথাও না কোথাও থাকতেই পারে অন্য জীবজগৎ। কিন্তু এবার জানা গেল, সম্ভবত শুক্রগ্রহেই রয়েছে অপার্থিব প্রাণ। ওই গ্রহের আকাশে যে অ্যাসিড-মেঘ দেখা যায়, সেখানেই এই প্রাণের চিহ্নের সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছে। ওই গবেষণায় সায় জানিয়েছে নাসাও। 
গবেষণাপত্রটি অ্যাস্ট্রোবায়োলজি নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেই গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, শুক্রের মেঘ থেকে অ্যাসিড-বৃষ্টি হয়। মেঘের অন্যতম উপাদান সালফিউরিক অ্যাসিড। সেখানেই রয়েছে প্রাণ। শুক্রের মরচে রংয়ের মেঘে বিজ্ঞানীরা কালো দাগ দেখতে পেয়েছেন।ওই দাগগুলি আসলে আলো শোষণকারী প্রাণীদের চিহ্ন বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে ওই প্রাণিরা নেহাতই আদ্যপ্রাণি। অর্থাৎ আণুবীক্ষণিক প্রাণি। প্রসঙ্গত, শুক্রগ্রহে ২ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর কাছাকাছি অর্থাৎ প্রাণের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ ছিল বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান।

Friday, March 30, 2018

সাত বছরে আত্মসাৎ ৩০ হাজার কোটি টাকা

অন্য দেশে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নজিরবিহীন শাস্তির বিধানে
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাকের সাবেক চেয়ারম্যান 
বার্নার্ড মেডফের শেয়ারবাজারে আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়, 
তাঁকে গ্রেপ্তার করে ২০০৯ সালের জুন মাসে বিচারে 
৭১ বয়সী এ ব্যবসায়ীকে ১৫০ বছর জেল দেওয়ার পাশাপাশি
১৭০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়।
অথচ এ ধরনের অপরাধে শাস্তির নজির নেই বাংলাদেশে। 
গত সাত বছরে ছয়টি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে 
৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি বা আত্মসাৎ হয়েছে। 
এ অর্থ দিয়েই অনায়াসে একটি পদ্মা সেতু তৈরি করা যায়।
বড় এসব আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 
বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।
শুধু শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতেই 
লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছে। 
রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের
পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের একটি অংশ
ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করে 
নিজেরা লাভবান হয়েছেন।
এজন্য ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এই প্রভাবশালীদের
রাজনৈতিকভাবে ছাড় দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
একটি কেলেঙ্কারিরও বিচার হয়নি।
সাজা পাননি অভিযুক্তদের কেউ। 
প্রাথমিক তদন্তের পর বছরের পর বছর মামলা চলছে,
অভিযুক্তদের কেউ জেলে আছেন,
কেউবা চিকিৎসার নামে হাসপাতালে, 
অনেকে জামিনও পেয়েছেন।
২০০৯ সনে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির 
তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের হিসাবে 
অন্তত: ১৫ হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন
সাধারণ বিনিয়োগকারীগন। 
এরপর ২০১২ সনের সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারিতে 
অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। 
জনতা ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারিতে 
অর্থ আত্মসাৎ করা হয় ১১০০ কোটি টাকা। 
২০১৩ সনের বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে 
আত্মসাৎ করা হয় আরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা,
এ ছাড়া বহুস্তরবিশিষ্ট বিপণন কোম্পানি ডেসটিনির 
অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা,
এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের কারও সাজা হয়নি।
হল-মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি)
তানভীর মাহমুদ জেলে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান 
জেসমিন ইসলাম জামিনে আছেন। 
ডেসটিনির সভাপতি রফিকুল আমীন আটক হলেও 
অসুস্থতার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আছেন। 
আর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই?
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান,
অপ্রতুল জামানতের বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে 
ঋণ মঞ্জুরিতে সহযোগিতা দিয়ে
টাকা হাতিয়ে রূপালী ব্যাংক থেকে বেনিটেক্স লিমিটেড,
মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলস 
নিয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। 
আবার বহুতল ভবন নির্মাণের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে 
অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৩শ কোটি টাকা ঋণ নেয় মুন গ্রুপ। 
সবশেষে লাইসেন্স পাওয়া ফারমার্স ব্যাংকও 
অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪শ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে।
সবশেষ আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি
৮ কোটি ১০ লাখ ডলার,টাকার অঙ্কে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। 
স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ বা হ্যাক করে 
এই রিজার্ভ চুরির ঘটনা এখনো বিশ্বজুড়ে অন্যতম আলোচিত।
অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও 
সবচেয়ে বেশি তোলপাড় হয়েছে রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়েই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কারণেই 
দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন 
সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, 
সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দুই ডেপুটি গভর্নরকেও।
তবে যারা অপরাধী,তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি।
শুধু বিভাগীয় শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত,বদলি নয়; 
অপরাধের দায়ের শাস্তি দিতে হবে। 
এ ছাড়া সৎ,দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের 
সঠিক জায়গায় বসাতে হবে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে 
সদস্য নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিয়ে 
যে প্রশ্ন,সন্দেহ রয়েছে,তা নিরোসনে 
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে 
বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্ত অবস্থানে নিতে হবে।
ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ থাকলে
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলতে পারতেন না,
তিন বা চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি বড় কিছু নয়!! 

Thursday, March 15, 2018

বিমানবন্দর নয় এ যেন মৃত্যুফাঁদ

ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা বাংলাদেশ, নেপালসহ বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছে। শোকাবহ করেছে সর্বস্তরের মানুষকে। শোক জানিয়েছে জাতিসংঘ, বাংলাদেশ, নেপাল, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠন। ঢাকা থেকে কেবিন ক্রুসহ ৭১ জন যাত্রী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে আকাশে উড়েছিল বিমানটি। একপক্ষের মতে, ১২ মার্চ দুপুর প্রায় ২টায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল রুমের ভুল নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পাইলটসহ নিহত হন ৫১ জন।
হিমালয়কন্যা নেপালের এই ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনা এই প্রথম নয়। ভয়ংকর অতীত আজো ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে আছে। এ যেন এক মৃত্যুফাঁদ। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দর বহু দুর্ঘটনার সাক্ষী। ১৯৫৬ সাল থেকে ১২ মার্চ ২০১৮ দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত মোট ১০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে। কন্ট্রোল রুমের ভুল নির্দেশনা ও বৈরী আবহাওয়া প্রায় সব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই পাইলটকেই দোষারোপ করেন।
৩১ জুলাই ১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণ করার জন্য বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। একই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি এয়ারলাইনস বিধ্বস্ত হয়। এতে নিহত হন ১৬৭ জন। ৭ জুলাই ১৯৯৯ সালে লুফ?টহানজা কার্গো বোয়িং ৭২৭ আকাশে ওড়ার পাঁচ মিনিট পড়ে চম্পাদেবী পর্বতে বিধ্বস্ত হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে নিকন এয়ার ফ্লাইট ১২৮ পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ১০ যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু সবাই নিহত হন এই দুর্ঘটনায়।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে সীতা এয়ার ফ্লাইটের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। ২০১৬ সালে নেপালের বিমান ভেঙে মৃত্যু হয় ১৮ জন যাত্রীর। ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের আগ পর্যন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে টারা এয়ারল্যান্স বিমান দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সর্বশেষ ১২ মার্চ বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান ইউএস কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় কেবিন ক্রু, পাইলটসহ নিহত হন ৫১ জন। যার বেশির ভাগই বাংলাদেশি। ক্রমাগত বিমান দুর্ঘটনা নেপাল এয়ারলাইনসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কন্ট্রোল রুমে থাকা কর্মকর্তাদের উদাসীনতা কিংবা সেখানকার আবহাওয়াগত সমস্যার কারণেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেপাল গণমাধ্যম এ দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করেছে। শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান, কেবল শোক ও দুঃখ প্রকাশের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে এয়ারপোর্টটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে এখন মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। বিশ্বের শোকার্ত মানুষের আর্তির দিকে তাকিয়ে নেপাল সরকার নিশ্চয়ই সে আর্তির প্রতি মনোযোগী হবেন—এটাই প্রত্যাশা।