Sunday, October 8, 2017

আইসিএএন শান্তিতে নোবেল পেল যে কারণে! 

পরমাণু অস্ত্র তৈরি বিশ্বের জন্য কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং দুর্ঘটনাবশত এর ব্যবহার পরিবেশ ও মানব সমাজের জন্য কতোটা বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে তা বোঝাতে কাজ করছে। বলা হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্যই এবছর নোবেল কমিটি আইসিএএন’কে শান্তিতে পুরস্কার দেয়ার জন্য নির্বাচিত করে। ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থা আইসিএএন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আজ থেকে ১০ বছর আগে সংস্থাটির জন্ম। সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদরদপ্তর অবস্থিত।
পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর কারণে গোটা বিশ্বে যে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, সেই উপলব্ধি থেকেই সংস্থাটির জন্ম। বিশ্বের সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে তৈরি জোটভিত্তিক সংস্থাটি পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে এর ভয়াবহতার দিকগুলো সামনে আনে। সেই সঙ্গে একটি কার্যকর পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি তৈরি ও তা বহাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইসিএএন (International Campaign to Abolish Nuclear Weapons) ২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। মোট ১০১টি দেশের ৪৬৮টি সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি আইসিএএন বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইউকিপিডিয়ার তথ্যে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পেছনে বিশ্ব মানবতার দিকটি তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছে সংস্থাটি। ফলে পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে অলাভজনক বেসরকারি সংস্থাটি সফলতা পেয়েছে।
পরমাণু অস্ত্র মানব সভ্যতা এবং পরিবেশের জন্য কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্য সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালায়। এছাড়া মানব স্বাস্থ্যের জন্য পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্যে তথ্যবহুল প্রচারণাও চালানো হয়। এছাড়া, পরমাণুর ক্ষতিকর বিক্রিয়া পরিবেশে কতোটা দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ ফল ডেকে আনবে সে ব্যাপারেও স্বোচ্চার হয় সংস্থাটি। তাদের এই উদ্যোগ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর নজর কাড়ে।
ল্যান্ড মাইন বিরোধী সংগঠন International Campaign to Ban Landmines’ এর সফলতা দেখে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতারা অনুপ্রাণিত হন। সেভাবেই এই সংগঠনটিকে সৃষ্টি করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে কাজ শুরু করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের ফলে এটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে জাতিসংঘে পরমাণু বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অবশ্য ইরান কিংবা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচী সম্পর্কে সংস্থাটির ভূমিকা স্পষ্ট নয়।  

ব্লু ইকোনমি অথরিটি গঠনের সুপারিশ 

বর্তমানে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা এলাকায় সম্পদ আহরণ ও উত্তোলন করতে পারে বাংলাদেশ। যেখানে সমুদ্র সম্পদ নির্ভর ব্লু  ইকোনমির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। কমিটির পক্ষ থেকে সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও উত্তোলন সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে ‘ব্লু  ইকোনমি অথরিটি’ গঠনের বিধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্রসীমায় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের মাধ্যমে দেশের বিশাল সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে দ্রুত ব্লু  ইকোনমি অথরিটি গঠনের সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য বলা হয়েছে। 
এদিকে কমিটির বৈঠকে নীতিমালা অমান্য করে কনডেনসেট সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া কনডেনসেটের অপব্যবহার ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখী করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়। এজন্য আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এখন বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের আয়তনের প্রায় ৮২ শতাংশ। এই সমুদ্র এলাকায় মৎস্য সম্পদ, তেল-গ্যাস ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণ এবং সমুদ্র পরিবহন-সুবিধা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের এই ‘ব্লু ইকোনমির’ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গত ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ী ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়েছে। ব্লু ইকোনমির সঙ্গে সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় এবং ১২টি সংস্থা জড়িত।
বৈঠকে জানানো হয়, এই সেলটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন একটি অস্থায়ী সেল। এর আইনগত কর্তৃত্ব না থাকায় এই সেলের সিদ্ধান্ত মানার ক্ষেত্রে অন্যদের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। অস্থায়ী হওয়ায় এই সেলকে কোনো আর্থিক বরাদ্দও দেওয়া হয় না। তাই এই সেলকে স্থায়ী করা বা আইনের মাধ্যমে একটি ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করার সুপারিশ করে।

Monday, October 2, 2017

স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে কাতালানবাসী 


স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে দেশটির কাতালান অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশি সহিংসতার মধ্যে শেষ হওয়া গণভোটে কাতালানবাসীর স্বাধীনতার অধিকার আদায় হয়েছে বলে দাবি করেছে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসিত সরকার। স্থানীয় সময় গত রোববার স্পেন থেকে কাতালানের স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজন করে কাতালানের স্থানীয় সরকার। স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভোট শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয় পুলিশ। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কাতালানবাসীকে প্রবেশে বাধা দিতে মাঠে নামে দাঙ্গা পুলিশ। তাদের ছোড়া রাবার বুলেট ও লাঠিপেটায় আহত হয় অনেকে। কাতালান সরকারের মুখপাত্র জরদি তুরুল বলেন, কাতালানে রোববার মোট ভোট দিয়েছেন ৫৩ লাখ। এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ব্যালট পেপার গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তুরুল আরো বলেন, পুলিশি বাধা না এলে ভোটদাতার সংখ্যা আরো বেশি হতো। সহিংসতার কারণে কমপক্ষে সাত লাখ ৭০ হাজার ভোটার ভোট দিতে আসেননি। কাতালান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববারের পুলিশি সহিংসতায় কমপক্ষে ৮০০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, দুই হাজার ৩০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯২টি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কাতালানের প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইদেমন বলেন, ‘বাধার মুখেও কাতালানবাসী স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে। আমরা সবকিছু জানার, সম্মান ও পরিচিতি পাওয়ার অধিকার আদায় করেছি।’
এদিকে রোববার রাতেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি একটি কথাই পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, আজ কাতালানে তাদের স্ব-স্বীকৃত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।’
কাতালান স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গরাজ্য। পাঁচ বছর ধরে স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছিল তারা। এ দাবিতে গত রোববার গণভোটের আয়োজন করে কাতালানের আঞ্চলিক সরকার। তবে স্পেন সরকার এই ভোট বন্ধের অঙ্গীকার করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও এই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করে। এত কিছুর পরও স্বাধীন কাতালানের জন্য ভোট দিতে আসেন কাতালানরা। ভোট শুরুর আগেই শুক্রবার থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোর দখল নিয়ে নেন স্বাধীন কাতালোনিয়ার সমর্থকরা। এসব ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার জন্যই তাঁদের এ উদ্যোগ। কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্রের সামনে ট্রাক্টর বসিয়ে রাখেন কৃষকরা। যেন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। আবার কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের দরজা খুলে ফেলা হয়েছে, যাতে করে স্পেন সরকার এসব কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে না পারে।

Saturday, September 23, 2017

নৌকা স্কুল : বিশ্বের ১০ মডেল স্কুলের একটি 

ভবিষ্যতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সন্তানরা বন্যাপ্রবণ এলাকায় কীভাবে স্কুলে যাবে? এই সমস্যার সমাধানে একজন বাংলাদেশি স্থপতির উদ্ভাবন জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে জীবন এগিয়ে নেওয়ার সহনশীল 'নৌকা স্কুল' এখন বিশ্বে সমাদৃত। এ স্কুলে দেশের বন্যায় প্লাবিত প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা ইন্টারনেট ও সৌরবিদ্যুৎ সংবলিত শিক্ষা সুবিধা পাচ্ছে। গত সপ্তাহে এই 'নৌকা স্কুল' বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএনের জরিপে 'বিশ্বের অন্যতম ১০টি উদ্ভাবনীমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা'র একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 
বাংলাদেশের তরুণ স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ানের নৌকার মধ্যে তৈরি 'ভাসমান স্কুল' এখন বিশ্ব মডেল স্কুল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখে থাকা ভারত, চীন, কম্বোডিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, জাম্বিয়াসহ আরও অনেক দেশে চালু হয়েছে মোহাম্মদ রেজওয়ানের মডেলের এই ভাসমান স্কুল। ১৬টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান। তার প্রকল্পকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে দুটি তথ্যচিত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা আরও অনেক দেশে চালু হয়েছে এই নৌকা স্কুল। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, স্ট্নোভেনিয়ার মতো উম্নত দেশের প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রমে যুক্ত হয়েছে এই স্কুল। অসাধারণ উদ্ভাবন নৌকার মধ্যে তৈরি এই ভাসমান স্কুল নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তথ্যচিত্র 'ইজি লাইক ওয়াটার'।
আফ্রিকা, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যাপ্রবণ এলাকায় বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উম্নয়ন সংগঠনগুলো মোহাম্মদ রেজোয়ানের নৌকা স্কুলের ধারণা অনুসরণ করছে। ফলে নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ সহজ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও অন্যান্য সংগঠন রেজোয়ানের উদ্ভাবিত এই নৌকা স্কুলের মডেলের অনুকরণে হাওর ও বিলে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করছে।
সিএনএনের মতে, বাংলাদেশের উদ্ভাবিত সৌরশক্তিসম্পম্ন ভাসমান স্কুল সমগ্র বিশ্বে একটি নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। প্রতিদিন সকালে প্রাথমিক স্কুলগুলো বিভিম্ন গ্রামে যায় এবং শিশুদের বাড়ির সামনে থেকে নৌকায় তুলে নেয়। তারপর নৌকাটি একটি জায়গায় দাঁড়ায় এবং ৩০ জন শিশুকে নৌকার ভেতরেই শিক্ষা প্রদান করে। স্কুলগুলোতে একটি ল্যাপটপ, শত শত বই থাকে এবং সোলার প্যানেল থেকে উৎপম্ন বিদ্যুতের মাধ্যমে নৌকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো চালানো হয়।
প্রায় প্রতি বছরই মৌসুমি বন্যায় বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা বড় ও দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার সবচেয়ে বড় শিকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বর্ষার সময় দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বন্যায় দেশের ২ হাজার ৬৪০টি স্কুল দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকে। এর আগে ২০০৭ সালের বন্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্কুল ডুবে যাওয়ার কারণে। বর্ষায় স্কুলে যাওয়ার অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকে। অনেক স্কুলের ক্লাসরুমও পানিতে ডুবে থাকে। এর ফলে শুধু স্কুল থেকে নয়, পুরো শিক্ষাজীবন থেকে প্রতি বছর বহু শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে।
চলনবিল নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে বিস্টৃতত একটি বিলের নাম। চলনবিল সংলঘ্ন অঞ্চলগুলো বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় পানিতে ডুবে থাকে। ভৌগোলিকভাবে এমনিতেই বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা বর্ষায় বন্যাকবলিত হয়। 
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল এলাকার সিধুলাই সেরকমই একটি বন্যাকবলিত গ্রাম। এ গ্রামেরই সল্ফ্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান। ১৯৯৮ সালে তরুণ স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান প্রথমে নিজ গ্রামে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। গ্রামটি বন্যাকবলিত। পুরো এলাকা বছরের বেশি সময় বন্যা ও পানিতে ডুবে থাকে। রেজওয়ান চিন্তা করলেন ভাসমান পানিকেই গ্রামের উম্নয়নে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। সে ভাবনা থেকেই তিনি নৌকার মধ্যে স্কুলের নকশা করলেন। স্থাপন করলেন 'ভাসমান স্কুল'। ২০০২ সালে এই স্কুল যাত্রা শুরু করে। সেই যাত্রায় প্রথমে তার সম্বল ছিল স্কলারশিপের মাত্র ২২ হাজার টাকা। ২০০৫ সালে মোহাম্মদ রেজোয়ান একটি অবিশ্বাস্য সুসংবাদ পেলেন। তার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন বড় আকারে সম্প্রসারণের জন্য তাকে এক মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থ রেজোয়ানের এই ছোট প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, নৌকার কলেবর বৃদ্ধি পায়, সব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার আনা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে ৫০ হাজার বই ও ১০০টিরও বেশি কম্পিউটার আনা হয়। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার উদারতায় এখন বাংলাদেশের ভাসমান স্কুলের শিক্ষার্থীরা সৌরশক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। এই বর্ষা এবং বন্যায় বিধ্বস্ত অঞ্চলেও শিশুরা শিক্ষা সুবিধা পেয়েছে।
'সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা' জাতিসংঘ পরিবেশ পুরস্কারসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পায়। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী তারা বছরে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা, তথ্য, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। বর্তমানে ২২টি স্কুলের নৌকায় প্রতিদিন তিন শিফটে ১ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে।

Wednesday, September 20, 2017



সত্যিই ভাববার বিষয়
মানুষ সোজা পথে চলতে চায় না,,তাই বাঁকা পথের প্রতি সবারই আগ্রহ বেশি!
যেমন- নূপুরের দাম হাজার টাকা হলেও,তার স্থান পায়ে!
আর মাত্র দুই টাকার টিপের স্থান কপালে!
লবণে কখনো পোকা ধরেনি!
কিন্তুু মিষ্টিতে প্রতিদিনই পোকা ধরে, পিঁপড়াও ছাড়েনা!
মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত মানুষকে স্মরণ করা হয়,
আর মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়!
মদ বিক্রেতাকে কারো কাছে যেতে হয় না,
কিন্তু দুধ বিক্রেতাকে ঘরে ঘরে যেতে হয়!
আমরা সবসময় বলি দুধে পানি মেশাননি তো.....?
কিন্তু মদে নিজেরাই পানি মিশিয়ে খায় মদখোর গুলো!
মানুষকে জানোয়ার বললে ক্ষেপে যায়,আর বাঘ / সিংহ বল্লে খুশি হয়,
অথচ বাঘ,সিংহ এরাও জানোয়ার!!
সংগৃহিত
Image may contain: 1 person, smiling, text

--- ---ইউনিসন নামে ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে সু চিকে দেয়া আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রত্যাহরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শান্তির জন্য দেয়া নোবেল পুরস্কার সহ বিভিন্ন পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবিতে বিশ্বে জনমত গড়ে উঠায় প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইউনিসন নামে ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ এই ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা এবং অকার্যকর ভূমিকায় সু চি বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে পড়ার মধ্যেই এমন ঘোষণা এলো।
গণতন্ত্রের দাবিতে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী সু চি যখন কারাগারে ছিলের তখন এ পুরস্কার দেয়া হয় তাকে। এমন এক সময় এই ঘোষণা এল যখন কিনা বেশকিছু ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছে যে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনের সময় সু চি’কে দেয়া পুরস্কার ও সম্মান পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে তারা।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন-ইউনিসন সু চি’কে দেয়া সম্মানসূচক সদস্যপদ স্থগিত করার কথা জানিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছে।
ইউনিসনের সভাপতি মার্গারেট ম্যা’কি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানকে বলেন, রোহিঙ্গারা যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে সেটি আতঙ্কজনক। এ প্রেক্ষিতে আমরা অং সান সু চি’র সদস্যপদ স্থগিত করেছি। আমরা আশা করি তিনি আন্তর্জাতিক আহ্বানে সাড়া দেবেন।
এদিকে সু চি’কে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বিরোধী আন্দোলনের সময় দেয়া সম্মানসূচক ডিগ্রি পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘ মিয়ানমারে ‘জাতিগত নিধনের’ কথা উল্লেখ করেছে। রোহিঙ্গা সংকটে সু চি’র ভূমিকায় আমরা হতাশ।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের স্টুডেন্টস ইউনিয়নও জানিয়েছে যে তারা সু চির সম্মানিত প্রেসিডেন্ট পদ প্রত্যাহার করে নেবে। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতির পাশা বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনে অং সান সু চির বর্তমান অবস্থান ও গণহত্যার পরও নিষ্ক্রিয় থাকায় আমরা তাঁর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট পদ ফিরিয়ে নেব।
৩০ বছর ধরে অং সান সু চি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো, বাথ, কেমব্রিজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পেয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি শহর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকেও তাঁকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে কোন জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা ঘটেনি বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সু চি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ভয় করি না। কারো ঘাড়ে দায় চাপানো বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া মিয়ানমার সরকারের ইচ্ছা নয়। তার এই বক্তব্যের পর আবারও সমালোচনার তীব্রতা বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসেবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চার লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে।

দুশ্চিন্তা ঝেড়ে মনের যত্ন নিন 

শরীরকে ভালো রাখতে যেমন যত্ন প্রয়োজন, তেমনি আপনার মনকে ভালো রাখতেও চাই নিয়মিত যত্ন। মনকে অবহেলা করে কখনো পরিপূর্ণভাবে ভালো থাকা সম্ভব নয়। মনের যত্ন নেয়ার কিছু উপায় আছে। দুশ্চিন্তাকে সময় না দিলে এটি আপনাকে দিনভর গ্রাস করতেই থাকবে। তাই দুশ্চিন্তা করার জন্য সময় দিন। তবে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি নয়। এরপর থামুন। এবার চিন্তা করুন—কিভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবেন।
ধ্যান বা মেডিটেশন :  মনের যত্নে ধ্যান বা মেডিটেশন করুন। এটি মনকে ভালো ও নিয়ন্ত্রণে রাখে, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়। যেটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটি নিয়ে চিন্তা করবেন না। যেতে দিন। এটা হতে পারে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বা আপনার দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে। যদিও এই ‘যেতে দেয়া বা ছেড়ে দেয়া’ বিষয়টি কঠিন। তবে নিয়মিত এর চর্চা করলে দেখবেন আপনিও পারছেন। আপনারও হালকা লাগছে। ইতিবাচক বই পড়ুন। দেখুন, বড় বড় মানুষ কিভাবে জীবনে নিজেদের চাপ সামলেছেন।
ব্যায়াম করুন :  মন ভালো রাখতে ব্যায়াম করতে পারেন, করতে পারেন কিছু যোগব্যায়ামও। নিয়মিত হাঁটা মানসিক চাপকে কমাতে সাহায্য করে। এতে মন ভালো থাকে। আমাদের চিন্তার অধিকাংশটাই জুড়ে থাকে নেতিবাচক চিন্তা আর দুশ্চিন্তা। তাই ভালো ভাবনাগুলোকে আমরা কাজে লাগাতে পারি না। ভালো ভাবনাকে কাজে লাগান। ইতিবাচক চিন্তা করুন। মানুষ বাঁচে আশা বা স্বপ্নের মধ্য দিয়ে। নিজেকে ভালোবাসুন। ভালোবাসুন অন্যকেও। বেড়াতে যাওয়া, গান শোনা, গান গাওয়া, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—প্রিয় কাজগুলো করুন। এগুলো মনের খোরাক জোগাতে কাজ করবে। মনকে ভালো এবং চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে। 
সামাজিকতা একাকিত্ব- মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়িয়ে তোলে। তাই পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। বন্ধু বা আপন কারও সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলাপ করলে সমস্যা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা অনেকটাই কমে আসে।
পর্যাপ্ত ঘুম : ঘুম শরীরের বিশ্রামের পাশাপাশি মানসিকভাবেও শান্তি দেয়। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সব অগোছালো চিন্তাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। তাই হতাশা কমাতে ভালো মতো ঘুমানো দরকার।