Wednesday, August 23, 2017

ত্রাণের চাল পাচারকালে আটক ২

নওগাঁর আত্রাইয়ে ১২৮ বস্তা ত্রাণের চাল পাচারকালে চালসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ট্রলিযোগে চালগুলো পাচারের সময় আত্রাই রেলওয়ে বাইপার (দক্ষিণ) থেকে আটক করা হয়।
উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন কাশিয়াবাড়ি বাজার থেকে ১২৮ বস্তা (প্রতিটিতে ৩০ কেজি করে) চাল বোঝাই ট্রলি আত্রাইয়ের দিকে আসতে থাকে। সংবাদ পেয়ে আত্রাই থানার এসআই ফিরোজ মিয়া ও এএসআই এনায়েত ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে চালসহ ট্রলি চালক উপজেলার সদুপুর গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে পিন্টু (৩৫) ও হেলপার মোনাক্কার ছেলে বিপ্লবকে (১৮) আটক করেন। 
 আত্রাই থানার ওসি বলেন, চালের বস্তার গায়ে তো লেখা নেই কিসের চাল, তবে ত্রাণের চাল মনে করেই আমরা আটক করেছি। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে কিসের চাল, কোথায় যাচ্ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান বলেন, ত্রাণের নয় বরং এগুলো ভিজিডির চাল। আজ ভোঁপাড়া ইউনিয়ন থেকে গ্রহিতারা এ চালগুলো নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। যেহেতু সরকারি চাল ক্রয় বিক্রি নিষিদ্ধ, তাই এটি আটক করা হয়েছে। 

না’গঞ্জে ৭ খুন: পিপির মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টা !

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলার নিম্ন আদালতের সরকারি আইনজীবীর (পিপি) মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম মায়েশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি (১৬)। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানান সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক। প্রাপ্তির বাবা এস এম ওয়াজেদ আলী স্বপন নারায়ণগঞ্জের জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক বলেন, প্রাপ্তির পাকস্থলি ওয়াশ করা হয়েছে। তার অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত।
ওয়াজেদ আলী স্বপন জানান,সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাত পরিচয় তিন-চারজন যুবক তাকে এসে বলে- ‘তোমার বাবা খুব ভালো কাজ করেছে, তোমাকে মিষ্টি খাওয়ানো উচিত।’ কিন্তু প্রাপ্তি মিষ্টি খেতে না চাইলে তারা জোর করে তার মুখে মিষ্টি ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তারা প্রাপ্তিকে পানি পান করালে তার বুকে জ্বালা শুরু হয়।
প্রাপ্তির বাবা বলেন, পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তার পাকস্থলি ওয়াশ করে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয় বলে জানান তিনি। প্রাপ্তি স্থানীয় একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে এ লেভেলের ছাত্রী। 

Saturday, August 12, 2017

চাকুরীপ্র্রার্থী বেকার ভাইয়ের জন্য আর্তনাদ ! 

বিসিএস পরীক্ষার্থী আমার ভাই রাতের পুরোটা সময় মুখথুবরে বই নিয়ে পড়ে থাকে, রাত শেষে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যায় মাঝে মাঝে কোমরে ব্যাথা জাগে, তবুও থামেনা। পেইন কিলার খেয়ে আবার চেয়ারটেবিলে পড়তে বসে।সেই ভাই যখন কোটা বৈষম্যর বেড়াজালে নরবে চোখের জল ফেলে, তখন এটাকে আপনি কি বলবেন? দোষটা কি তার? সে মেধাবী কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না,সে ভালো ছাত্র কিন্তু প্রতিবন্ধী না? তার রেজাল্ট ভালো কিন্তু নারী না? সে অধ্যবসায়ী কিন্তু উপজাতী না? এদিকে এবার বিসিএস পরীক্ষার জন্য মোট পদ:২০২৪,মুক্তিযোদ্ধা কোটা :৩০%,মহিলা কোটা:১০%,জেলা কোটা:৫%,প্রতিবন্ধি কোটা:১%,উপজাতি কোটা:৫%,মোট কোটা:৫৬%,সাধারন :৪৪%,২০২৪ এর ৫৬% =১১৩৪,বাকি মাত্র ৮৯০ টা সিট দেশের সকল অভাগাদের জন্য! প্রতিযোগীর সংখ্যা যেখানে কোটির ঘরে।
এই কোটা প্রথা! সাধারণ চাকুরিপ্রার্থীদেরকে দয়া আর অনুকম্পার পাত্র বানিয়ে ফেলেছে। চাকুরী যদি কোটা ধারীরাই পাবে তবে আমর ভাই কলুরবলদের মত খেটে মরছে কেন? আমার বাবার ঘামঝড়ানো টাকা কেন,পড়াশোনার পেছনে অনর্থক ব্যয় হবে? আমার বাপদাদারা যুদ্ধ করেনি বা ভুয়া সার্টিফিকেট কালেক্ট করে নাই,এজন্য আমার ভাইয়ের অপরাধ কি? এজন্য সাধারণ চাকুরিপ্রার্থীকে কেন বৈষম্যের স্বীকার হতে হচ্ছে? অচিরেই এ বৈষম্যের অবসান ঘটান অথবা সব চাকুরীপ্রার্থী বেকার ভাইদেরকে খোলা মাঠে দাঁড় করিয়ে গুলি কর মেরে ফেলেন।পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে গুলি খেয়ে মরা ঢেরগুণ ভালো। অন্তত: মায়ের কান্নাজরানো কন্ঠে শুনতে হবে না; খোকা এবার কিছু একটা কর!! অন্তত বাবার ঘামঝড়ানো টাকা মাস শেষে বেহায়ার মত হাত পেতে নিতে হবে না।

Sunday, August 6, 2017

হজ ব্যবস্থাপনায় বিপর্যয়ের নেপথ্যে 

 
চলতি বছর দেশের হজযাত্রীদের হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ২৪ জুন। হজ পালন করতে সৌদি আরবে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান বহন করবে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন যাত্রী। বাকিরা যাবেন সৌদিয়া এয়ারলাইনসে। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। এর মধ্যে গত রোববার পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৮৭৯ জনের ভিসা পাওয়া গেছে। ৬৫ হাজার ১২ জনের ভিসার আবেদন সৌদি দূতাবাসে জমা রয়েছে। অবশিষ্ট ৭ হাজার ১৩৩ জনের ভিসার আবেদন এখনো জমাই পড়েনি। মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যেই সৌদি আরব পৌঁছেছেন মাত্র ৩৯ হাজার ২৪৮ জন। অর্থাৎ এখনো হজে যেতে বাকি ৮৭ হাজার ৯৫০ জন।
অথচ এরই মধ্যে নানা জটিলতায় যাত্রী সংকটের কারণে বাতিল হয়েছে বিমান ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি ফ্লাইট। হাতে আছে আর মাত্র ২১ দিন। এর মধ্যে ৭০ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর ভিসা পেতে হবে। দুই এয়ারলাইনসকে বহন করতে হবে ৮৭ হাজার ৯৫০ হজযাত্রীকে। কিন্তু এত অল্প সময়ে ভিসা সংগ্রহ ও অবশিষ্ট যাত্রীদের বহন–এই দুই এয়ারলাইনস কতটা পেরে উঠবে, শঙ্কা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে। ফলে এ বছর কমপক্ষে ৩৯ হাজার হজযাত্রীর শেষ পর্যন্ত হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভিসা জটিলতায় রয়েছেন ৩১ হাজার ও বাকি ৮ হাজার যাত্রী রয়েছেন ফ্লাইট শঙ্কায়।
এর আগে গত বছরও দেশের হজ ব্যবস্থাপনায় এমন বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। হজযাত্রায় এমন বিশৃঙ্খলা ছিল গত বছরও। তখনো যাত্রী স্বল্পতায় প্রথম ১২ দিনে ১০টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়। হজে যেতে ইচ্ছুক ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের মধ্যে ভিসা হয় মাত্র ৬৫ হাজার জনের। শেষ পর্যন্ত বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনস যাত্রীবহনে সক্ষম না হওয়ায় ৪০ হাজার জন হজে যেতে পারেননি।
অর্থাৎ প্রতি বছরের মতো এবারও হজযাত্রা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা বিশৃঙ্খলা। গত বছরের মতো এবারও হজ পালনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, কোটা বাণিজ্য, ভিসা, সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া, খাওয়া, জিয়ারত, বিমান ভাড়াসহ প্রতিটি পদে পদেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ নিয়ে বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি করলেও জটিলতা কাটছে না। মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের একেক সময় একেক সিন্ধান্তে এবারও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হজযাত্রীদের। অব্যবস্থাপনার জন্য পরস্পরকে দুষছে বিমান কর্তৃপক্ষ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা হাব। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা। এক অফিসের নির্দেশনা অন্য অফিস মানছে না। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হজ ফ্লাইটের শিডিউল করা অনেক হজযাত্রী এখনো ভিসা পাননি। নির্ধারিত ফ্লাইটে যেতে পারছেন না তারা। লাগেজ নিয়ে হজক্যাম্পে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নিবন্ধিত হজযাত্রীরা।
এ নিয়ে স্বয়ং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভিসা জটিলতা ও মোয়াল্লেম ফিসহ বিভিন্ন কারণে হজযাত্রীরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ বিমানে ১৭৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯টি হজ ফ্লাইট এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে পরের দিকে বিমানে যাত্রী পরিবহনের চাপ বাড়বে। এ ছাড়া ৮৫ হাজার যাত্রীর পাসপোর্ট এখনো হাতে পায়নি হজ অফিস। এসব সমস্যা বিমানের নয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিগুলোর জটিলতায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি প্রায় ৪০ হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরব-যাত্রা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত সব যাত্রীকেই হজে পাঠাতে পারব। তবে আমরা আগে জানলে দুই হাজার রিয়ালের বিষয়টি প্যাকেজে যুক্ত করতাম। এ ধরনের কোনো চিঠি তখন মন্ত্রণালয়ে আসেনি।’ একইভাবে শেষ পর্যন্ত সব যাত্রীই হজে যেতে পারবেন বলে আশা করছেন হাব মহাসচিব শাহাদত হোসেন তসলিম। তিনি বলেন, প্রতি বছরই হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়। ফ্লাইট বাতিল হয়। তবে এ বছর যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেটি মূলত দুটি কারণে–আকস্মিক ২০০ রিয়াল যুক্ত করা ও সৌদি আরবের ই-ভিসা চালু করা। তবে সেগুলোরও সমাধান হচ্ছে।
৪০ হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া নিয়ে যে সংশয়, তা সঠিক নয় বলে মত দিয়েছেন এই হজ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যে ফ্লাইটগুলো এখন পর্যন্ত বাতিল হয়েছে, সেখানে যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র আট হাজার জন। সেটিও সমস্যা না। কারণ বিমান কর্তৃপক্ষ আরো ২০টি ফ্লাইটের অনুমতি পাচ্ছে। সেটি হলে সমস্যা থাকবে না।
এ বছর হজযাত্রা নিয়ে এমন বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে অবশ্য সংশ্লিষ্টরা দুটি মূল কারণের কথা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমান এয়ারলাইনসের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, সরকারের দুই প্রতিষ্ঠান ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমান এবং হাবের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইচ্ছে করেই হজ অব্যবস্থাপনা তৈরি করেছে। তারা চাইছে নানা জটিলতা তৈরি করে মূলত বিমান এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইট বাতিল করতে। এর ফলে শেষ দিকে হজযাত্রীদের থেকে টিকিটপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করবে। সে হিসেবে হাতিয়ে নেবে অতিরিক্ত ৫০-৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাতিল হওয়া হজ ফ্লাইটগুলো পরিচালনার মাধ্যমে সৌদি এয়ারলাইনস একচেটিয়াভাবে সব ভাড়া পাবে। সে হিসেবে বিমানের লোকসান গুনতে হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এসব কর্মকর্তা এমনও বলেন, এসব অর্থ এই সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগ হয়। গত বছরও এই সিন্ডিকেট এভাবে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।
কেন এমন হচ্ছে-এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত এই সিন্ডিকেটই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গাফিলতিই মূল কারণ। কারণ ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করেছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত ফি হিসেবে দুই হাজার রিয়াল (৪৪ হাজার টাকা) দিতে হবে, তা ১০ মাস আগেই সৌদি কর্তৃপক্ষ ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই ফি হজ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে অনেক হজযাত্রী এ অর্থ পরিশোধে অনীহা দেখানোয় ভিসা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক হজ এজেন্সি এখনো হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করেনি। যদিও নির্দেশনা রয়েছে, সৌদি আরবে হাজিরা যে বাড়িতে থাকবেন, সেই বাড়ি বা হোটেলের নাম, তাসরিয়া নম্বরসংবলিত স্টিকার তাদের পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। হজ এজেন্সিগুলো শেষ সময়ে কম টাকায় বাড়ি ভাড়া সুবিধা নিতে দেরিতে বাড়ি ভাড়া করছেন বলে ভিসা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সৌদি আরব এ বছর ই-হজ ব্যবস্থাপনা চালু করায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশে দেখা দেওয়া কারিগরি সমস্যার কারণেও ভিসা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সৌদি আরবে মোয়াল্লেমদের ফি বেড়ে গেছে। বিগত বছরগুলোতে ৭২০ রিয়ালে মধ্যে মোয়াল্লেম ঠিক করলেও এ বছর হজ এজেন্সিগুলোর কাছে সৌদি আরবে মোয়াল্লেমরা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ রিয়াল বাড়তি দাবি করছেন। এ বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কমাতে কম টাকায় বাড়ি ভাড়া নেওয়া প্রবণতা বেড়েছে হজ এজেন্সিগুলোর।
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যমান ও সিএ) আবুল হাসনাত জিয়াউল হক বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে এয়ারলাইনসগুলোর প্রস্তুতি যথাযথ রয়েছে। কিন্তু যাত্রী না থাকায় ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হজ এজেন্সি, ধর্ম মন্ত্রণালয় ভিসাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করলে ফ্লাইট নিয়ে জটিলতা থাকবে না।
এই অব্যবস্থাপনার খেসারত হিসেবে বিমান কর্তৃপক্ষকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মকর্তারা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তাদের হজযাত্রী পরিবহনের কথা ৬৩ হাজার ৬০০ জন। এজন্য তারা ৩টি এয়ারক্রাফট ভাড়া নিয়েছে। কিন্তু রোববার পর্যন্ত তাদের ১৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এভাবে চললে আরো ১০টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। সে হিসেবে শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ হাজার হজযাত্রী সাউদিয়া এয়ারলাইনসকে দিয়ে পরিবহন করাতে হবে। তাহলে বিমানকে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। কারণ স্লটের অভাবে যদি হজযাত্রী পরিবহন করতে না পারে, তাহলে একদিকে বসিয়ে বসিয়ে লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের ভাড়া গুনতে হবে, অপরদিকে হজযাত্রীর পুরো বিমান ভাড়া থেকেও বঞ্চিত হবে। একইভাবে শেষ দিকে যাত্রীপ্রতি বিমান ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত আদায়েরও পাঁয়তারা করছে এই চক্র। 
লেখক: প্রতীক ইজাজ 

মেট্রোরেলের কোচ কেনা হচ্ছে সোয়া ৪ হাজার কোটিতে

জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকায় কেনা হচ্ছে স্বপ্নের মেট্রোরেলের কোচ ও রেল ট্রাক। আর এসব কোচ শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে। রাজধানীতে রেলকোচ ও ট্রাক সংগ্রহের বিষয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, হলি আর্টিজানে গত বছরের হামলার ঘটনায় প্রায় ৮ মাস পিছিয়েছে মেট্রোরেলের কার্যক্রম। তবে এখন ফুল সুইং (পুরোদমে) কাজ চলছে। এতে পিছিয়ে যাওয়া ওই সময় কভার করে নেওয়া যাবে। 
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫ সেট ট্রেন উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চালানো শুরু হবে। আর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১৯ সেট ট্রেন ও ডিপোর যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে।  প্রকল্প সূত্র জানায়, উত্তরায় তৃতীয় ফেজে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণ ও ডিপো এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে।  প্রায় ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে শুরু হয়ে পল্লবী, ফার্মগেট, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এ রেলপথে স্টেশন থাকবে ১৬টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মানুষের চাহিদা ও ব্যবহার উপযোগী হবে মেট্রোরেলের কোচগুলো। ৪ সেকেন্ডের মধ্যে মেট্রোরেলের গতি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারবে।  সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রথম ধাপে উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটে চলা শুরু করবে কোচগুলো। প্রতিটি কোচে যাত্রী ধরবে ১ হাজার ৭৩৮ জন। সিট থাকবে লম্বালম্বি আকারে। ট্রেনের বডি হবে স্টেইনলেস স্টিলের।
কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলের যে কোচগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেগুলো খুবই আধুনিক ও উচ্চ গুণগত মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি। প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য হবে ১৮০ মিটার। পুরো ট্রেনে থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। কোচের আসনগুলো লম্বালম্বি আকারে সাজানো থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দু’টি হুইল চেয়ারও। আর স্মার্টকার্ড টিকিটিং পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রীরা ওঠা-নামা করবেন মেট্রোরেলে। জাপানি মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। 
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এন এম ছিদ্দিক জানান, মেট্রোরেলের উভয় পাশে ৪টি করে দরজা থাকবে। কোচগুলো দেশের মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য আলাদাভাবে তৈরি করা হচ্ছে। একটি স্টেশন থেকে ছাড়ার ৩ থেকে ৪ সেকেন্ডের মধ্যে ১০০ কিলোমিটারে উঠবে মেট্রোরেলের গতি। প্রকল্প অনুসারে, ৮টি প্যাকেজে ভাগ করে চলছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের কাজ। এর মধ্যে প্যাকেজ ৩ ও ৪ এর কাজ শুরু করা হয় গত ০২ আগস্ট। ওই প্যাকেজের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। 
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এ রুটে নির্মিত হবে ১২ কিলোমিটার উড়ালপথ। এই উড়ালপথেই মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণ করা হবে। আর স্টেশনগুলোও হবে উড়ালপথেই। ৮ নম্বর প্যাকেজে হবে রেলকোচ ও ট্রাক পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। যার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে জাপানি কোম্পানির সঙ্গে। এর সময়সীমা ৫১ মাস। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময়ের মধ্যেই রোলিং স্টক (বগি) ও ট্রেন সিমুলেটর এবং বগি পরিচালনা ও সংরক্ষণে ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা হবে। রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কমচারীদের প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্পোট সার্ভিসও চুক্তির অর্ন্তভুক্ত হবে। 

Saturday, August 5, 2017



গুগল এ্যাডসেন্স কি? গুগল এ্যাডসেন্স সার্চ ইঞ্জিন গুগলের একটি এ্যাডভার্টাইজিং প্রোগ্রাম। এ্যাডসেন্সের মাধ্যমে উপার্জনের জন্য নিজস্ব একটি ওয়েব সাইট/ব্লগিং সাইট থাকতে হবে। ফ্রি ওয়েব সাইটের মাধ্যমেও এ্যাডসেন্স দিয়ে উপার্জন করা সম্ভব।
এ্যাডসেন্সে আয়ের পরিমানঃ
এটা নির্ভর করে আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা, এ্যাডসেন্সে দক্ষতা, এসইও/অনলাইন মার্কেটিং এ আপনি কতটা দক্ষ ইত্যাদি বিষয়ের উপর। তবে গুগল এ্যাডসেন্সে আয় হতে পারে মাসে ২০০, ৫০০, ১০০০ ডলার বা তদূর্ধে।
নিচের ভিডিওতে দেখুন- কিভাবে সহজেই এ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে ঘরে বসেই উপার্জন করা যায়গুগল এ্যাডসেন্সে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কি কি শিখতে হবে?
কম্পিউরের ব্যাসিক বিষয়গুলো জানতে হবে। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে শিখতে হবে
১. গুগল এ্যাডসেন্স ও ব্লগিং (নিয়মাবলীর জন্য)
২. ওয়েব সাইট পোষ্টিং/মেইনটেনেন্সের জন্য শিখতে হবে ওয়েব ডিজাইন ও ওয়ার্ডপ্রেস।
৩. ব্লগ পোষ্টিং এর জন্য ইমেজ এডিটিং প্রয়োজন, এজন্য শিখতে হবে গ্রাফিক্স ডিজাইন।
৪. ওয়েবসাইটে ভিজিটর বৃদ্ধির জন্য শিখতে হবে SEO ও অনলাইন মার্কেটিং (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি)
>> কিভাবে ঘরে বসেই শিখতে পারবেন?
উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে গুগল এ্যাডসেন্স ক্যারিয়ার উপযোগী ৬টি বিশেষ ভিডিও লার্নিং প্যাকেজ নিয়ে এসেছে আল-হেরা মাল্টিমিডিয়া। ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই হতে পারেন দক্ষ এ্যাডসেন্স প্রফেশনাল। এছাড়া, টিউটোরিয়ালগুলো ফলো করে অনলাইন আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসেও আপনি কাজ করতে সক্ষম হবেন।
একটি ভিডিও ডেমো টিউটোরিয়াল দেখুন:
 ফেসবুক মার্কেটিং টিউটোরিয়াল ডেমো
 
>> টিউটোরিয়ালগুলোর আরও বিস্তারিত রিভিউ, ডেমো ও ভিডিও ট্রেইলার দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন
 http://tinyium.com/2mEA

ডোনেটর গার্লসরা মাসে আয় করছেন ৭০ হাজার টাকা! 

ডিম্বাণু ডোনেট করছেন এই তরুণীরা

পরিচালক আয়ুষ্মান খুরানার ‘ভিকি ডোনর’ মুক্তির পর ভুরু কুঁচকে গিয়েছিল সমাজ সচেতনদের। ছবিতে স্পার্ম দেয়ার দৃশ্য দেখে অনেকেই নাক সিঁটকেছিলেন। কিন্তু পর্দার সেই ভিকির মতোই এবার বাস্তবে বন্ধ্যাত্ব মোকাবেলায় পথ দেখাচ্ছে ডোনেটর গার্লস নামে খ্যাত তরুণীরা। বন্ধ্যাত্বের কারণে যেসব দম্পতি সন্তানসুখ থেকে বঞ্চিত হন, তাদের জন্যই নিজেদের ডিম্বাণু ডোনেট করছেন বহু যুবতী। বিভিন্ন ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়ে নিজেদের ডিম্বাণু ডোনেট করে আসছেন তারা। প্রতিবার ডিম্বাণু দেয়ার জন্য পাচ্ছেন ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। তবে টাকার অংকই শুধু কারণ না বলে জানিয়েছেন ডোনেটর তরুণীরা। নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভে সাহায্য করাই তাদের উদ্দেশ্য।
ডোনেশন সাইটে নাম নথিভুক্ত করার পর নির্দিষ্ট ক্লিনিক থেকে যোগাযোগ করা হয় ডোনেটরের সঙ্গে। গাইনোকোলজিস্ট খতিয়ে দেখেন একজন ডোনেটরের বয়স, উচ্চতা, ব্লাড গ্রুপ ও পরিবারে কোনও অসুখ-বিসুখ আছে কিনা। ডিম্বাণু ডোনেশনের জন্য ওই যুবতী শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা দেখে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মনোবিদের সঙ্গে পরামর্শও চলতে থাকে। শরীর ও মন পুরোপুরি ডোনেশনের উপযুক্ত মনে হলে, ডাক্তার হরমোনাল ইনজেকশন দেন। যাতে বেশি সংখ্যায় ডিম্বাণু উৎপাদন হয়।
অনেকসময় এই ইনজেকশনের ফলেই বমি, মাথাঘোরা, মাথা যন্ত্রণা, খিটখিটে ভাব বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পাশাপাশি  ডিম্বাণু ডোনেশনের ক্ষেত্রেও গায়ের রংয়ের কারণে টাকার অঙ্কে হেরফের লক্ষ্য করা যায়। বিয়ের বাজারের মত ডিম্বাণু ডোনেশনের ক্ষেত্রেও ডোনেটরের গায়ের রঙের উপর বাজারদর ওঠানামা করে বলেও জানা যায়।