Tuesday, August 1, 2017

তরুণ-তরুণীদের অনলাইনে উর্পাজনের আগ্রহ  

ক্রমেই বাড়ছে

ঘরে বসে অনলাইনে উর্পাজনের আগ্রহ বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের। ফলে উচ্চ শিক্ষিত বেকার এসব তরুণ-তরুণীরা নিজেকে স্বনির্ভর করে তুলতে ঝুকঁছেন আউটসোর্সিং মার্কেটে। ইতোমধ্যে সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে লার্নিং-আর্নিং প্রকল্পে দেশব্যপী প্রশিক্ষণ নিয়েছে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। 
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বৃহত্তম বিজনেস আউট সোর্সিং কোম্পানি ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেডের আওতায় লার্নিং আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে উন্নত মানের ডিজিটাল ল্যাবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ কর্মীতে রুপান্তরের জন্যই এ কার্যক্রম চলছে। ৫০ দিনের ট্রেনিং প্রোগ্রাম শেষে প্রশিক্ষিতদের জন্য ৩ মাসের মেন্টরিং সেশন চালু করা হয়েছে। এ সেশনে আউটসোর্সিং মার্কেটে উপার্জনের পদ্ধতির বিষয়ে আরো বেশি দক্ষতা অর্জন করবে প্রশিক্ষিতরা। এক্ষেত্রে তাদেরকে চূড়ান্ত ধারণা দেয়ার জন্য রয়েছেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশিক্ষকগন।
লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরো অগ্রগতি সাধনে আউটসোর্সিংয়ে গ্লোবাল আইসিটি মার্কেটকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই তরুণরা এখন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করতে পারছে। সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে এ প্রকল্প চলতে থাকলে এক সময় দেশের শিক্ষিত কোন তরুণ-তরুণী আর বেকার থাকবে না।
এবার ফ্যাশনে গামছা!
বাঙালির কাছে গামছা শুধু প্রয়োজন মেটাবার উপকরণই নয় বরং তা আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা এক কথায় বাংলার শাশ্বত রূপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। গ্রাম বাংলার যে কোনো পেশার যে কোনো মানুষের কাছে এই গামছার কদর কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গামছা দেশীয় ঐতিহ্য আর সমকালীন ট্রেন্ডের যথাযথ সমন্বয়। কেউ চাইলে নিজের নকশায় গামছা দিয়ে পোশাক বানিয়ে নিতে পারেন। আবার ফ্যাশনের একটি আলাদা অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গামছা। পাতলা কাপড়ের ধরন এবং প্যাটার্নটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আলাদা একটি ফ্যাশন জগৎ। গামছা নিয়ে বিশ্বের ফ্যাশন জগৎ মাতিয়ে চলছেন আমাদের ডিজাইনাররা। আর এই গামছা ফ্যাশনের মূল কারিগর হলেন বিখ্যাত ডিজাইনার বিবি রাসেল। তিনিই একে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেন।
রঙ-বেরঙের চেক প্যাটার্নের গামছা শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আর শরীরের ঘাম ক্লান্তি মোছার জন্যই নয়, গামছা শোভা পাচ্ছে শাড়ি, ফতুয়া, টপস, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাকে। এ ফ্যাশনের জন্য কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়াও এক ধরনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, গামছার কাপড় অনেক নরম, পাতলা এবং পানি শোষণে বিশেষ সহায়ক বলে গরমে বেশ আরামদায়ক হয়।
দেশের অনেক ফ্যাশন হাউসে এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস কিংবা ওড়নায় গামছার কাপড় ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেকেই আবার ভিন্ন ধরনের কাপড়ের সঙ্গে গামছার কাপড় যোগ করে তৈরি করছেন ফিউশন। স্কার্ট এবং বিভিন্ন ধরনের প্যান্টে ফিউশনের মধ্যে অন্যতম। ছেলেরাও ঐতিহ্য আর ফ্যাশন এক করে নিয়ে গামছা ফ্যাশনে পিছিয়ে নেই কিন্তু! গামছা কম্বিনেশন দেখা যাচ্ছে পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট ও ফতুয়াতেও।
সাজে
গামছা মূলত প্রকৃতিতে আমরা যেসব রঙ দেখে অভ্যস্ত তার ওপর প্রাধান্য দিয়েই তৈরি হয়। ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে গামছা বেছে নিলে হালকা আইশ্যাডো আর একটুখানি লিপস্টিকের ছোঁয়াই যথেষ্ট। তবে যদি কোনো অনুষ্ঠানের জন্য গামছা ডিজাইনের শাড়ি কিংবা অন্য কোনো পোশাক বেছে নেন তবে একটু ভারী মেকআপ নেয়া যেতে পারে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে কিংবা কন্ট্রাস্টে। তবে মেকআপ যাতে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপিত হয় সেদিকে নজর রাখা চাই। আর গামছা পোশাকের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে যাবে এন্টিক ধরনের কোন গহনা। এ ছাড়া কাঠের কিংবা পুঁতির মালা, কানের দুল কিংবা বাজু সাজে এনে দিতে পারে ভিন্নতা।
ফ্যাশনে
শাড়ি, ফতুয়া, টপস, স্কার্ট, ওড়না, সালোয়ার-কামিজ এমনকি পাঞ্জাবিতেও ব্যবহার হচ্ছে পিওর গামছা। পোশাকে গামছা শুধু কাপড় হিসেবেই নয়, ফ্যাশন দুনিয়ায় গামছার রয়েছে বহু ব্যবহার। ফ্যাশনেবল ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে গামছা। এ ছাড়া রয়েছে রুমাল, জুয়েলারি বক্স, মাথার ব্যান্ড ও ফিতা।
শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, পাঞ্জাবির পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে বটুয়া ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, স্যান্ডেল, পার্স ব্যাগ, অলংকার, টুপি ও উত্তরীয়। ঘর সাজানোর সামগ্রীও তৈরি করা হচ্ছে গামছা দিয়ে। ল্যাম্পশেড, কুইল্ট, ডাইনিং টেবিলের রানার ও প্লেসমেটও তেরি হচ্ছে গামছা দিয়ে।
গৃহসজ্জায়
আবার ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে গামছা মানানসই বিছানার চাদর ও জানালায় পর্দায় ফিউশন ডিজাইন করে গামছা ব্যবহার করা যায়। গামছার নকশা থেকে যেকোনো একটি উজ্জ্বল রং বেছে নিতে পারেন পর্দা আর চাদরে। খাবার ঘরে গামছা মোটিফ চাইলে নিতে পারেন গামছা, টেবিল রানার ও ন্যাপকিন। টিস্যু হোল্ডারেও গামছা নকশা পাবেন। সাজে ষোলোআনা সামঞ্জস্য পেতে বেসিনের পাশে টাওয়েলের পরিবর্তে একটা গামছা রাখুন।
পাওয়া যাবে
আড়ং, বিবিয়ানা, যাত্রা, সোর্স, দেশি দশ, স্বদেশিসহ প্রায় সব দেশীয় ফ্যাশন হাউস কাজ করেছে গামছা নিয়ে। পোশাকের পাশাপাশি ফ্যাশন হাউসে মিলবে গামছার গৃহসজ্জা সামগ্রী ও অন্যান্য অনুষঙ্গ। পটের বিবি, প্রিয়তমেষু, বিজেন্সসহ বেশ কিছু অনলাইন শপে পাবেন গামছা শাড়ি। দোকানভেদে গামছা সামগ্রীর দামের তারতম্য হতে পারে।

Monday, July 31, 2017

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণাঃ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায়টি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। গত ৩ জুলাই জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। রায় অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকছে না। হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সকালে বলেন, আজ কিছুক্ষণের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রায়টি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিচারকদের পদের মেয়াদসংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বিল অনুসারে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না। ৩ দফায় বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাবসম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। আপিলের ওপর গত ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১১তম দিনে গত ১ জুন শেষ হয়। ওইদিন আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। গত ৩ জুলাই রায়ের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি।

শোকাবহ আগস্টের শুরু আজ  

আগস্ট মানেই শোক। আগস্ট মানেই শোকে আপ্লুত বাঙালির কান্নাভেজা মাস। আজ সেই ১ আগস্ট। শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে। ভাগ্যক্রমে দুই কন্যা শেখ রেহানা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও রক্ষা পাননি আরো অনেক স্বজন, সতীর্থরা। অথচ এই অমোঘ নেতার নির্দেশেই, বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল একাত্তরে, দেশ স্বাধীনে, স্বাধিকার রক্ষায়। ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা। আবার সেই স্বাধীন ভূমিতেই, তাকে নির্মমভাবে খুন হতে হলো, কিছু ক্ষমতালোভী মানুষের হাতে, এই আগস্টেই। তাই আগস্ট এলেই ডুকরে কেঁদে ওঠে বাঙালি। বুকের ভেতর বয়ে যায় বেদনার স্রোত।
পরম বেদনায় আগস্টকে ‘বাঙালির ট্র্যাজেডি’র মাস আখ্যা দিয়েছিলেন প্রয়াত বরেণ্য বুদ্ধিজীবী জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। বুকের ভেতর পুষে গভীর ক্ষত নিয়ে বলেছিলেন, ‘আগস্টে বাঙালি অনেক কিছু হারিয়েছে। যার নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি তার স্বাধীনতা পেয়েছে, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সেই মহাপুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে কিছু ক্ষমতালোভী মানুষ। কালের যাত্রায় সেই ঘাতকদের বিচার হয়েছে। তারা শাস্তি পেয়েছে। তবে পিতাকে হারানোর সে ক্ষত কোনো দিন ভুলতে পারবে না বাঙালি।’
আগস্ট এলেই শোকে শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে বাঙালির মাথা। পিতা হত্যার অপরাধে, লজ্জায়, কেঁদে ওঠে সম্মিলিত শোক, বেদনা। চারদিকে কেবলই স্রোত নামে শোকস্তব্ধ মানুষের। মানুষ কাঁদে। বেদনার গান গায়। নামে শোকের মিছিলে। কালোয় কালোয়, শোকে শোকে, বেদনাবিধুর হয়ে ওঠে গোটা দেশ, দেশের মানুষ। পিতাহীন দেশে, সংকটে উপনীত বাঙালি তাই এখনো আশ্রয় খোঁজে তারই আদর্শে, রেখে যাওয়া কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরম ছায়ায়, ভালোবাসায়। মুক্তি মেলে মানুষের, তারই স্বপ্নাকাশে। মানুষ জোটবদ্ধ হয়। সম্মিলিত শোক, রূপ নেয় শক্তিতে। নতুন করে বেঁচে থাকার, নতুন শপথ নেয় বাঙালি। আগস্ট এলেই মেঘমুক্ত আকাশে কেঁদে ওঠে কালো মেঘমালা। পথে, ঘাটে, বন্দরে গীত হয় শোকগাথা।
পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট কালো রাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।
এখনো মধ্যরাতে কাঁদে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সেই বেদনাবিধুর বাড়িটি। এখানেই ৭৫-এর ১৫ আগস্ট রাতে খুন হয়েছিলেন পিতা সপরিবারে। আজ থেকে এখানে ঢল নামবে সর্বস্তরের মানুষের। অবনত মস্তকে, শোকে-বেদনায়, পরম শ্রদ্ধা জানাবেন পিতাকে, হারানো স্বজনদের। চোখের জল ও পুষ্পার্ঘ্যে উথলে উঠবে শোক। মানুষ নতুন করে শপথ নেবে দেশ গড়ার, মানুষকে ভালোবাসার।

জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ 

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য বক্স কালভার্টগুলো খুলে দিয়ে এর ওপর দিয়ে উড়ালসেতু বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজ শুরুর নির্দেশ দেন তিনি। সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ছাড়াও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালগুলোর ওপর বক্স কালভার্ট থাকার কারণে ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। এতে পানিও দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী হেভি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে খনন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
একইসঙ্গে ড্রেজিং করা বালু বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্যও তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সরকারের আমলে ঢাকা শহরের খালগুলো দখল হয়েছে।
 
মানি লন্ডারিং আইনে মুসার বিরুদ্ধে মামলা

বিলাসবহুল গাড়িতে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি ও সুইস ব্যাংকে ৯৬ হাজার কোটি টাকার অস্বচ্ছ হিসাব দাখিলের কারণে ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ (মানি লন্ডারিং) আইনে মামলা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ মামলা দায়ের করে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মুসা বিন শমসেরের ব্যবহার করা বিলাসবহুল একটি গাড়ি এ বছরের ২১ মার্চ আটক করে শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি দল। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কালো রেঞ্জ রোভার গাড়িটি কেনা হয়। অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কালো রেঞ্জ রোভার মডেলের একটি গাড়ি ভোলা বিআরটিএর কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। মুসা বিন শমসের ১৭ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধ দেখিয়ে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি প্রদর্শন করে গাড়িটি বেনামে নিবন্ধন করেন। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে দেখতে পান, এ গাড়িতে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শুল্ক কর জড়িত। গাড়িটি পাবনার ফারুকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন-প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সংযোগ থাকায় তা পৃথকভাবে তদন্তের জন্যও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুরোধ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দার জিজ্ঞাসাবাদে মুসা বিন শমসের লিখিতভাবে জানান, সুইস ব্যাংকে তার ৯৬ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। কিন্তু তিনি এ টাকার কোনো ব্যাংক হিসাব বা বৈধ উৎস দেখাননি। কয়েকবার নোটিস দিলেও তিনি তা জমা দেননি।
আওরঙ্গাবাদে আবারও বিক্ষোভের মুখে 

তসলিমা নাসরিন

দীর্ঘ প্রায় ২ দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাসিত রয়েছেন বাংলাদেশে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। স্থানীয় জনতার বিক্ষোভের মুখে মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে হয়েছে বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। আওরঙ্গাবাদের পুলিশ জানিয়েছে, লেখিকা তসলিমা নাসরিন শহরের একটি হোটেলে থাকার জন্য ঘরও বুক করেছিলেন- কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বই থেকে আওরঙ্গাবাদ বিমানবন্দরে নামার পরই তিনি প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এর আগে হায়দ্রাবাদ ও কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেই তসলিমা নাসরিনকে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। এমন কী শারীরিকভাবেও তাকে লাঞ্ছনা করার চেষ্টা হয়েছে।

সুইডেনের পাসপোর্টধারী তসলিমা নাসরিন ভারতের ভিসা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে প্রধানত দিল্লিতেই বসবাস করেন। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শত শত কর্মী বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়ে ‘তসলিমা গো ব্যাক’ শ্লোগান দিতে থাকেন। তদের বক্তব্য ছিল, ইসলাম-বিরোধী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কিছুতেই আওরঙ্গাবাদ শহরে পা রাখতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ তসলিমা নাসরিনকে বিমানবন্দরে বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত এয়ারপোর্টেই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি পুলিশের পরামর্শ মেনেই ফিরতি বিমানে মুম্বই ফিরে যান বলে জানা গেছে।

কলকাতায় তার প্রবেশের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে নিরাপত্তাগত ঝুঁকির কারণে ভারতের অন্যত্রও যে তিনি অবাধে ঘোরাফেরা করতে পারেন তা নয়। তবে আওরঙ্গাবাদের ঘটনা নিয়ে তসলিমা নাসরিন সংবাদমাধ্যমের সামনে এখনও মুখ খোলেননি। তাকে আপাতত একটি অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।