Monday, May 22, 2017

মন্ত্রীদের তুমুল সমালোচনা
কিছু মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে দল বিব্রত ♦

























আওয়ামীলীগ সরকারে থাকা কিছু মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ
সভানেত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সমালোচনা 
হয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের 
সভাপতিত্বে সম্পাদকমণ্ডলীর এ বৈঠকে মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর
কবির নানক, আবদুর রহমান,বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, 
মৃণালকান্তি দাস, আবদুস সোবহান গোলাপ, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ফরিদুন্নাহার
 লাইলী, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সবুর,
 বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই বক্তৃ্তা করেন। বৈঠকে কয়েকজন
 মন্ত্রীর তুমুল সমালোচনা ছাড়াও আওয়ামী ওলামা লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়।
ওলামা লীগ বর্তমানে কয়েকটি ধারায় বিভক্ত। এই সংগঠনের একটি অংশের বিরুদ্ধে 
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলা নেতাদের বিরোধ নিরসনের 
জন্য কেন্দ্রে ডেকে না এনে স্থানীয়ভাবে বসে সমাধান করলে সুফল পাওয়া যাবে বলে 
মনে করেন সম্পাদকমণ্ডলীর অনেক সদস্য। বৈঠক সূত্রে জানা যায়,কিছু মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে
১৪-দলীয় জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগকেই সব দায়ভার বহন করতে হচ্ছে। মন্ত্রিসভায়
থেকে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইলে দায়িত্ব ছেড়ে কথা বলার পরামর্শ 
দেওয়া হয় বৈঠকে। বৈঠকে আরও বলা হয়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে
তল্লাশি চালিয়ে কার্যত দলটিকে চাঙ্গা করে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া হুট করে
এটা করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন 
সম্পাদকমণ্ডলীর কেউ কেউ। বৈঠকে সম্পাদকমণ্ডলীর দুজন সদস্য দলের সাধারণ 
সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে জানতে চান, একটি বড় দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে 
তল্লাশির আগে কি আমাদের রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল? জবাবে ওবায়দুল কাদের 
বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, 
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’তখন ওই সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা 
বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের জন্য ভালো নয়। এ সময় রাজশাহী সিটি 
করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হকের 
সাময়িক বরখাস্তেরও সমালোচনা করেন কেউ কেউ। বৈঠকে ধর্ম সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ 
আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়মের 
মধ্যে আনার জন্যই এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমে ক্ষোভ 
প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, হেফাজতকে তো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীরা হেফাজতের
সমালোচনা করতে গিয়ে প্রকারান্তরে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। মন্ত্রিসভায় 
থেকে এটা তারা করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি আর হেফাজতের
স্বীকৃতি এক নয়। দেশে অনেক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ছিল। তার একটির প্রধান ছিলেন 
হেফাজতের আমির আল্লামা শফী। গণভবনে হেফাজতের আমির হিসেবে তাকে ডাকা 
হয়নি। কওমির স্বীকৃতি দেওয়ার পর ধন্যবাদ জানিয়ে যত ফোন পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি
ফোন পেয়েছি মন্ত্রীদের সমালোচনা করে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশের পর। ’তিনি বলেন, 
‘ইসলামী চিন্তাবিদসহ আলেম-ওলামারা জানতে চেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার 
স্বীকৃতি দেন, আর সরকারের মন্ত্রীরা সমালোচনা করেন। তাহলে কোনটা সঠিক?’ জবাবে 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা সমালোচনা করেছেন, তারা আমাদের 
দলের নন। সরকারের মন্ত্রী। সুতরাং আমাদের দলের বৈঠকে এ নিয়ে কথা না বলাই ভালো। ’ বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগের
 তৃণমূলের বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে ‘শালিস’ করার বিপক্ষে 
যুক্তি তুলে ধরেন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, তৃণমূলের 
বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় নেতাদের ঢাকায় ডেকে আনায় স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং আরও
 বাড়ছে। তার চেয়ে বরং সমস্যা সমাধানে স্থানীয়দের বেশি বেশি অন্তর্ভুক্ত করলে সুফল 
পাওয়া যেত। তার প্রস্তাব, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৃণমূলের সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে সুরাহা 
করার উপায় খুঁজতে হবে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এমন হলে অবশ্যই বিকল্প চিন্তা 
করতে হবে। বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি আলাদা ইসলামিক ফোরাম করার কথা 
জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইনজীবীদের একটি পৃথক ফোরাম করেছি আমরা।
 আমার মনে হয়, ইসলামী একটি ফোরামও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ’ তিনি বলেন, 
‘আমরা গতানুগতিক ফোরাম দাঁড় করাব না। আমাদের আদর্শ ধারণ করেন, এমন 
আলেমদের নিয়ে এই “প্লাটফরম” করা যেতে পারে। ’তবে এই প্রস্তাবের সঙ্গে খানিকটা 
দ্বিমত পোষণ করে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং অর্থ ও 
পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসামপ্রদায়িক রাজনৈতিক
 দল। এখানে পৃথক ফোরাম কতখানি যুক্তিযুক্ত হবে, ভেবে দেখা দরকার। এ ছাড়া আমাদের
ধর্ম সম্পাদকের একটি পদ রয়েছে। এ পদের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি ইসলামী 
কার্যক্রমগুলো সম্পাদন করতে পারেন। ’জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ওলামালীগ
নামে আমাদের একটি ইসলামী সংগঠন ছিল। এই ফোরাম কেন হয়েছিল, আর কেনইবা 
নেই?’ ওলামা লীগ সম্পর্কে দলের ধর্ম সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘ওই সংগঠন 
দলাদলি ও বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা ঐক্যবদ্ধ
 নেই। পাঁচ খণ্ডে বিভক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ওলামা লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা 
করেছেন। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সেসব আলেম-ওলামাকে নিয়ে 
একটি সংগঠন গড়ে তোলা হবে। ’আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণালকান্তি
দাস বলেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এখন থেকেই ব্যবস্থা 
নিতে হবে। ’দলের সাবেক এই উপ-দফতর সম্পাদক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের ফলাফল
সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। সেই
সঙ্গে মিডিয়ার একটি ভূমিকা রয়েছে। মিডিয়া মালিক-সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে 
আওয়ামীলীগের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ’সম্পাদকমণ্ডলীয় সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের 
সবাইকে নির্বাচনভিত্তিক স্থানীয় রাজনীতিতে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ 
সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগে থেকেই নির্বাচন করার মানসিকতা নিয়ে এলাকায় কেন্দ্রীয়
নেতাদের খবরদারি স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি করবে। এই মানসিকতা সবাইকে পরিহার
করতে হবে। এ সময় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক 
ওবায়দুল  কাদেরের রাজনৈতিক তৎপরতায় দলীয় কার্যক্রমে গতি এসেছে বলে মন্তব্য 
করেন। এজন্য ওবায়দুল কাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
লেখক: রফিকুল ইসলাম রনি
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/first-page/2017/05/23/233954#sthash.Hy2JEVEC.dpuf

সমাজের আয়না

স্টোরি অব এ রেইনট্রি

বৃষ্টি বৃক্ষ। নামকরণের এমন সার্থকতা খুঁজে পাওয়া ভার। ‘রেইনট্রি’ বৃষ্টি ঝরাতে না পারলেও অসংখ্য নারীর চোখের পানি যে ঝরিয়েছে সে কথা বলা যায়। আর সে কারণেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আজ উচ্চারিত হচ্ছে ঘৃণিত এই বৃষ্টি বৃক্ষের নাম। দ্য রেইনট্রি। রাজধানী ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলের নাম। যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বন্ধুদের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ২০০৮ সালে ধর্ষণ হয়েছে ৪৫৪টি, ২০০৯ সালে ৪৫৬টি, ২০১০ সালে ৫৯৩টি, ২০১১ সালে ৬৩৫টি, ২০১২ সালে ৭৭২টি, ২০১৩ সালে ৫৭৩টি, ২০১৪ সালে ৫৫৬টি, ২০১৫ সালে ১০৬৯টি এবং ২০১৬ সালে ১০৬০টি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধর্ষিতাদের মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কম ৮ শতাংশ, ১৮-২৫ বছরের মধ্যে ৪৫ শতাংশ, ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে ২১ শতাংশ, ৩৬-৫০ বছরের মধ্যে ১৮ শতাংশ এবং ৫০ ঊর্ধ্ব ৮ শতাংশ। এসব ধর্ষণ ঘটনার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, থানায় ধর্ষণ মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়। অর্থ আর ক্ষমতায় প্রভাবিত হয়ে আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক গতিধারা শিথিল হয়ে পড়ার প্রতিচিত্র ফুটে ওঠে প্রতিটি ধর্ষণ ঘটনায়। যথাসময়ে যথাযোগ্য শাস্তি প্রদানে বিলম্ব হওয়াই ধর্ষণ ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। ধর্ষণ সভ্য সমাজের মানসিক অবক্ষয়ের একটি প্রতিচ্ছবি।
আধুনিকতার নামে, সভ্যতার নামে, সচেতনতার নামে সমাজ জীবন যত উন্নততর হচ্ছে একের পর এক ধর্ষণ আর গণধর্ষণের খবর ততই বাড়ছে। সভ্যতার ভেতরে বর্বরতা আর বিকারগ্রস্থতার অসুখ ততই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশ্ন জাগে, আমরা কী সত্যিই সভ্য হচ্ছি নাকি অসভ্যতা আমাদের মাঝে নানাভাবে জাগ্রত হচ্ছে? ধর্ষকের জামিনে বের হয়ে আসা, মামলার দীর্ঘসূত্রতা, অনেক ক্ষেত্রে মামলা না করার প্রবণতা, আইনি দুর্বলতা ও শাস্তি ছাড়াই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়া—এসব কারণের পাশাপাশি মূল্যবোধের অবক্ষয়, অসুস্থ যৌন লালসা বিশেষভাবে ধর্ষণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ‘দ্য রেইনট্রি’ আবাসিক হোটেলটির নাম সারা দেশের মানুষ জানল একটি ধর্ষণাচারের কাহিনির মাধ্যমে। এর আগে হলি আর্টিজানকে দেশের মানুষ চিনেছিল জঙ্গি হামলার মাধ্যমে। তার মানে রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোয় সভ্যতার অন্তরালে কি বীভৎস অসভ্য কার্যকলাপ চলে তা সহজেই অনুমেয়। বলতে অবশ্য কোনো দ্বিধা নেই যে, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বেশি অসভ্য বর্বরতার অনুঘটক তথাকথিত উচ্চবিত্ত সমাজের বাসিন্দারা। ক্ষমতা, অর্থ আর প্রাচুর্যতা এই উচ্চবিত্ত সমাজের মাঝে যে আগ্রাসী মনোভাব তৈরি করেছে তারই প্রতিফলন দ্য রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী (বান্ধবী) ধর্ষণের ঘটনা। প্রাচুর্যতা উচ্চবিত্ত সমাজকে মানব সমাজের মানবিকতা ও মূল্যবোধ থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিচ্ছে তাদের লোভ, বিলাস আর বেপরোয়া দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এই বখে যাওয়া উচ্চবিত্ত সমাজের পিতারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়ে অর্থের আশকারায় বখাটে বানাচ্ছেন। আর এসব উচ্চবিত্ত বণিক পিতারা তাদের সন্তানকে যখন মেধায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে ব্যর্থ হন তখনই তারা আভিজাত্যের অহমিকায় মরিয়া হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছেন এমন উদাহরণও আছে আমাদের সমাজে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা যত না সহজ, তার চেয়ে অধিকতর সহজ নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা পাওয়া। আজকের দিনে সেসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের খেরোখাতা খুলে দেখলে তারই প্রমাণ মিলবে। সহজেই বলা যায়, এসব সন্তান দেশ আর সমাজকে আর কীইবা দিতে পারে! তাই বলে উচ্চবিত্ত সমাজে ভালো সন্তান, পিতা, পরিবার নেই—এ কথা ঢালাওভাবে সত্য নয়।
শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না যে, ধর্ষিতা মেয়ে দুটি কেন রাতের বেলায় এমন পার্টিতে গেল। তাদের পরিবার বা অভিভাবকরা কি সেটা জানত না? এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরাইবা কেন এত অসচেতন থাকবে, তাও বোধগম্য নয়। যাই হোক, ধর্ষণ একটি বড় মাপের অপরাধ। গোটা বিশ্বে ধর্ষণ এমন এক ঘটনা, যার অধিকাংশ খবর প্রকাশ পায় না। সামাজিক সম্মানের খাতিরে গোপন রাখা হয়। এক পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজনের একজন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। বিস্ময়কর খবর হলো, আঠারো বছরের পূর্বে আমেরিকায় ৪০ শতাংশ নারী ধর্ষিত হলেও ৬৮ শতাংশ ধর্ষণের কোনো রিপোর্ট হয় না। আরো ন্যক্কারজনক খবরটি হলো, সেখানে কারাগারেও নাকি বছরে ২ লাখ ১৬ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ২০০ জন ধর্ষিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাতে বছরে পাঁচ লাখ নারী ধর্ষিত হয়। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কানাডাতে ৮০ শতাংশ ধর্ষণ হয় আত্মীয়ের দ্বারা। এসব পরিসংখ্যান কোনো অবস্থাতেই প্রমাণ করে না ধর্ষণ গ্রহণযোগ্য বা বাংলাদেশে এর মাত্রা কম। বরং বিচার না হওয়া, বিচারের আওতায় সামাজিক কারণে না যাওয়ায় ধর্ষণ হার ও প্রবণতা যে কেবলই বাড়ছে তারই নমুনামাত্র।
মজার ব্যাপারটি হলো, ধর্ষক যারা তারাও মনুষ্য সমাজে বাস করে। তাদেরও বোন, কন্যা, স্ত্রী, মা নিয়ে পরিবার ও স্বজন রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে তারা কি মেনে নিতে পারত? খবরে প্রকাশ, সাফাত আহমেদ দম্ভোক্তি করে বলে বেড়িয়েছে, ‘আমার বাপ সোনা বেচে। দুই-একটারে কাইটা ভাসায়া দিলে কেউ টের পাইব না। প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না। আমার বাবার কোটি কোটি টাকা আছে। প্রয়োজনে বাবা ১০০ কোটি টাকা দিয়ে হলেও এই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দেবে।’ তার দম্ভোক্তি অস্বাভাবিক নয়। যার পিতা দম্ভোক্তি করে বলে, ‘আরে মিয়া, আমার পোলা আকাম (ধর্ষণ) করছে তো কি হইছে। জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি।’ একজন পিতার এমন দম্ভোক্তিই প্রমাণ করে তার সন্তানের লাম্পট্য সীমা কোন মাত্রায় পৌঁছেছে। আর তার চারিত্রিক অবস্থান কোন জায়গায় অবস্থান করছে। আপন জুয়েলার্সকে মানুষ আপন করে নিলেও এমন লাম্পট্যপনা আর টাকার বাহাদুরি সহ্য করবে না এদেশের জনগণ। কথাটি বোধহয় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বুঝতে পারেননি। টাকার জোরে ক্ষমতার সাহচর্যে অনেক কিছু থেকে পার পাওয়া গেলেও সবকিছু থেকে পার পাওয়া যায় না। অবশ্য এ কথা এখন সরকারের প্রশাসন যন্ত্রকেই প্রমাণ করতে হবে। একজন শিল্পপতি প্রকাশ্যে প্রশাসনকে তাচ্ছিল্য করার যে স্পর্ধা দেখিয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে টাকা আর ক্ষমতার কাছে প্রশাসন কোনোভাবেই দুর্বল নয়। দিলদার আহমেদ সম্পর্কে তার সাবেক পুত্রবধূ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা মিডিয়াকে বলেছেন, ‘দিলদার আহমেদ সেলিম একটা প্রথম সারির লম্পট। পিতার লাম্পট্যের কারণেই পুত্র সাফাত নষ্ট হয়েছে।’ বাপ হয়ে ছেলের চরিত্র নষ্ট করার কিংবা লম্পট পিতার ধর্ষক সন্তান হওয়ার কারণ এখন দ্য রেইনট্রি। দিলদারের সন্তান সাফাতের দৈনিক খরচ দুই লাখ টাকা বা তারও বেশি! প্রতিদিন নারী ও নেশার জলসা এমন পিতার সন্তান করবে নাতো কে করবে? সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বনানীর রেইনট্রি হোটেল বন্ধ ও আপন জুয়েলার্স বর্জন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি নিয়ে রব ওঠায় ধর্ষকদের ধরে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় এ ঘটনাও নিশ্চিতভাবে তনু হত্যার মামলাকে অনুসরণ করত। তবে, এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, মামলাটি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
লেখক: এস এম মুকুল; বিশ্লেষক,গবেষক ও কলামিস্ট

এ কান্নার শেষ কোথায়

শিশুরা সুন্দর। শুধু মানব শিশুই নয়। প্রাণী অথবা জীবজগতের যেকোনো শিশুই পৃথিবীর সেরা সুন্দরের একটি। আর এই বিশাল শিশু জগতের মাঝে মানব শিশুদের ভেতরে পাওয়া যায় এক বিশেষ জ্ঞানের সমাহার, যা অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। আর এই মানব শিশুরাই হচ্ছে সভ্যতা এবং আগামী পৃথিবীর অন্যতম কারিগর। এদের মাঝেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য এবং ভবিষ্যৎ।
তবে বহুকাল থেকে পৃথিবীজুড়ে এসব শিশুর একটি বৃহৎ অংশ যেন নিদারুণ অবহেলার শিকার। এখানে পরাধীন শিশুরা যেন এখনো কাঁদছে। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, বসতহীন, শিক্ষাহীন, চিকিৎসাহীন, পিতৃ-মাতৃহীন এসব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই অবহেলা, অনাদর, বঞ্চনা, লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে ধাপে ধাপে। বাবার কোলে অপার স্নেহ, মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ লুকানো স্বর্গীয় সুখ তাদের কপালে জোটেনি। দারিদ্র্যের তলানিতে এদের বসবাস। একশ্রেণির মানুষের এক প্রকার নির্দয় খেলার ফসল এসব শিশু। মানব গোত্রের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এসব শিশুকে। আর সে কারণেই এরা আজ মানব শিশুতে নেই। মানব শিশু থেকে পরিণত হয়েছে পথশিশুতে। অথচ আমরাই বলে থাকি, আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার, দেশ ও জাতির সোনালি ভবিষ্যৎ। এক দিন এরাই দেশের পরিচালক হবে!
এদের বেড়ে ওঠার ওপরই যদি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সমাজ ও পরিবারের সুখ, শান্তি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা নির্ভর করে, তাহলে কেন বই-খাতার পাতা গুটিয়ে শৈশবেই এই অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশুগুলো চালিয়ে যাচ্ছে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ? বিশেষ করে ব্যস্ত শহরে ময়লার ব্যাগ কাঁধে তাদের ছুটতে হচ্ছে বাসটার্মিনাল থেকে রেলস্টেশনসহ অলিতেগলিতে। কাগজ কুড়ানো কিংবা ভিক্ষা করে কেন চালাতে হবে তাদের জীবন। রাষ্ট্র ও সমাজের অবহেলা মানুষের ধিক্কার এমনকি শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয় প্রতিনিয়তই এসব পথশিশুকে।
২০০৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ৫১ শিশু মানসিক নির্যাতনের এবং ২০ শতাংশ শিশু শারীরিক র্নিযাতনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। যৌন নির্যাতনের শিকার ৪৬ শতাংশ নারী শিশু, সার্বিকভাবে ১৪.৫ শতাংশ শিশু নানানভাবে র্নিযাতনের শিকার। এই শিশুগুলো অনেক সময় ক্ষুধার জ্বালায় বিভিন্ন হোটেলের বাসি-পচা খাবার এমনকি ডাস্টবিনে ফেলা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবারও খেয়ে থাকে। নোংরা স্থানে চলাফেরা ও ঘুমানোর কারণে অধিকারবঞ্চিত প্রায় ১০ লাখ পথশিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। অপর এক জরিপে বলা হয়, প্রায় ৪০ ভাগ পথশিশু প্রতিদিন গোসল করতে পারে না, আর ৩৫ ভাগ শিশু খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। রাতে ঘুমানোর জন্য ৪১ ভাগ শিশুর কোনো বিছানা নেই। সমাজে ওদের কোনো মূল্য নেই।
আর সে কারণেই পথশিশুদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্বলতার সুযোগকে ব্যবহার করে কিছু অপরাধী চক্র। এদের মাদক বহনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পায় এবং করে থাকে। এক সময় এরা মাদকবহন বা একাধিক কারণে নিজেরাই আসক্ত হয়। তথ্যমতে, প্রায় ৮৫ ভাগ পথশিশু কোনো না কোনো মাদকে আসক্ত । ঢাকা বিভাগের মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে আর ১৭ শতাংশ মেয়ে শিশু। তাদের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে পরিণত হতে চলেছে। দেশের শিক্ষা, কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, বাণিজ্য, মাথাপিছু আয়, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও আমরা পথশিশুদের বেলায় তেমন এগোতে পারিনি।
এটা সত্য যে, দেশের সরকার শিশুশ্রম রোধে কাজ করে যাচ্ছে বা বিভিন্নভাবে শিশুদের রক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। শতকরা ৮৫ ভাগ শিশু সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পায় না। শিশুদের জন্য সরকার প্রতিবছর যে অর্থ বরাদ্দ করে তা যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশে পথশিশুদের সংখ্যা বহুলাংশে কমে আসত বলে মনে করেন সমাজ বিশ্লেষকরা। পথশিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমাজ অন্তরায় হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে তাদের ওপর দুর্ঘটনা নেমে আসতে পারে। বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়।
সম্প্রতি যৌন নির্যাতনবিরোধী নীতিমালা বেশ আলোচনা হলেও মেয়ে পথশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছে, এমনটা মনে হওয়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। পথেঘাটে রাত যাপনের ফলে, তারা নানানভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা মনে করি, মাথাব্যথা থাকাটাই জরুরি হতে হবে। পথশিশুদের মানব শিশুতে রূপান্তর ঘটাতে হবে। দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য শিশুদের মতো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। আশা করি, রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে।
লেখক: মিয়া মো. শামীম

Saturday, May 20, 2017

কিম জং উনের হুঁশিয়ারি,মাত্র ১০ মিনিট সময় পাবেন ট্রাম্প!

আক্রমণ শুরু হলে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র!

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের একটা ভয়ঙ্কর নির্দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রওনা হতে পারে ভয়ঙ্কর সব পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র। আর এসব ক্ষেপণাস্ত্র যদি ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের মতো জনবহুল শহরের দিকে রওনা দেয় তাহলে শহরগুলোর বাসিন্দারা ৪০ মিনিটেরও কম সময় পাবেন সেখান থেকে পালাতে। এদিকে উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালালে মাত্র ১০ মিনিট সময় পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! আর এই আক্রমণ শুরু হলে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার মিসাইলের আঘাতে গুঁড়িয়ে যাবে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক ও সানফ্রানসিসকোর মতো বড় শহরগুলো।
গবেষকদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পাল্টা হামলার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কিছুক্ষণ পরই প্রবল ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে সেই মিসাইল আছড়ে পড়বে বড় বড় শহরে। মার্কিন রাজধানীর বুকে উত্তর কোরিয়ার এই মিসাইল আছড়ে পড়তে সময় নেবে ৩০-৩৯ মিনিট। ফলে চিন্তা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ে। 
গবেষকদরা বলছেন, মাত্র ১০ মিনিটে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে জাপানের রাজধানী টোকিও। সর্বাধিক ১১ মিনিট সময় লাগতে পারে। এমনই হামলার জন্য প্রস্তুত উত্তর কোরিয়া। পরিস্থিতি বুঝে পাল্টা প্রতিরোধে যাচ্ছে জাপান সরকার। উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য পাল্টা মিসাইল তৈরি রাখা হয়েছে। একই উদ্দেশ্যে বিমানবাহী রণতরী ও সাবমেরিনসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট তাদের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বলেছে, কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে উদ্বেগ চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই, এবার সেই উদ্বেগে নতুন করে মাত্রা যোগ করলেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বিস্ফোরক মন্তব্যে উদ্বেগের পারদ আরও কয়েক ধাপ ওপরে ওঠল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক হামলা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প করণীয় ঠিক করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাবেন। আর এ ১০ মিনিটেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। 
দেশটির নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক সাইটে পোস্ট করা একটি নথিতে হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের এসব উপায় বাতলে দেয়া হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, যদি তারা আক্রান্ত হয় তাহলে আশপাশের শক্তিশালী ভবন অথবা ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থানে আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 
কিছুদিন আগেই সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। গবেষকদের দাবি, এটাই নাকি ভয়ঙ্করতম মিসাইল। কোথায় কোথায় ওই মিসাইল পৌঁছতে পারে সে নিয়ে হিসেব-নিকেশ কষেছেন অনেকেই। উত্তর কোরিয়া যদি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তবে তা জাপানের ওকিনাওয়ায় পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হবে প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ। এতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মিনিট। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র নেই। তবে কিমের পরমাণু হামলার সম্ভাবনায় চিন্তিত সমগ্র আন্তর্জাতিক মহল।  

বিএনপি অফিসে 

যে কারণে আকস্মিক তল্লাশি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পিকআপ ভ্যানে করে কিছু বাঁধাই করা বই আনা হয়েছিল আর তা থেকেই ধারণা করা হয়েছিল এখানে অন্য কিছু রয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই আদালত একটি সার্চ ওয়ারেন্টের ইস্যু করেন। ওই ওয়ারেন্ট নিয়ে আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে কোনো কিছুই পায়নি পুলিশ। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা ওই কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালায় গুলশান থানার একটি দল। তল্লাশি শেষে পুলিশ একটি তালিকা তৈরি করে। যেই তালিকায় কিছু পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
কোনো ডকুমেন্ট রয়েছে কি না তা দেখতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানান গুলশান থানার ওসি। তল্লাশি শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তল্লাশির এই ঘটনা দলের চেয়ারপারসনকে হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার লক্ষেই করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদ। তল্লাশির সময় গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। অন্যদিকে তল্লাশির নামে পুলিশ চেয়ারপারসনের অফিস তছনছ করেছে বলেও অভিযোগ করেছে বিএনপি। প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবে তারা।

Thursday, May 18, 2017

হাওর এলাকা দেখতে গিয়ে আবার রিকশায় চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

পাহাড়ি ঢলে অকালবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা দেখতে এবং দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গিয়ে হেলিকপ্টার থেকে নেমে ডাকবাংলো পর্যন্ত রিকশায় চড়েন তিনি। খুব সামান্য সময়ের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই রিকশাভ্রমণ বেশ আগ্রহের সঙ্গে দেখেছেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষ। কয়েক দিন আগে গোপালগঞ্জে গিয়ে নাতনিদের সঙ্গে অটোভ্যানে চড়েন প্রধানমন্ত্রী। গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানে চড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রধামন্ত্রীকে বহনকারী সেই ভ্যানচালক বিমানবাহিনীতে চাকরি পান।
চাকরি আশা করছেন টিপু: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রিকশায় ঘোরানোর পর সরকার প্রধানের কাছ থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন চালক টিপু সুলতান। এর আগে পৈতৃক এলাকা গোপালগঞ্জে গিয়ে ভ্যানে চড়ার পর সেটির চালক ইমাম শেখকে বঙ্গবন্ধুকন্যা বিমান বাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ায় নিজের ক্ষেত্রেও একই রকম আশা দেখছেন নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিরা গ্রামের এই যুবক। জেলা প্রশাসন তাকে আগেথেকেই ঠিক করে রেখেছিল জানিয়ে টিপু বলেন, এ জন্য তাকে রিকশাসহ নেত্রকোনা থেকে খালিয়াজুরী নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান টিপু।
প্রধানমন্ত্রী রিকশায় উঠে তার নাম জিজ্ঞেস করেছেন জানিয়ে টিপু বলেন, ‘লেখাপড়া কতদূর করেছি সে কথাও জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমার রিকশায় ওঠায় আমি খুব খুশি।’ নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিরা গ্রামের রিকশা মোকবুল হোসেনের ছেলে টিপু নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বাবা- মা ছাড়া পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। বাবা কৃষিকাজ করেন। বড় সংসারের সচ্ছলতার আশায় স্থায়ী একটি চাকরির আশা করা টিপু বলেন, ‘আমার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আমাকে যদি একটা চাকরি দেয় তাহলে আমার সংসারটা ভালো চলবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গীপাড়ায় গিয়ে যার ভ্যানে চড়েছিলেন, সেই ইমাম শেখ ৩১ জানুয়ারি বিমান বাহিনীতে বেকারির ‘সরবরাহকারী’ হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দেন।

৫৭ ধারা বাতিল হচ্ছে

অবশেষে আইসিটি এ্যাক্টের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নতুন ডিজিটাল সাইবার সিকিউরিটি আইনে সংশোধিত আকারে এই ধারা সংযুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু নতুন আইন তৈরি হচ্ছে এবং ৫৭ ধারায় কিছু কনফিউশন রয়েছে, তাই এর প্রবিধান রাখা হচ্ছে। ৫৭ ধারায় থাকা কনফিউশন দূর করে তা নতুন আইনে সংযোজন করা হবে বলে জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জেলা জজদের গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই সব তথ্য জানান।
৫৭ ধারার অস্পষ্টতা দূর করে আরো পরিষ্কারভাবে নতুন আইন করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যাকে বাক স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলেন- সে ব্যাপারে যেন কারো মনে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব না থাকে, কারো মনে যেন কোন প্রশ্ন না থাকে, সে ভাবে পরিষ্কার করে নতুন আইনে সংযুক্ত করা হবে এ ৫৭ ধারা।