Thursday, March 23, 2017

এক পায়ের ক্রিকেটার!


মুশফিক, সাবিকদের মতো দুই পায়ে নয়, এক পা দিয়েই ক্রিকেট খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাটোরের সারোয়ার হোসেন সাদ্দাম।  শারীরিক অক্ষমতা সাদ্দামকে দমাতে না পারলেও ক্রিকেট খেলা দিয়েই অনেক দুরে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সম্প্রতি ঢাকার জহুরুল হক মাঠে প্রতিবন্ধি একটি টিমের জন্য ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছেন সে। তবে সমাজের অন্য শারীরিক প্রতিবন্ধিরা যখন হতাশাগ্রস্থ হয়, তখন সাদ্দাম এক পায়ে ক্রিকেট খেলে অন্যান্য প্রতিবন্ধিদের নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরনা যোগায়। মনোবল এবং মানষিক শক্তি দৃঢ় থাকলে সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করা যায়, সাদ্দাম তার উজ্জল দৃষ্টান্ত।

সদর উপজেলার জংলী এলাকার মৃত আব্দুর রউফ পাঠানের ছেলে সারোয়ার হোসেন সাদ্দাম ৫ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ নম্বর। এছাড়া আট বছরের এক কন্যা সন্তানের জনক সে। সদর উপজেলার জংলী মোড়ে ছোট্ট একটি দোকানে মোবাইল সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চলে তার। সারা দিন যা উপার্জন তাই দিয়েই সংসারের খরচ বহন করেন সাদ্দাম। অবসর সময়ে ক্রিকেট খেলে সময় কাটে তার। এদিকে সাদ্দামের সাথে তার ছোট ভাই ভাই মাসুমও ক্রিকেট খেলেন।  দুই ভাই একসাথে জংলী ইসলামীয়া দলের হয়ে এবার জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগে অংশ গ্রহন করেন। এই পর্যন্ত সাদ্দাম বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ম্যান অফ দি ম্যাচ হয়েছে চারবার। এছাড়া ম্যান অফ দা টূর্নামন্টে হয়েছেন দুই বার।
সাদ্দামের সহধর্মীনি নাজমা বেগম বলেন, অন্য আটদশের মতো তার দুই পা ছিল। বিয়ে হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। আর ওই দুর্ঘটনায় একটি পা হারান তিনি।
তিনি আরো বলেন, তার (সাদ্দামের) ক্রিকেট খেলা ছোটবেলা থেকেই পছন্দ। বিয়ের পরও সে এক পা দিয়ে একাধিক টুর্ণামেন্ট খেলেছে। তবে তার প্রিয় খেলা সে ধরে রেখেছে। তার মানষিক শক্তি এবং দৃঢ় মনোবলের কারনে সে এখনও এক পায়ে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে। তার জীবনে স্বপ্ন ছিলো একদিন জাতীয় দলে চান্স পেয়ে বড় ক্রিকেটার হবে। কিন্তু একটি মাত্র দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিয়েছে। তবে এখনও এক পায়ের উপর ভর করে যেভাবে ক্রিকেট খেলে সবার মন কাড়ে একদিন না একদিন তার চাওয়া পাওয়া পুরন হবেই।
নাটোর শংকর গোবিন্দ চৌধুরি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সবাই যখন দুই পায়ে ক্রিকেট খেলছেন,তখন সাদ্দাম হোসেন এক পায়ে ভর করেই মোকাবেলা করছে প্রতিদ্বন্দ্বি খেলোয়ারদের। জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত শংকর গোবিন্দ চৌধুরি স্টেডিয়ামে এবার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগ খেলেন তিনি। এবারের টুর্নামেন্টে জংলী ইসলামীয়া দলের হয়ে খেলেন সাদ্দাম হোসেন। দলের ওপেনিং ব্যাটস ম্যান এবং কিপিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে সারোয়ার হোসেন সাদ্দাম।
সারোয়ার হোসেন সাদ্দাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ২০০৫ সালে তার এই স্বপ্নের বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা। হারান একটি পা। কিন্তু তাতেও দমে যাননি তিনি। একটি মাত্র পা দিয়েই অবিরাম খেলে যান ক্রিকেট। অন্য আর দশটা খেলোয়ারের মতোই লড়াই করেন তিনি।
সারোয়ার হোসেন সাদ্দাম বলেন, ক্রিকটে খেলা নিয়েই বেঁচে থাকার ইচ্ছা। তবে তার স্বপ্ন দেশের প্রতিবন্ধি দলের হয়ে খেলার। সেই সাথে দেশ এবং জেলার সুনাম বয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন সাদ্দাম হোসেন।    
তবে সাদ্দাম হোসেন শুধু মাত্র বাম পা দিয়ে ক্রিকেট খেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সর্তীর্থ খেলোয়ার, আম্পায়ার সহ অন্যদের। সাদ্দামের স্বপ্ন পুরনে এগিয়ে এসেছেন তার সহযোগি খেলোয়াররা। তবে এক পায়ে ক্রিকেট খেলাকে অনেকে দু:স্বাধ্য মনে করলেও সাদ্দামের প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর মনোবল তাকে দমাতে পারেনি, বলেন সহযোগি খেলোয়াররা।
জংলী ইসলামীয়া দলের অধিনায়ক বলেন, সাদ্দাম প্রতিটি বলে রান নেয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগে রানার দেয়ার নিয়ম না থাকায় সে রান নিতে পারছেনা। তাছাড়া একজন স্বাভাবিক খেলোয়ারের সাথে সে সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।  
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল কোচ বাবুল আখতার বলেন, এক পায়ে ক্রিকেট খেলা, কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সেই অস্বাভাবিককে স্বাভাবিক করেছে সাদ্দাম। অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে সে ক্রিকেট খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।  
তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগের আম্পায়ার শিবলি সাদিক বলেন, ছেলেটাকে (সাদ্দাম) যখন দেখি এক পায়ে খেলতে, তখন সত্যিই খুব অস্বাভাবিক মনে হয়। তারপর সে প্রতিটি বলে বাম পায়ে ভর করে রান নেয়।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধরণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল বলেন, সাদ্দামকে সঠিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হলে একদিন বয়ে আনতে পারে দেশের জন্য সুনাম। সেই সাথে দেশের প্রতিবন্ধি ক্রিকেট দলের হয়ে খেলানো গেলে দেশ এবং জেলার জন্য সুনাম বয়ে আনবে তিনি।
তবে সাদ্দাম হোসেনের প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর মানসিকতা কাজ লাগানো গেলে একদিন এই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠবেন তিনি এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

নাটোর থেকে: রফিকুল ইসলাম নান্টু

Tuesday, March 21, 2017

গাইবান্ধা-১ সুন্দগঞ্জ, লিটনের আসনে ভোট চলছে

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৭ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১০৯টি ও বুথ ৬৩৭টি। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল মালেক জানান, উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এসব কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে ৫৪টি কেন্দ্র এবং দুর্গম চরাঞ্চলে রয়েছে ১৫টি কেন্দ্র। নিছিদ্র নিরাপত্তায় ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৮ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ১৬টি ইউনিট, ৪ হাজার পুলিশ ও আনসার দায়িত্বপালন করবে ।
তিনি আরো জানান, এ উপ-নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহমেদ (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল), জাসদের মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক (মশাল), জেপির ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা (সাইকেল), গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ), এনপিপির জিয়া জামান খান (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মোহসিন (আপেল)।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শাহবাজ এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচন দেন।

প্রধানমন্ত্রী এ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে কমলগঞ্জের অর্ণব


কমলগঞ্জ উপজেলার প্রথম সেরা কাব স্কাউট হিসাবে অর্ণব দত্ত মনোনিত হয়েছে। মৌলভীবাজারের বাঁধন মুক্ত কাব স্কাউট দলের অর্ণব দত্ত কাব স্কাউট শাখার সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসাবে ২০১৬ সনের শাপলা কাব এ্যাওয়ার্ড (প্রধানমন্ত্রী এ্যাওয়ার্ড)-এ মনোনিত হয়েছে।
---
অর্ণব দত্ত কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বি এ এফ শাহীন কলেজ থেকে ২০১৬ সনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল। সে শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী হলেও উন্মুক্ত হিসাবে বাঁধন মুক্ত কাব স্কাউট দলের একজন সদস্য হিসেবে স্কাউট জাম্বুরীতে অংশ গ্রহন করে।
অর্ণব দত্ত কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার বালক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিপ্লবী রানী দে ও বড়লেখা শাখা এন সি সি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অজয় কুমার দত্তের ছেলে। গত ১৫ মার্চ সেবা কাব স্কাউটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ অর্ণব দত্তের সেরা এ্যাওয়ার্ডে মনোনিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কমলগঞ্জবাসী এজন্য গর্বিত। আগামীতে অর্ণব দত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ্যাওয়ার্ড গ্রহন করবে।

এবার নতুন সংস্করণে ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ আসছে


এবারের বার্ষিক সম্মেলন আই/ও ২০১৭’তে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে সার্চ জায়ান্ট গুগল।
---
এ মুহূর্তের প্রতিবেদনগুলোতে গুগলের এই উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণামূলক এমন তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ নামের সংস্করণটিতে থাকছে দুইটি নতুন ফিচার যেটা আইওএস’কে টেক্কা দেওয়ার মতো।
এদিকে বাজারের অল্প কিছু স্মার্টফোন অ্যান্ড্রয়েডের নাগেট সংস্করণে চলছে। তাই এখনও এটি নতুনত্ব হারায়নি। কিন্তু টেক জায়ান্ট যে ইতিমেধ্যে নতুন সংস্করণের কাজ শুরু করে দিয়েছে সেই খবর প্রকাশ্য আসায় নাগেটের সেই নতুন ভাবটি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। কারণ প্রযুক্তিপ্রেমীদের ঝোঁক এখন ‘ও’ সংস্করণে।
প্রযু্ক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম জিএসএমএরিনা ‘ভেঞ্চারবিট’র একটি পোষ্টের তথ্য তুলে ধরে, এক জোড়া ফিচারের কথা বলছে। যেটা অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণে প্রতীয়মানের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ১৭ থেকে ১৯ মে অনুষ্ঠেয় গুগলের বার্ষিক সম্মেলনে এটি প্রদর্শিত হতে পারে।
ভেঞ্চারেবিট পোষ্টের তথ্য মতে, ডেভলপার কনফারেন্সে এটি উন্মোচনের পর ডেভলপারদের কাজ পর্যবেক্ষণের পর শরত মৌসুমে সংস্করণটি অবমুক্ত করা হবে।
পোষ্টটিতে এছাড়া উল্লেখ করা হয় যে, ‘কপি লেস’ নামের একটি ফিচারও থাকতে পারে যেটা ভবিষ্যত তথ্য দেবে। যেমন ব্যবহারকারী তার বন্ধুকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অ্যাপ থেকে অন্যান্য অ্যাপে টেক্সট পাঠাতে চাইলে তা চ্যাট অ্যাপে কপি করে পেষ্ট করতে পারবে। কিন্তু বিষয়টি এখনও সুস্পষ্ট নয় যে এই ফিচারটি গুগলের জিবোর্ড অ্যাপ কিংবা অ্যান্ড্রয়েড কিবোর্ডে থাকবে কিনা।
টেক্সের জন্য এছাড়াও ওএসটিতে থাকতে পারে স্মার্ট লিংক, সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য যেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অ্যাপের লিংক দেবে।
‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ এর চুড়ান্ত ভার্সনে আরেকটি ফিচার থাকবে বলেও দাবি করছে সূত্র।
ফিচরটি হুয়াওয়ের নক জেস্চার ফিচারের মতো হবে বলে প্রত্যাশিত। যেমন তুমি যদি ডিভাইসের পর্দায় ‘সি’ আঁক, তাহলে আপনাআপনিই ক্যালেন্ডার খুলতে পারবে।
সবকিছু বিবেচনার পর এখন আশা করা যেতেই পারে যে গুগল সত্যিই নতুন অ্যান্ড্রয়েডের মোড়ক খুলছে ডেভলপার কনফারেন্সে।

Monday, March 20, 2017

মন্ত্রিসভায় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন অনুমোদন

অনুমতিহীন ঘর-বাড়ি বানালে জেল-জরিমানা!

সরকারের অনুমতি ছাড়া বাড়ি-ঘর অর্থাৎ অবকাঠামো বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন- ২০১৭’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে খসড়া আইনটির অনুমোদন দেয়া হয়। আইনের খসড়ায় বলা হয়, অনুমতি ছাড়া কেউ কৃষিজমি, জলাভূমি বা প্লাবনভূমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য কিনলে তার এক বছর থেকে ৫ বছরের সাজার পাশাপাশি ৫ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই আইনের অধীনে মামলা জামিনঅযোগ্য হবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।
এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে চাষযোগ্য কৃষিজমির ভবিষ্যৎ সংকট দূর করতে সরকার এই আইন প্রণয়ন করছে। এর মাধ্যমে যেখানে-সেখানে ভবন নির্মাণ বন্ধ করে সারাদেশে চলমান অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা সম্ভব।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি বা বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থা পরিকল্পনার বাইরে ইমারত, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলতে চাইলে জাতীয় নগর ও অঞ্চল উপদেষ্টা পরিষদ এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। নিয়ম কার্যকর হচ্ছে কি-না, তা মনিটর করতে শহর ও গ্রামে আলাদা আলাদা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। আলম বলেন, দেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর। এ আইনের আওতায় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে দেশের সব নগর ও গ্রামের স্থাপনা নির্মাণ তদারকি করা হবে।
জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করার জন্য এ আইন করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, অত্যন্ত কঠিন বিধান রেখে আইনটি করা হচ্ছে। এটার মাধ্যমে ভূমি ব্যস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদকে ভূমি ব্যবহার এবং নগর ও অঞ্চল উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ছাড়া সরকারি-বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো কর্তৃপক্ষই ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এ ছাড়া সব ধরনের ভূমির ধরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে।
আইন অনুযায়ী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০ জন সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করে ২৬ সদস্যের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের অধীনে একটি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা নির্বাহী কমিটি থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা ও সমন্বয়)। এই কমিটি নগর ও জনপদ উন্নয়নে কাজ করবে।
এই আইনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সচিব বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বাংলাদেশে কৃষিজমি ক্রমেই কমছে। ভরাট হচ্ছে জলাভূমি, প্লাবনভূমি ও নিচু জমি। এসব জমিতে অবকাঠামো, ইমারত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক প্রকল্প, হাটবাজার, ইটভাটা, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ইত্যাদি গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ তিন কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। কিন্তু ভূমি রক্ষায় রাষ্ট্রের সমন্বিত কোনো পরিকল্পনাই নেই। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে। গ্রামের কৃষিজমি দ্রুত অকৃষি খাতে যাচ্ছে। সংরক্ষিত ভূমি বলতে বর্তমানে কিছু নেই। এই আইনটি হলে এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আসবে বলে ধারণা করছে সরকার।
সচিব জানান, জলাধার, বন, পাহাড় রক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলেও সরকারের পরিবীক্ষণের অভাবে এগুলো মানছেন না কেউ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে কৃষিজমি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে কমে যেতে পারে বলে ধারণা খোদ সরকারের। এতে চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

শুধুই দেশপ্রেম

যার কোনোই বিকল্প নেই


শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চার উইকেটে টেস্ট বিজয়। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বিশেষ একটি ম্যাচ। টেস্ট ক্রিকেটের শততম ম্যাচ। প্রয়োজন ছিল একটি জয়ের। বাংলার তরুণরা তা পেরেছেন। নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচের মাথায় মুকুট পরাতে তারা কার্পণ্য করেননি। নিজেকে উজাড় করে ঢেলে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন, আমরাও পারি।
শ্রীলঙ্কার সূর্য তখন মধ্যগগনে নেই। অস্তাচলের ডিঙ্গি নৌকাতে উঠি উঠি করছে। রঙ্গনা হেরাথের বলটা সুইপ করেই চিৎকার করে দৌড় শুরু করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চিৎকার করতে করতে দৌড়ালেন মুশফিক। উল্লাস করেছেন মিরাজ, উল্লাস করেছেন মুশফিক, উল্লাস করেছেন দলের প্রতিটি সদস্য, উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার আকাশে তখন সূর্য নেই। সবটুকু আলো যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলার বুকে।
সারা দেশে বাঁধভাঙা উল্লাস। উচ্ছ্বাস আর উল্লাসের পঙক্তিমালায় অনেকে অনেক রকম রঙে সাজিয়েছেন উপচে পড়া আবেগকে। এ রকম একজন বলেছেন, ‘স্বপ্ন কথা দিয়ে কথা রেখেছে। শুধু হাতছানি দিয়ে ফিরে যায়নি। অভিনন্দন বাংলাদেশ!’ অপর একজন বলেছেন, ‘এখন আমাদের তামিম আছে, তারুণ্যের জয়গান গাওয়া সৌম-সাব্বির-মিরাজ-মুস্তাফিজ-তাসকিনরা আছে। মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে সাকিব আল হাসান নামের এক বিশ্ব সেরা। আছে মুশফিক অথবা চির তরুণ মাশরাফি।’ 

কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 

মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা

ইংরেজি সাহিত্যের একজন মেধাবী ছাত্র আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ এমএ পরীক্ষার ফল বেরুনোর আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে এদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলেন তিনি। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও অন্যান্য সংগঠনের অনেক পুরস্কার লাভ করেন। অমর একুশের স্পর্ধিত এ উচ্চারণ যার, যিনি কিংদন্তীর কথা বলে নিজের স্থানটুকু করে নিয়েছেন অবলীলায়, সেই কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল আজ। দিবসটি উপলক্ষে কবির গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জের বাহেরচর গ্রামে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে দোয়া-মিলাদ মাহফিল এবং ঢাকায় কবির আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের পক্ষ থেকেও দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়স থেকেই তার কবিতা লেখা শুরু। ছাত্রজীবনে তিনি আকৃষ্ট হয়েছেন বামপন্থি রাজনীতির দিকে। বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি ১০ জন ১০ জন করে মিছিলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়। এর একটি মিছিলের সামনে ছিলেন তিনি। পুলিশ তাদের ট্রাকে তুলে নিয়ে ঢাকার বাইরে রেখে এসেছিল। সেই ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণেই বাংলা কবিতায় তার স্পর্ধিত আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ‘মাগো, ওরা বলে’ কবিতায়।
তার কবিত্বশক্তি দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন সমসাময়িক কবিরা। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ পড়ে এদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান নিঃসংকোচে বলেছিলেন, তিনি যদি আর কোনও কবিতা নাও লেখেন তবুও তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন শক্তিশালী কবি হিসেবে। আর পশ্চিম বাংলার অন্যতম প্রধান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল, এমন কবিতা বাংলা ভাষায় লেখা সম্ভব সেটা আমার জানা ছিল না।