Sunday, January 29, 2017

মুদ্রানীতির পর পুঁজিবাজারে ধস

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১১৮ পয়েন্ট, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় পতন। লেনদেন কমার পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দামও কমেছে এদিন।আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। এ বাজারেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন কমেছে।নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজার নিয়ে সতর্ক করার পর দুই বাজারেই সূচক নামতে থাকে। বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে পতনের প্রবণতা।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “আজ বাজারে যে পতন হয়েছে তা স্বাভাবিক কারেকশন (মূল্য সংশোধন) নয়। মার্কেটকে জোর করে নামানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন মহলের কথাবার্তা এবং সর্বশেষ মুদ্রানীতি দিতে গিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব‌্যের পর বড় দরপতন হয়েছে।
মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর ফজলে কবির বলেন, “মূলধন বাজারে ২০১০ সাল থেকে বিদ্যমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে, সুস্থ ধারায় থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি জরুরি। তা না হলে অতীতের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে।”
২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসে অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। এরপর গত ছয় বছর ধরে বাজার পড়তির দিকে হলেও গতবছরের শেষ দিক থেকে তেজিভাব দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর ডিএসই সূচক সাড়ে ৫ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে বাজার বিশ্লেষকদের অনেকেই অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হুজুগে না মেতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

Saturday, January 28, 2017

আদালতের স্থগিতাদেশে চ্যালেঞ্জের মূখে ট্রাম্প

৭ দেশের মুসলিম শরনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

সাতটি দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থী প্রবেশে ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে মার্কিন আদালত। সেখান থেকে আরো জানানো হয়, বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাম্পের দেয়া এই নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে না। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে এই সাতটি দেশের শরণার্থীরা।
 
শুধু তাই নয়, আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে ওবামা প্রশাসনের দেয়া নির্দেশনা অনুসারে শরণার্থী প্রবেশ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রে।
 
এর আগে শুক্রবার সিরিয়াসহ আরো ৬টি দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে তিনি জানান, যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশগুলো থেকে খ্রিস্টান শরণার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় যুক্তরাষ্ট্র জুরে।
 
নিউইয়র্কের মেয়র ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নিউইয়র্কে এমন কোন আদেশ কার্যকর হতে দেব না আমি।
 
একই ধরণের প্রতিক্রিয়া ছিল ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়ায়। আপাতত আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

মনের কথা খুলে বলতে পারেননি ভ্যানচালক

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যানে চড়িয়ে তার নিজ এলাকা ঘুরিয়ে দেখান ১৭ বছর বয়সী ভ্যানচালক ইমাম শেখ। তবে প্রধানমন্ত্রীকে মনের কথা বলতে না পারায় আফসোস রয়ে গেছে তার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির কথা বলতে না পেরে তার এখন বেশ মন খারাপ। ইমাম শেখ ভ্যান চালাচ্ছেন দুই বছর ধরে। তার বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সদরের পাটগাতী সরদারপাড়া গ্রামে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উঠে আটকে যায় ইমামের পড়াশোনা। এখন জীবনযুদ্ধ চলে ভ্যান চালিয়ে।
ইমাম শেখের বাবা আব্দুল লতিফ শেখ মানসিক রোগী, মা গৃহিণী। ইমাম শেখরা দুই ভাই, তিন বোন। তার বড় ভাই সাদ্দাম শেখ ঢাকায় নতুন চাকরি পেয়েছেন। এখনো বেতন পায়নি। দুই বোন রেক্সনা ও সোহাগী আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোন নাদিরা বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ইমাম টুঙ্গিপাড়ায় ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন করেন তাই দিয়েই সংসার চলে।
ইমাম শেখ বলেন, ‘শুক্রবার আমি পাটগাতী স্ট্যান্ডে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম যাত্রীর অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রীর সফরে দায়িত্ব পালনকারী দুই কর্মকর্তা আমার ভ্যানে উঠে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধে যেতে বলে। আমি সমাধিসৌধের কাছে এলে নিরাপত্তাকর্মীরা আটকে দেন। পরে ভ্যানে থাকা ওই দুই কর্মকর্তা তাদের পরিচয় দিলে আমাকে ভ্যান নিয়ে সমাধিসৌধের ১নং গেটে যেতে দেন।’
ইমাম জানান, ‘সেখানেই প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা আসেন। প্রধানমন্ত্রী ভ্যানে চড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেখানে আমারসহ দুটি ভ্যান ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা আমার ভ্যান পছন্দ করেন। আমাকে চেক করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী ভ্যানে ওঠেন। উঠে জিজ্ঞাসা করেন- ‘তুমি ভ্যান চালাও’। আমি উত্তরে বলি ‘হ্যাঁ’ । প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালিয়ে আমার বিদ্যুৎ নষ্ট করছো’। বলেই হেসে দেন। আমিও হেসে দিই। নিজের ভ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে তার নতুন বাসভবনে যাই। প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা অন্যরকম আনন্দে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে চালিয়ে যাই।”
নতুন বাড়িতে পৌঁছে ভ্যান থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যানচালক ইমামকে ৫০০ টাকা বের করে দেন। ইমাম টাকা নিতে অস্বীকার করেন। শেখ হাসিনা তার ভ্যানে চড়েছেন এতেই সে মহাখুশি। এ কারণে টাকা নিতে অস্বীকার করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ইমামের পকেটে টাকা গুঁজে দেন। ইমাম শেখ আরো জানান, ‘এ সময়ের মধ্যে বারবার একটি চাকরি দেওয়ার কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমার ভ্যানে চড়ে ঘুরবেন। আর আমিই সেই ভ্যানের চালক। এমনটা কোনো দিনও কল্পনা করতে পারিনি। এ আনন্দে শেষ পর্যন্ত আর মনের কথা বলতে পরিনি।ইমাম শেখ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনেক ভালো উদ্যোগ দিয়েছেন। ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে তিনি বিদ্যুৎ নষ্টের কথা বলেছেন।তাই আমি ভ্যান ছেড়ে বিকল্প কর্মসংস্থানে যেতে চাই।’

শরণার্থীদের ঢুকতে দিন: ট্রাম্পকে জাতিসংঘ

যুদ্ধও নির্যাতন থেকে বাঁচতে দেশান্তরী হওয়া মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। ট্রাম্পকে তার অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা দুটি শনিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছে, শরণার্থী ও অভিবাসীদের সংকট এখনকার মতো প্রকট আগে কখনও হয়নি। আর যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি বিশ্বে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প।সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিম প্রধান ছয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য তিন মাসের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এতে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে, ধর্ম, জাতীয়তা ও গোষ্ঠীগত পরিচয় যা-ই হোক না কেন শরণার্থীদের সুরক্ষা, সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।’ ‘সবচেয়ে অসহায়’ শরণার্থীদের পুনর্বাসনকারী প্রতিটি দেশের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করা হয়েছে যুক্ত বিবৃতিতে। ইউএনএইচসিআর-এর মধ্যস্থতায় ৩০টির বেশি দেশ এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। এর আওতায় এমন শরণার্থীরা আসেন, যাদের অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ চিকিৎসা সেবা প্রথম আশ্রয়দাতা দেশে পান না।
‘যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী নেতৃত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং সংঘর্ষ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসাদের সুরক্ষার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ?্য রক্ষা করবে’ বলে প্রত?্যাশা জানিয়েছে সংস্থা দুটি। বিশেষ ওই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গত অক্টোবর থেকে বছর শেষ নাগাদ২৫ হাজার শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

রূপচর্চায় ফুল!

এক এক মৌসুমে এক এক ফুল পাওয়া যায়, সেগুলো রূপচর্চায় কাজে লাগানো যেতেই পারে, তবে এর কোনোটিই সরাসরি ব্যবহার করা উচিৎ নয়, অবশ্যই কোনো কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ, কোনোটির অম্লত্ব বেশি হতে পারে, আর সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই সরাসরি কোনো ফুল ত্বকে বা চুলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফুল দিয়ে সঠিকভাবে রূপচর্চা করতে চাইলে জেনে নিন কয়েকটি জরুরি টিপস—
ক্যামেলিয়া : ক্যামেলিয়া ফুল, দুধ ও চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হবে আর ত্বক ফিরে পাবে লাবণ্য।
গোলাপ : গোলাপ ফুলের সঙ্গে মধু ও লাল আতা মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ, উজ্জ্বল ও সতেজ।
শাপলা : শাপলা ফুল, নিমের তেল ও তিল বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ব্রণ কমে যাবে।
বেলি : বেলি ফুলের সঙ্গে ঘৃতকুমারী ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক টানটান ও মসৃণ হয়ে উঠবে।
জবা : জবা ফুল ও চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে চুলে লাগালে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

কুকুরের জন্য মানববন্ধন!

চট্রগ্রামে কুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি সংগঠন।ঢাকার সার্ক ফোয়ারা ঘিরে এ মানববন্ধন কর্মসুচিতে কয়েকশো মানুষ অংশ নিয়েছে। গত ২৩শে জানুয়ারী থেকে চট্রগ্রামে বিষ প্রয়োগ করে শত শত কুকুরকে হত্যা করা হয়েছে, যদিও কুকুর নিধন ও প্রাণীদের দিয়ে নিষ্ঠুর খেলা প্রদর্শন বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মানববন্দনে বক্তারা বলেন, রাস্তায় থাকা কুকুরেরও বাঁচার অধিকার আছে। মানুষই বরং বেশি সমস্যা করে কুকুরদের জন্য। ওদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলে কিংবা একটু খাবার দেয়া হলে কোন সমস্যা থাকবেনা। বরং এসব কুকুর এলাকার গার্ড হিসেবে কাজ করে।
জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যদি টিকা দেয়া হয় ও বন্ধ্যাকরনের মাধ্যমে মানবিক উপায়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হলে সেটি গ্রহণযোগ্য। হাইকোর্টের রায় আছে কুকুর নিধন বন্ধ ও প্রাণী দিয়ে নিষ্ঠুর খেলা প্রদর্শন না করতে। সেটাকে অমান্য করে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন করে যাচ্ছে।
কুকুর নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের সংখ্যা অন্তত এক লাখ।
২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে কুকুর নিধন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত।
তখন থেকেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কুকর নিধন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে কুকুরকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনার কাজ শুরু করে। পরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন আলাদা করে ভ্যাক্সিন দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তবে জাতীয় সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু ২০১৬ সালেই ঢাকায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ কুকুরের কামড়ের পর চিকিৎসা নিয়েছেন।

এই লেখাটি ছোটদের জন্য | মুহম্মদ জাফর ইকবাল

বড়রা এই লেখাটি পড়তে পারবেন না তা নয়; কিন্তু আমার ধারণা, বড় মানুষরা, যাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে পড়ে তারা এই লেখাটি পড়ে একটু বিরক্ত হতে পারেন। কীভাবে জানি, আমাদের দেশের লেখাপড়াটা হয়ে গেছে পরীক্ষানির্ভর। এ দেশে এখন লেখাপড়ার সঙ্গে শেখার কোনো সম্পর্ক নেই, পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার বিশাল একটা সম্পর্ক। বাচ্চারা স্কুল-কলেজে কিছু শিখল কি-না সেটা নিয়ে বাবা-মায়ের কোনো মাথাব্যথা নেই। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেল কি-না কিংবা জিপিএ ফাইভ পেল কি-না সেটা নিয়ে তাদের ঘুম নেই। পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়াটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, সে জন্য বাবা-মায়েরা রাত জেগে প্রশ্ন ফাঁস হলো কি-না সেটি ফেসবুকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। কোথাও যদি পেয়ে যান, তাহলে তার সমাধান করিয়ে ছেলেমেয়েদের পেছনে লেগে থাকেন সেটা মুখস্থ করানোর জন্য। পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষার ঠিক আগে আগে বের হওয়া এমসিকিউ প্রশ্নগুলো নিজেদের স্মার্টফোনে নিয়ে এসে সেগুলো তাদের ছেলেমেয়েদের শেখাতে থাকেন। এখানেই শেষ নয়, এত কিছুর পরও যদি পরীক্ষার ফল ভালো না হয়, তাদের এমন ভাষায় গালাগাল আর অপমান করেন যে, বাচ্চাগুলো গলায় দড়ি দেওয়ার কথা চিন্তা করে। আমাদের দেশে কীভাবে জানি এ রকম একটা 'অভিভাবক প্রজন্ম' তৈরি হয়েছে, যারা সম্ভবত এ দেশের লেখাপড়ার জন্য সবচেয়ে বড় একটা বাধা। কাজেই যদি এ রকম কোনো একজন অভিভাবক এই লেখাটি পড়া শুরু করছেন তাহলে তাকে অনুরোধ—তিনি যেন শুধু শুধু আমার এই লেখাটি পড়ে সকালবেলাতেই তার মেজাজটুকু খারাপ না করেন। তবে পড়া বন্ধ করার আগে সিঙ্গাপুরের একটা স্কুলের প্রিন্সিপালের অভিভাবকদের কাছে লেখা একটা চিঠি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। চিঠিটা বাংলায় অনুবাদ করলে হবে এ রকম—
প্রিয় অভিভাবকরা, 
আপনাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা কয়েক দিনের মাঝেই শুরু হবে। আমি জানি, আপনাদের ছেলেমেয়েরা যেন পরীক্ষায় ভালো করে সে জন্য আপনারা নিশ্চয়ই খুব আশা করে আছেন। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখবেন, ছাত্রদের ভেতরে যারা পরীক্ষা দিতে বসবে তাদের মাঝে নিশ্চয়ই একজন শিল্পী আছে, যার গণিত শেখার কোনো দরকার নেই। একজন নিশ্চয়ই ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা আছে, যার ইতিহাস কিংবা ইংরেজি সাহিত্যের প্রয়োজন নেই। একজন সঙ্গীত শিল্পী আছে, যে রসায়নে কত নম্বর পেয়েছে তাতে কিছু আসে যায় না। একজন খেলোয়াড় আছে, তার শারীরিক দক্ষতা পদার্থ বিজ্ঞান থেকে বেশি জরুরি—উদাহরণ দেওয়ার জন্য স্কুলিংয়ের কথা বলতে পারি। 
যদি আপনার ছেলে বা মেয়ে পরীক্ষায় খুব ভালো নম্বর পায়, সেটা হবে খুবই চমৎকার। কিন্তু যদি না পায় তাহলে প্লিজ, তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস কিংবা সম্মানটুকু কেড়ে নেবেন না। তাদেরকে বলবেন, এটা নিয়ে যেন মাথা না ঘামায়। এটা তো একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। তাদেরকে জীবনে আরও অনেক বড় কিছুর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। 
তাদেরকে বলেন, পরীক্ষায় তারা যত নম্বরই পাক, আপনি সবসময় তাদের ভালোবাসেন এবং কখনোই পরীক্ষার নম্বর দিয়ে তাদের বিচার করবেন না!
প্লিজ, এই কাজটা করেন, যখন এটা করবেন দেখবেন, আপনার সন্তান একদিন পৃথিবীটাকে জয় করবে। একটা পরীক্ষা কিংবা একটা পরীক্ষায় কম নম্বর কখনোই তাদের স্বপ্ন কিংবা মেধাকে কেড়ে নিতে পারবে না। 
আরেকটা কথা, প্লিজ মনে রাখবেন, শুধু ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়াররাই এই পৃথিবীর একমাত্র সুখী মানুষ নয়। 
অনেক শুভেচ্ছার সঙ্গে
প্রিন্সিপাল
(চিঠিটাতে স্কুলিং নামে একটা ছেলের কথা বলা হয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটি অলিম্পিকে সাঁতারে সোনার মেডেল পেয়েছিল)।
সিঙ্গাপুরের স্কুলের এই প্রিন্সিপালের চিঠিটা আসলে শুধু তার দেশের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের জন্য নয়, আমাদের দেশের অভিভাবকদের জন্যও সত্যি। আমরা ভুলে যাই কিংবা হয়তো জানিই না যে, একজন শিশুর অনেক রকম বুদ্ধিমত্তা থাকতে পারে এবং তার মাঝে আমরা শুধু লেখাপড়ার বুদ্ধিমত্তাটাই যাচাই করি। এই লেখাপড়ার বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও তার অন্য বুদ্ধিমত্তা দিয়েও যে একটা ছেলে বা মেয়ে অনেক বড় হতে পারে, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। আমি অনেক দিন থেকে ছেলেমেয়েদের পড়িয়ে আসছি। যতই দিন যাচ্ছে, ততই আমার কাছে স্পষ্ট হচ্ছে- পরীক্ষার ফলের সঙ্গে একজনের জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার দেখা যে ছেলেটি বা মেয়েটি এই সমাজ, দেশ কিংবা পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশি দিয়েছে সে পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে—তা কিন্তু সত্যি নয়!
আইনস্টাইন অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। তার কথাগুলোর মাঝে যে কথাটা আমার সবচেয়ে প্রিয় সেটি হচ্ছে :'কল্পনা করার শক্তি জ্ঞান থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ!' আইনস্টাইন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ছিলেন; জ্ঞানের গুরুত্বটুকু যদি কেউ বুঝতে পারে সেটি বোঝার কথা তার মতো একজন বিজ্ঞানীর। কিন্তু এই মানুষটিই জ্ঞান থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কল্পনাশক্তিকে। কারণটা কী? 
সেটি বোঝার জন্য আমাদের রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হবে না—একটুখানি চিন্তা করলেই বোঝা যায়। আমরা যেটাকে জ্ঞান বলি সেটা আমরা চেষ্টা-চরিত্র করে পেয়ে যেতে পারি। যদি আমরা কিছু একটা না জানি, খুঁজে পেতে তার কিছু বই এনে সেগুলোর ঘাঁটাঘাঁটি করে, জার্নাল পেপার পড়ে, অন্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা সেগুলো জেনে যেতে পারি। সোজা কথায়, জ্ঞান অর্জন করতে পারি; সেটা অর্জন করতে চাই কি-না কিংবা তার জন্য পরিশ্রম করতে রাজি আছি কি-না, সেটা হচ্ছে একমাত্র প্রশ্ন।
কিন্তু যদি আমাদের কল্পনাশক্তি না থাকে, তাহলে কি আমরা চেষ্টা-চরিত্র করে, খাটাখাটুনি করে সেই কল্পনাশক্তি অর্জন করতে পারব? 
পারব না। শত মাথা কুটলেও আমরা কল্পনাশক্তি বাড়াতে পারব না। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ যখন একটা শিশু জন্ম নেয়, তার ভেতরে অন্য সবকিছুর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ কল্পনাশক্তি থাকে। আমাদের কাজ খুব সহজ, সেই কল্পনাশক্তিটুকুকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর কিছু নয়। 
আমরা মোটেও সেটা করি না। শুধু যে করি না তা নয়, সেটাকে যত্ন করে নষ্ট করি। আমি লিখে দিতে পারি, এ দেশের অনেক অভিভাবক মনে করেন যে, ভালো লেখাপড়া মানে হচ্ছে ভালো মুখস্থ করা! সবাই নিশ্চয়ই এটা লক্ষ্য করেছেন যে, অনেক ছেলেমেয়েকে বই নিয়ে পড়তে বসার কথা বললে তার চোখ বন্ধ করে মুখস্থ করা শুরু করে। আমি নিজের চোখে পত্রিকায় একটা স্কুলের বিজ্ঞাপন দেখেছি, যেখানে বড় বড় করে লেখা আছে—'এখানে মুখস্থ করানোর সুবন্দোবস্ত আছে!' আমার মনে হয়, আমি যদি দেখতাম সেখানে লেখা আছে—'এখানে মাস্তানী শেখার সুবন্দোবস্ত আছে।' তাহলেও আমি কম আতঙ্কিত হতাম।
যে কেউ ইচ্ছা করলে আমার কথাটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। যে বাচ্চা স্কুলে যেতে শুরু করেনি, যাকে এখনও লেখাপড়া শুরু করানো হয়নি, তাকে যে কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে নিজের মতো করে উত্তর দিয়ে দেবে। একটু চেষ্টা করলেই তার ভেতর থেকে কাল্পনিক বিষয় বের করে নিয়ে আসা যাবে। ছোট একটা কাপড়ের পুতুলকে 'বউ' হিসেবে কল্পনা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেবে। এক টুকরো লাঠিকে একটা 'গাড়ি' হিসেবে কল্পনা করে ছোট শিশু সারা বাড়ি ছুটে বেড়াবে। কিন্তু সেই শিশুটি যখন ভালো স্কুলে লেখাপড়া করবে, অভিভাবকরা উপদেশ দেবেন—প্রাইভেট টিউটর তাকে জটিল বিষয় শিখিয়ে দেবে, কোচিং সেন্টার, মডেল পরীক্ষার পর পরীক্ষা নিয়ে তাকে প্রস্তুত করে দেবে, তখন আমরা আবিষ্কার করব, সে যে জিনিসগুলো শিখেছে তার বাইরের একটা প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারে না। বানিয়ে কিছু লিখতে পারে না, কল্পনা করতে পারে না। একটা আস্ত মানুষকে আমরা পুরোপুরি রোবট বানিয়ে ফেলি। 
একজন শিশুর কল্পনাশক্তিকে বাঁচিয়ে রাখা অনেকটা তার মস্তিষ্ককে অক্ষত রাখার মতো। শিশুটি অনেক কিছু শিখেছে; কিন্তু মস্তিষ্কের সর্বনাশ করে ফেলেছে। তার কাছে আমরা খুব বেশি কিছু চাইতে পারব না। তার তুলনায় যে বিশেষ কিছু শেখেনি, কিন্তু মস্তিষ্কটা পুরোপুরি সজীব আছে, সৃষ্টিশীল আছে, তার কাছে আমরা অনেক কিছু আশা করতে পারি। 
মনে আছে, একবার কোনো এক জায়গায় বেড়াতে এসেছি এবং একটা শিশু আমাকে দেখে ছুটে এসে আমার সঙ্গে রাজ্যের গল্প জুড়ে দিয়েছে। আমি এক ধরনের মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করলাম, এইটুকু একটা শিশু কিন্তু সে কত কিছু জানে এবং আরও জানার জন্য আমার কাছে তার কত রকম প্রশ্ন—আমি উত্তর দিয়ে শেষ করতে পারি না। কিছুক্ষণ পর তার মায়ের সঙ্গে দেখা হলো। মা মুখ ভার করে আমার কাছে অভিযোগ করে বললেন, 'আমার এই ছেলেটা মোটে লেখাপড়া করতে চায় না, দিনরাত গল্পের বই পড়ে। আপনি প্লিজ তাকে একটু উপদেশ দিয়ে দেবেন, যেন সে একটুখানি লেখাপড়া করে।' 
আমি তার মাকে বললাম, 'ক্লাস এইটে ওঠার আগে কোনো লেখাপড়া নেই। সে এখন যা করছে তাকে সেটাই করতে দিন। কারণ সে একেবারে ঠিক জিনিসটা করছে।' তারপর ছেলেটিকে ফিসফিস করে বললাম, 'তুমি তোমার স্কুলে গিয়ে তোমার সব বন্ধু-বান্ধবকে আমার কথা বলবে যে, আমি বলেছি, ক্লাস এইটের আগে কোনো লেখাপড়া নেই। এখন যা মন চায় তাই করো, গল্পের বই পড়ো, ছবি আঁকো, ক্রিকেট খেল।'
আমার কথা শুনে মা বেচারির হার্টফেল করার অবস্থা। আমি জানি, এই ছোট ছেলেটিকেও এক সময় স্কুল, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাইভেট টিউটর আর কোচিং সেন্টার মিলে সাইজ করে ফেলবে। তারপরও আমি আশা করে থাকি, এই ছোট বাচ্চাগুলো হয়তো তাদের অসম্ভব প্রাণশক্তি, স্বপ্ন আর কল্পনার শক্তিতে টিকে থাকবে। তাদের কেউ কেউ হয়তো রোবট নয়, সত্যিকার মানুষ হয়ে বড় হবে। 
মস্তিষ্ককে বাঁচিয়ে রাখা বা কল্পনা করার ক্ষমতাকে ধরে রাখার একটা খুব সহজ উপায় আছে—সেটা হচ্ছে বই পড়া। সারা পৃথিবীই এখন খুব দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক এসব প্রযুক্তির কারণে আমাদের শিশুরা বই পড়ার জগৎ থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। আগে পৃথিবীর সব শিশু মাথা গুঁজে বই পড়ত, তাদের চোখের সামনে থাকত ছোট একটি বই; কিন্তু তাদের মাথার ভেতরে উন্মুক্ত হতো কল্পনার বিশাল একটা জগৎ! এখন এই শিশুদের চোখের সামনে থাকে কম্পিউটার কিংবা ট্যাবের স্ক্রিন, সেখানে তারা দেখে ঝকঝকে ছবি কিংবা ভিডিও কিংবা চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্সের কম্পিউটার গেম। তাদের মাথার ভেতরেও থাকে সেই একই ছবি, একই ভিডিও কিংবা একই গ্রাফিক্স। কল্পনার বিশাল একটা জগৎ আর উন্মুক্ত হয় না। কী দুঃখের একটা ব্যাপার! 
আমি জানি, আজ হোক কাল হোক পৃথিবীর সব বড় বড় জ্ঞানী-গুণী মানুষ বলবেন, ছোট শিশুদের ইন্টারনেট, কম্পিউটার গেম আর ফেসবুকের জগতে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কাজটা একেবারে ঠিক হয়নি। তাদেরকে আরও অনেক বেশি বই পড়তে দেওয়া উচিত ছিল!
বইমেলা আসছে। আমি সব অভিভাবককে বলব, শিশুর হাত ধরে তাকে বইমেলায় নিয়ে আসুন। তাকে কয়েকটা বই কিনে দিন। একটা ছোট শিশুকে যদি একটিবার বই পড়ার অভ্যাস করিয়ে দিতে পারেন, তাহলে আপনি সারা জীবনের জন্য নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন। 
ছেলেমেয়ে মানুষ করার এত সহজ উপায় থাকতে আমরা কেন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা করি?
২৫.১.২০১৭