Thursday, March 4, 2021

 

উত্তম জীবন লাভের দোয়া 

উত্তম জীবন লাভের দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআল সারিরাতি খইরাম মিন আলানিয়াতি, ওয়াজআল আলানিয়াতি সালিহাতান, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন সালিহি মা তু-তিন নাসা মিনাল মালি ওয়াল আহলি ওয়াল ওয়ালাদি গাইরিদ দ্বাল্লি ওয়ালাল মুদ্বিল্লি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমার বাইরের অবস্থার চেয়ে আমার ভেতরের অবস্থাকে বেশি ভালো করুন এবং আমার বাইরের অবস্থাকেও অতি উত্তম করুন। হে আল্লাহ, আপনি মানুষকে যে ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন, তাতে আমাকে উত্তমগুলোই দিন, যারা বিপথগামী এবং বিপথগামীকারীও নয়।

উপকার : উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে এই দোয়া শিখিয়েছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৮৬)

 

জেনে নিন ভূমিকম্প সম্পর্কে ১১টি বিস্ময়কর তথ্য  


জেনে নিন ভূমিকম্প সম্পর্কে ১১টি বিস্ময়কর তথ্য
ভূমিকম্পের কারণে ভেঙে পড়েছে সড়ক।

নিউজিল্যান্ডে ৭ মাত্রার বেশি তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পেরে এই আঘাতের পর দেশটিতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ভূমিকম্প সম্পর্কে ১১টি বিস্ময়কর তথ্য

সারাবিশ্বেই বড় বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ভূমিকম্পের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। ভূমিকম্প হলে তার পরপরই এ নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি। এখানে এ রকম ১২টি বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হল:

১. সারা পৃথিবীতে বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে, প্রত্যেক বছর গড়ে ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যেগুলোর মাত্রা ৭-এর উপরে এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় একবার।

তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়। এর অনেকগুলো হয়তো বোঝাই যায় না। বোঝা যায় না কারণ খুব প্রত্যন্ত এলাকায় এসব হয় অথবা সেগুলোর মাত্রা থাকে খুবই কম।

২. ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমবেশি হতে পারে

জাপানের উত্তর-পূর্বে ২০০৯ সালের ১১ মার্চ একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯। এর ফলে পরিবর্তন ঘটে পৃথিবীর ভরের বণ্টনে এবং তার প্রভাবে পৃথিবী ঘুরতে থাকে সামান্য দ্রুত গতিতে আর তখন দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। সেদিন দিন ১.৮ মাইক্রো সেকেন্ড ছোট ছিল।

৩. সান ফ্রান্সিসকো সরে যাচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রত্যেক বছর গড়ে দুই ইঞ্চি করে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। এই একই গতিতে বাড়ে আমাদের আঙ্গুলের নখ। শহরের এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টের দুটো দিক ক্রমশ একটি অপরটিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে চলতে থাকলে এই দুটো শহর কয়েক লাখ বছর পর একত্রিত হয়ে পড়বে।

৪. ভূমিকম্পের আগে স্থির পানি থেকে গন্ধ বের হয়

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে। প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস নির্গত হয় তার কারণে এটা হয়ে থাকে। এর ফলে ওই এলাকার বন্যপ্রাণীর আচরণেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগ বলছে, ২০০৯ সালে ইতালিতে এক ভূমিকম্পের সময় এক ধরনের ব্যাঙ সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল এবং ফিরে এসেছিল ভূমিকম্পের পরে। বলা হয়, এই ব্যাঙ পানির রাসায়নিক পরিবর্তন খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।

৫. ভূমিকম্পের পরেও পানিতে ঢেউ উঠতে পারে

ভূমিকম্পের পরেও পুকুরে কিম্বা সুইমিং পুলের পানিতে আপনি কখনো কখনো ঢেউ দেখতে পারেন। একে বলা হয় শ্যাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্প হয়তো শেষ হয়ে গেছে কিন্তু তারপরেও কয়েক ঘণ্টা ধরে অভ্যন্তরীণ এই পানিতে তরঙ্গ অব্যাহত থাকতে পারে। মেক্সিকোতে ১৯৮৫ সালে একবার ভূমিকম্প হয়েছিল, যেবার এই মেক্সিকো থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলের পানি ছিটকে পড়তে পড়তে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

৬. ভূমিকম্পের কথা মনে রেখেই ইনকা সভ্যতা ও জাপানি বাড়িঘর তৈরি

ভূমিকম্পের কারণে যাতে বাড়িঘর ধসে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ইনকা আমলের স্থাপত্য ভবন ও জাপানি প্যাগোডা নির্মিত হয়েছিল। ৫০০ বছর আগে ইনকার স্থাপত্য কর্মীরা যখন মাচু পিচু শহর নির্মাণ করে তখন তারা বাড়িঘর নির্মাণের ব্যাপারে একটি আদিকালের জ্ঞান কাজে লাগিয়েছিল, যাতে ঘন ঘন হওয়া ভূমিকম্পের হাত থেকে তাদের বাড়িঘর বেঁচে যেতে পারে।

৭. বেশিরভাগ ভূমিকম্পেরই উৎস প্রশান্ত মহাসাগর

পৃথিবীতে যতো ভূমিকম্প হয় তার অধিকাংশ, ৯০ শতাংশই হয় রিং অব ফায়ার এলাকাজুড়ে। এই এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

৮. ভূমিকম্পের কারণে চিলির একটি শহর ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়

২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল চিলির কনসেপসিওন শহরে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৮। এর ফলে পৃথিবীর শক্ত উপরিভাগে ফাটল ধরে এবং শহরটি ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়।

৯. ভূমিকম্পে খাটো হয়ে যায় এভারেস্ট

নেপালে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কমে আসে হিমালয়ের অনেক পর্বতের উচ্চতাও। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমে গিয়েছিল এক ইঞ্চির মতো।

১০. ভূমিকম্পের আগে প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন ঘটে।

ভূমিকম্পের ফলে যে শুধু ব্যাঙের আচরণেই পরিবর্তন ঘটে তা নয়, ইন্দোনেশিয়া এবং ২০০৪ সালে সুনামির আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন যে তারা অনেক পশু পাখিকে দেখেছেন উঁচু এলাকার দিকে ছুটে যেতে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কম্পন পশুপাখিরা টের পেয়ে যায়।

১১. ব্রিটিশ একজন বিজ্ঞানী ভূমিকম্পের কারণ চিহ্নিত করেছেন

ব্রিটেনের একজন প্রকৌশলী জন মাইকেল ভূমিকম্পের কারণ উদঘাটন করেছেন। এই আবিষ্কার হয়েছে ১৮শ’ শতাব্দীর শুরুর দিকে। তাকে দেখা হয় ভূকম্পনবিদ্যার একজন জনক হিসেবে। তিনি বলেন, ভূ-পৃষ্ঠের বহু নিচে শিলা-খণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Tuesday, March 2, 2021

 

ডায়াবেটিস থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে কাঁচা টমেটো 

শীত মানেই কাঁচা-পাকা টমেটো। খেতেও দারুণ টমেটোর তৈরি খাবারগুলো। যদিও টমেটো সব মৌসুমেই কম বেশি পাওয়া যায়। তবে কাঁচা টমেটো শীত ছাড়া পাওয়া একটু বেশিই কষ্টকর। জানেন কি, কাঁচা টমেটো পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ।

তবে দেখা যায়, সবাই পাকা টমেটো বেশি বেশি কিনলেও কাঁচা টমেটোর দিকে নজর যায় খুব কমই। কাঁচা টমেটোর প্রচুর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে জানলে খেতে একদমই ভুল করবেন না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কাঁচা টমেটোর গুণাগুণ সম্পর্কে- ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমে রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে টমেটোর কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এতে উপস্থিত ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।ক্যান্সার প্রতিরোধক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল ও স্টমাক ক্যান্সাররোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে লাইকোপেন হলো একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষের বিভাজন ঠিকমতো হতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেয়ার আশঙ্কা কমে। আর যদি একবার ক্যান্সার কোষ জন্ম নিয়েও নেয়, তাহলেও যাতে তার বৃদ্ধি দ্রুত গতিতে না হয়, সেদিকে টমেটো খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরকে ক্ষয় করার সুযোগ পায় না। হাড় মজবুত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-কে সমৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে টমেটোর কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বুড়ো বয়সে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এখন থেকেই টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর

কখনো খাবারের সঙ্গে তো কখনো অন্যভাবে আমাদের শরীরে টক্সিক উপাদানের প্রবেশ ঘটে। এই ক্ষতিকারক উপাদানগুলো যাতে শরীরের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে। টমেটো যেহেতু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক চিকিৎসক।হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় টমেটোয় উপস্থিত ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। যাদের পরিবারে হাই কোলেস্টেরল ও ব্লাড প্রেসার রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা আজ থেকেই কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন আয়ু বাড়বেই বাড়বে।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে টমেটোয় উপস্থিত লাইকোপেন, লুটেন এবং বিটা-ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ছানির মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা মেটে প্রতিদিন সকালে প্রকৃতির ডাক মানেই জ্বালা-যন্ত্রণা-কষ্ট? তাহলে তো আপনাকে টমেটো খেতেই হবে। কারণ এতে উপস্থিত ফাইবার কনস্টিপেশনের সমস্যা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং আরও নানা ধরনের পেটের রোগের উপশমেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। 

 

রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে 

পীর হাবিবুর রহমান 

 য়েছে)

 রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে

পর্দার আড়ালে রাজনীতিতে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ চলছে। বিএনপির দন্ডিত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ শরীর নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন- এমনটা নিশ্চিত জেনে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি নতুন করে নিজেদের পথ নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ বিএনপির সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ময়দানের জায়গাটি নিজেরা দখলে নিতে চাইছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পরিষ্কার বলেছেন, তারা আর মহাজোটে নেই। পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ নেতারা এখন এক হয়ে গেছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সরকারবিরোধী সমালোচনায় বক্তৃতা-বিবৃতিতে মুখর। নেতারা তৃণমূল নেতা ও সমন্বয়কারীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে তাদের অবস্থান খোলাসা করেছেন। এমপিদের সঙ্গেও নেতাদের বৈঠক হয়েছে কয়েক দফা। বলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত ইতিহাস এবং অবস্থান বাদে সরকারের যে কোনো কর্মকান্ডের সমালোচনা তারা করতে পারবেন।

জাতীয় পার্টি মনে করে, বিগত দুটি জাতীয় নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বিভ্রান্ত না হলে, ভুল না করলে সংসদে এখন তাদের আসন সংখ্যা আরও বেশি থাকত। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান। শক্তিশালী অবস্থান নিতে চান।

জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে চলে গেলে লন্ডনে নির্বাসিত দন্ডিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেখান থেকে যতই দল চালাতে যান না কেন, এখানে নেতা-কর্মীরা আরও মানসিকভাবে দুর্বল হবেন। বিগত নির্বাচনে যেমন তারা ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি তেমনি আগামীতে ফল আরও বিপর্যয়কর হবে। বিএনপি টানা ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং মামলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় নেতা-কর্মীরা সংগঠন গোছাতে পারেননি। মাঠের বিএনপি যেমন দুর্বল তেমনি দলের নীতিনির্ধারকরাও অসহায়। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টির সামনে সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির এ অভিলাষযাত্রার নেপথ্যে কোনো শক্তি বা সরকারের সমর্থন আছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ এককভাবেই সরকার গঠন করেছে। এখানে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসন দেওয়া হলেও ১৪ দলের শরিকদেরও সরকারে ঠাঁই দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থীরা নৌকা নিয়ে জোটগত নির্বাচন করবেন, নাকি আলাদাভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে সংসদে আসবেন এটা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ১৪ দলীয়ভাবেই আসার সম্ভাবনা বেশি।

পর্যবেক্ষকরা বলে আসছেন বিগত জাতীয় নির্বাচনে একদিকে শেখ হাসিনার দেশজুড়ে উন্নয়নের মহা-কর্মযজ্ঞ, অন্যদিকে সাংগঠনিক তৎপরতায় সরগরম আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি ভোটের ময়দানে ছিল একদম দুর্বল, অগোছাল ও গণবিচ্ছিন্ন। নেতা-কর্মীরা অনেকেই ছিলেন মামলাজালে আটকা। এমনি অবস্থায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আরেকদিকে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে রেখে নির্বাচনের যে লড়াই তা ভোটারদের মাঝে প্রভাব ফেলা দূরে থাক রাজনীতিতে সার্কাস তৈরি করেছিল। প্রশাসন অতি উৎসাহী ভূমিকা না নিয়ে নির্বাচন কমিশন যদি গ্রহণযোগ্য বিতর্কমুক্ত নির্বাচনও দিত তাহলে বিএনপি ৪০টির বেশি আসন পেত না। এতে বিরোধী দল নিয়ে সংসদ প্রাণবন্ত থাকত। তবে সেখানে অন্য কোনো হিসাব কাজ করেছে কিনা তা গভীরভাবে এখন অনেকেই চিন্তা করছেন। দিনে দিনে বিএনপিকে যেখানে নেওয়া হচ্ছে, যে শক্তিক্ষয় ঘটানো হয়েছে তাতে অনেকের ধারণা, বিএনপির রাজনীতি প্রায় নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিস্থিতিই তৈরি হচ্ছে।

বিএনপির অভ্যন্তরেও নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ, হতাশা চরমে। নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলকে ঢেলে সাজানো এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে তাদের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। লন্ডন সদর দফতর থেকে যে বিতর্কিত বক্তব্য আসে তা নিয়ে কঠিন দুঃসময়েও এখানে বিএনপি নেতৃত্বকে হোঁচট খেতে হয়। তাই বলে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি বা প্ল্যাটফরম বলে দীর্ঘদিন রাজনীতির ময়দানে দাপুটে অবস্থান বহাল রাখা বিএনপিকে কি আদৌ দিনে দিনে নিঃশেষ করা সম্ভব? এমন প্রশ্ন নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে রয়েছে বিতর্ক। অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির জায়গা দখল বা উঠে আসার চেয়ে ভঙ্গুর বিএনপির অবস্থান বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দলটির জনপ্রিয়তা আছে। এ ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন, বিএনপির জনপ্রিয়তার উৎস গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উঠে আসা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যেখানে অসুস্থ শরীর নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন আর তার উত্তরসূরি তারেক রহমান দন্ডিত এবং বহুল বিতর্কে বিতর্কিত হয়ে লন্ডনে নির্বাসিত সেখানে বিএনপিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর নেতৃত্ব কই। সরকারও যে মামলা-মোকদ্দমা থেকে নেতা-কর্মীদের সহজে ছাড় দেবে বা আন্দোলন নিয়ে মাঠে গড়াতে সুযোগদান করবে সে আলামত দেখা যাচ্ছে না। সংসদে বিএনপি সদস্যদের কথা বলতে যেখানে কোনো বাধাই দেওয়া হচ্ছে না, চাইলেই সময় দেওয়া হচ্ছে তেমনি মাঠে নামতে গেলেই পুলিশের অ্যাকশন। এর মধ্যে দলে দলাদলি, কমিটি বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য যেমন রয়েছে তেমনি ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও তৈরি করেছে চরম প্রতিকূল পরিবেশ। বিএনপি শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা যৌক্তিক কিনা তা নিয়েও আলোচনা হবে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জনের বড় ধরনের খেসারত দলটিকে দিতে হয়েছে।  বিএনপিকে নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া সেনাশাসক এরশাদ আমলেই সৃষ্টি হয়েছিল। সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের ট্র্যাজিক হত্যাকান্ডের পর বিচারপতি সাত্তার সরকার আমলে চরম ব্যর্থতা, কোন্দল, আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় আসেন সেনাশাসক এরশাদ। মার্শাল ল জারি হয়। সে সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫-দলীয় জোটের পাশাপাশি অসীম ধৈর্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিতে রাজপথে নামেন। বিএনপির বড় বড় নেতা-মন্ত্রীরা এরশাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপি ভেঙেচুরে চুরমার হলেও তারুণ্যের শক্তি ছাত্রদলের ওপর ভর করেই খালেদা জিয়া সেদিন গণতন্ত্রের নেত্রী হন।

’৯০ সালে এরশাদের পতনের পর ’৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা যেখানে আদর্শিক দলের পোড় খাওয়া নেতাদের মনোনয়ন দেন সেখানে নেতৃত্বহীন বিএনপি ব্যবসায়ী আর সামরিক শাসকদের আজ্ঞাবহ সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে দেন ধানের শীষ। এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতি, অসংগঠিত আটদল, বাইরে থাকা পাঁচদলীয় বামজোট- সব মিলিয়ে নির্বাচনী ফলাফল ছিল হিসাবের বাইরে। যেখানে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত ক্ষমতায় আসার কথা, সেখানে জামায়াতের সমর্থনে ক্ষমতায় এলো বিএনপি। রাজনীতিতে তার অবস্থান আওয়ামী লীগবিরোধী মত হিসেবে শক্তিশালী হলো। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের শক্তি হয়েই থাকল আর বিএনপি আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তির ঠিকানা। পরের ইতিহাস সবার জানা।

’৮৪ সালের উপজেলা নির্বাচন তুমুল আন্দোলনের মুখে বাতিল করতে হলেও ’৮৫ সালে সেটি সেনাশাসক এরশাদ করতে সফল হন। সেই সময়ের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদ আমাকে একবার বলেছিলেন, এরশাদের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান জেনারেল চিশতি এক বৈঠকে ভীষণ দাপুটে কথাবার্তা বলছিলেন। সামাদ আজাদ অনেকের সঙ্গে বসে চুপচাপ শুনছিলেন, চিশতি বিএনপিকে শেষ করে দেওয়ার ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সামাদ আজাদ বললেন, জেনারেল সাহেব রাজনীতির বেলা অনেক হলো। অনেককাল, অনেক কিছুই দেখেছি। যত যাই বলুন, আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি বেগম সাহেবার (খালেদা জিয়ার) আঁচলেই বাঁধা থাকবে। সে সময় বলা হতো চিশতি প্রবেশ করলে মন্ত্রীরাই নন, তাদের চেয়ারও দাঁড়িয়ে যেত। এতটাই দাপুটে ছিলেন। আওয়ামী লীগ রক্তাক্ত আগস্টের পর কঠিন বৈরী দুঃসময় নিপীড়ন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যেভাবে ২১ বছর রাজনীতিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে বিএনপি ১৩ বছরে কিছুই দেখাতে পারেনি। ক্ষমতার বাইরে কদিন পারবে তাও বড় প্রশ্ন। বড় প্রশ্ন তার নেতৃত্বহীনতা। যাক, এখন বিএনপির পরিণতি সামনে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা দেখার বিষয়। আর এতটা ক্ষয়ে যাওয়া জাতীয় পার্টি কীভাবে বিএনপির জায়গা সংসদে দখল করে আসে তাও ভাবার বিষয়। তবে রাজনীতিতে সামনে যে আরও খেলা বাকি তার আলামত দেখা যাচ্ছে। জন্ম থেকে যে বিএনপি ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যকে অস্বীকার করেছে, ইতিহাস বিকৃতি করেছে সেই বিএনপি আজ ৭ মার্চ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ অভিনন্দন জানিয়েছে। একেই বলে সত্য কখনো চাপা দিয়ে রাখা যায় না। বিএনপি ইতিহাসের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছে। এটা ইতিবাচক, এই সময়ে।

২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের জনগণকে আরেকটি আনন্দ সংবাদ দিয়েছেন। ছোটবোন শেখ রেহানা তাকে এ বিরল কৃতিত্বের খবর দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। শেখ রেহানা তখন তার পাশে ছিলেন। মঞ্চের একপাশে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আরেক পাশে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ এ সুপারিশ করেছে। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের এক যুগে ধাপে ধাপে নানা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে যে অর্জন এনেছেন  দেশের জন্য এ এক বিরল কৃতিত্ব। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ এখন মর্যাদাশালী সম্মানিত দেশ। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার একদিন বৈরী মনোভাব নিয়ে যে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা তা অসার প্রমাণ করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে নিয়ে পশ্চিমাদের কাছে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। আজ স্বপ্ন তার হাতের মুঠোয়। দেশের রাজনীতি হরতাল-অবরোধ-সহিংসতা মুক্ত, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে সাহসী সাফল্যের মুকুট পরে শেখ হাসিনা এ অর্জন করেছেন। শেখ হাসিনার পাশে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী থেকে নিম্ন ও মাঝারি আয়ের ব্যবসায়ীরাও সমর্থন দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, কেবল দক্ষিণ এশিয়ায়ই দেশকে উঁচু করেননি। করোনার মহাবিপর্যয়কালে পশ্চিমা দুনিয়ার অর্থনীতিও যেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেখানে শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতির হাল শক্তভাবে ধরেই করোনার চ্যালেঞ্জেও সাফল্য এনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে একসময় এক যুগের বেনিফিশিয়ারিরা তৈলাক্ত ভাষণ দিয়ে আমেজ নষ্ট করতেন। সমালোচনার মুখে অনেকে মুখে লাগাম টেনেছেন। কিন্তু সবাই কি আর পারে? স্বার্থে লাভে-লোভে প্রশ্ন বাদ দিয়ে তারা তাদের মতো বয়ান দেন। তাই বলে পেশাদাররা বসে থাকেন না। তারা প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন পছন্দ করেন। যারা প্রশ্ন করেছেন আলজাজিরা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। মিডিয়াবান্ধব শেখ হাসিনা প্রশ্ন ছুড়লেই দ্রুত জবাব দেন। কিন্তু এক যুগে এমন আদম জন্ম নিয়েছেন গণমাধ্যমে যে নিজেদের আখের গোছাতে সংবাদ সম্মেলনে অভিনব ভাষণ চালু করেছেন। এ নিয়ে তাদের গ্লানি বা লজ্জা নাই থাকল।

যাক, সবাই জানেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নকশা বারবার আঁকা হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের যেখানে নিয়ে গেছেন তা নিয়ে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান নামের শত্রুরাষ্ট্রই নয়, বন্ধুরাষ্ট্র ভারতেও আর্তনাদ চলছে। তাদের সরকারকে তুলাধোনা করছে বিরোধী দল থেকে গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা অনেকের কাছে ঈর্ষার কারণ হতে পারে, অপরাধ হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশাল গৌরবের।

৩. সম্প্রতি কাশিমপুর কারাগারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক মুশতাকের মৃত্যুর পর একটা মৃদু ঝড় বয়ে গেছে। ১০ মাস আটক থাকার পর মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাম ছাত্র সংগঠন আর ছাত্র অধিকার পরিষদের মশাল আন্দোলনে পুলিশের আক্রমণ হয়েছে। দুই পক্ষ যার যার বক্তব্য দিয়েছে। মানুষ যা দেখার দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে নিরাপত্তা আইন থাকবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। শুরু থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিতর্ক আছে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আছে। এমনকি এর অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহার যাতে না হয় সে কথাও বলা হয়েছে। আইনমন্ত্রী পুনর্বিবেচনার কথা বিভিন্ন সময় বললেও তা আর বিবেচিত হয়নি। তবে সংবিধান যেখানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে সেখানে এমন আইনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বলেছি। সম্পাদক পরিষদ আইনের কালো ধারাগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছিল, তা হয়নি। ’৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২১ বছর আওয়ামী লীগকে নিপীড়ন ভোগ করতে হয়েছে। বিএনপি জমানায় বিরোধী দলের প্রতিবাদের মুখে সন্ত্রাসবিরোধীসহ পাস করা নিবর্তনমূলক আইনে এখন তাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলে হবে না, গণমাধ্যমের গলা চেপে ধরবে না তার গ্যারান্টি কোথায়? বিদেশে পাড়ি দিয়ে ঘেউ ঘেউ করা জামায়াতি অর্থে লালিতরা ইউটিউব চ্যানেলে কীভাবে নোংরামি মিথ্যাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফেসবুক ইউটিউব থেকে যে কোনো বিকৃত মিথ্যাচারের ডিজিটাল সন্ত্রাস মুছে ফেলা যাচ্ছে না। মুশতাকের সহযোগী কিশোর অসুস্থ। জামিন নেই। আটবার জামিন চেয়েও মুশতাকের জামিন মেলেনি। এদের সঙ্গে জড়িত অনেককে পুলিশ অব্যাহতি দিল কীভাবে? অনেকের জামিন মিলল কীভাবে?

মুশতাকের আটক, কারাভোগ ও মৃত্যু কি সরকারের ইমেজ বাড়িয়েছে? নাকি আঁচড় বসিয়েছে? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত যারা সারা দেশে নাজেহাল হয়েছেন তাদের মধ্যে মাঠের সংবাদকর্মী কতজন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকের প্রতিক্রিয়া কোন দিকে ঝুঁকছে এটা কি সরকারের ডিজিটাল মন্ত্রী-কর্তারা দেখছেন? সবাই তো আর অন্ধ জামায়াত-বিএনপি নয়! কথায় আছে অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ থাকে না।

এ রাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জন্ম নিয়েছে। রাষ্ট্র কি কোনো দায় এড়াতে পারে? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে দেশের জন্ম সেটি তো মানবিক রাষ্ট্র হবে। জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তিনামা সংবিধান। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন আইন কি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় থাকতে পারে? সরকারসহ সবাইকে ভাবতে হবে।

৪. আজকের লেখা শেষ করতে চাই গভীর বেদনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে। দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার নিয়ে তার যে সাহসী ভূমিকা তা স্মরণীয়। একজন দেশপ্রেমিক সাহসী অর্থনীতিবিদের এই মৃত্যুর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। লেখক-সাংবাদিক-কলামিস্ট-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুও আমাদের ব্যথিত এবং শোকার্ত করেছে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। সুনামগঞ্জের প্রিয় অগ্রজ বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক-গবেষক, রাজনীতিক, সমাজ আলোকিত করা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর অকালমৃত্যু শহরকে শোকস্তব্ধ করেছে। মনে পড়ে ’৮৪ সালে রেহান উদ্দিন আহমেদ রেজুর নেতৃত্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় খসরু ভাইয়ের কাছ থেকে তার সাপ্তাহিক সুরমার আইডি কার্ড নিয়েছিলাম। দেশে দিন দিন ভালো মানুষ কমে যাচ্ছে। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন 

Monday, March 1, 2021

 

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ৫টি উপায়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ৫টি উপায়

বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে একজন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনটিকে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস হিসাবে পালন করছে এই খাতের স্বাস্থ্য কর্মীরা।

১৯৫৬ সালের ২৮শ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় নিবন্ধিত রয়েছেন ৪৫ লাখের বেশি ডায়াবেটিস কর্মী।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে দেড় কোটিতে।

কী করলে ঠেকানো যায় 

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ খান বলছেন, 'ডায়াবেটিস প্রধানত টাইপ-ওয়ান ও টাইপ-২, এই দুইভাবে আমরা ভাগ করি। আমাদের দেশে ৯৫ শতাংশ রোগী টাইপ-২ ধরনের। টাইপ-ওয়ান হচ্ছে যাদের শরীরে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাদের ইনসুলিন বা পুরোপুরি ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে টাইপ-২ ধরনের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে রাখলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে রাখা বা বিলম্বিত করা সম্ভব।

১. প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটুন 

ড. আজাদ খান বলছেন, নগর জীবনে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম এবং হাঁটার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। কিন্তু যাদের পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জেনেটিক্যালি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে তারা যদি আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম করতে শুরু করেন, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন।

তিনি বলছেন, এজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একঘণ্টা হাঁটতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা বাড়ানো যেতে পারে।

ঢাকার একজন বাসিন্দা উম্মে কুলসুমের বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনিও তার মায়ের সঙ্গে নিয়মিত হাঁটেন। তার অপর দুই বোনের পরবর্তীতে ডায়াবেটিস শনাক্ত হলেও তার এখনো এই রোগটি হয়নি। এজন্য তিনি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

২. জীবনধারা পাল্টে দিন 

চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের পরিবার বা বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই জীবনযাপনের ধরন পাল্টানো উচিত।

ড. এ কে আজাদ খান বলছেন, যেসব পরিবারের বাবা-মা বা দাদা-দাদী, নানা-নানীর ডায়াবেটিস হয়ে থাকে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

যাদের হৃদরোগ রয়েছে, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেসব শিশুর ওজন বেশি, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের ডায়াবেটিস রয়েছে, যাদের মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হয়েছিল, সেই সব শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফলে তাদের উচিত আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা। এই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, নিয়ম মেনে সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়া, যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে হাঁটাচলা বাড়ানো, মিষ্টি জাতীয়, ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা ইত্যাদি।

৩. ধূমপান ও মদপান ছেড়ে দিন 

শুধুমাত্র ডায়াবেটিস নয়, আরও অনেক রোগের কারণ হতে পারে ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগ ঠেকাতে যেসব খারাপ অভ্যাস সবার আগে বাদ দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস। কারণ এগুলো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

৪. মিষ্টি পরিহার করুন 

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ খান বলছেন, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়ার কারণেও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সাধারণ মিষ্টি জাতীয় ও ভারী খাবার স্থূলতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের ওজনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে কোনভাবেই অতিরিক্ত ওজন বা মুটিয়ে যাওয়া না হয়।

স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে রয়েছে শাক সবজি, ফল, বিন্স এবং মোটা দানার খাদ্য শস্য। স্বাস্থ্যকর তেল, বাদাম খাওয়াও ভালো। 

এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে পরিমাণে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া দরকার। এছাড়া প্রতি সপ্তাহেই নিয়মিত ওজন মাপতে হবে। শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি ও খাবার নিশ্চিত করার জন্য পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে খাবারের তালিকা তৈরি করে সেটা অনুসরণ করা উচিত। ফলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে, তেমনি ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৫. রক্তে চিনির মাত্রার ওপর নজর রাখুন 

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলছেন, যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। এখন অনেক ফার্মেসিতে স্বল্পমূল্যে দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যায়। সেখান ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সঙ্গে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে 

# ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা
# দুর্বল লাগা ও ঘোর ঘোর ভাব আসা
# ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
# সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া
# মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
# কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া
# শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা
# চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
# বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা
# চোখে কম দেখতে শুরু করা

 

মাকে যেন দিও না ব্যথা 

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী 

       য়েছে)

মাকে যেন দিও না ব্যথা

জোছনা যেভাবে ছড়িয়ে দেয় মন ভোলানো আলো। যে কারও মা-ও তার হৃদয়ে তেমনি আলো ছড়িয়ে দেন। জোছনার আলো এবং মায়ের হাসি যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল। যতদিন পৃথিবী থাকবে, ততদিন জোছনা ছড়ানো মায়ের হাসি থাকবে। যে জোছনা ভালোবাসে, সে তার মাকেও ভালোবাসে। মায়ের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠে পৃথিবী। জীবজগৎ সবখানেই মায়ের ভালোবাসা অনন্য। দয়াময় আল্লাহ দয়ার নমুনা স্বরূপ মাকে সৃষ্টি করেছেন। রসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা ‘দয়া’ সৃষ্টি করে নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রাখলেন আর একভাগ সৃষ্টিকুলে ছড়িয়ে দিলেন। ওই একভাগের অর্ধেক মায়ের মধ্যে রেখে দিলেন। আর এ কারণেই সন্তানের প্রতি মায়ের এত ভালোবাসা। বাবা-মার প্রতি রহমতের ডানা বিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আপনার প্রতিপালক ফায়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে।’ (সুরা বনী ইসরাঈল : ২৩)।

মায়ের সেবার সর্বোচ্চ পুরস্কার আল্লাহ বান্দাকে প্রশান্তিময় জান্নাত দান করবেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মেরাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, অতঃপর সেখানে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এই ব্যক্তি কে? ফেরেশতারা বললেন, হারিসা ইবনে নুমান (রা.)। রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে ছিল তার মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহারকারী। (আল মুস্তাদরাক)।

বিশ্বজুড়ে আজ মায়েরা অবহেলিত। সারাটি জীবন শত কষ্ট সহ্য করে, বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে শুধু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকেন মা। আর সেই সন্তানরা মা-বাবার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে। একটু বয়স হলেই মা-বাবাকে ‘ওল্ড ম্যান হাউজ’ তথা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রম তেমন জনপ্রিয় না হলেও ইউরোপ আমেরিকায় এটা খুবই জনপ্রিয়। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মায়েদের খোঁজখবর নেয় না সন্তানরা। তাই বিশেষজ্ঞরা চিন্তা করে বছরের একটি দিন বিশ্ব মা দিবস পালন করার উদ্যোগ নেন। যেন সন্তান মায়ের জন্য একটি দিন উৎসর্গ করে। ওই দিন তারা মার জন্য ভালো খাবার নিয়ে যায় এবং নানাভাবে মাতৃসেবা করে থাকে। আমাদের দেশেও আজ অভিশপ্ত বৃদ্ধাশ্রম বেড়ে চলছে। এটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। ধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয়, মায়ের জন্য কোনো দিবস নয় বরং জীবন উৎসর্গ কর। আসুন আমরা শপথ করি জীবনে যত কষ্টই আসুক আমরা বাবা-মাকে আদর-যতেœ আমাদের ঘরেই রাখব। কেননা মা যে আমাদের জান্নাত। জান্নাতকে কেউ কি বৃদ্ধাশ্রমে ঢেলে দেয়।
হজরত আবদুর রহমান (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদের জঘন্যতম গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? এ কথা তিনি তিনবার বললেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই করবেন। তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলতে লাগলেন, (খুব ভালো করে শোন!) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি বারবার এ কথা বলতে থাকেন। অবশেষে আমরা ভাবলাম, তিনি যদি চুপ করতেন। (সহিহ বুখারি)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জঘন্যতম কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি নিজের মা-বাবাকে লা’নত করা।

লেখক : চেয়ারম্যান;বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।