Tuesday, February 23, 2021

 

বিয়ে করুন আইন জেনে 

বিয়ে করুন আইন জেনে
রহমান শেলী

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ ধারা পর্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

৪৯৪ ধারা: স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পুনরায় বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উক্ত ধারা মোতাবেক, স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকাবস্থায় পুনরায় বিয়ে করলে, তা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং এই অপরাধ প্রমাণিত হলে, প্রতারণাকারী স্বামী বা স্ত্রী ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। 

ব্যতিক্রম: যদি স্বামী বা স্ত্রী ৭ বছর পর্যন্ত নিরুদ্দেশ থাকেন এবং জীবিত আছে মর্মে কোন তথ্য না পাওয়া যায়, এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এছাড়া কোন স্বামী বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের অনুমতি নিয়ে বিশেষ কোন কারণ দেখিয়ে বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে সালিসি পরিষদের কাছে আবেদন করলে সালিসি পরিষদ তা যাচাই সাপেক্ষে, পরবর্তী বিয়ের অনুমতি দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পুনরায় বিয়ে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

(সালিসি পরিষদ বিষয়ে নিম্নে বলা হলো।)

৪৯৫ ধারা: তবে, আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে, প্রতারণার মাধ্যমে যদি পুনরায় বিয়ে করে তবে যাকে প্রতারণা করে বিয়ে করা হল-তিনি অভিযোগ করলে তা ৪৯৫ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৪৯৪ ও ৪৯৭ ধারা: আবার কেউ জেনে শুনে, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করলে উক্ত বিয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা মোতাবেক সম্পূর্ণ বাতিল বিয়ে। এক্ষেত্রে, তা দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা মোতাবেক ব্যভিচার হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণ হলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

ডিভোর্স কার্যকর সময়: উল্লেখ্য যে, সাধারণত ডিভোর্স কার্যকর হতে ৩ মাস সময় লাগে। তাই শুধু ডিভোর্স দিলেই হবে না। ডিভোর্স কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় বিয়ে করার সুযোগ নেই।

সালিসি পরিষদ: সালিসি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিয়েই কেবল দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। সালিসি পরিষদে যদি বর্তমান স্ত্রী অনুমতি প্রদান না করেন, তাহলে কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। 

তবে, সালিসি পরিষদকেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনা করে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি প্রদান করতে হবে। যেমন: ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্যজীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি। 

কোনো কারণে যদি স্ত্রী পৃথক থাকতে চান বা আলাদা বসবাস করেন সে ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। তবে কোনো কারণে যদি স্ত্রী ঘরে আর না ফেরেন এবং দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অনুমতিও প্রদান না করেন, তাহলে আইনসম্মতভাবে তালাক কার্যকর করার পরই পুনরায় বিয়ে করতে হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন: যে ব্যক্তি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করেন, তিনি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ (৫) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত বিনা শ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এ জন্য প্রথম স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে ফৌজদারি আদালতে মামলা করতে হবে। আবার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে যদি আগের বিয়ের কথা গোপন করেন তাহলেও দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

বউ ২ খান হলে

স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রী সম্পূর্ণ মোহরানার টাকা দাবি করতে পারেন। স্বামী সম্পূর্ণ মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য। বর্তমান স্ত্রীকে কাবিননামায় তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হলে সরাসরি নতুবা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাবেন। কোনোভাবেই স্বামীর ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না। আবার দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেললে দ্বিতীয় স্ত্রীকেও তার মোহরানাসহ যাবতীয় আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। উভয় পক্ষের সন্তানসন্ততিকেও প্রাপ্য ভরণপোষণ দিতে হবে। সব সন্তানই ভবিষ্যতে সমানভাবে উত্তরাধিকারীর সব অধিকার লাভ করবে। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে দ্বিতীয় বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাবে না। কিন্তু স্বামীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

লেখক: কথা সাহিত্যিক ও পুলিশ সুপার।

 

মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার শর্তে নিজ বাড়িতে সাজা ভোগের আদেশ

মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার শর্তে নিজ বাড়িতে সাজা ভোগের আদেশ

পারভিন নামের এক আসামির সাতটি শর্ত মেনে বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। শর্তের মধ্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা ১০টি বই পড়া অন্তর্ভুক্ত। পারভীন দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি।  

২২ ফেব্রুয়ারি সাতটি শর্তে বাড়িতে সাজা ভোগের আদেশ দিয়েছেন যশোরের যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। সাজাপ্রাপ্ত পারভিন যশোর শহরের আশ্রম রোডের গাড়োয়ানপট্টির মৃত ওহাব মুন্সির মেয়ে।

আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের কৌঁসুলি (এপিপি) আইয়ুব খান বাবুল। আদালতের দেওয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরঙ্গনা বলছি, মালেকা বেগমের মুক্তিযদ্ধে নারী, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আনিসুল হকের মা, জহির রায়হানের আরেক ফাগুন ও একুশের গল্প, সেলিনা হোসেনের নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ও যাপিত জীবন, শওকত ওসমানের আর্তনাদ ও সৈয়দ শামসুল হকের আরও একজন বইটি পড়তে হবে।

একইসঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে থেকে কোন প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়ানো যাবে না। সর্বত্র শান্তি বজায় রাখবেন এবং সবার সঙ্গে সদাচারণ করবেন। আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে কখনো তলব করলে শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যথাস্থানে হাজির হবেন। কোন প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সাথে মেলামেশা বা চলাফেরা করতে পারবেন না।

আদালত কর্তৃক প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজের বাসস্থান ও জীবনধারণের উপায় সম্পর্কে জানাবেন। এই সময়ে প্রবেশন অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। আদেশের কোন শর্ত ভঙ্গ করলে, যে কোনো সময় আদালত কৃর্তক প্রবেশন বাতিল হবে এবং কারাগারে অন্তরীণ থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১৫ জুন আসামি পারভিনকে আটক ও তার কাছ থেকে ২০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে হাজিরা বন্ধ করেননি পারভিন। এই মামলা ছাড়া তার নামে আর কোনো মামলা নেই। আসামির সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশন অফিসারের নিয়ন্ত্রণে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিচারক।

 

‘ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম’

‘ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম’

নামাজ ফরজ ইবাদাত। আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন সব মুসলমানের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরজ করেছেন। এ নামাজ পরকালের মুক্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম।

কারণ পরকালে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যে ব্যক্তি নামাজের হিসাব সুন্দরভাবে দিতে পারবে, তার পরবর্তী হিসাব সহজ হয়ে যাবে। আবার নামাজ দুনিয়ায় সব ধরনের অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।

শুধু তাই নয়, নামাজের মাধ্যমে নামাজি ব্যক্তি অনেক শারীরিক উপকার লাভ করে।

যার কিছু তুলে ধরা হল-
দাঁড়ানো: মানুষ যখন নামাজে দাঁড়ায়; তখন সব চোখ সিজদার স্থানে স্থির থাকে। ফলে মানুষের একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

রুকু: নামাজি ব্যক্তি যখন রুকু করে এবং রুকু থেকে ওঠে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন মানুষের কোমর ও হাঁটুর ভারসাম্য রক্ষা হয়। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে কোমর ও হাটু ব্যাথা উপশম হয়।

সিজদা: নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন নামাজি ব্যক্তির মস্তিস্কে দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়। ফলে তার স্মৃতি শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আবার সিজদা থেকে ওঠে যখন দুই সিজদার মাঝখানে বসে এতে তার পায়ের উরু ও হাঁ টু সংকোচন এবং প্রসরণ ঘটে। এতে করে মানুষের হাঁটু ও কোমরের ব্যথা উপশম হয়।

ওঠা-বসা: নামাজের সময় নামাজি ব্যক্তিকে দাঁড়ানো, রুকুতে যাওয়া, রুকু থেকে ওঠে সোজা হয়ে স্থির দাঁড়ানো, আবার সিজদায় যাওয়া, সিজদা থেকে ওঠে স্থিরভাবে বসা, আবার সিজদা দিয়ে দাঁড়ানো বা বসা। এসবই মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়াম। এতে মানুষের শারীরিক বহুবিদ উপকার সাধিত হয়।

মানসিকতার পরিবর্তন: নামাজের মাধ্যমে মানুষের মন ও মানসিকতায় অসাধারণ পরিবর্তন আসে। গোনাহ, ভয়, নীচুতা, হতাশা, অস্থিরতা, পেরেশানি ইত্যাদি দূরভীত হয়। ফলে বিশুদ্ধ মন নিয়ে সব কাজে সম্পৃক্ত হওয়া যায়।

দেহের কাঠামোগত উন্নতি: নামাজ মানুষের দেহের কাঠামোগত ভারসাম্যতা বজায় রাখে। ফলে স্থুলতা ও বিকলঙ্গতা হার কমে যায়। মানুষ যখন নামাজে নড়াচড়া করে তখন অঙ্গগুলো স্থানভেদে সংবর্ধিত, সংকুচিত হয়ে বিশেষ কাজ করে থাকে। অঙ্গ ও জোড়াগুলোর বর্ধন ও উন্নতি এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়।

পরিচ্ছন্ন রাখে: নামাজের জন্য মানুষকে প্রতিদিন পাঁচবার অজু করতে হয়। আর এতে মানুষের ত্বক পরিষ্কার থাকে। ওজুর সময় মানুষের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার হয় যা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে মানুষ সুরক্ষিত থাকে।

চেহারার লাবণ্যতা বৃদ্ধি: নামাজের জন্য মানুষ যতবার অজু করে, ততবারই মানুষের মুখমণ্ডল ম্যাসেস হয়ে থাকে। যাতে মুখমণ্ডলে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষের চেহারার লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায়, মুখের বলিরেখা ও মুখের দাগ কমে যায়। 

বিশেষ করে…নামাজ মানুষের মানসিক, স্নায়ুবিক, মনস্তাত্ত্বিক, অস্থিরতা, হতাশা-দুশ্চিন্তা, হার্ট অ্যাটাক, হাড়ের জোড়ার ব্যাথা, ইউরিক এসিড থেকে সৃষ্ট রোগ, পাকস্থলীর আলসার, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিস মেলিটাস,  চোখ এবং গলা ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। 

হার্টের রোগীদের প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা উচিত,নামাজ মানুষকে সব সময় সতেজ রাখে, অলসতা এবং অবসাদগ্রস্ততাকে শরীরে বাড়তে দেয় না।পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের মধ্যে নামাজের মতো এমন সামগ্রিক ইবাদত আর নেই। নামাজির জন্য এটা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে, এটি একান্তই সামগ্রিক ব্যায়াম। যার প্রভাব মানুষের সব অঙ্গগুলোতে পড়ে এবং মানুষের প্রতিটি অঙ্গ নড়াচড়ার ফলে শক্তি সৃষ্টি হয় এবং সুস্বাস্থ্য অটুট থাকে।
পরিশেষে...নামাজের উপকারিতায় আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।’
শুধু তাই নয়, নামাজ মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক পবিত্রতা সাধনের অনন্য হাতিয়ার।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সময়মতো নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক উপকারিতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিনl

Saturday, February 20, 2021

 

হারকোলুবাস বা লাল গ্রহ 
মানবতার জন্য বিনামূল্যে একটি বই

আমি এই বইয়ে যা নিশ্চিত করছি তা হ'ল একটি ভবিষ্যদ্বাণী যা খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে, কারণ আমি গ্রহের সমাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত; আমি এটা জানি. আমি ভীত নই, কিন্তু সাবধান করছি, কারণ আমি এই অসহায় মানব সভ্যতা নিয়ে চিন্তিত। এই ঘটনা গুলো ঘটতে বেশি দিন সময় লাগবে না এবং অলীক বিষয়ে অপচয় করার কোনও সময় নেইএখানে ক্লিক করুন

বিশ্বের প্রতিটি কোণে আমরা শেষ সময়গুলি সম্পর্কিত ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিবরণগুলি পেতে পারি, এগুলি সমস্তই একে অপরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এই পূর্বাভাসগুলির বেশিরভাগই আমাদের পৃথিবীতে বিরাট বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করে যেমন একটি আসন্ন মেরু স্থানান্তর, ফলস্বরূপ বরফের আবরণ গলে যাওয়া এবং শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামির কারণে বিশাল ভূমি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া।

এখানে অগণিত ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে যার মধ্যে কিছু মিল রয়েছে: তারা বিশেষভাবে একটি বিশাল গ্রহের বিষয়ে কথা বলে যা পর্যায়ক্রমে আমাদের কাছে আসে। পূর্বে সেই গ্রহটি আমাদের সৌরজগতে পৌঁছে এমন মহাবিপর্যয় ছড়িয়ে দিয়ে ছিল যা লেমুরিয়া এবং আটলান্টিসের সভ্যতাগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। এখন, এটি আমাদের বর্তমান সভ্যতার অবসান ঘটাতে আসতে পারে এবং এভাবেই একটি নতুন যুগের জন্ম দেবে।

এটি বিভিন্ন প্রথা, ভবিষ্যদ্বাণী ও পবিত্র বইগুলিতে যেমন বিভিন্ন নামে স্বীকৃত যেমন: বাল, কোল্ড প্ল্যানেট, রেড প্ল্যানেট, ওয়ার্মউড, আজেঞ্জো, হারকোলুবাস, বার্নার্ড প্রথম এবং আরও অনেক কিছু। এই জাতীয় গ্রহ ইতিমধ্যে টেলিস্কোপগুলিতে দৃশ্যমান হবে এবং এর আকার বৃহস্পতির চেয়ে ছয়গুণ বেশি হবে।

জীবনের আগমন এবং চলার পথে, সমস্ত কিছুই তার শুরু বা শেষের দিকে ফিরে আসে। সুতরাং, আমাদের পূর্বের সময়ে হারকোলুবাস এর সাথে সংঘর্ষে আটলান্টিয়ান সভ্যতার অবসান ঘটিয়েছিল। এই ঘটনাগুলি বিভিন্ন ধর্ম এবং সংস্কৃতিতে ‘সর্বজনীন বন্যার মাধ্যমে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অনেকে এ জাতীয় মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে একজন ভি.এম. রাবোলু, যিনি জাগ্রত চেতনার শক্তি ব্যবহার করে সেই গ্রহের পদ্ধতির অনুসন্ধান করেছিলেন, যা তাকে সেই মহাজাগতিক গ্রহ নিয়ে গবেষণা করতে সক্ষম করেছিল। অ্যালসিওন অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে পাঠানো ‘হারকোলুবাস বা লাল গ্রহ’ শিরোনামে তাঁর রচনায় তিনি লিখেছেন:

‘যখন হারকোলুবাস পৃথিবীর নিকটে এসে সূর্যের সাথে একই রেখায় আসবে, তখন মারাত্মক মহামারীটি পুরো গ্রহে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করবে। এটি কোন ধরণের অসুস্থতা বা কীভাবে এর নিরাময় করবেন তা ডাক্তার বা অফিসিয়াল বিজ্ঞান উভয়ই জানতে পারবেন না। তারা মহামারীর মুখে শক্তিহীন হয়ে পড়বে।’

‘ট্র্যাজেডি এবং অন্ধকারের মুহূর্তটি আসবে: কাঁপুনি, ভূমিকম্প এবং জলোচ্ছ্বাস এর ঢেউ। মানুষ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে উঠবে, কারণ তারা খেতে বা ঘুমাতে পারবে না। বিপদের মুখোমুখি উন্মাদ হয়ে তারা খাড়া পাথরের চূড়া থেকে নিজেদের ফেলে দেবে ।’

ভি.এম. রাবোলু

রহস্যবাদে কলম্বিয়ার মহান গবেষক ভি. এম. রাবোলু সেই হুমকি সম্পর্কে মানবতাকে সতর্ক করার জন্য তার আওয়াজ তোলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তবে, এটি আমাদের সভ্যতা এবং আমাদের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে পারে। তাঁর বইয়ে, তিনি আমাদের মানসিক অপূর্ণতাকে পরিহার করার পদ্ধতি এবং আসন্ন বিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র বিদ্যমান সূত্র হিসাবে সচেতন এস্ট্রাল প্রোজেকশন এর কৌশল শিখিয়েছেন।

ভি.এম.রাবোলু এই বলে তাঁর কাজ শেষ করেছেন:

‘প্রিয় পাঠক: আমি খুব স্পষ্টভাবে কথা বলছি যাতে আপনি গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। যে কাজ করছে সে বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে। এটি আপনার তত্ত্ব তৈরি বা আলোচনা করার জন্য নয়, তবে এই বইটিতে আমি যে সত্য শিক্ষা দিচ্ছি তা অনুভব করার জন্য। আমরা এর বেশি আর কিছুই করতে পারি না। ’

অ্যালসিওন অ্যাসোসিয়েশন

‘হারকোলুবাস বা লাল গ্রহ’ বইটির প্রচার ও বিতরণে অলাভজনক সংস্থা এজেন্ট-সহযোগী হিসাবে নিযুক্ত হয়।

প্রকাশক: অ্যাঞ্জেল প্রটস (Ángel Prats)
লেখক: জোয়াকান আমের্তেগুই ভালবুয়েন (ভি.এম. রাবোলু) Joaquín Amórtegui Valbuena (V.M. Rabolú)

অ্যালসিওন অ্যাসোসিয়েশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মধ্যে জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্ট্রিকৃত, গ্রূপ ১, বিভাগ ১ এর সাথে, জাতীয় নম্বর ৫৮৮৬৯৮ এর সাথে নিবন্ধিত এবং এর সদর দফতর বার্গোস শহরের (স্পেন) এর প্যাসিও দে লস পিসোনসে nº ৬– esc. ২ – ৬º C এ অবস্থিত।

লেখক সম্পর্কে

V.M. Rabolu (1926 – 2000)
ভি.এম. রাবোলু (১৯২৬- ২০০০)

ভি.এম. রাবোলু (১৯২৬- ২০০০) টোলিমা (কলম্বিয়া) শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি সত্যিকারের জ্ঞান পেলেন এবং অনেক বছর ধরে গুপ্ত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তিনি অসাধারণ জাগ্রত চেতনার শক্তি গড়ে তোলেন যা শেষ পর্যন্ত তাকে আধ্যাত্মিক গাইডে রূপান্তরিত করে যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন।

অদূর ভবিষ্যত যা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এই বিষয়ে সচেতন হয়ে, তিনি মানবতাকে আধ্যাত্মিক পুনঃ জাগরণ অর্জনের সূত্র শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। সুতরাং, ৭০ এর দশক থেকে এবং সর্বদা নিরপেক্ষ ও উদারভাবে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে বক্তব্য, কোর্স এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রকাশ্যে সত্য জ্ঞান শেখানোর এক অক্লান্ত কাজ শুরু করেছিলেন।

১৯৯৮ সালে তিনি লিখেছিলেন “হারকোলুবাস বা লাল গ্রহ”। তাঁর প্রত্যক্ষ ও সচেতন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভি.এম. রাবোলু অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের গ্রহে সংঘটিত হবে এমন ভয়াবহ ঘটনা বর্ণনা করেন এবং একটি গভীর রূপান্তর অর্জনের জন্য মানুষ যে পথটি অনুসরণ করতে পারে তা ব্যাখ্যা করেন। আজকাল, তাঁর রচনায় থাকা বিবৃতিগুলি এমন এক বিশাল সংখ্যক পাঠক দ্বারা স্বীকৃত যারা ৮০ টিরও বেশি দেশ তাঁর শিক্ষা থেকে উপকৃত হয়েছে।

‘আমি মানুষকে ভয় দেখাতে চাই না; আমি একজন মানুষ এবং কী আসবে এবং কী ঘটবে সেই সম্পর্কে আমি সতর্ক করছি’।’

ভি.এম. রাবোলু

ভি.এম. রাবোলু জাগ্রত সচেতনতার দুর্লভ লোকদের মধ্যে রাবোলু অন্যতম ছিলেন। তাঁর শিক্ষাগুলি এই সময়ে অপরিহার্য, যখন বস্তুবাদ এবং মূল্যবোধের অভাব এমন একটি সমাজের স্বতন্ত্র লক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা আরও বেশি হারিয়ে যাচ্ছে।

Friday, February 19, 2021

 আগেই বাড়ছে দাম

রমজান সামনে রেখে অভিনব কারসাজি 

দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫০ টাকা, বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, মিডিয়ার প্রচার এড়াতে ভিন্ন পন্থায় অসাধু ব্যবসায়ীরা


রমজান সামনে রেখে অভিনব কারসাজি

পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই অভিনব কারসাজিতে নেমেছে কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে রমজান শুরু হওয়ার প্রায় মাস দু-এক আগেই অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার কারসাজি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কারসাজি রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাজার কারসাজি রোধে চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।’ চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেম্বারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কারসাজি যাতে না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে শীর্র্ষ ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এতদিন কোনো উৎসবকে টার্গেট করেই কারসাজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াত চিহ্নিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এবার তারা একটু ভিন্ন কৌশলে পণ্যের দামের কারসাজি করছে। ওই কৌশলের অংশ হিসেবে রমজান শুরু দুই মাস আগে থেকেই বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫০ টাকা।’ আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রমজান কিংবা কোনো উৎসবের আগে আগে প্রশাসনের তৎপরতা থাকে বেশি। দাম বাড়লেও গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়। তাই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে রমজান শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, এবারও রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের কারসাজিতে অভিনব কৌশলে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রামের কমপক্ষে ১০ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এরই মধ্যে কারসাজি করে ভোজ্য তেল, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, রসুন, চিনি এবং খেজুরসহ রমজানের অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। গত এক মাসের ব্যবধানে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের মণপ্রতি দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। পাম তেলের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ছোলার দাম বেড়েছে ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে মণপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। রপ্তানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। তাই গত কয়েক মাস ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওঠা-নামা করছে।

 ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করবে হলুদ 

ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করবে হলুদ

হলুদ শরীরের জন্য কতটা উপকারি তা আলাদা করে বলার অবকাশ রাখে না। কিন্তু জানেন কি, ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে হলুদ। সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষক কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য হলুদের মধ্যে কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন। গবেষকরা জানাচ্ছেন, হলুদের  কারকিউমিন কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। এছাড়া কাঁটা গাছ থেকে পাওয়ার সিলিমেরিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে মনে করছেন  গবেষকরা।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক হলুদের এই দুই উপাদানের কার্যকারিতা আবিষ্কার করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে এই দুই উপাদান একসঙ্গে  কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর। কাঁটাগাছের এই নির্যাস সাধারণত পেটের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই দুই উপাদানের মিশ্রণ  কোলন ক্যান্সারের কোষের মৃত্যু ঘটায়। 

যদি উদ্ভিজ্জ উপাদানের সহায়তায়  কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে ক্যান্সারের ফলে শরীরে আনুষাঙ্গিক যা ক্ষতি হয়, তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।   
 

 সমালোচনা করা সহজ, সমালোচিত হওয়া কঠিন  

সমালোচনা করা সহজ, সমালোচিত হওয়া কঠিন

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

কোনটা বেশি শক্তিশালী? সমালোচনা করা নাকি সমালোচিত হওয়া। এটা নিয়ে অনেক যুক্তি তর্ক, মত-মতবিরোধ, ঠান্ডা লড়াই থাকতে পারে। তবে সমালোচনা করা সহজ, সমালোচিত হওয়া কঠিন। এই গভীর তত্ত্বের মর্মটা  উপলব্ধি করতে গিয়ে কোনো একটা জায়গায় থামতে হয়। কারণ জীবন জমাট বাধা বরফের মতো কঠিন এক অদেখা দহনের প্রতীক, যা মানুষের বুকে তিলে তিলে ক্ষত তৈরি করে মানুষকে বুঝিয়ে দেয় সে মানুষের দ্বারা কতটা সমালোচিত।

সমালোচনার দুষ্ট চক্রে নিগৃহীত, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত হয়তো এভাবেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষটা   সমালোচিত হতে হতে একদিন বিশ্বময় আলোচিত হয়ে উঠে। আলোচিত হতে হতে একদিন আলোকিত হয়ে উঠে। কেননা যে মানুষ যত কোনঠাসা সে মানুষের ভিতরের পুঞ্জীভূত ঘুমন্তশক্তি তত আপন শক্তিতে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা বেশি। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। প্রকৃতি চিনে, জানে ও বুঝে সেই নেতিবাচক শক্তিতে ভর করা বিবেকহীন সমালোচকদের। তাদেরও প্রকৃতি সীমা লঙ্ঘনের সময় দেয়  টুকরো টুকরো অস্থিরতার ট্রাজেডির উপাখ্যান লিখে।
   
এমন করেই প্রকৃতি অস্থিরতায় জ্বলতে জ্বলতে কোনো একটা সময়ে সহনশীলতার আবরণ থেকে বের হয়ে এসে চিৎকার করে বলে উঠে তোমাদের ঘৃণা করতেও ঘৃণা হয় আমার। কারণ সব সমালোচনা, সমালোচনা হয়ে উঠেনা | যে সমালোচনায় স্বার্থ থাকে, ঈর্ষা থাকে, ঘৃণা থাকে, যুক্তিহীন ক্ষোভ থাকে, তা কখনো সমালোচনা হয়ে উঠেনা | বরং তা হয়ে উঠে দীপ্যমান সূর্যের আলোক রশ্মিকে টেনে ধরার মতো অসহিষ্ণুতা। নিজে না পারার অক্ষমতা থেকে হতাশা আর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়া মানুষের তৈলচিত্র যেন তা। 

তবে সূর্যের আলোকে থামিয়ে দিয়ে তার গতি রোধ করবে এমন সাহস কি সমালোচকদের আছে। সূর্যের আলো মানে সমালোচিত মানুষ। যে পুড়ছে প্রতিদিন সমালোচকদের অর্থহীন কথায়, যুক্তিহীন মনস্তত্বে। এপিজে আব্দুল কালাম আজাদ পুড়ে পুড়ে জীবন গড়া একটা মানুষ। মায়ের হাতের পোড়া রুটি খেয়ে বাবার কাছে যিনি শিখেছেন সমালোচনা নয়, উদারতা আর মহত্ব দিয়ে  জীবনবোধ তৈরী করতে হয়। তিনি ভেবেছেন তাই একটু অন্যভাবে।  বলতেও পেরেছেন মন খুলে এভাবে  "তুমি যদি সূর্যের মতো আলো ছড়াতে চাও, তাহলে আগে সূর্যের মতো পুড়তে শেখো"।  

সমালোচনা করতে যোগ্যতা লাগেনা, সমালোচিত হতে যোগ্যতা লাগে। সেটি ভালো হোক কিংবা খারাপ। নিন্দুক কি তবে সমালোচক? যদি তাই হয়, তবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বদান্যতা ও শুভশক্তির উৎস এখানেই যে,  তিনি এদের পরম বন্ধু বলেছেন | যেমনটি তার কবিতার ছত্রে ছত্রে একটা বাষ্পরুদ্ধ বিস্ময় চমকিত হয়ে বলেছে,  "নিন্দকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল, যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আঁলো। সবাই মোরে ছাড়তে পারে, বন্ধু যারা আছে, নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাছে পাছে। বিশ্বজনে নিঃস্ব করে পবিত্রতা আনে, সাধক জনে নিস্তারিতে তার মত কে জানে? বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার, বিশ্বমাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর? নিন্দুকে সে বেঁচে থাকুক বিশ্ব হিতের তরে; আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।" 

কবিকেও এমনটা ভাবতে হয়েছে। কারণ নেতিবাচক চিন্তা দ্বারা পুষ্ট মানুষ অগঠনমূলক সমালোচনাকে তাদের অস্ত্র বলে মনে করে। তখন ঠিক এটা সমালোচনা না হয়ে নিন্দুক চরিত্র ধারণ করে। যুক্তি, বিজ্ঞান, দর্শন, অকাট্য সত্য কোনকিছুতে তারা তোয়াক্কা করেনা। বিশ্বাসঘাতকতার মুখ আর মুখোশ তাদের অমানুষ বানায়। ভাবনাটা এমন তারাই ঠিক আর সব বেঠিক। তারপরও কবি অন্ধকারের ভিতর থেকে আলো খুঁজেছেন। কারণ তিনি যে উদার, তিনি যে মহান। তিনি বিশ্বাস করেন, অন্ধকার আছে বলেই পৃথিবীতে আলোর অস্তিত্ব আছে।

একটা লেখায় পেলাম- "সমালোচনা করতে যোগ্যতার প্রয়োজন হয়না, যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। সমাজের সবচেয়ে অযোগ্য মানুষ গুলোরই প্রধান হাতিয়ার হলো অপরের ভালো-মন্দ সবকিছুতে নির্বিচারে সমালোচনা করা। অপরদিকে সমালোচিত হতে হলেও যোগ্যতার প্রয়োজন আছে।কেউ যখন তার যোগ্যতা দিয়ে নতুন বা উদ্ভাবনী কিছু করবে তখন ই একদল অযোগ্য লোকের আতে ঘা হয়ে লাগে এবং সমালোচনা শুরু করে।" 

কথাটা মিথ্যে নয়, অমোঘ সত্য। যারা  সমালোচনা করার মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন, তারা পরোক্ষভাবে সমালোচিতদের পরম উপকার সাধন হয়তো করে ফেলছে। কিন্তু সেটা বোঝার মতো মাথাটা তাদের যে জায়গাটাতে থাকা দরকার ছিল সেখানে হয়তো নেই। আজকের সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার দৈন্যদশা চলছে। 

গঠনমূলক সমালোচনার জায়গায় অগঠনমূলক সমালোচনার ধজ্জাধারীদের বাড়টাও বেড়েছে অনেক। তবে সেটা যত বেড়েছে সমালোচিত মানুষদের ইতিবাচক জেদটাও তত বেড়েছে। ফলে দিন দিন ইলোজিক্যাল সমালোচনাকারীরা পিছিয়ে পড়ছে আর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সমালোচিতদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে। সমালোচনা মানুষকে সাময়িক সুবিধা দেয় হয়তো তবে তা মানুষের ব্যাক্তিত্বও ধ্বংস করে দেয়। শক্ত মেরুদণ্ডে পচন ধরায়। ইতিহাস তাই বলছে। 

সমালোচিতরা থেমে থাকেনা। এক একটা অবরুদ্ধ নগরের কংক্রিটের দরজা ভেঙে এগিয়ে যায় তাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে। আর সমালোচনাকারীরা আটকে যায় নিজেদের বানানো অবরুদ্ধ নগরে। পৃথিবী সমালোচনাকারীদের কখনো মনে রাখেনা। তবে সমালোচিতরা সময়ের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে ইতিহাস হয়ে যায়।