Thursday, February 18, 2021

 অদ্ভুত মাছ বৃষ্টি

মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। তবে সব বৃষ্টিতেই যে শীতল জল আর বরফের দানা পড়ে এমন কিন্তু নয়। অদ্ভুত বৃষ্টিপাতের উদাহরণও রয়েছে। বৃষ্টিতে আকাশ থেকে মাছ, মাংস, স্কুইড, ব্যাঙ, মাকড়সা পতিত হয়েছে। অবাক বিস্ময়ের অদ্ভুত বৃষ্টি প্রকৃতির এক মজার খেলা। হন্ডুরাস এমন একটি স্পেনিস শব্দ যার অর্থ হল ‘গহীন’। ‘ওন্দোরাজ’ হল এর স্পেনিশ উচ্চারণ। এ দেশটিকে এক সময় বলা হত স্পেনিশ হুন্ডুরাস। কারণ ওই সময়ে ব্রিটিশ সম্রাজ্যে আর একটি দেশ ছিল হন্ডুরাস নামে। সে দেশটি এখন বেলিজ দেশের একটি অংশে পরিণত হয়েছে।
মাছ বৃষ্টি হন্ডুরাসের লোকlচার ঘটনায় একটি রহস্যময় ঘটনা। মে থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটে থাকে। প্রথমে আকাশে প্রচুর মেঘ জমে, এর পর শুরু হয় বৃষ্টিপাত। সেই সঙ্গে থাকে প্রবল বাতাস, থাকে বিদ্যুৎ চমক আর বজ্রপাত। এই বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে অসংখ্য জিবন্ত মাছ পড়ে এবং বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর অসংখ্য মাছ মাটির উপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ দেশের লোকজন এ মাছ নিয়ে রান্না করে। ১৯৯৮ সাল থেকে এ ঘটনার জন্য প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করা হয় এ দেশেটিতে। আটলান্টিক মহাসাগরের টর্নেডো এ মাছ উড়িয়ে নিয়ে এসে এ শহরে ফেলে। তাই প্রতি বছর একেই সময়ে এ মাছ বৃষ্টি হতে দেখা যায়। এ মাছ গুলো হল স্বাদু পানির মাছ। এ মাছ বৃষ্টি নিয়ে অনেক লোক কথাও প্রচলিত আছে।অনেকের মতে,এ স্বাদু পানির মাছগুলো ভূগর্ভস্থ জলধারে আশ্রয় নেয়। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে মাছ গুলো দেখা যায়। অনেকে বলে, ১৮৫৬–১৮৬৪ সালে এ দেশে এক সাধু আসার কারণে এ মাছ বৃষ্টি হয়। প্রচলিত রয়েছে, এ দেশের অভাবী লোকদের জন্য সাধু সৃষ্টি কর্তার কাছে তাদের খাবারের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। তারপর থেকেই এই মাছ বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ শ্রীলঙ্কার এক গ্রামে মাছ-বৃষ্টি। গ্রামবাসী পথের ধারে, মাঠে মাছ কুড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টিজলের সঙ্গে অবাধে ঝরেছে এই মাছগুলো। আকারে বেশ ছোট ছোট এই মাছগুলো ছিল একদম তাজা। কোনোকোনোটা দিব্যি লাফাচ্ছিল। আগ্রহী মানুষ বাটিতে করে সংগ্রহ করেছেন মাছগুলো। কুড়ানো মাছভর্তি পাত্রে পানি ঢেলে দিতেই লাফিয়ে উঠল মাছ। পুরো ঘটনাটি গ্রামবাসীকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যেমনটি হয় রূপকথার গল্প শুনে। এই অবাক করা ঘটনার সাক্ষী হয়েছে শ্রীলঙ্কার চিলাও জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা। অস্বাভাবিক এই মাছ-বৃষ্টিতে দারুণ আনন্দিত তারা। মাছ-বৃষ্টির এই খবর ফলাও করে জানিয়েছে বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো।
গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ঘরের চালে আকাশ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দে তারা বাইরে ছুটে আসেন। খোলা মাঠে, বাড়ির আশপাশে, রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মাছ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ওই গ্রামের বাসিন্দারা সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কিলোগ্রামের মতো মাছ কুড়িয়েছেন বলে জানায় বিবিসি। খাওয়ার উপযোগী এই মাছ-বৃষ্টিতে আনন্দ-ভোজ শুরু হয়ে যায় গ্রামটিতে। তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা এই মাছগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত। তবে মাছ-বৃষ্টি হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, 'মাছ-বৃষ্টি' অস্বাভাবিক হলেও প্রকৃতিতে এটা ঘটে থাকে। মাছ সমৃদ্ধ কোনো কম গভীরতার জলাশয়ের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণিবায়ুর কেন্দ্র বয়ে গেলে এমন জলঘূর্ণি ঘটতে পারে। এ সময় পানিতে থাকা মাছ, ব্যাঙসহ সবকিছুই ঘূর্ণিবায়ুর সঙ্গে আকাশে উঠে যায়। আকাশে উঠে যাওয়ার পর ঝড়ের সঙ্গে অনেকদূরে চলে যেতে পারে এসব জলজ প্রাণীও। এমনকি এই জলঘূর্ণি থেমে যাওয়ার পরও মেঘের স্তরের কারণে এরা সাময়িকভাবে আটকে থাকতে পারে ওপরেই। আর ঝড়, জলঘূর্ণি থেমে গেলে মেঘের ভেতর থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে জলজ প্রাণীগুলো।
শ্রীলঙ্কায় এই মাছ-বৃষ্টি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১২ সালে দেশটির দক্ষিণা লে 'চিংড়ি-বৃষ্টি' হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। একই বছর লাল ও হলুদ রঙের শিলাখণ্ডের অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টি হয় শ্রীলঙ্কায়। ওই শিলাগুলো মহাকাশ থেকে পতিত বলে ধারণা করেন বিজ্ঞানীরা। জলবায়ুর এই বিশেষ পরিবর্তন এবং শ্রীলঙ্কায় এই মাছ-বৃষ্টি ও মহাকাশের শিলাবৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করছেন মার্কিন ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা।
ভিডিও দেখতে ছবিতে ক্লিক করুনঃ
Hunduras mach bristi | হুন্ডুরাসের মাছ বৃষ্টি | Bangla infotainer

Sunday, February 14, 2021

 

যেসব উপায়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে  

যেসব উপায়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে

সফল ব্যক্তিদের পরিচয়: প্রতিটি প্রাণীই মরণশীল। তাই অন্য প্রাণীর মতো প্রতিটি মানুষও প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র জীবনে কে সফল আর কে ব্যর্থ—তা চূড়ান্ত হবে কিয়ামতের দিন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।

শুধু কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফল।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাদেরই সফল বলে ঘোষণা করেছেন, যারা কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যেতে পারবে। তাই আমরা যদি প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে চাই, আমাদের জানতে হবে যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী? কোন কোন কাজ মানুষের জন্য জাহান্নামকে হারাম করে দেয়। নিম্নে পবিত্র হাদিসের আলোকে এমন কিছু কাজ তুলে ধরা হলো—

ঈমান আনা: জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো ঈমান। যারা মহান আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য ও রাসুল (সা.)-কে তাঁর রাসুল বলে মেনে নেবে না, তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে না। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার মুআজ (রা.) রাসুল (সা.)-এর পেছনে বাহনে ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মুআজ ইবনে জাবাল। 

মুআজ (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও খেদমতে উপস্থিত আছি। তিনি ডাকলেন, মুআজ। মুআজ (রা.) উত্তর দিলেন, আমি উপস্থিত হে আল্লাহর রাসুল ও প্রস্তুত। তিনি আবার ডাকলেন, মুআজ। তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি হাজির ও প্রস্তুত।’ এরূপ তিনবার করলেন। অতঃপর বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে এ সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, তার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। 

মুআজ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে?’ তিনি বলেন, ‘তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করবে।’ মুআজ (রা.) (জীবনভর এ হাদিসটি বর্ণনা করেননি) মৃত্যুর সময় এ হাদিসটি বর্ণনা করে গেছেন, যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়। (বুখারি, হাদিস : ১২৮)

নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া: যারা নামাজের প্রতি যত্নশীল হবে এবং একাগ্রচিত্তে খুশুখুজুর সহিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ও সুন্নত আদায় করবে, মহান আল্লাহ তাদের জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। হানজালা আল আসইয়াদি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সংরক্ষণ করবে তথা যথাযথভাবে অজু করে যথা সময়ে উত্তমরূপে রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪/২৬৭)

কোনো কোনো হাদিসে ফজর ও আসর নামাজকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উমারা ইবনে রুওয়াইবা সাকাফি (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সূর্য উদয় হওয়ার আগের (ফজরের) নামাজ এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার আগের (আসরের) নামাজ আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। (নাসায়ি, হাদিস : ৪৭১)

শুধু ফরজ নামাজই নয়, বিভিন্ন হাদিসে সুন্নত নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিলেও জাহান্নাম হারাম হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সব সময় ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন। এ সুন্নতগুলো হলো, জোহরের (ফরজের) আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের (ফরজের) পর দুই রাকাত, এশার (ফরজের) পর দুই রাকাত এবং ফজরের (ফরজের) আগে দুই রাকাত। (তিরমিজি, হাদিস : ৪১৪)

দাওয়াত ও সংগ্রামে অগ্রগামী হওয়া: আবায়া ইবনে রিফাআ (রহ.) বলেন, আমি জুমার নামাজে যাওয়ার সময় আবু আবস (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে যার দুই পা আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন। (বুখারি, হাদিস : ৯০৭)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা কোনো মুসলমানের উদরে আল্লাহর রাস্তার ধূলা ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্র করবেন না এবং আল্লাহ তাআলা কোনো মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও কৃপণতাকে একত্র করবেন না। (নাসায়ি, হাদিস : ৩১১৫)

আচরণে নম্র হওয়া: সাধারণত যারা নম্র ও সহজ-সরল হয়, মানুষ তাদের ভালোবাসে। মহান আল্লাহও তাদের ভালোবাসেন। তাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেব না, কোন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য কোন ব্যক্তি হারাম? যে ব্যক্তি মানুষের কাছাকাছি (জনপ্রিয়), সহজ-সরল, নম্রভাষী ও সদাচারী। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৮৮)

আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন: এক ফোঁটা চোখের পানিতে পিপাসা নিবারণ কিংবা কোনো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। কিন্তু আল্লাহর ভয়ে এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলে জীবনের সমস্ত গুনাহ ধুয়ে ফেলা সম্ভব। জাহান্নামের আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব। 

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে মুমিন বান্দার দুই চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে পানি বের হয়, যদিও তা মাছির মাথার পরিমাণ হয় এবং তা কপোল বেয়ে পড়ে, তাতে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৯৭)

আল্লাহর জন্য চোখ বিনিদ্র রাখা: আবু রায়হানা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে চোখ আল্লাহর পথে বিনিদ্র থাকে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করা হয়েছে। (নাসায়ি, হাদিস : ৩১১৭)

এই হাদিসে মূলত সেই সব বীর সৈনিককে বোঝানো হয়েছে, যারা রাত জেগে মুসলিম ভূখণ্ড পাহারা দেয়। যারা আল্লাহর রাস্তায় আত্মত্যাগ করে ইসলাম ও মুসলমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হয়।

 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে যে সব খাবার  

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে যে সব খাবার

হাইপারটেনশন (হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ নামে অধিক পরিচিত) হলো একটি জটিল দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) স্বাস্থ্যগত বিষয়, যার ফলে শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ এবং উপসর্গ নেই, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা, দ্বিধাগ্রস্থতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। আট থেকে ৮০, যেকোনো বয়সেই হাই ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

যাদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে নিয়ম করে ওষুধ খেলে ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে কমে যেতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই খাবার।

আঙুর

পটাশিয়াম প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক উপাদান, যা কিডনি থেকে সোডিয়াম নিঃসরণ করে ও রক্তনালী শিথিল করে দেয়। পটাশিয়াম ও ফসফরাসে পরিপূর্ণ আঙুর হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে।
 
কলা

আগেই বলা হয়েছে, হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে। একটি কলায় ৪৫০ মিলিগ্লাম পটাশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিন কলা খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

পিয়াজ

পিয়াজ রয়েছে অ্যাডেনোসিন। এটি পেশি শিথিল করে। যা হাইপারটেনশনের রোগীদের চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে পিয়াজ। কাঁচা পিয়াজ রস বানিয়েও খেতে পারেন। রসের স্বাদ ভালো না লাগলে তাতে সামান্য মধু মেশাতে পারেন।

রসুন

ধমনী ও শিরায় জমে থাকা কোলেস্টেরল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে রসুন। এটি রক্তের প্রবাহ বাড়ানো ও ব্লাড প্রেসার কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ডাবের পানি

ডাবের জলে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন সি ও অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টস্। এই উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।

তরমুজ

তরমুজে আছে আরজিনাইন। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে পারে।

ধনেপাতা

প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাকটিভ রয়েছে ধনে পাতাতে। যেমন-অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি ও হতাশা কমানোর উপাদান। তাই ধনেপাতা খেলে কমে যেতে পারে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের সমস্যাও।

পাতিলেবু

ভিটামিন সি’তে ভরপুর পাতিলেবু হৃদযন্ত্রের সূক্ষ্ম নলগুলোর শক্তি বাড়ায়। এতে হাইপারটেনশনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

 

হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে বিট রস  

হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে বিট রস

বীটরুট একটি উপাদেয় ফল। আমাদের দেশে ফলটির জনপ্রিয়তা কম হলেও গবেষণায় দেখা গেছে যে বিটের রস পান করলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। স্নায়ু কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে। আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফাইটোকেমিক্যালগুলি রক্তকে বিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে তোলে।

বিটের খনিজ,নাইট্রিক অক্সাইড,পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড আমাদের দেহের দ্বারা উৎপাদিত একটি অণু যা সারা শরীরের কোষগুলিতে সংকেত স্থানান্তর করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন এই রস খেলে শরীর জুড়ে রক্ত প্রবাহকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করে।

জার্নাল অব নিউট্রিশনের গবেষণায় প্রমাণিত হয়, 'প্রতিদিন কমপক্ষে এক গ্লাস বিটের রস রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তারা এক গ্লাস বিট রসের মাধ্যমে তাদের রক্তচাপ কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। বিশেষ করে, ৫৪ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের জন্য বিট রস খুব কার্যকর। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ইতিবাচক লক্ষণ পাওয়া গেছে'। 
 
বিটের রস পান করা ছাড়াও এটি স্যুপ, সালাদ বা স্বাস্থ্যকর মিষ্টি হিসাবে খাওয়া যেতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই উপকারী ফলটি অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

দুধের সঙ্গে রসুন খেলে এত উপকার পাওয়া যায়!

দুধের সঙ্গে রসুন খেলে এত উপকার পাওয়া যায়!

দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সবাই কম-বেশি জানি। সব বয়সীদের জন্যই দুধ একটি উপকারী পানীয়। এটি আমাদের শরীরে শক্তি জোগায়। 

এদিকে রসুনে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। কাঁচা রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। তাই দুধের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া, দুধের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে তা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া শ্বাসতন্ত্রকে ভালো রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে দুধের মধ্যে রসুন দিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

অ্যাজমা, কফ, নিউমোনিয়া সমস্যায়: যাদের অ্যাজমা, কফ, নিউমোনিয়ার সমস্যা রয়েছে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধে রসুন মিশিয়ে খেলে সমস্যা দূর হয়।

কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে: দুধের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতেও সাহায্য করে।

জন্ডিসের প্রতিকার: রসুন-দুধ জন্ডিসের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। জন্ডিসে আক্রান্ত হলে দুধের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে উপকার মিলবে।

বাতের ব্যথা কমা: গাঁটে গাঁটে ব্যথা অনেক কমিয়ে দেয় এই রসুন ও দুধ। এমনিতেই গরম দুধ ব্যথা কমায়, সেই সঙ্গে রসুন প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। সব মিলিয়ে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

অনিদ্রার সমস্যা: হাজার চেষ্টা করলেও রাতে ঠিক করে ঘুম হয় না। এক গ্লাস রসুন-দুধ খেয়ে নিন। সমস্যা দূর দয়ে যাবে। ঘুম আসবে সহজেই।

 

ঘৃতকুমারীর বিস্ময়কর যত গুণ

ঘৃতকুমারীর বিস্ময়কর যত গুণ

শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিতভাবে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা গ্রহণ প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে। অতি স্বল্প মূল্যের মধ্যে হাতের নাগালে ঔষধি এই ভেষজ উদ্ভিদের বিভিন্ন গুনের জন্য পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ  সেবন করে আসছে। বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরার যেমন বিকল্প নেই, তেমনি এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে কাজে লাগিয়ে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন অ্যালোভেরার রস বা জুস পান করলে ত্বক, চুল ও দেহকে পরিশুদ্ধ করে প্রাণবন্ত করে তোলে। 

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালোভেরা জুস খাওয়া মাত্র সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রভাব বেড়ে যায়, যে কারণে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও হ্রাস পায়। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দূর হয়।

খাদ্য তালিকায় এই উপাদানটি রাখলে শরীরের যেকোনো চোট-আঘাত লাগলে সেই ক্ষত সারতে সময় লাগবে না। কারণ অ্যালোভেরা জুসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে কোনও ধরনের ক্ষত সারিয়ে তোলে। ক্ষতের উপরে অ্যালোভেরা জেল লাগালেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

হরমেনাল সমস্যার স্থায়ী কোনো চিকিৎসা না থাকলেও অ্যালোভেরা দেহের সকল হরমোন নিঃসরণের মাত্রা ঠিক রাখে। প্যানক্রিয়াস সংক্রান্ত নানা রোগের চিকিৎসাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপদানটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতিও দূর হতে থাকে। প্রসঙ্গত, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল সেই উপাদান, যা আমাদের শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। অ্যালোভেরা জেল যদি তুলসি, করলা অথবা আমলকির রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে আরও বেশি উপকার মেলে।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এই জুস শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর পরিমাণ এত বৃদ্ধি করে যে দেহের প্রতিটি কোণায় জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, এই সব টক্সিক উপাদানদের মাত্রা যদি বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। 

নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে এই ভেষজ উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর পাচক রসের ক্ষরণ এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজমের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে অ্যাসিডিটি এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। 

অনেক নারীই অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। অ্যালোভেরা লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান দেহের ভেতরে প্রবেশ করার পর রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। ফলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে যায়।


Friday, September 21, 2018

ভালোবাসার অভিব্যক্তি

যদি তোমার জন্য নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তবে তোমার সাথে অন্য কিছু ভালোবাসা নয়।

যদি তোমার জন্য আমায় হতে হয় স্মার্ট,
কিনতে হয় বিলাস এমবি থেকে দামি দামি শার্ট।
চশমা লাগিয়ে চোঁখে পথে হাঁটতে হয়,
তবে তোমার সাথে অন্য কিছু ভালোবাসা নয়।

যদি তোমায় খাওয়াতে হয় নামকরা রেস্টুরেন্টে,
প্রতি সাপ্তায় নিয়ে যেতে হয় স্পেশাল মার্কেটে।
অাইফোন না দিলে ঝগড়া বেধে রয়,
তবে তোমার সাথে অন্য কিছু ভালোবাসা নয়।

আমার যা আছে তাই নিয়ে মন তোমার কাছে যাবে,
তুমি তা দেখে আমায় ভালোবাসবে,
মনে মনে মিলন হলে আশা বুকে বয়।
তাকেই বলে ভালোবাসা অন্য কিছু নয়।
-----পলাশ দেব নাথ