Friday, March 30, 2018

সাত বছরে আত্মসাৎ ৩০ হাজার কোটি টাকা

অন্য দেশে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নজিরবিহীন শাস্তির বিধানে
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাকের সাবেক চেয়ারম্যান 
বার্নার্ড মেডফের শেয়ারবাজারে আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়, 
তাঁকে গ্রেপ্তার করে ২০০৯ সালের জুন মাসে বিচারে 
৭১ বয়সী এ ব্যবসায়ীকে ১৫০ বছর জেল দেওয়ার পাশাপাশি
১৭০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়।
অথচ এ ধরনের অপরাধে শাস্তির নজির নেই বাংলাদেশে। 
গত সাত বছরে ছয়টি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে 
৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি বা আত্মসাৎ হয়েছে। 
এ অর্থ দিয়েই অনায়াসে একটি পদ্মা সেতু তৈরি করা যায়।
বড় এসব আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 
বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।
শুধু শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতেই 
লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছে। 
রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের
পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের একটি অংশ
ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করে 
নিজেরা লাভবান হয়েছেন।
এজন্য ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এই প্রভাবশালীদের
রাজনৈতিকভাবে ছাড় দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
একটি কেলেঙ্কারিরও বিচার হয়নি।
সাজা পাননি অভিযুক্তদের কেউ। 
প্রাথমিক তদন্তের পর বছরের পর বছর মামলা চলছে,
অভিযুক্তদের কেউ জেলে আছেন,
কেউবা চিকিৎসার নামে হাসপাতালে, 
অনেকে জামিনও পেয়েছেন।
২০০৯ সনে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির 
তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের হিসাবে 
অন্তত: ১৫ হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন
সাধারণ বিনিয়োগকারীগন। 
এরপর ২০১২ সনের সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারিতে 
অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। 
জনতা ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারিতে 
অর্থ আত্মসাৎ করা হয় ১১০০ কোটি টাকা। 
২০১৩ সনের বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে 
আত্মসাৎ করা হয় আরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা,
এ ছাড়া বহুস্তরবিশিষ্ট বিপণন কোম্পানি ডেসটিনির 
অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা,
এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের কারও সাজা হয়নি।
হল-মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি)
তানভীর মাহমুদ জেলে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান 
জেসমিন ইসলাম জামিনে আছেন। 
ডেসটিনির সভাপতি রফিকুল আমীন আটক হলেও 
অসুস্থতার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আছেন। 
আর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই?
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান,
অপ্রতুল জামানতের বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে 
ঋণ মঞ্জুরিতে সহযোগিতা দিয়ে
টাকা হাতিয়ে রূপালী ব্যাংক থেকে বেনিটেক্স লিমিটেড,
মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলস 
নিয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। 
আবার বহুতল ভবন নির্মাণের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে 
অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৩শ কোটি টাকা ঋণ নেয় মুন গ্রুপ। 
সবশেষে লাইসেন্স পাওয়া ফারমার্স ব্যাংকও 
অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪শ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে।
সবশেষ আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি
৮ কোটি ১০ লাখ ডলার,টাকার অঙ্কে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। 
স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ বা হ্যাক করে 
এই রিজার্ভ চুরির ঘটনা এখনো বিশ্বজুড়ে অন্যতম আলোচিত।
অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও 
সবচেয়ে বেশি তোলপাড় হয়েছে রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়েই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কারণেই 
দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন 
সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, 
সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দুই ডেপুটি গভর্নরকেও।
তবে যারা অপরাধী,তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি।
শুধু বিভাগীয় শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত,বদলি নয়; 
অপরাধের দায়ের শাস্তি দিতে হবে। 
এ ছাড়া সৎ,দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের 
সঠিক জায়গায় বসাতে হবে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে 
সদস্য নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিয়ে 
যে প্রশ্ন,সন্দেহ রয়েছে,তা নিরোসনে 
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে 
বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্ত অবস্থানে নিতে হবে।
ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ থাকলে
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলতে পারতেন না,
তিন বা চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি বড় কিছু নয়!! 

Thursday, March 15, 2018

বিমানবন্দর নয় এ যেন মৃত্যুফাঁদ

ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা বাংলাদেশ, নেপালসহ বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছে। শোকাবহ করেছে সর্বস্তরের মানুষকে। শোক জানিয়েছে জাতিসংঘ, বাংলাদেশ, নেপাল, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠন। ঢাকা থেকে কেবিন ক্রুসহ ৭১ জন যাত্রী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে আকাশে উড়েছিল বিমানটি। একপক্ষের মতে, ১২ মার্চ দুপুর প্রায় ২টায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল রুমের ভুল নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পাইলটসহ নিহত হন ৫১ জন।
হিমালয়কন্যা নেপালের এই ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনা এই প্রথম নয়। ভয়ংকর অতীত আজো ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে আছে। এ যেন এক মৃত্যুফাঁদ। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দর বহু দুর্ঘটনার সাক্ষী। ১৯৫৬ সাল থেকে ১২ মার্চ ২০১৮ দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত মোট ১০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে। কন্ট্রোল রুমের ভুল নির্দেশনা ও বৈরী আবহাওয়া প্রায় সব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই পাইলটকেই দোষারোপ করেন।
৩১ জুলাই ১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণ করার জন্য বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। একই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি এয়ারলাইনস বিধ্বস্ত হয়। এতে নিহত হন ১৬৭ জন। ৭ জুলাই ১৯৯৯ সালে লুফ?টহানজা কার্গো বোয়িং ৭২৭ আকাশে ওড়ার পাঁচ মিনিট পড়ে চম্পাদেবী পর্বতে বিধ্বস্ত হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে নিকন এয়ার ফ্লাইট ১২৮ পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ১০ যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু সবাই নিহত হন এই দুর্ঘটনায়।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে সীতা এয়ার ফ্লাইটের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। ২০১৬ সালে নেপালের বিমান ভেঙে মৃত্যু হয় ১৮ জন যাত্রীর। ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের আগ পর্যন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে টারা এয়ারল্যান্স বিমান দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সর্বশেষ ১২ মার্চ বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান ইউএস কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় কেবিন ক্রু, পাইলটসহ নিহত হন ৫১ জন। যার বেশির ভাগই বাংলাদেশি। ক্রমাগত বিমান দুর্ঘটনা নেপাল এয়ারলাইনসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কন্ট্রোল রুমে থাকা কর্মকর্তাদের উদাসীনতা কিংবা সেখানকার আবহাওয়াগত সমস্যার কারণেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেপাল গণমাধ্যম এ দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করেছে। শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান, কেবল শোক ও দুঃখ প্রকাশের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে এয়ারপোর্টটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে এখন মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। বিশ্বের শোকার্ত মানুষের আর্তির দিকে তাকিয়ে নেপাল সরকার নিশ্চয়ই সে আর্তির প্রতি মনোযোগী হবেন—এটাই প্রত্যাশা।

Sunday, March 4, 2018


বিএনপির নতুন সরকার পদ্ধতির কাঠামো
সহায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন দাবির পাশাপাশি নতুন সরকার পদ্ধতির কাঠামো অনেকটা মিয়ানমার সরকার ব্যবস্থার আদলে প্রতিনিয়ত চলছে যাচাই-বাছাই।তাতে কখনো নতুন কিছু যুক্ত হচ্ছে,কখনো কিছু বাদ পড়ছে।যতদিন এটি বাস্তবায়ন না হবে ততদিন বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনও চালিয়ে যাবে। এরমধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১২ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ১০ মার্চ খুলনায় সমাবেশ করবে।পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও।খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা রয়েছে,এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ৫টি মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্র্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদাকে ৫ বছরের এবং তার জ্যেষ্ঠপুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য আসামির ১০ বছরের জেল দিয়েছেন আদালত।
সহায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি একটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে বিএনপি নেতাদের মুখে মুখে। আর সেই বিকল্প প্রস্তাবটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন করে পরবর্তী ১০ বছর বাংলাদেশ শাসন। তবে সেটি অবশ্যই হবে সংবিধান সংশোধন করার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে।নির্বাচনের আগে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য (সমান) আনা হবে।প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পদ থাকবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। অন্যান্য মন্ত্রীও আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হবে। আসন সংখ্যা অনুযায়ী মন্ত্রীত্বের ভাগ পাবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও। অর্থাৎ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন যে দলই পাক না কেন সরকার গঠন হবে প্রধান দুই দলের নেতৃত্বেই।তবে এখনও প্রস্তাবটি প্রাথমিক পর্যায়েই আছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে না কি এ ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো। বিশেষ করে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।তিনটি দেশই চায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় মিলেই বাংলাদেশ শাসন করুক।তাতে উভয় দলের রাজনৈতিক সহিংসতা কমবে এবং দেশ হবে সমৃদ্ধ।বিএনপি নেতারা বলেন,তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার এই প্রস্তাবে আপত্তি নেই।এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি থাকলেই তা সম্ভব হবে,নইলে নয়। তারা বলেন, সংসদীয় এ পদ্ধতি কেবল ১০ বছরের জন্য এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে ক্ষতি নেই। নেতারা বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়েই যোগাযোগ করছে। নতুন প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ সম্মত হলেই খালেদা জিয়ার জামিন হবে এমন কি মামলা থেকেও খালাস পাওয়া সহজ হয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

Saturday, February 24, 2018

কার কত টাকা আছে 

সরকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করতে চায়। অর্থ পাচারের ঘটনায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ফাঁস হয়েছে। সম্পদশালীদের অঢেল টাকার পাহাড় যে বিদেশে রয়েছে তা পুরোপুরি জানতে তদন্তও চলছে। আশা করা যায়, তদন্ত সংস্থাও সময় হলে গোমড় ফাঁস করে দেবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত এখন অনেকটাই তদন্ত সংস্থার হাতে। বিদেশে কে কত টাকা পাচার করেছেন, কীভাবে করেছেন, কোন খাতকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন ও কার মাধ্যমে করেছেন সব জানার চেষ্টা চলছে। এতে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ভূমিকা রাখছে। কার কত টাকা আছে সে তথ্য জানতে সংস্থাটির পক্ষে কাজ করছেন একটি বিশেষ টিম। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা পেয়ে এ টিম সক্রিয় হয়েছে। 
আর্থিক জগতের কেলেঙ্কারি প্রকাশ করে একের পর এক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে পানামা ও প্যারাডাইস পেপারস। তদন্ত সংস্থার একটি সূত্র জানায়, প্যারাডাইস পেপারসে সম্প্রতি নতুন করে যে ২০ জনের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে এদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে চিঠি পাঠানো হবে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগের তালিকায় প্যারাডাইস পেপারসে আরো যে ১০ জনের নাম ফাঁস হয়েছে তাদেরও একইভাবে চিঠি দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই তালিকা গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশ হয়েছিল। বহুল আলোচিত প্যারাডাইস পেপারসে এবারের দ্বিতীয় তালিকায় নাম আসে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরসহ ২০ জনের। প্রত্যেকে ইউরোপের মাল্টায় অর্থ পাচার করেছেন বলে তালিকায় তথ্য উল্লেখ করা হয়। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, কারো কারো নামের সঙ্গে ঠিকানার মিল নেই। কেউ আবার বিদেশে থাকেন। আবার ঠিকানা মিললেও কারো কারো নামের ক্ষেত্রে গড়মিল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, দুই দফায় প্যারাডাইস পেপারস ৩০ জনের নাম প্রকাশ করে। এর আগে পানামা পেপারসে নাম আসে ৫২ জনের। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কয়েকজন চিঠি পেয়ে সময় নিয়েছেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে পানামা পেপারসে অর্থ পাচারে ৫২ বাংলাদেশি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে আরো তথ্য উপাত্ত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ও এনবিআরের সিআইসির টিমও কাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পানামা পেপারস ও অফশোর কোম্পানি মিলিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রকাশ হয়। কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে টাকা পাচারে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত বলে তথ্যে উল্লেখ করা হয়। আগের পানামা পেপারসে দুই কিস্তিতে ৫২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ হয়েছিল। এ তালিকায় ৩৪ ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৫টি অ্যাকাউন্টের তথ্য, ২৩ অ্যাকাউন্টধারীর বাড়ির ঠিকানা, চারজনের দুটি করে অ্যাকাউন্ট এবং দুটি যৌথ অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। প্রথমে প্রকাশিত তালিকাটি ‘পানামা পেপারস’ নামে পরিচিতি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট (আইসিআইজে) এই তালিকা ঘেঁটে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্র্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে। আর পরের দুই কিস্তিতে আইসিআইজে প্যরাডাইস পেপারসে আরো ৩০ জনের তালিকা প্রকাশ করে।
প্রকাশিত তালিকা নিয়ে দুদকের তদন্ত অব্যাহত আছে। দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে তদন্ত টিমে আছেন উপপরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়া ও সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান। তারা কয়েক দফা প্রকাশিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।
বহুল আলোচিত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় যাদের নাম আসে তারা হলেন- কাজী জাফরুল্লাহ, নিলুফার জাফর, আজিজ খান, আঞ্জুমান আজিজ খান, আয়েশা আজিজ, জাফর উমেদ খান, ফয়সাল করিম খান, হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মইনুল আহসান (শামীম), আহমেদ ইসমাইল হোসেন, আখতার মাহমুদ, এ এম এম খান, আজমল মইন, দিলিপ কুমার মোদি, সৈয়দ সিরাজুল হক, আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হক, তারিক একরামুল হক, সোহেল হাসান, এফএম জুবাইদুল হক, সালমা হক, মাহতাবুদ্দিন চৌধুরী, উম্মেহ চৌধুরী, ইফতেখারুল আলম, এএসএম মহিউদ্দিন আহমেদ, আসমা মোনেম, শরিফ জাহির, মেহবুব চৌধুরী, কফিল এইচ এস মুয়ীদ, জাইন ওমর, আফজালুর রহমান, মোতাজ্জারুল ইসলাম, মল্লিক সুধীর, ইউসুফ রায়হান রেজা, ইসরাক আহমেদ, নভেরা চৌধুরী, বিলকিস ফাতিমা, ফরহাদ গনি মোহাম্মদ, আবুল বাশার, নিজাম এম সেলিম, মোহাম্মদ মোকসেদুল ইসলাম, সরকার জীবন কুমার ও সেলিমুজ্জামান উল্লেখযোগ্য। তালিকায় ব্যক্তি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নাম আছে।
অপরদিকে প্যারাডাইস পেপারসে প্রথম তালিকায় নাম আসে আবদুল আউয়াল মিন্টু, আউয়াল নাসরিন ফাতেমা, আউয়াল তাবিথ মো. আউয়াল তাফসির মোহাম্মদ, চৌধুরী-ফয়সাল, মিন্টু-আবদুল আউয়াল, মোগল-ফরিদা ওয়াই, উল্লাহ-শহিদ, তাজওয়ার মো. আউয়ালের অভিভাবক হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমাদ-সামির, আউয়াল-তাজওয়ার মোহাম্মদ। এ তালিকায় নাম আসা প্রতিষ্ঠানটি হলো ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট-বাংলাদেশ লিমিটেড। সম্প্রতি প্রকাশিত দ্বিতীয় তালিকায় নাম এসেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের, ফজলে এলাহী চৌধুরী, কেএইচ আসাদুল ইসলাম, জুলফিকার আহমেদ, তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ মালেক, শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ইমরান রহমান, মোহাম্মদ এ আউয়াল, এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, তাজুল ইসলাম, আমানুল্লাহ চাগলা, মোহাম্মাদ আতিকুজ্জামান, মোহাম্মদ রেজাউল হক, মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন সুমন, মাহতাবা রহমান, ফারুক পালওয়ান ও মাহমুদ হোসাইন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে আছেন। কারো নামের সঙ্গে ঠিকানার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঘটনাটিকে ‘প্রকট দুর্নীতি-সহায়ক পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটির পক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা দুদক আরো কঠোর হবে বলে আশা করছি।
দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অনুসন্ধানে দুকের চৌকস টিম কাজ করছে। আগে পানামা পেপারসের তদন্তকালে চারজনের কাছে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নাম আসা ওই চারজনের মধ্যে দু’জনের দাবি হলো, তারা বিদেশে উপার্জন করা অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন। আরেকজন বলেছেন ইউরোপের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে অফশোর কোম্পানিতে লগ্নি করেছেন।
অপরজন বলেছেন, তার উপার্জিত অর্থের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। ফাঁস হওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ঠিকাদারও আছেন। তিনি জানান, প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম এসেছে তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া কার কত টাকা বিদেশে আছে সেই তালিকা তৈরির কাজও চলছে। কাজটি সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন হলেও অনুসন্ধান এবং তদন্তে পরিপূর্ণতার জন্য তা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এবং এনবিআরের সিআইসির টিম অনুসন্ধানে সহায়তা করছে।

Monday, February 19, 2018

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্যানসার ঝুঁকি 

অতিরিক্ত মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা খাবার গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন ফরাসি গবেষকরা। কেক,চিকেন নাগেট ও বড় পরিসরে উৎপাদিত রুটিকে ‘অতিরিক্ত প্রকিয়াজাতকৃত’ খাবারের মধ্যে রেখেছেন গবেষকরা।
এক লাখ পাঁচ হাজার লোকের ওপর চালানো এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যত বেশি এই ধরনের খাবার গ্রহণ করা হয়, ক্যানসারের ঝুঁকি ততই বেড়ে যায়। এই গবেষণা নিয়ে অনেকে বিতর্কিত মত পোষণ করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণই সর্বোৎকৃষ্ট।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে, বড় পরিসরে উৎপাদিত প্যাকেটজাত রুটি, মিষ্টি বা মসলাযুক্ত স্ন্যাকস, চকোলেট বার ও মিষ্টি, সোডা ও কোমল পানীয়, মিটবল, পোলট্রি ও ফিশ নাগেট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও স্যুপ, ফ্রোজেন ও রেডি খাবার, চিনি, তেল ও চর্বি দিয়ে তৈরি খাবার।
গবেষণায় বলেছে, খাদ্যাভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ধূমপান বন্ধ করার পর ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ হলো অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ায়।
ইউনিভার্সিতে সোরবোন পারী সিতের একটি গবেষণা দল গড়ে পাঁচ বছর ধরে এই গবেষণা চালায়। জরিপের অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীই ছিল মধ্যবয়সী নারী। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় উঠে আসে, খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের হার ১০% বাড়লে, ক্যানসারের ঝুঁকি ১২% বেড়ে যায়।
গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী কয়েক দশকে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে তারা জানান, এই বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো বড় আকারের জরিপ ও গবেষণা চালানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ক্যানসারের মধ্যে নিশ্চিত কোনো সম্পর্ক এই গবেষণায় ওঠে আসেনি। এই গবেষণা থেকে বলা যায় না যে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ক্যানসারের একটি কারণ।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর লিন্ডা বল্ড বলেন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণকারীদের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে আর ওজন বৃদ্ধির কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও ওজনের পারস্পরিক সম্পর্ক আলাদাভাবে বিচার করা কঠিন।
মিসেস বল্ড বলেন ‘এই গবেষণা আমাদের জন্য একটি সতর্কতাবার্তা দেয়, তবে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে স্বল্প পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।’ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার বিষয়ে ভিন্ন মত ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।

ডিমের সাদা অংশ উচ্চ রক্তচাপ কমায় 

সকালের নাস্তায় অনেকে ডিম ছাড়া ভাবতেই পারেন না। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। ডিম ওমলেট, রান্না, সিদ্ধ, পোচ- সবভাবেই খাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরো ডিম খাওয়ার চেয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশে ক্যালরি ও চর্বি কম থাকে। এই সাদা অংশ উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
ডিম থেকে কুসুম সরানো হলে তাতে কোনো কোলেস্টেরল থাকে না। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি তারা নির্দ্বিধায় ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে হৃদরোগ কিংবা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি কম থাকে।
গোটা ডিম প্রোটিনে ভরপুর থাকে। কিন্তু ডিমের সাদা অংশে খুব কম পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য খুব উপকারী। তবে উচ্চ প্রোটিনসম্পন্ন খাবার আমাদের মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে। এমনিতেও ডিমে খুব বেশি ক্যালরি থাকে না। আর কুসুম না থাকলে তাতে ক্যালরির পরিমাণ আরো কমে যায়। তাই ওজন কমাতে চাইলে গোটা ডিমের বদলে ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন।
ডিমে থাকা পটাশিয়াম রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ডিমের সাদা অংশে পেপটাইড নামে একটি উপাদান তাকে যা, উচ্চ রত্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।
ডিমের সাদা অংশে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ, বি-১২ এবং ডি থাকে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি-২ বার্ধক্যজনিত নানা ধরনের ক্ষয়রোধ, চোখের ছানি পড়া এবং মাইগ্রেনজনিত মাথা ব্যথা রোধ করে।

Monday, January 22, 2018

বিশ্বের ৮২ শতাংশ সম্পদ এক শতাংশ 

ধনীর হাতে

গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ তৈরি হয়েছে তার কোনো ভাগই পায়নি বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ। তবে ওই সম্পদের প্রায় ৮২ শতাংশই গেছে বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ ধনীর হাতে। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল বার্ষিক বৈষম্য শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
ওই প্রতিবেদনে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ‘২০১৭ সালে বিশ্বে কোটিপতিদের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক চরম দারিদ্র্য দূর করার জন্য এ অর্থ যথেষ্ঠ।’
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা কোটিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধির এ ঘটনাকে ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার’ লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন।
‘যে মানুষেরা আমাদের পোশাক তৈরি, ফোন ও খাদ্য উৎপাদন করছেন তারা শোষণের শিকার হচ্ছেন। সস্তায় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য, কর্পোরেশন এবং কোটিপতি বিনিয়োগকারীরা মুনাফার বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তাদের শোষণ করছেন।’
‘রিওয়ার্ড ওয়ার্ক, নট ওয়েলথ’ শীর্ষক অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে বিলিওনেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। প্রতি দু’দিনে অন্তত একজন বিলিওনেয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
২০১৭ সালের ক্রেডিট সুইসের গ্লোবাল ওয়েলথ ডাটাবুকের তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বে বিলিওনেয়ারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৩ জন; এদের ৯০ শতাংশ পুরুষ।
অক্সফামের তথ্য বলছে, কর ফাঁকি, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থাই বৈশ্বিক এ অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্য দায়ী।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শুরুর একদিন আগে সোমবার অক্সফাম এ প্রতিবেদন প্রকাশ করলো। গত বছর অক্সফামের একই ধরনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিল গেইটস, মাইকেল ব্লুমবার্গসহ মাত্র ৮ জন ধনকুবেরের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের ৩৬০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান।