Monday, October 23, 2017

‘মানুষকে পশুর মতো মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে সু চি’


মিয়ানমারে গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে গঠিত নাগরিক কমিশন’র সদস্যরা বলেছেন- অং সান সু চি’র ভূমিকা মানবতাবিরোধী। সু চি মানুষকে পশুর মতো জবাই করে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে। জীব-জন্তু ও জানোয়ারদের যেভাবে ব্যবহার করা হয়, তার চেয়েও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে তারা। আসলে তারাই জানে কেন এই মানুষগুলোর উপর নির্মম অত্যাচার করেছে। এই রকম নিষ্ঠুর অত্যাচার পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই হয়েছে। নাগরিক কমিশন দুই দিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিশনের সদস্যসচিব ও সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, আমরা চাই মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে আনান কমিশনের রিপোর্ট দেয়ার পরও বিশ্ব দরবারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ৫ দফা দাবি পেশ করেছেন, সেই পাঁচ দফা দাবি যেন বাস্তবায়িত হয়। এবং সমস্যা সমাধানে আমরাও চেষ্টা করে যাবো। এক দেশের বিপদ এভাবে আমাদের বহন করা সম্ভব নয়। আমরা বিশ্ববাসীর মাধ্যমে অনুরোধ জানাবো মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরিয়ে নেয়। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বার্মায় গণহত্যা এবং সন্ত্রাস দমনে এই নাগরিক কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের ৫১ জন সদস্য রয়েছে। কমিশনের সচিবালয়ে রয়েছে ১০১ জন সদস্য। এটি একান্ত তদন্ত কমিশন। এই কমিশন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত ১০ হাজার রোহিঙ্গাদের জবানবন্দি রেকর্ড করবে।পরে এই জবানবন্দী, জাতীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বক্তব্য, বাংলাদেশ ও বার্মার বিভিন্ন সরকারি দলিলপত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরী করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- কমিশনের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, মেজর জেনারেল(অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী সিকদার, মমতাজ লতিফ, সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস। এছাড়াও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী ছেলে আসীফ মুনীর, শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী চম্পা, মানবাধিকার কর্মী আরমা দত্ত, ব্যারিস্টার বিব বড়ুয়া, ব্যারিস্টার তাপস কুমার বল, শহীদ পরিবারের সন্তান তৌহিদ রেজা নূরসহ নাগরিক কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৮ লাখ ৮৯ হাজার রোহিঙ্গা : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মতে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মোট ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ জন। মিয়ানমার সরকারের দাবি, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের অন্তত ৩০টি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। এরপর সেখানে সেনা অভিযান শুরু হলে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জায়গায় হাজারো রোহিঙ্গা আটকা পড়ে। তবে সুযোগ বুঝে তারা এখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সহিংসতার পরে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৫ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গা। রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
হাজার মাইল পথ পায়ে হেঁটে রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পথ হাঁটার কারণে অনেকে এখন নানা রোগে ভুগছেন। ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থার জন্য সহায়তা করছে। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও ওষুধ সরবরাহও করছে তারা। এখন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ইউএনএইচসিআর-এর ১৮২ জন স্টাফ কাজ করছে।
শর্ত দিয়ে হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের : যুক্তরাষ্ট্র চায়, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরাতে মিয়ানমার শর্ত নির্ধারণ করুক। রাখাইনে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতা ছড়াতে ‘মানবিক বিপর্যয়’কে যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারে সেদিক বিবেচনা করেই এই শর্ত নির্ধারণের কথা বলছে দেশটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্যাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। ভারতীয় সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্ত আরোপ করে হলেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানিয়ে দেন তিনি। গত আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। মিয়ানমার এই রোহিঙ্গাদের দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘু হিসাবে স্বীকার করে না। এর পরিবর্তে নেইপিদো বলছে, তারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী; যারা রাখাইনে বসবাস করছে।
‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। কারণ সেখানে এমন মানুষ আছে যারা এই মানবিক বিপর্যয়কে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর উপায় হিসাবে ব্যবহার করতে পারে; তারপর সহিংসতা উসকে দিতে পারে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সুতরাং শরণার্থীদের ফেরাতে শর্ত নির্ধারণ করাটা মিয়ানমারের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ভয়াবহ মানবিক ভোগান্তি লাঘবে এবং শিশুদের শিক্ষা ও তাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য সব ব্যবস্থা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রোববার যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রাখাইন সংকটে জীবন-রক্ষাকারী জরুরি সহায়তার জন্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, সর্বশেষ এ অর্থসহ চলতি বছরে মিয়ানমারের উদ্বাস্তুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা ১০৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা রাখাইন সংকটে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, আমরা মারাত্মক এ মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করছি। মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি। রাখাইন প্রদেশে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকার শিগগিরই বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরার অনুমতি দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
রোহিঙ্গা সংকটের আলোচনায় মিয়ানমার গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমারের উদ্দেশে প্রতিনিধিদলটি রওনা করে বলে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পরিদর্শক ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন। এ সফরে রোহিঙ্গা সংকট অবসানের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই দলে থাকছেন।
মন্ত্রীর সফরে সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু। আর রাখাইন থেকে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার মধ্যে এ সফরে তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর গত দুমাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিশেষ দূত দেশটির দপ্তরবিষয়কমন্ত্রী উ কিয়া তিন্ত সোয়ে গত ১ অক্টোবর ঢাকায় এসেছিলেন।
বেসামরিক প্রশাসনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সমাধান চান সু চি : রাখাইন সংকট নিরসনে বেসামরিক প্রশাসনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সমাধান চান মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। অন্তত এমনটাই মনে করছেন এ অঞ্চলে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাবেক বার্তা সম্পাদক মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ ল্যারি জাগান। গতকাল সোমবার মিয়ানমার টাইমসে প্রকাশিত নিজের কলামেই এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন জাগান।
কলামে তিনি লিখেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকট নিরসনে সরকারের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি। এর পরিকল্পনার আওতায় ‘ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ ফর হিউম্যানিটেরিয়োন অ্যাসিস্ট্যান্স, রিসেটেলমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে ইন রাখাইন স্টেট’ নামে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছে, যে সংস্থাকে সহায়তা দেবে বিদেশিরা। এই সংস্থা শরণার্থীদের ত্রাণ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখভাল করবে। গত ১২ অক্টোবর জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ রূপরেখা ঘোষণা করেন সু চি।
জাগানের মতে, রাখাইন সংকট নিরসনে গত ২৪ আগস্ট দেওয়া কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘ-প্রতিশ্রুত রোডম্যাপ অবশেষে প্রকাশ করলেন সু চি। তিনি যে সংস্থা গঠনের কথা বলেছেন সেই কমিটি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন তদারকি করবে, যা নেতৃত্বে থাকবে সু চি নিজেই। কলামে তিনি লিখেছেন, রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে হামলা পর সেখানে নতুন করে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে গত আট সপ্তাহে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ বর্ণনা করেছে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে।
জাগানের মতে, ছয় সপ্তাহের বেশি আগে কফি আনান তার প্রতিবেদন দাখিল করার পর পশ্চিম রাখাইনের সংঘাত-জর্জরিত এলাকার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও অবিশ্বাসের মূল কারণ দূর করা এবং সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে মিয়ানমার সরকার।
কলামে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা তাদের দুর্দশার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করে বলছে, সেনাবাহিনীই ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়ে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে এবং রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলাকালে শত শত মানুষের মৃত্যুর জন্য সেনাবাহিনীই দায়ী। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া অনেক মুসলমান নারীর অভিযোগ মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা তাদের ধর্ষণ করেছে। তবে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সু চি অত্যন্ত সচেতনভাবে সেনাবাহিনীর সমালোচনা, এমনকি সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উল্লেখ করা থেকেও বিরত ছিলেন।
জাগান লিখেছেন, এ নিয়ে মিয়ানমারের বাইরে থেকে যেসব মতামত আসছে তার সারাংশ হচ্ছে সু চি সেনাবাহিনীর পটেকেই রয়েছেন। তবে এই মতামতের বিপরীতে বলা যায়, সু চির এই অবস্থানের অর্থ এই নয় যে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভিড়ে গেছেন।

Saturday, October 21, 2017

জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়ার কবলে দেশ !

খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪০লখ টন কমার আশঙ্কা


বর্ষা ঋতু বিদায় নিয়েছে দুই মাস আগেই। শরৎ শেষ। এখন হেমন্ত চলছে। অথচ ভারী বৃষ্টিপাত এই হেমন্তে ভরা বর্ষাকেও হার মানিয়েছে। গত দুদিনে (শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত) রাজধানীতে ২৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে শনিবার হয়েছে ২২৩ মিলিমিটার। এরআগে বর্ষার শুরুতে গত ১২-১৩ জুন ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় ঢাকায়। ১৩ জুলাই ১০৩ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টি হয়। পরের মাস গত ৪ আগস্ট ঢাকায় তিন ঘণ্টায় ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টি ছিল স্বল্প সময়ের বিবেচনায় গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এরআগে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় তিন ঘণ্টায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড ছিল। কেবল ভারী বৃষ্টিপাত নয়, এ বছর এপ্রিল ও মে মাসে মারুথা ও মোরা নামে দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এর বাইরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকবার। তার মধ্যে দুই দফা নিম্নচাপে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে ভূমিধসে মৃত্যু হয় দেড় শতাধিক মানুষের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবার। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের মানুষকেও ভুগতে হয়েছে। বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টে হাওড় অঞ্চলে অকস্মাৎ বন্যা এবং ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে যায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম। সেইসঙ্গে বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর গত বছর তিনেক ধরেই বেড়ে গেছে।
এমনকি অক্টোবরের শুরুতেই টানা চার-পাঁচ দিন রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। সাধারণত গ্রীষ্মে এ ধরনের গরম অনুভূত হলেও এবার সেপ্টেম্বরের শরতে একটি বড় সময় ধরে প্রায় গ্রীষ্মের গরম অনুভূত হয়েছে।
কেবল এ বছরই নয়, দেশে হঠাৎ করেই বদলে যাওয়া আবহাওয়ার এমন বৈরী আচরণ চলছে গত ৩০ বছর ধরেই। ভারী বৃষ্টিপাত ও মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা তো বটেই, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক মাত্রায় বজ্রপাত, অতি ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন পেয়ে বসেছে বাংলাদেশকে। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে, নতুন নতুন দুর্যোগ বাড়ছে, রোগবালাইয়ের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে আর বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুতও হচ্ছে।
কিন্তু আবহাওয়ার কেন এমন বদলে যাওয়া এবং এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগই বা কেন—জানতে চাইলে গবেষকরা একে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখছেন। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মনুষ্যসৃষ্ট আচরণ ও পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে না পারাকেও দায়ী করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে নগর ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য অন্তত ৫০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণকে হুট করেই ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব’ বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে না। কিছু প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু সবক্ষেত্রে নয়। সে সময় বাংলাদেশে ঠিক আসেনি এখনো। দেশে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে, এর বেশিরভাগই মনুষ্যসৃষ্ট। ভারী বৃষ্টিপাত হবে। কিন্তু তা থেকে যে জলাবদ্ধতা, সেটা হচ্ছে পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশন না থাকায়। শহর ডুবে যাচ্ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শেষের দিকেও নি¤œচাপ দেখা দিতে পারে। তা থেকে বৃষ্টিপাত হবে। কিন্তু সে পানি কেন সরবে না? জলাবদ্ধতা কেন হবে? কারণ মিরপুর থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত যে খাল, সেটা দখল হয়ে গেছে। আমরা পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছি না। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অপরিকল্পিত আবাসন গড়ছি। সড়ক নির্মাণ করছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিচ্ছি না। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা থাকবে। কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রা হচ্ছে গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে। রাজধানীতে রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং হাতিরঝিল ছাড়া কোথাও খোলা জায়গা নেই, সবুজ নেই। গাছ লাগাচ্ছি না। কেটে ফেলছি। ফলে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। এসবই হচ্ছে মানুষের কারণে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরিবেশ ও উৎস ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভূগোল বিভাগ পৃথক পৃথক গবেষণায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ ১৮৫ বার চরম বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছে, যা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। দুই বছর আগেও বিশ্বে বিরূপ আবহাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল চতুর্থ। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু হওয়ার দিক থেকে তৃতীয় দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ও দেশের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে অসময়ের বৃষ্টির কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। একই কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এই শতকের মধ্যে তাপমাত্রা গড়ে দেড় থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এর ফলে বছরে বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। প্রায় ৪০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন কমতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই শতকের মধ্যে দেশের ১৯টি জেলার প্রায় ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। লবণাক্ত এলাকা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। লবণাক্ততা আরো বাড়ছে। নতুন করে বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছে ১৭০ জন। গত সাত বছরে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ জনের। এ বছর ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে ১০০ বছরের মধ্যে বড় বন্যার রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে বেশি বেশি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর তা সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে বাংলাদেশে। ১৯৭১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর পরপর বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানত। ২০০৭ সালের পর প্রতি দুই বছর পরপর দেশে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী। কিন্তু ঢাকায় আবহাওয়ার বৈরী আচরণের জন্য দায়ী অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানবাহন। তা ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি) ব্যবহার বেড়ে গেছে। এসি ব্যবহারের ফলে কক্ষের ভেতর ঠান্ডা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বাইরে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এটি কমাতে হবে। গাছপালা কমে যাচ্ছে। একটি আদর্শ নগরীতে ২৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে গাছপালা, পার্ক, আদর্শ ছায়াযুক্ত স্থান থাকতে হবে। কিন্তু ঢাকায় পাঁচ শতাংশও ছায়াশীতল স্থান নেই। একই অবস্থা গোটা দেশে। আমরাই পরিবেশকে নষ্ট করছি। পরিবর্তিত জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছি। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হলে আমাদের আইনের শাসনের সঙ্গে বিজ্ঞান ও মানুষের হাজার বছরের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে পরিকল্পনা করতে হবে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছে না, বরং বাড়াচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। তারা আরো বলছেন, প্রতিনিয়তই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাবে আগে যেসব জায়গায় জোয়ারের পানি উঠত না, সেসব অঞ্চল এখন প্লাবিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম সবার শীর্ষে।
পরিবর্তিত জলবায়ু থেকে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত এবং কেনই বা এমন দুর্যোগের মুখে বারবার পড়ছে বাংলাদেশ-জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। আমরা অনেক দেশের কাছেই এখন মডেল। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো গবেষণা দরকার। কেন জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু কতটা, সেটার গবেষণা লাগবে। কারণ এবার হাওরে যে অকস্মাৎ বন্যা, সেটা গত ৫০-৬০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এত আগে হলো। একই কারণে পাহাড় ধসছে। প্রাকৃতিক সবুজ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের যেসব বহির্প্রকাশ, সেগুলো জানতে গবেষণা দরকার। তবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বাড়ছে। এমনিতেই বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দুর্যোগের স্বরূপ জানতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখতে হবে ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত। তবেই দুর্যোগ থেকে রক্ষা সম্ভব।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আক্তার মাহমুদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি বাংলাদেশের নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ছোট দেশ। মানুষ বেশি। প্রত্যেক দুর্যোগ মোকাবিলায় আলাদা কাঠামো দরকার। নদী, পাহাড়, বনভূমিসহ যেসব প্রাকৃতিক অঞ্চল রয়েছে, সেগুলোর প্রাকৃতিক অবস্থা ধরে রাখতে হবে। জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা ও কাঠামো দরকার। সে অনুযায়ী প্রাকৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

Sunday, October 8, 2017

আইসিএএন শান্তিতে নোবেল পেল যে কারণে! 

পরমাণু অস্ত্র তৈরি বিশ্বের জন্য কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং দুর্ঘটনাবশত এর ব্যবহার পরিবেশ ও মানব সমাজের জন্য কতোটা বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে তা বোঝাতে কাজ করছে। বলা হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্যই এবছর নোবেল কমিটি আইসিএএন’কে শান্তিতে পুরস্কার দেয়ার জন্য নির্বাচিত করে। ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থা আইসিএএন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আজ থেকে ১০ বছর আগে সংস্থাটির জন্ম। সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদরদপ্তর অবস্থিত।
পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচীর কারণে গোটা বিশ্বে যে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, সেই উপলব্ধি থেকেই সংস্থাটির জন্ম। বিশ্বের সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে তৈরি জোটভিত্তিক সংস্থাটি পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে এর ভয়াবহতার দিকগুলো সামনে আনে। সেই সঙ্গে একটি কার্যকর পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি তৈরি ও তা বহাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইসিএএন (International Campaign to Abolish Nuclear Weapons) ২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। মোট ১০১টি দেশের ৪৬৮টি সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি আইসিএএন বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইউকিপিডিয়ার তথ্যে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পেছনে বিশ্ব মানবতার দিকটি তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছে সংস্থাটি। ফলে পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে অলাভজনক বেসরকারি সংস্থাটি সফলতা পেয়েছে।
পরমাণু অস্ত্র মানব সভ্যতা এবং পরিবেশের জন্য কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্য সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালায়। এছাড়া মানব স্বাস্থ্যের জন্য পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সেজন্যে তথ্যবহুল প্রচারণাও চালানো হয়। এছাড়া, পরমাণুর ক্ষতিকর বিক্রিয়া পরিবেশে কতোটা দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ ফল ডেকে আনবে সে ব্যাপারেও স্বোচ্চার হয় সংস্থাটি। তাদের এই উদ্যোগ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর নজর কাড়ে।
ল্যান্ড মাইন বিরোধী সংগঠন International Campaign to Ban Landmines’ এর সফলতা দেখে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতারা অনুপ্রাণিত হন। সেভাবেই এই সংগঠনটিকে সৃষ্টি করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে কাজ শুরু করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের ফলে এটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে জাতিসংঘে পরমাণু বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অবশ্য ইরান কিংবা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচী সম্পর্কে সংস্থাটির ভূমিকা স্পষ্ট নয়।  

ব্লু ইকোনমি অথরিটি গঠনের সুপারিশ 

বর্তমানে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা এলাকায় সম্পদ আহরণ ও উত্তোলন করতে পারে বাংলাদেশ। যেখানে সমুদ্র সম্পদ নির্ভর ব্লু  ইকোনমির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। কমিটির পক্ষ থেকে সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও উত্তোলন সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে ‘ব্লু  ইকোনমি অথরিটি’ গঠনের বিধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্রসীমায় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের মাধ্যমে দেশের বিশাল সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে দ্রুত ব্লু  ইকোনমি অথরিটি গঠনের সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য বলা হয়েছে। 
এদিকে কমিটির বৈঠকে নীতিমালা অমান্য করে কনডেনসেট সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া কনডেনসেটের অপব্যবহার ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখী করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়। এজন্য আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এখন বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের আয়তনের প্রায় ৮২ শতাংশ। এই সমুদ্র এলাকায় মৎস্য সম্পদ, তেল-গ্যাস ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণ এবং সমুদ্র পরিবহন-সুবিধা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের এই ‘ব্লু ইকোনমির’ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গত ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ী ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়েছে। ব্লু ইকোনমির সঙ্গে সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় এবং ১২টি সংস্থা জড়িত।
বৈঠকে জানানো হয়, এই সেলটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন একটি অস্থায়ী সেল। এর আইনগত কর্তৃত্ব না থাকায় এই সেলের সিদ্ধান্ত মানার ক্ষেত্রে অন্যদের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। অস্থায়ী হওয়ায় এই সেলকে কোনো আর্থিক বরাদ্দও দেওয়া হয় না। তাই এই সেলকে স্থায়ী করা বা আইনের মাধ্যমে একটি ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করার সুপারিশ করে।

Monday, October 2, 2017

স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে কাতালানবাসী 


স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে দেশটির কাতালান অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশি সহিংসতার মধ্যে শেষ হওয়া গণভোটে কাতালানবাসীর স্বাধীনতার অধিকার আদায় হয়েছে বলে দাবি করেছে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসিত সরকার। স্থানীয় সময় গত রোববার স্পেন থেকে কাতালানের স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজন করে কাতালানের স্থানীয় সরকার। স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভোট শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয় পুলিশ। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কাতালানবাসীকে প্রবেশে বাধা দিতে মাঠে নামে দাঙ্গা পুলিশ। তাদের ছোড়া রাবার বুলেট ও লাঠিপেটায় আহত হয় অনেকে। কাতালান সরকারের মুখপাত্র জরদি তুরুল বলেন, কাতালানে রোববার মোট ভোট দিয়েছেন ৫৩ লাখ। এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ব্যালট পেপার গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তুরুল আরো বলেন, পুলিশি বাধা না এলে ভোটদাতার সংখ্যা আরো বেশি হতো। সহিংসতার কারণে কমপক্ষে সাত লাখ ৭০ হাজার ভোটার ভোট দিতে আসেননি। কাতালান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববারের পুলিশি সহিংসতায় কমপক্ষে ৮০০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, দুই হাজার ৩০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯২টি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কাতালানের প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইদেমন বলেন, ‘বাধার মুখেও কাতালানবাসী স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে। আমরা সবকিছু জানার, সম্মান ও পরিচিতি পাওয়ার অধিকার আদায় করেছি।’
এদিকে রোববার রাতেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি একটি কথাই পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, আজ কাতালানে তাদের স্ব-স্বীকৃত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।’
কাতালান স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গরাজ্য। পাঁচ বছর ধরে স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছিল তারা। এ দাবিতে গত রোববার গণভোটের আয়োজন করে কাতালানের আঞ্চলিক সরকার। তবে স্পেন সরকার এই ভোট বন্ধের অঙ্গীকার করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও এই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করে। এত কিছুর পরও স্বাধীন কাতালানের জন্য ভোট দিতে আসেন কাতালানরা। ভোট শুরুর আগেই শুক্রবার থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোর দখল নিয়ে নেন স্বাধীন কাতালোনিয়ার সমর্থকরা। এসব ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার জন্যই তাঁদের এ উদ্যোগ। কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্রের সামনে ট্রাক্টর বসিয়ে রাখেন কৃষকরা। যেন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। আবার কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের দরজা খুলে ফেলা হয়েছে, যাতে করে স্পেন সরকার এসব কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে না পারে।

Saturday, September 23, 2017

নৌকা স্কুল : বিশ্বের ১০ মডেল স্কুলের একটি 

ভবিষ্যতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সন্তানরা বন্যাপ্রবণ এলাকায় কীভাবে স্কুলে যাবে? এই সমস্যার সমাধানে একজন বাংলাদেশি স্থপতির উদ্ভাবন জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে জীবন এগিয়ে নেওয়ার সহনশীল 'নৌকা স্কুল' এখন বিশ্বে সমাদৃত। এ স্কুলে দেশের বন্যায় প্লাবিত প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা ইন্টারনেট ও সৌরবিদ্যুৎ সংবলিত শিক্ষা সুবিধা পাচ্ছে। গত সপ্তাহে এই 'নৌকা স্কুল' বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএনের জরিপে 'বিশ্বের অন্যতম ১০টি উদ্ভাবনীমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা'র একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 
বাংলাদেশের তরুণ স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ানের নৌকার মধ্যে তৈরি 'ভাসমান স্কুল' এখন বিশ্ব মডেল স্কুল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখে থাকা ভারত, চীন, কম্বোডিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, জাম্বিয়াসহ আরও অনেক দেশে চালু হয়েছে মোহাম্মদ রেজওয়ানের মডেলের এই ভাসমান স্কুল। ১৬টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান। তার প্রকল্পকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে দুটি তথ্যচিত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা আরও অনেক দেশে চালু হয়েছে এই নৌকা স্কুল। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, স্ট্নোভেনিয়ার মতো উম্নত দেশের প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রমে যুক্ত হয়েছে এই স্কুল। অসাধারণ উদ্ভাবন নৌকার মধ্যে তৈরি এই ভাসমান স্কুল নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তথ্যচিত্র 'ইজি লাইক ওয়াটার'।
আফ্রিকা, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যাপ্রবণ এলাকায় বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উম্নয়ন সংগঠনগুলো মোহাম্মদ রেজোয়ানের নৌকা স্কুলের ধারণা অনুসরণ করছে। ফলে নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ সহজ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও অন্যান্য সংগঠন রেজোয়ানের উদ্ভাবিত এই নৌকা স্কুলের মডেলের অনুকরণে হাওর ও বিলে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করছে।
সিএনএনের মতে, বাংলাদেশের উদ্ভাবিত সৌরশক্তিসম্পম্ন ভাসমান স্কুল সমগ্র বিশ্বে একটি নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। প্রতিদিন সকালে প্রাথমিক স্কুলগুলো বিভিম্ন গ্রামে যায় এবং শিশুদের বাড়ির সামনে থেকে নৌকায় তুলে নেয়। তারপর নৌকাটি একটি জায়গায় দাঁড়ায় এবং ৩০ জন শিশুকে নৌকার ভেতরেই শিক্ষা প্রদান করে। স্কুলগুলোতে একটি ল্যাপটপ, শত শত বই থাকে এবং সোলার প্যানেল থেকে উৎপম্ন বিদ্যুতের মাধ্যমে নৌকার ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো চালানো হয়।
প্রায় প্রতি বছরই মৌসুমি বন্যায় বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা বড় ও দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার সবচেয়ে বড় শিকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বর্ষার সময় দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বন্যায় দেশের ২ হাজার ৬৪০টি স্কুল দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকে। এর আগে ২০০৭ সালের বন্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্কুল ডুবে যাওয়ার কারণে। বর্ষায় স্কুলে যাওয়ার অধিকাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকে। অনেক স্কুলের ক্লাসরুমও পানিতে ডুবে থাকে। এর ফলে শুধু স্কুল থেকে নয়, পুরো শিক্ষাজীবন থেকে প্রতি বছর বহু শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে।
চলনবিল নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে বিস্টৃতত একটি বিলের নাম। চলনবিল সংলঘ্ন অঞ্চলগুলো বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় পানিতে ডুবে থাকে। ভৌগোলিকভাবে এমনিতেই বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা বর্ষায় বন্যাকবলিত হয়। 
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল এলাকার সিধুলাই সেরকমই একটি বন্যাকবলিত গ্রাম। এ গ্রামেরই সল্ফ্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান। ১৯৯৮ সালে তরুণ স্থপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান প্রথমে নিজ গ্রামে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। গ্রামটি বন্যাকবলিত। পুরো এলাকা বছরের বেশি সময় বন্যা ও পানিতে ডুবে থাকে। রেজওয়ান চিন্তা করলেন ভাসমান পানিকেই গ্রামের উম্নয়নে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। সে ভাবনা থেকেই তিনি নৌকার মধ্যে স্কুলের নকশা করলেন। স্থাপন করলেন 'ভাসমান স্কুল'। ২০০২ সালে এই স্কুল যাত্রা শুরু করে। সেই যাত্রায় প্রথমে তার সম্বল ছিল স্কলারশিপের মাত্র ২২ হাজার টাকা। ২০০৫ সালে মোহাম্মদ রেজোয়ান একটি অবিশ্বাস্য সুসংবাদ পেলেন। তার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন বড় আকারে সম্প্রসারণের জন্য তাকে এক মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থ রেজোয়ানের এই ছোট প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, নৌকার কলেবর বৃদ্ধি পায়, সব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার আনা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে ৫০ হাজার বই ও ১০০টিরও বেশি কম্পিউটার আনা হয়। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার উদারতায় এখন বাংলাদেশের ভাসমান স্কুলের শিক্ষার্থীরা সৌরশক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। এই বর্ষা এবং বন্যায় বিধ্বস্ত অঞ্চলেও শিশুরা শিক্ষা সুবিধা পেয়েছে।
'সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা' জাতিসংঘ পরিবেশ পুরস্কারসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পায়। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী তারা বছরে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা, তথ্য, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। বর্তমানে ২২টি স্কুলের নৌকায় প্রতিদিন তিন শিফটে ১ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে।

Wednesday, September 20, 2017



সত্যিই ভাববার বিষয়
মানুষ সোজা পথে চলতে চায় না,,তাই বাঁকা পথের প্রতি সবারই আগ্রহ বেশি!
যেমন- নূপুরের দাম হাজার টাকা হলেও,তার স্থান পায়ে!
আর মাত্র দুই টাকার টিপের স্থান কপালে!
লবণে কখনো পোকা ধরেনি!
কিন্তুু মিষ্টিতে প্রতিদিনই পোকা ধরে, পিঁপড়াও ছাড়েনা!
মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃত মানুষকে স্মরণ করা হয়,
আর মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়!
মদ বিক্রেতাকে কারো কাছে যেতে হয় না,
কিন্তু দুধ বিক্রেতাকে ঘরে ঘরে যেতে হয়!
আমরা সবসময় বলি দুধে পানি মেশাননি তো.....?
কিন্তু মদে নিজেরাই পানি মিশিয়ে খায় মদখোর গুলো!
মানুষকে জানোয়ার বললে ক্ষেপে যায়,আর বাঘ / সিংহ বল্লে খুশি হয়,
অথচ বাঘ,সিংহ এরাও জানোয়ার!!
সংগৃহিত
Image may contain: 1 person, smiling, text