Thursday, August 3, 2017

হজ থেকে সৌদি আরবের আয় কত ?

বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান প্রতিবছর হজ করতে যান সৌদি আরবে। এসময় দেশটির আর্থিক লেনদেনের হার বেড়ে যায় বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
সঙ্গত কারণেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা মুসলমানদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে কত আয় করে সৌদি সরকার? 
গেলো বছর মোট ৮৩ লাখ মানুষ হজ করতে যান। এরমধ্যে ৬০ লাখের বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করেন।
গেলো বছর হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া যারা হজ করতে সৌদি আরবে যান তারা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেন। মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন ৪৬০০ ডলার। তবে একেক দেশ থেকে আসা হজপ্রত্যাশীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ। যেমন ইরান থেকে আসা মানুষদের মাথাপিছু ৩ হাজার ডলার খরচ হয়। এরমধ্যে যাত্রা, খাওয়া, কেনাকাটা সব খরচই ধরা হয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশিদেরও মোটামুটি এরকমই খরচ হয়।
বিভিন্ন দেশে থেকে সৌদি আরবে হজ করতে আসা মুসলমানদের মধ্যে মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানের সংখ্যাই বেশি। সেখান থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রতিবছর হজে যান। এটা মোট হজপ্রত্যাশীর সংখ্যার প্রায় ১৪%।এরপরই রয়েছে পাকিস্তান (১১%), ভারত (১১%) ও বাংলাদেশ (৮%)। গেলো এক দশকে গড়ে ২৫ লাখ মুসলমান হজ করেছেন। নানা দেশ থেকে মুসলমানদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই ওমরাহ করেন। ৭ বছর আগে ওমরাহ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

‘হজের ভিসা জটিলতায় দায়ী এজেন্সি’:র্মমন্ত্রী

হজযাত্রীদের ভিসাসংক্রান্ত যে জটিলতা দেখা দিয়েছে এর জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। বলেছেন, তাদের গাফিলতির কারণেই দুর্ভোগে পড়েছেন হজযাত্রীরা। কোন কোন এজেন্সির গাফিলতি আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিহ্নিত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সরকার প্রতিটি হজযাত্রীকে যথাসময়ে পাঠানোর চেষ্টা করছে। দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, একজন হজযাত্রীও থাকবেন না, সবাই যেতে পারবেন। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানান, গত বছরের এই সময়ে ২৫ হাজার হজযাত্রী গিয়েছিলেন, এবার এই সময়ে গিয়েছেন ৩১ হাজার। সে হিসেবে হজযাত্রা এখনো সন্তোষজনক।আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে হজযাত্রী সবাই ভিসা পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সরকারের ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন মন্ত্রী।
নিয়মানুযায়ী হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার প্রথম দশ দিনেই অধিকাংশ হজযাত্রী চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। ৯১টি হজ এজেন্সির মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি ও ভিসা জটিলতার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনস পর্যাপ্ত হজযাত্রী পাচ্ছে না। গত পাঁচদিনে দুটি এয়ারলাইনসের ১৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পাঁচদিনে দুটি বিমান সংস্থার হজযাত্রী পরিবহন ক্ষমতা কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এক সংবাদ সম্মেলনে হজযাত্রী পাঠানো নিয়ে জটিলতার কথা জানান।

Wednesday, August 2, 2017

বৈধ ব্যবসায়ীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আনতে পারবে’

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যেসব গরু ব্যবসায়ী বৈধভাবে দেশে ভারতীয় গরু আনতে চায় আগামী কোরবানি ঈদে ভারতীয় গরু আনার ক্ষেত্রে সীমান্তে তাদেরকে কোন বাধা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) আধুনিকায়নে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবির সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেসব ঘাটাল রয়েছে সেসব ঘাটালের মাধ্যমে বৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। বাংলাদেশে যেসব গরু ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে চায় তাদের ব্যবসা করতে দেয়া হবে। এজন্য শুধুমাত্র তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।তিনি বলেন, ভারতীয় গরু আনার জন্য বাংলাদেশি রাখাল ও ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করতে পারবে না। তবে ভারতের ব্যাপারিরা জিরো লাইনে গরু নিয়ে আসলে নিয়ম অনুযায়ী এদেশের ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে আসতে পারবেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য অাধুনিকায়নসহ বিজিবিকে সময়ের সঙ্গে যুগোপযোগী গড়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০৪১ হাতে নেয়া হয়েছে। সেই ভিশনে অন্তর্ভূক্ত থাকবে বর্ডারগুলোতে সার্বক্ষণিক ও বিশেষ নজরদারির জন্য এ্যাডহক ভিত্তিতে রিজিয়ন সুজন, সন্ত্রাস ও চোরাচালান দমনে যৌথবাহিনী সম্বনয় করা, মাদক পাচারে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীদের সঙ্গে সুসর্ম্পক স্থাপন করা হবে। ‘এছাড়া সারাদেশে বিজিবির নতুন ৩টি সেক্টর, ৮টি ব্যাটারিয়ন স্থাপনসহ ৪টি রির্জাভ ব্যাটালিয়ন করা হবে। পুরো বর্ডার সুরক্ষার জন্য পাঁচ হাজার ফোর্স নিযোজিত রয়েছে ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। অাইনশৃঙ্খলাবাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সীমান্ত হত্যা বর্তমানে কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্ডারে গরু ব্যবসায়ী নিহতের সংখ্যাও এখন কমে এসেছে।’
সীমান্ত সুরক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতে ৯৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত রাস্তা এবং বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ২৮৫ কিলোমিটার রাস্তা ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ বর্ডার দিয়ে দেশিয় অস্ত্র ঢুকতে না পেরে সে ব্যাপারে বিজিবি সর্তক অবস্থানে বিজিবি রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কমাতে সমন্বিত টহল পরিচালনা, গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো জোরদার, প্রতিবেশী বাহিনীর সাথে সম্পর্ক গড়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকার জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলেন বিজিবির মহাপরিচালক।
৫৭ ধারায় মামলা নিতে অনুমতি লাগবে: আইজিপি‘
এই ধারা বাতিলের চেয়ে অপপ্রয়োগ ঠেকানো জরুরি: ওবায়দুল কাদের

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কোনো মামলা নিতে পুলিশ সদরদফতরের আইন শাখার অনুমতি লাগবে। ইতোমধ্যেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক পুলিশ সদরদফতরে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশের যে কোনো থানায় ৫৭ ধারায় মামলা নিতে হলে পুলিশ সদরদফতরের আইন শাখার অনুমতি লাগবে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যহার হচ্ছে অভিযোগ করে এই ধারাটি বাতিলে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন সাংবাদিকরা। এই আন্দোলনে অনেক সামাজিক সংগঠনও রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেয়া হলো।অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের চেয়ে এর অপপ্রয়োগ ঠেকানো জরুরি। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫৭ ধারা করা হয়েছিল। কিন্তু তুচ্ছ কারণে এর অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে কি না সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। মন্ত্রী বলেন, খুলনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা ও গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপপ্রয়োগ। এই অপপ্রয়োগ বন্ধ করা দরকার। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ ৪-এর আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট (উড়াল রেলপথ) ও নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে চার হাজার ২৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই প্যাকেজের ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইটাল-থাই) এবং চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। গত ৩ মে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি করা হয়। প্যাকেজ ২-এর আওতায় এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকায় মেট্রো রেলের ডিপোও নির্মাণ করবে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো।
প্রতিষ্ঠান দুটি বিমানবন্দর থেকে চিটাগাং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালপথ) নির্মাণ করছে। এ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকলেও, প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারের অগ্রাধিকারের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০ প্যাকেজে সাতটির ঠিকাদার সিনোহাইড্রো। প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজও করছে। এ দুটি প্রকল্পেই ধীরগতিতে কাজের অভিযোগ রয়েছে সিনোহাইড্রোর বিরুদ্ধে। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সকল নিয়মনীতি মেনে মেট্রোরেলে ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো।
গত নভেম্বরে মেট্রো রেল নির্মাণ এলাকা, মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও ভূগর্ভস্থ পরিসেবা লাইন স্থানান্তর কাজ শুরু হয়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ হচ্ছে। ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণকাজের কারণে একই রকম দুর্ভোগের শঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নগরবাসীর প্রতি একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্যাকেজ-৫ ও ৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাইকা। বাকি টাকা জোগাবে সরকার।

কম্বোডিয়া থেকে আসছে ১০ লাখ টন  

তবু আশানুরূপ কমছে না চালের দাম  

সরকারি গুদামে গত মাসে চাল ছিল এক লাখ ৯১ হাজার টন। বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে মজুদ বেড়েছে মাত্র ১৯ হাজার টন। অথচ গত বছর এ সময় মজুদ ছিল পাঁচ লাখ ৮২ হাজার টন। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ছয় লাখ ৯৬ হাজার টন; ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত লাখ ৯৭ হাজার টন; ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছয় লাখ ৫৮ হাজার টন; ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছয় লাখ ৯৯ হাজার টন এবং ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে চালের মজুদ ছিল নয় লাখ ৯৮ হাজার টন। অর্থাৎ গত পাঁচ বছর ধরে খাদ্য মজুদের পরিমাণ এই সময়ে কখনোই পাঁচ লাখ টনের নিচে নামেনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন চাহিদা অনুযায়ী কমপক্ষে ছয় লাখ টন চাল মজুদ থাকার কথা।
অন্যদিকে, চালের মজুদ বাড়াতে গত ২২ জুন চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে সরকার। তুলে নেয় ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি। এর আগে গত ১৯ জুন বিনা জামানতে চাল আমদানির সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাড়তে থাকে চাল আমদানি। গত মাসে বেসরকারি পর্যায়ে এক লাখ ২০ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে, যা প্রায় গত এক বছরের সমান আমদানি। গত অর্থবছরে এক লাখ ৩৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল। একইভাবে পাঁচ দেশ থেকে ১২ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত কোনো চাল গুদামে পৌঁছেনি।
ফলে গত জুনের শেষের দিকে সরকারি গুদামে তলানিতে নেমে আসা চালের মজুদ এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বাড়েনি। তারওপর কমেছে অভ্যন্তরীণ ধান উৎপাদন। গত কয়েক মাসে হাওরে বন্যা ও বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগের কারণে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন চাল নষ্ট হয়েছে। আর এসবের প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। প্রায় দেড় মাস ধরে চালের বাজারে দেখা দেওয়া অস্থিরতা কাটছে না। বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানি বাড়লেও আশানুরূপ কমছে না চালের দাম। এর আগে গত ২২ জুন আমদানি শুল্ক কমানোর সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, মোটা চাল কেজিপ্রতি ছয় টাকা করে কমবে। কিন্তু গত দেড় মাসে কমেছে গড়ে দুই টাকা করে। বিশেষ করে মোটা চালের দর কিছুটা কমলেও প্রায় আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সরু চাল। অথচ এর ফলে কেবল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়েনি; খাদ্যাভাব পূরণ করতে গিয়ে বেড়েছে আমদানি ব্যয়ও। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রমতে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে খাদ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর দৈনিক কেনাবেচার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার বাজারে মোটা চাল কেজি প্রতি ৪২ টাকা ও মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া টিসিবির মতে, মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৭ টাকা। তবে বাজারে গিয়ে টিসিবির মূল্য তালিকার মিল পাওয়া যায়নি।
চালের দাম কেন কমছে না জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানি করা চালের উচ্চমূল্যের প্রভাবে দেশি চালের দাম কমছে না। উপরন্তু ধানের দাম কিছুটা বাড়ায় চালের দাম ফের বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মায়ের দোয়া জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমদানির চাল বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় দেশি চালের দামও কমছে না। ইসমাইল অ্যান্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী ও চাল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারে চাল সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। মিল মালিকরা অর্ডার অনুযায়ী, এখন চাল দিচ্ছেন। মিল মালিকদের ওপর চালের দাম নির্ভর করছে। তবে আল্লাহর দান ট্রেডিংয়ের এক বিক্রেতা জানান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যে চাল আসছে তার দাম বেশি। ফলে দেশের বাজারে দাম খুব বেশি কমবে না।
চালের মজুদ বৃদ্ধি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, মজুদ বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু চাল দেশে এসেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রে দুই লাখ টন চাল কেনার জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এসব চালও শিগগিরই আসবে। ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে জিটুজিতে চাল আমদানির আলোচনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বেশি দরের কারণে দুই দেশের সরকারের কাছ থেকে চাল কেনা হচ্ছে না। গত সোমবার রাতে কম্বোডিয়ায় গেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি ভিয়েতনাম থেকে আরো আড়াই লাখ টন চাল আমদানির চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার । যেসব চালকল মালিক সরকারকে চাল দেয়নি, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহ চলছে। এ ব্যাপারে খাদ্য সচিব কায়কোবাদ হোসেন বলেন, খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কম্বোডিয়া গেছেন। সেখানকার অবস্থা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৯ আগস্ট খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা থাকবেন। মূলত সেখানেই চালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আশা করছি শিগগির চালের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
কিন্তু ব্যবসায়ী, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা আপাতত চালের বাজার স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমেও চাল কেনার প্রক্রিয়ায় কাক্সিক্ষত সাড়া মিলছে না। গত এপ্রিলে ৬টি দরপত্রের মাধ্যমে তিন লাখ টন চাল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এক কেজি চালও গুদামে ওঠেনি। এসব চালের দুটি চালান আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভিড়তে পারে। একইভাবে খাদ্য অধিদফতর সূত্রগুলো বলেছে, অভ্যন্তরীণ উৎস বা চালকলের মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের চিত্রও হতাশাজনক।
আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যে কম্বোডিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। দেশটির রাজধানী নমপেনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির অংশ হিসেবে চলতি বছরেই ২ লাখ টন সাদা চাল এবং ৫০ হাজার টন আধা সিদ্ধ চাল কিনবে বাংলাদেশ। কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক রয়টার্সকে বলেন, এই চুক্তির পর আগামী অক্টোবরের মধ্যেই এই আড়াই লাখ টান চাল আমরা বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারব।
বাংলাদেশকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে বন্যায় ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা এখন এই শস্যের অন্যতম বড় আমদানিকারকে পরিণত হয়েছে। হাওরে ফসলহানির পর বাংলাদেশে চালের মজুদ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীন বাজারে দাম বাড়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয় এতে।
কম্বোডিয়া সফররত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম রয়টার্সকে বলেন, বন্যার কারণে এ বছর আমাদের সমস্যা হয়েছে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা চু্ক্তি বাস্তবায়নে আমরা এখানে এসেছি।বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তিই কম্বোডিয়ার সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানির চুক্তি জানিয়ে রয়টার্স জানায়, দেশটি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬২ টন চাল রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। খরায় উৎপাদন ব্যাহত হলেও গত বছরে কম্বোডিয়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করেছে।
গতবছর এপ্রিলে যেখানে সরকারি গুদামগুলোতে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল ছিল, সেখানে এ বছর জুনে তা ১ দশমিক ৯৩ লাখ মেট্রিক টনে ঠেকেছে। ফলে ভরা মৌসুমেও বেশ কিছু দিন ধরে বাজারে চালের দাম বেড়ে চলেছে। ফসলহানীর পাশাপাশি ধানের দাম বেশি থাকার কথা বলে চালের বাড়তি দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় চাল আমদানিতে ২০১৫ সালে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া শুল্কহার এবার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এরপর সরকার ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি করে, যার মধ্যে দুই দফায় ইতোমধ্যে ৪৭ হাজার মেট্রিক টন চাল দেশে এসেছে।

Tuesday, August 1, 2017

৪০ হাজার যাত্রীর হজ অনিশ্চিত ?

ই-ভিসা ও পরিবহন জটিলতার সমাধান না হলে এ বছর ৪০ হাজার যাত্রীর হজ পালনে সৌদি আরব যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। রাজধানীর আশকোনা ক্যাম্পের হজ কার্যালয়ে ধর্ম ও বিমান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিমানমন্ত্রী। 
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘৪৫ হাজারের ভিসা হয়েছে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে এজেন্সিগুলো, তারা যাত্রী নিচ্ছে না। কেন? কারণ দেখা যাচ্ছে যে ওই ৪৫ হাজারের মধ্যে গ্রুপ যেটা আছে, সেই গ্রুপ হয়তো চারজনের গ্রুপ, সেখানে একজন নাই, সুতরাং তারা দিচ্ছে না। এটা তো বিমানের কিছু করার নেই। কারণ যাত্রী না পেলে তো কিছু করার নেই। টিকেট তো আমরা আগেই রেখেছি। দুই নম্বর হচ্ছে হজ এজেন্সিগুলোর এখনো অনেকেই বাড়িভাড়া করতে পারেনি বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে।’ 
বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও হাব কার্যালয়ের ধীরগতির সমালোচনা করেন রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রী জানান, সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। এদিকে গত সাত দিনে যাত্রী সংকটের কারণে মোট ১২টি হজ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
দুদকের হটলাইনে ব্যাপক সাড়া

চালু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সারাদেশের জনগণের কাছ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শুল্কমুক্ত হটলাইন নম্বর ১০৬-এর মাধ্যমে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, এই হটলাইনের মাধ্যমে কয়েক হাজার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ভূমি অফিসের ঘুষ সংক্রান্ত। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে হটলাইন চালুর ৫ দিনের মাঝেই দুর্নীতি ও অনিয়মের কয়েক হাজার অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে সারাদেশে বেশিরভাগ অভিযোগ এসেছে ভূমি অফিসের ঘুষ নিয়ে।
তিনি আরো বলেন, দুদকের হটলাইনের মাধ্যমে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য)-সহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো কর্মসূচিতে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন ব্যক্তির অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ ও নিজেদের ব্যক্তিগত ভূমির মালিকানার ওপর সমস্যা নিয়ে অভিযোগগুলো তালিকাভূক্ত করেছেন। তিনি জানান, দুদক কেবলমাত্র আইনের দ্বারা নির্ধারিত অভিযোগগুলোই বিবেচনায় নিয়েছে। গত ২৭ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই হটলাইন উদ্বোধন করেন।
শুল্কমুক্ত এই হটলাইনে সকল কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। দুদক অভিযোগের ধরণ ও প্রকৃতি নিয়ে একটা নীতিমালা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকারিদের পরিচয় গোপন রাখা।