Friday, May 12, 2017

এবার একযোগে সাইবার হামলায় আক্রান্ত বহুদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে, যাতে আক্রান্ত হয়েছে স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। বিবিসি জানিয়েছে, একটি ম্যালওয়্যার এসব সংস্থার নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি বার্তা দিচ্ছে। কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বিটকয়েনের মাধ্যমে ৩০০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে সেখানে। আক্রান্ত এসব কম্পিউটার স্ক্রিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করছেন ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইটালি, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে এই ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ওয়ানাক্রাই’ নামের পুরনো একটি ম্যালওয়্যারের নতুন কয়েকটি সংস্করণের মাধ্যমে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।
র‌্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যবহারকারীর কাজে বাধা দেয় এবং অনেক সময় হার্ড ড্রাইভের তথ্য একটি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে।
এর ফলে ব্যবহারকারী ওই কম্পিউটার ব্যবহার করতে গেলে তার কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হয়। 
এ ধরনের ম্যালওয়্যার কম্পিউটার ওয়ার্ম বা ট্রোজান ভাইরাসের মত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
জোসেফ পোপ নামের এক হ্যাকার ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মত র‌্যানসমওয়্যার তৈরি করেন যা ‘এইডস’ বা ‘পিসি সাইবর্গ’ নামে পরিচিতি পায়। ২০১৩ সালে র‌্যানসমওয়্যার ব্যবহার করে বিটকয়েন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের বেশ কিছু ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আসে।

সন্তানের ব্যথায় ডুকরে কেঁদে উঠল মা বানর!

সন্তানের প্রতি ভালোবাসা শুধু কি মানুষেরই আছে? এ প্রশ্নটির জবাব দিল এক মা বানর। নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে যথারীতি খেলা করছিল মা বানরটি। হঠাৎ করেই কোল থেকে পড়ে যায় বাচ্চাটি। উঠতেও পারছিল না। মা দৌড়ে এসে কোলে তুলে নেয় সন্তানকে। চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়ে মা।
ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যের জাবালপুর জেলায় হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ওই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন অবিনাশ লোধি নামের এক নারী। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ওই বানর শিশুটি সৌভাগ্যক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। ছবিটি আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
অবিনাশ বলেন, ‘ছবিটি আমার মনে গেঁথে গেছে, কারণ ফটোগ্রাফি জীবনে আমি এমন দুর্লভ কিছু দেখিনি।’ ‘ছবি তোলার এটা এতই দ্রুত ঘটে যায় যে, আমি বুঝতে পারিনি কী ঘটছে। পরে ছবিটি দেখে আমি এক ঘণ্টা নিশ্চুপ হয়ে ছিলাম। এমন ধরনের ঘটনা বিরল। বিশেষ করে পশুদের ক্ষেত্রে।’ ভারতের বিভিন্ন শহরে বানর দেখা যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বানরকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে দেখেন। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বানর ও হনুমান মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়। খাবারের সন্ধানে সেগুলো বিভিন্ন বাসাবাড়ি, এমনকি মানুষের ওপরও চড়াও হয়।

পাট থেকে পলিব্যাগ তৈরির প্রকল্প উদ্বোধন

পলিথিনের বিকল্প পচনশীল পলিব্যাগ তৈরির প্রকল্প উদ্বোধন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) তত্ত্বাবধানে পাটের তৈরি পলিব্যাগ উদ্ভাবন করেছে বিজেএমসির প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমদ। উদ্ভাবিত পলিব্যাগ পাইলট প্রকল্প পর্যায়ে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি।
রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে শুক্রবার সকালে পলিব্যাগ তৈরির প্রাথমিক পাইলট প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান, বিজেএমসি চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজেএমসির বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেছেন, সোনালি আঁশ পাটের উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহার উৎসাহিত এবং জনপ্রিয় করতে পাটচাষিদের সোনালি স্বপ্নপূরণে জোরদার পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার কাঁচা পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ, পাটজাত পণ্য রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বর্জনে  কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত এ পলিব্যাগ দেখতে প্রচলিত পলিথিনের মতোই হালকা, পাতলা ও টেকসই। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে। পাটের তৈরি পলিথিন মাটিতে ফেললে তা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ফলে পরিবেশ দূষিত হবে না। এই ব্যাগ দামে সাশ্রয়ী হবে। এভাবে পাটের ব্যবহার বাড়লে ন্যায্য দাম পাবেন কৃষক। অতীতের মতোই পাট দিয়েই বিশ্বে সুপরিচিত হবে বাংলাদেশ।
পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জানান, আগামীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাটের পলিথিন উৎপাদন শুরু করা হবে। তিন মাসের মধ্যে বিদেশ থেকে আনা হবে যন্ত্রপাতি। সবকিছু করা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে। সরকারিভাবে উৎপাদনের পর বেসরকারিভাবেও এই ব্যাগ উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হবে এই ব্যাগ। বাজারে যে পলিথিন ব্যাগ আছে তার চেয়ে দেড়গুণ বেশি টেকসই এবং ব্যবহার স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যাবে এই পাটের পলিথিনে।
বর্তমানে বিজেএমসির উদ্যোগে এই পচনশীল ব্যাগ তৈরির একটি সেমি অটোম্যাটিক পাইলট প্ল্যান্ট তৈরির কাজ চলছে। তবে বৃহৎ পরিসরে নতুন উদ্ভাবিত এই পাট পলিব্যাগ তৈরিতে দেশে বা বিদেশে কোনো মেশিন তৈরি হয়নি। তাই এ ধরনের মেশিন তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে কিছু ছোটখাটো মেশিন তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে বড় মেশিন তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হবে। এতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার পলিব্যাগ উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পটি সফলভাবে পরিচালন করা সম্ভব হলেই বাণিজ্যিকভাবে এই পলিব্যাগের উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের দূষণের পাশাপাশি নগরে জলবদ্ধতা তৈরির একটি মূল কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার। সস্তা ও অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় নানা সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এসব ব্যবহৃত পলিথিন সুয়ারেজ পাইপ, ড্রেন, নদী, নালা ইত্যাদিতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ তৈরির উদ্দেশ্যে পাট থেকে সেলুলোজ আহরণ করা হয়। ওই সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য পরিবেশবান্ধব দ্রব্যাদির মাধ্যমে কম্পোজিট করে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়। উৎপাদিত ব্যাগে ৫০ শতাংশের বেশির ভাগ সেলুলোজ বিদ্যমান। তাছাড়া এতে অন্য কোনো প্রকার অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার হয় না বিধায় এটি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
আবিষ্কৃত এই ব্যাগের ভার বহন ক্ষমতা পলিথিনের প্রায় দেড়গুণ এবং এটি পলিথিনের মতোই স্বচ্ছ হওয়ায় খাদ্য দ্রব্যাদি ও গার্মেন্টস শিল্পের প্যাকেজিং হিসেবে ব্যবহারের খুবই উপযোগী। তাছাড়া দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করায় এই ব্যাগের দাম প্রচলিত পলিথিন ব্যাগের কাছাকাছিই থাকবে। পাট থেকে আবিষ্কৃত পচনশীল পলিব্যাগ এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া এ ধরনের প্যাকেজিংয়ের বিদেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিজেএমসিতে এই পচনশীল ব্যাগ তৈরির একটি সেমি-অটোম্যাটিক পাইলট প্ল্যান্ট বসানোর কাজ চলছে। পাইলট প্ল্যান্টটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হলে বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যাগের উৎপাদন করার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

Thursday, May 11, 2017

কাঁঠালের ভেতর গাঁজা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক তরুণের কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি কাঁঠালের মধ্যে এই গাঁজা লুকানো ছিল বলে পুলিশের দাবি। বুধবার সন্ধ্যার দিকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম কবির হোসেন (২৩)। তার বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়।
সরাইল বিশ্বরোড মোড় হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল হাইওয়ে পুলিশ। এসময় সেখানে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থেকে এক তরুণ নামেন। অটোরিকশা থেকে নেমে বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল।
হাইওয়ে থানার পুলিশ বলেছে, তরুণকে সন্দেহ হলে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগে দুটি কাঁঠাল দেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তরুণ কিছুটা দূর এগিয়ে গেলে তাকে ডাকা হয়। ফের তার ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে আপত্তি জানায়। পরে তার ব্যাগ থেকে দুটি কাঁঠাল বের করা হয়। কাঁঠালের ভেতরে গাঁজা পাওয়া যায়।
সরাইল বিশ্বরোড মোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, কবির হোসেন নামের ওই তরুণের ব্যাগে থাকা দুটি কাঁঠালের মধ্যে ১০ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

জলবায়ু

বজ্রপাত : একটি নির্দয় প্রতিশোধ

‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’! প্রবচন যেন সত্যি হয়ে আসছে। মেঘ বৃষ্টি ছাড়াও বজ্রপাত হচ্ছে অহর্নিশ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বজ্রপাত! ভয়ংকর খবরটি হচ্ছে-প্রতিবছর বিশ্বে বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায় তার এক-চতুর্থাংশ মারা যায় বাংলাদেশে। দুর্যোগ তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ মৃত্যুর দেশ।
পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২৪৫ জন, ২০১৫ সালে ১৮৬, ২০১৪ সালে ২১০, ২০১৩ সালে ২৮৫, ২০১২ সালে ৩০১, ২০১১ সালে ১৭৯ জন বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, বুয়েট, দুর্যোগ ফোরাম, গণমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হিসাব মতে, গত ৬ বছরে সারাদেশে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। বজ্রপাতের এমন আচরণই বলে দিচ্ছে মানবজাতির কার্যক্রমের ওপর প্রকৃতি কতটা নাখোশ। মানুষের অধিক চাহিদা আর লোভে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের খেসারত হিসেবেই কি প্রকৃতির প্রতিশোধ এই বজ্রপাত? বিষয়টি এখন গভীরভাবে ভাবতে হবে।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কলিন প্রাইস তার ‘থান্ডারস্টর্ম, লাইটেনিং অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, ‘বায়ুদূষণ তথা পরিবেশ দূষণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বজ্রপাতের।’ এপ্রিল-মে মাসে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। এ সময়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারের ৪০টির বেশি বজ্রপাত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি কয়েক বছরে যে হারে বজ্রপাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ বজ্রপাতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গবেষণা তথ্য মতে, সাম্প্রতিকালে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বায়ু দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে মারা গেছে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। দুঃখজনক সত্যটি হলো, বাংলাদেশে বজ্রপাতের ওপর তেমন কোনো গবেষণা নেই।
বলা হয়ে থাকে বজ্রপাত প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি। তবে এটি মানুষের পরিচিত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর একটিও বটে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে বজ্রপাতের ও প্রাণহানির সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। এই অস্বাভাবিকতার কারণ হচ্ছে বায়ুম-লে কালো মেঘের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কালো মেঘ সৃষ্টির পেছনে বাতাসে নাইট্রোজেন ও সালফারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাসেও ঘটছে বজ্রপাত। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা বজ্রের শব্দ শুনলে আল্লাহর জিকির কর। জিকিরকারীর ওপর বজ্রপাত হয় না। আর কিয়ামত যত ঘনিয়ে আসবে ততই বজ্রপাতের ঘটনা বাড়বে। এমনকি এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে, আজ সকালে তোমাদের মধ্যে কার ওপর বজ্রপাত হয়েছে? জবাবে বলা হবে, অমুকের ওপর, অমুকের ওপর, অমুকের ওপর (আহমদ ও তাফসিরে ইবনে কাসির)।’ বজ্রপাতের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে এখন মোবাইল ফোন আছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক টাওয়ার রয়েছে। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। সন্ধ্যার পরে মানুষের ঘরের বাইরে অবস্থান বাড়ছে। বেশিরভাগ বজ্রপাতই হয় সন্ধ্যার দিকে। নদীর নব্যতা বিনষ্ট, জলাভূমি ভরাট, গাছ, বন-জঙ্গল ধ্বংস হওয়ায় দেশের তাপমাত্রা এক থেকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা আসার আগের মে মাসে তাপমাত্রা বেশি হারে বাড়ছে। এতে এই সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে ভেসে আসা আর্দ্র বায়ু আর উত্তরে হিমালয় থেকে আসা শুষ্ক বায়ুর মিলনে বজ্রঝড় সৃষ্টি হচ্ছে।
অনেকে বলছেন, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের তালিকায় নতুন সংযোজন বজ্রপাত। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের গড় হিসাবে দেখা গেছে, দেশে প্রতিবছর গড়ে দু’শ’ থেকে চারশ’জনের মৃত্যু ঘটে বজ্রপাতে। বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার অস্বাভাবিক অবস্থা বায়ুম-লে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। তারা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতোই ভয়ঙ্কর হতে পারে বজ্রপাত। গত ছয় বছরের পরিসংখ্যান তারই আভাস দেয়। ঘূর্ণিঝড়ে একই সময় একই জায়গায় অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে থাকে। আর বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষতির শিকার হয়। তাই বজ্রপাতের ভয়াবহতা খুব বেশি মানুষের চোখে পড়ে না। হাওর অঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় সেখানে বজ্রপাত বেশি হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। আসুন বজ্রপাত সম্পর্কে কিছু তথ্য জানি, বজ্রপাত মানে থান্ডার। বায়ুমন্ডলের ওপরের অংশে নিচের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকলে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে মেঘের প্রবাহ হয়। তখন এ ধরনের মেঘকে থান্ডার ক্লাউড বলে। মেঘের বিপুল শক্তিশালী বিদ্যুৎক্ষেত্র তার চারপাশের বাতাসের অপরিবাহী ধর্মকে নষ্ট করে দেয়, যাকে বলে উরবষবপঃৎরপ ইৎবধশফড়হি। মেঘে অবস্থিত বিদ্যুৎক্ষেত্র যখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয় (প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০,০০০ ভোল্ট) তখন তার আশেপাশের বাতাস পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়োনিত বাতাস প্লাজমা নামেও পরিচিত। বাতাস আয়োনিত হয়ে মেঘ এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্টসার্কিট তৈরি করে দিলে বজ্রপাত ঘটে। আকাশে যে মেঘ তৈরি হয় তার ২৫ থেকে ৭৫ হাজার ফুটের মধ্যে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। এখানে যে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয় তার তাপমাত্রা ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। বজ্রপাতের গতিও প্রতি সেকেন্ডে ৬০ হাজার মিটার। পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও ১০০ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। একেকটি বজ্রপাতের সময় প্রায় ৬০০ মেগা ভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য মাত্র ১০০ ভোল্ট বিদ্যুৎই যথেষ্ট। বজ্রপাতে মাত্র ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে একজন মানুষের মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। যদিও বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচা খুবই কঠিন। তবে সতর্ক হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যেতে পারে। একসময় দেশের বেশিরভাগ গ্রাম এলাকায় বড় গাছ থাকত। তাল, নারিকেল, বটসহ নানা ধরনের বড় গাছ বজ্রপাতের আঘাত নিজের শরীরে নিয়ে নিত। মনে রাখতে হবে আমরা বজ্রপাতের আওয়াজ শোনার আগেই তা মাটি স্পর্শ করে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করাও বিপজ্জনক। শুকনো কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিতে হবে। বজ্রপাতের সম্ভাবনা আবহাওয়া বিভাগের রাডারে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘নাউকাস্টনিং’ পদ্ধতিতে রেডিও, টিভি মিডিয়াতে প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়া অফিসগুলোর মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির রাডার ও ডফলার রাডার রয়েছে। বজ্রমেঘ তৈরির ৩০-৪৫ মিনিটের মধ্যে দিক ও সম্ভাব্য স্থান শনাক্ত করে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। তৎক্ষণাৎ সতর্কবাণী প্রচার করতে হবে। বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে, মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যবইয়ে পাঠদান জরুরি। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে। মেঘের ডাক শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় বেশি নিরাপদ। বাসা, অফিস কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হলে বিদ্যুতের সব সুইচ বন্ধ রাখুন এবং দরজা-জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখতে হবে। গাড়ির ভেতরও আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। গাছের নিচে, টেলিফোনের খুঁটির পাশে বা বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের খাম্বার পাশে দাঁড়ানো মোটেই নিরাপদ নয়। ফাঁকা মাঠের মধ্যে অবস্থান সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। পানির সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। বৃষ্টি ও মেঘের গর্জন না থামা পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে হবে। চলন্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে গাড়িতে অবস্থান করুন। বজ্রপাতের সময়ে আংটি, চাবি, কাস্তে, কোদাল, মোবাইল ইত্যাদি কমপক্ষে ৬০ ফুট দূরে রাখতে হবে। মাটির সঙ্গে সংযুক্ত ধাতব পদার্থে হাত বা হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না।
জেনে রাখুন, তালগাছ বজ্রপাত ঠেকায়! দেশের প্রায় সর্বত্রই তালগাছসহ বড় বড় গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। জনমনে প্রচলিত আছে, আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য কোনো বড় গাছের ওপর পড়ত। বজ্রপাতের রশ্মি গাছ হয়ে তা মাটিতে চলে যেত। এতে জনমানুষের তেমন ক্ষতি হতো না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা এর দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি।
লেখক:এস এম মুকুল; বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

ফেসবুকে ভুয়া খবর শনাক্তের ১০ উপায়

ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকায় পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া খবর সনাক্ত করতে ১০ টি পরামর্শ দিয়েছে ফেসবুক। খবরের শিরোনামের দিকে, বানান এবং ছবির দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে বলেছে। অনলাইনে, বিশেষ করে ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে নানা স্বার্থ উদ্ধারে ভুয়া খবরের উৎপাত নিয়ে দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে।
 
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একে একে বিভিন্ন সরকারও চাপ দিতে শুরু করেছে গুগল, ফেসবুক সহ ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। গত মাসে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী এমপি ডেমিয়েন কলিন্স ৮ই জুনের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভুয়া খবর ঠেকাতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। তারই প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের এই উদ্যোগ। দশটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের-
শিরোনাম নিয়ে সন্দিহান হতে হবে: ভুয়া খবরের শিরোনামগুলোতে চমক দেওয়া অবাস্তব কথাবার্তা থাকে । সাধারণত লেখা হয় ক্যাপিটাল লেটারে। শেষে দাড়ির বদলে একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন থাকে।
 
ইউআরএল লক্ষ্য করুন: সন্দেহজনক ইউআরএল অর্থাৎ ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখলে মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে পরীক্ষা করা উচিৎ।
 
খবরের সূত্র খেয়াল করুন: যে সূত্রে খবরটি আসছে সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য তা যাচাই করা জরুরী।
 
বানান বা ফরম্যাটিং খেয়াল করুন: ভুয়া খবর ছড়ানো ওয়েবসাইটগুলোতে বানান ভুল থাকে, খবরের ফরম্যাটে গণ্ডগোল থাকে।
 
ছবি লক্ষ্য করুন: ভুয়া খবরে ব্যবহৃত ছবি বা ভিডিওতে অনেক কারসাজি করা থাকে। সন্দেহ হলে যাচাই করা উচিৎ।
 
দিনক্ষণের দিকটি খেয়াল করুন: ভুয়া খবরগুলোতে অনেক সময় ঘটনার দিনক্ষণে পরিষ্কার অসঙ্গতি চোখে পড়ে।
 
প্রমাণ যাচাই করুন: লেখকের পরিচয় যাচাই করা উচিৎ। বেনামি সূত্রে লেখা কোনো সংবাদ নিয়ে সন্দিহান হতে হবে।
 
অন্য জায়গায় খবরটি দেখুন: অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যমে যদি সেই খবর প্রকাশিত না হয়, তাহলে সেটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবর।
 
খবরটি কি কৌতুক?: খবর কি আসল নাকি স্যাটায়ার অর্থাৎ কৌতুক সেটা বিবেচনা করা উচিৎ। যে সূত্রে খবর দেয়া হচ্ছে সেটি এই ধরণের কৌতুকপূর্ণ খবর ছড়ায় কিনা তা পরীক্ষা করা উচিৎ।
 
ইচ্ছে করে মিথ্যা ছড়ানো হয়: কোনো খবর পড়ার পর চিন্তা করুন। বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেই শুধু শেয়ার করবেন, অথবা নয়। 

Tuesday, May 9, 2017

২সহোদর সহ বজ্রপাতে সারাদেশে ১৯ জন নিহত

মঙ্গলবার সারাদেশে দিনব্যাপী বজ্রপাতে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহে ৩ জন, সিরাজগঞ্জে ১, সুনামগঞ্জে ১, ঝিনাইদহে ৩, মুন্সিগঞ্জের ১, হবিগঞ্জে ১, গাইবান্ধায় ১, চুয়াডাঙ্গায় ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন, চাঁদপুরে ২ জন ও নড়াইলে ১ মাদারিপুর ও গোপালগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ শহরের জিলা স্কুল মাঠে মঙ্গলবার দুপুরে ফুটবল খেলার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে মাহমুদুল হাসান তামিম নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্র মারা গেছে। এছাড়াও ধোবাউড়া উপজেলায় সকালে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত স্কুলছাত্রর সহপাঠী তাহা জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় দুপুরে মাঠে খেলতে আসে মাহমুদুল হাসান তামিমসহ সহপাঠী ও কয়েকজন বন্ধু। দুপুরে হালকা বৃষ্টির মধ্যে খেলছিল সবাই। বেলা ২টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তামিমের গুরুতর আহত হয়। পরে বন্ধুরা মিলে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিমকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত তামিম জিলা স্কুলের দিবা শাখার (সি গ্রুপ) নবম শ্রেণির ছাত্র। তার বাসা শহরের জামতলা এলাকায়।
এদিকে ধোবাউড়া উপজেলায় সকালে আকস্মিক বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও একজন আহত হয়। উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের রাউতি গ্রামে সকাল সাড়ে ১১টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- একই গ্রামের আ. মালেকের ছেলে এংরাজ মিয়া (৪০) ও আরশাদ মিয়া (৪৫)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন তিনজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বজ্রপাতে কহিনুর বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মাছুয়াকান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কহিনুর বেগম সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল হালিমের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা মোর্শেদ হাসান রাজিব জানান, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে ওই নারী মাঠ থেকে ছাগল আনতে যায়। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ
সুনামঞ্জ সদর উপজেলার বৈষারগাঁও গ্রামে বজ্রপাতে সাইফুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ডালিম (২৬) আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ও আহত ডালিম সদর উপজেলার বৈষারগাঁও গ্রামের আসাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে সাইফুল ও ডালিম বাড়ির পাশের মাঠে যায়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ডালিমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন।
 অপরদিকে একই উপজেলার সোনাপুর গ্রামে একই সময়ে জামেল (৩০) নামের এক গৃহবধূ বজ্রপাতে আহত হয়ে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু ও কালীগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন -হরিনাকুন্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে আমান উল্লা (৪৫) ও কালীগঞ্জ উপজেলার মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের শফিয়ার রহমানের স্ত্রী আনজু আরা (৪৫)।  মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনজু আরার ভাই শরিফ জানান, বিকেল ৩টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়। এ সময় তার বোন বাড়ির পাশে ধান গোছানোর কাজ করছিল। এ সময় বজ্রপাতে তার বোনের মৃত্যু হয়।
এদিকে হরিণাকুন্ডুতে নিহত আমান উল্লার ছোট ভাই আয়াতুউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার ভাই বিকেলে মাঠ থেকে ধান আনার সময় বজ্রপাতে মারা যায়।
অন্যজন হলেন মিরাজ (৩৫)। তার বাবা ইউসুফ আলী। হরিণাকুণ্ডুর পুলতা ডাংগা গ্রামে তার বাড়ি।
মুন্সিগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লস্করপুর এলাকায় আরিয়াল বিলে বজ্রপাতে মো. ভিখু (২৫) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।
ভিখু কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের সাংকু মিয়ার ছেলে। তিনি লস্করপুর গ্রামের জয়নাল শেখের বাড়িতে ধান কাটতে এসেছিলেন।
এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি এসএম আলমগীর হোসেন জানান, দুপুর ১টার দিকে আড়িয়াল বিল থেকে ধান কেটে গৃহস্থের বাড়িতে আসার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বজ্রপাতে আবদুল বাছিত (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বাছিত উপজেলা সদরের জাতুকর্ণপাড়ার মজম উল্লাহর ছেলে। 
এলাকাবাসী জানায়, বাছিত দুপুরে গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে ধান কাটতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামে নবচন্দ্র চন্দ (২৮) নামে এক ভ্যানচালক মঙ্গলবার সকালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। নিহত নবচন্দ্র ওই গ্রামের প্রেমাচন্দ্র চন্দের ছেলে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, নবচন্দ্র সকাল ১০টার দিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সময় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে পাশের দিঘিরহাট বাজারে যাওয়ার জন্য বের হন। বাড়ি থেকে সামান্য কিছুদুর যাওয়ার পর হঠাৎ বজ্রপাতের ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ভ্যানটিও বজ্রপাতে পুড়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে এক শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর ও কানাইডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কুতুবপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে সামাদ আলী (২৬) ও পাশের কানাইডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মালেক (৭)।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয় মুষুলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টির সাথে সাথে পড়তে থাকে বজ্রপাত। এ সময় কুতুবপুর গ্রামের মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হয় সামাদ আলী। প্রায় একই সময়ে পাশের কানাইডাঙ্গা গ্রামের বজ্রপাতে নিহত হয় শিশু আব্দুল মালেক। ঘটনার সময় ওই শিশু বাড়ির পাশে বাগানে আম কুড়াচ্ছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীণগরে বজ্রপাতে খোদেজা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খোদেজা বেগম ওই গ্রামের কবির মিয়ার স্ত্রী।
নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম শিকদার জানায়, দুপুরে প্রচণ্ড ঝড়ের সময় বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যাওয়া শিশুপুত্র রাকিবকে ডেকে আনতে যান খোদেজা। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
চাঁদপুর
চাঁদপুর সদরে বজ্রপাতে মা ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ঢালিরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঢালিরকান্দি গ্রামের দুলাল সর্দারের স্ত্রী সেলিনা বেগম সোভা (৩০) ও তার ছেলে ইয়াছিন সর্দার (১০)। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সাবেক মেম্বার নাছিমা বেগম জানান, বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন মা। আর ছেলে কল চেপে দিচ্ছিলেন।
এ সময় বজ্রপাতে মা-ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রায়হান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলার পাইকমারী গ্রামে বজ্রপাতে জুলফিকার আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে বজ্রপাতে শামীম খন্দকার (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সদর উপজেলার নিজড়া বটবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক ফরিদুজ্জামান জানান, বৃষ্টির মধ্যে ওই গ্রামের নিজেদের জমির ধান কাটতে ছিলেন শামীম খন্দকার। এ সময় হঠাৎ করে বজ্রপাত ঘটলে মারাত্মক আহত হন তিনি। পরে তাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে শামীম খন্দকার মারা যান। নিহত শামীম খন্দকার ওই গ্রামের আক্রাম খন্দকারের ছেলে।
মাদারীপুর
মাদারীপুরে বজ্রপাতে জসিম বেপারী (৩২) নামের এক ইটভাটার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই উপজেলার পাঁচখোলা এলাকার মজিবুর বেপারীর ছেলে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদারীপুর সদর থানার কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. আবু নাঈম বলেন, জসিম ইটভাটায় কাজ করত। সেখানে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।