Tuesday, May 9, 2017

ভুয়া খবর: কঠোর অবস্থানে ফেসবুক

কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া খবর ছড়ালে সে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক একে ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াই বলছে। এ লড়াইয়ে জয়ী হতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটটির কর্তৃপক্ষ। খবর ​এনডিটিভির।
যুক্তরাজ্যে আগামী ৮ জুন সাধারণ নির্বাচনের আগে যাতে ভুয়া খবর এসব অ্যাকাউন্ট থেকে না ছড়াতে পারে তাই আগাম ব্যবস্থা নিল ফেসবুক। এরআগে গত মাসে ফ্রান্সেও প্রায় ৩০ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা বলেছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
ভুয়া খবর শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে ফেসবুক। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভুয়া খবর শনাক্ত করতে খবরের শিরোনাম সম্পর্কে সন্দেহ করতে হবে এবং খবরের ইউআরএল বা লিংকটির দিকে ভালোভাবে তাকাতে হবে।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ভুয়া খবরের উৎস বা অ্যাকাউন্টগুলো কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে তারা যথেষ্ট উন্নতি করেছে। ফেসবুকের কর্মকর্তা সিমন মিলনার বলেন, সমস্যার গোড়ায় যেতে চান তারা। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে একত্রে ভুয়া খবর শনাক্তে কাজ করবেন। ভুয়া খবরের সমস্যা ঠেকাতে তারা সবকিছু করছেন।
সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার একটি আদালত ফেসবুককে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির আদালত সেখানকার এক রাজনীতিবিদকে নিয়ে পোস্ট করা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের নেটওয়ার্ক থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। অস্ট্রিয়ার গ্রিন পার্টির ইভা গ্লাবেশনিককে নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্টের ব্যাপারে করা মামলায় আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বৈশ্বিক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদেশে বলা হয়, ইভা গ্লাবেশনিকের বিরুদ্ধে করা পোস্ট ফেসবুককে অবশ্যই মুছতে হবে। এটি শুধু অস্ট্রিয়ার বন্ধ করে রাখলে হবে না, এটি বাইরের দেশেও যাতে না দেখা যায়, সেজন্য পুরোপুরি মুছতে হবে। 

১৫ শতাংশ ভ্যাট

দুর্ভোগ পোহাবে মানুষ, চাপে পড়বে অর্থনীতি

সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর সরকারের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও ব্যবসায়ীরা। উভয় পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন বাস্তবায়ন হলে ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়বে। কিন্তু সরকারের দাবি, ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে হিসাব রাখতে পারলে পণ্যের দাম বাড়বে না; বরং কমবে।
নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে উত্তপ্ত দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গন। শীর্ষ মহল থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরাও প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭ অথবা ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন গবেষকরাও ১০ শতাংশের মধ্যে ভ্যাট রাখার পক্ষে। নানাভাবে বিষয়টি সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে আন্দোলনের জন্য রাজপথে নামার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার অনড়। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আন্দোলন করেন, কিচ্ছু হবে না, যদি আপনারা আন্দোলন করেন, আমরা আন্দোলন দমন করব। শেষ পর্যন্ত বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।’
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ইউরোপের দেশগুলো কোনো পণ্যের চূড়ান্ত বিক্রেতা পর্যায়ে দশমিক ৮ শতাংশ হারে ভ্যাট নেয়। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার পণ্যে ৮০ পয়সা ভ্যাট। আমরা ৫০ পয়সা নিতে প্রস্তাব করেছি। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, ভোক্তার ওপর চাপও বাড়বে না। সরকার নতুন ভ্যাট আইন করেছে। কিন্তু এই আইনের প্রভাব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও ভোক্তার ওপর কতটা পড়বে, সে বিষয়ে কোনো গবেষণা করেনি। পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়। অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর এ সমস্যার সমাধান না করলে আমরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো অবশ্য ভ্যাট আইন সংশোধনের একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্র জানায়, শেষ অবধি ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১২ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। কারণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাটের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে। ফলে সরকার আইন সংশোধনের কথা ভাবছে।
ভ্যাটের হার নির্ধারণ বাস্তবসম্মত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এবং ১৪ মে ভ্যাট আহরণকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে যদি এ হার কিছুটা কমানো হয় তাহলেও তা ১২ শতাংশ কমের সুযোগ নেই। কারণ বাজেট বাস্তবায়নে ব্যয়ের সঙ্গে আয় বাড়াতে হবে। বাজেট ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংসদে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর সরকার। ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে গতকাল কথা হয় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদ-উন্নয়ন গবেষকদের সঙ্গে। তাদের মতে, ভ্যাট ১৫ শতাংশ হলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে। পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে, চাহিদা কমবে। শিল্পের উৎপাদনও কমে আসবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ওপর। নতুন ভ্যাট আইন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম কমবে। দেশীয় পণ্যের বিদেশি পণ্যের কাছে বাজার হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সরকার জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২৯ শতাংশ থেকে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সেজন্যই ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করতে চাইছে। কিন্তু ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর সরকারের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। এতে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ চাপের মধ্যে পড়বে। ব্যবসাব্যয় কমবে না। পাশাপাশি ভ্যাট আদায় পদ্ধতি নিয়েও ঝামেলা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া নতুন ভ্যাট আইনের ৮৩, ৯০, ৯১ ও ৯৯ ধারায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের সীমাহীন জুডিশিয়াল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এগুলো সংশোধন না হলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা তাদের।
নতুন ভ্যাট আইনের ১৫(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূসক (ভ্যাট) হার হইবে ১৫ (পনেরো) শতাংশ।’ অর্থাৎ অল্পকিছু পণ্য বাদে দেশের সব পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করবে সরকার। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন ঢালাও ভ্যাট হার নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে উৎপাদক ও বিক্রেতা সব পর্যায় মিলিয়েও ১৫ শতাংশ মুনাফা হয় না। সে ক্ষেত্রে সরকার ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট অনেক শিল্প ও সেবা খাত সংকটে পড়বে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। এই ভ্যাট ব্যবসায়ী বা পণ্য বিক্রেতার জন্য কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু কয়েক হাত ঘুরে যখন পণ্যটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে তখন সেই করের বোঝা তাকেই পরিশোধ করতে হবে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের এমন অভিমত মানতে নারাজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না। বর্তমান ভ্যাট আইনেও অধিকাংশ আইটেমের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট রয়েছে। শুধু ১৫টি সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপিত আছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কম মূল্যের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়, যা ট্যারিফ মূল্য নামে পরিচিত। বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেয় এবং উপকরণ কর রেয়াত নেয় তাদের নিজ স্তরে ভ্যাট দেওয়ার পরিমাণ ২ বা ৩ শতাংশের বেশি নয়। তাই বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত মূল্য বা ট্যারিফ মূল্য রয়েছে, নতুন ভ্যাট-ব্যবস্থায় সেসব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করে উপকরণ কর রেয়াত নিলে ওই স্তরে ভ্যাটের প্রকৃত ভার ২ বা ৩ শতাংশের বেশি হবে না। ফলে মূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। ঠিকভাবে হিসাবপত্র সংরক্ষণ করে উপকরণ কর রেয়াত নিয়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদানে কোনো ক্ষেত্রে মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে; কোনো ক্ষেত্রে মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে; আবার কোনো ক্ষেত্রে মূল্য কমতে পারে। তা ছাড়া নতুন ভ্যাট আইনে বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা বিক্রয়কারী সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে। তাই নতুন ভ্যাট ব্যবস্থায় ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট-সংক্রান্ত হিসাবপত্র রাখতে হবে না।
এনবিআরের এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন মূসক আইন বাস্তবায়িত হলে পণ্যের দাম শুরুতেই বেড়ে যাবে, যা ভোক্তাকে বেশ ভোগাবে। মূসকের জন্য বাড়তি টাকা দিতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি হবে। ১৫ শতাংশ মূসক একটু বেশি। এটা ১০ শতাংশ করা উচিত। একটি দেশের উন্নয়ন এবং সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে মূসক অবশ্যই জনগণ দেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু মূসক বাড়ানোর একটা যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে। যতটা সহনীয় মাত্রায় ধাপে ধাপে সেটা বাড়ানো যায় ততই মঙ্গল। তা না করে যদি এক লাফে ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সেটি অবিবেচনাপ্রসূত হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবশ্যই সরকারকে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।
একইভাবে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হলে পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি দুই-ই বাড়বে। ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে এবং এতে খুচরা বিতরণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনি বিকল্প চিন্তা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আর সর্বজনীন ভোগ্যপণ্যে ভ্যাট থাকা উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সর্বজনীন ভোগ্যপণ্যে ভ্যাট থাকা উচিত নয়। এসব পণ্যে ভ্যাট নেওয়া কষ্টকর। যৌক্তিকভাবে এসব পণ্যে ভ্যাট থাকার কথা নয়। ১৫ শতাংশ হারে যদি ভ্যাট সব পণ্য বা সেবার ওপরে আরোপ করা হয় তাহলে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে যাবে। ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে। ফলে সরকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

লেখকঃ প্রতীক ইজাজ

স্কুল ম্যাডামের প্রেমে পড়া ছেলেটিই 

আজ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইমানুয়েল মাক্রোঁ। জীবনে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েই ৩৯ বছর বয়সে মাক্রোঁ অনন্য এ গৌরব অর্জন করলেন। বহুল কাঙিক্ষত সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেরিন লি পেনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ছেলেবেলার সেই দুর্দান্ত প্রেমিক ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
১৯৭৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ইমানুয়েল মাক্রোঁ ফ্রান্সের অ্যামিনিস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশ চঞ্চল ও স্মার্ট ছিলেন। চেহারাও খারাপ ছিল না। সব মিলিয়ে তিনি বেপরোয়া প্রেমিক হয়ে ওঠেন। স্কুলে পড়ার সময় ১৬/১৭ বছর বয়সী মাক্রোঁ তার শিক্ষাগুরু এক ম্যাডামের প্রেমে পড়ে যান। যেন-তেন প্রেম নয়, পাক্কা পাগল পাড়া প্রেম।
 
সেই ম্যাডামের নাম ব্রিজিত ট্রংনিউ। তিনি ছিলেন তিন ছেলের মা। তার প্রেমে হাবু-ডুবু খেতে থাকে কিশোর মাক্রোঁ। বয়সে ২৫ বছর বড় ব্রিজিতকে একদিন কিশোর ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেই বসলেন, তুমি যাই বলো, আমি তোমাকে বিয়ে করবোই।'
এ নিয়ে মাক্রোঁ'র পারিবারে ঝামেলাও কম হয়নি। এমন অসম প্রেম থেকে মাক্রোঁকে দূরে সরানোর বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তার পরিবার। মাক্রোঁর পরিবার থেকে ব্রিজিতকে বলা হয়েছিলো- 'মাক্রোঁর বয়স ১৮ বছর না হাওয়া পর্যন্ত তুমি ওর কাছ থেকে দূরে থাকো।'
 
শেষ পর্যন্ত কোনো ছলা-কলাই কাজ হয়নি। প্রেমের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে অবশেষে ২০০৭ সালে দু'জনের বিয়ে করেন। স্কুল ম্যাডামের গহীন প্রেমে পড়া সেই ছেলেটিই এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। আর ৬৪ বছর বয়সী ব্রিজিতই হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি।
এদিকে, ব্রিজিতের ছেলেরা এখন বড় হয়ে গেছেন। তিনজনের মধ্যে একজন প্রকৌশলী, একজন রোগ বিশেষজ্ঞ এবং তৃতীয় ছেলে আইনজীবী। শুধু তাই নয়, ছয় নাতি-নাতিনির দাদি এখন ব্রিজিত ট্রংনিউ।
 
২০১৫ সালের এক গ্রীষ্মে স্পেনের রাজা ও তার স্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রথম মাক্রোঁ-ব্রিজিত দু'জনে এক সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন। সেই ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
 
জীবনের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ব্রিজিত একটি ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে মাক্রোঁ সম্পর্কে ব্রিজিত বলেন, 'শুধু রাজনীতিতে নয়, সে সব কিছুতেই ভালো। আমি এমন কোনো বিষয় খুজেঁ পাইনি, যেখানে সে ভালো নয়।'
 
কত বৈচিত্র্য আর সংগ্রামী ইতিহাস যে মানুষের জীবনে রচিত হতে পারে- তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত মাক্রোঁ-ব্রিজিত জুটির জীবন-কাহিনী।
 
ইমানুয়েল মাক্রোঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
 
* ২০০৪ সালে পড়ালেখা শেষ করে ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থায়ন পরিদর্শক হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।
 
* ২০০৬ সালে তিনি সোস্যালিস্ট পার্টির (পিএস) সদস্য হন। ২০০৯ সালে পার্টি ত্যাগ করে স্বাধীন রাজনীতিক হন।
 
* ২০০৮ সালে তিনি বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
 
*  পরবর্তীতে তার রাজনীতিক ক্যারিয়ার আরো উন্নত হয়। ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।
 
* ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ইমানুয়েল মাক্রোঁ একটি সোস্যাল লিবারেল পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। যার নাম দেন 'এন মার্কে'। পরে তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে ওই বছর নভেম্বরে আসন্ন ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি।

আজ  কি জন্মদিন তোমার ?

মাইলসের শাফিন আহমেদের সেই জনপ্রিয় গানটি ছিলো-
আজকের আকাশে অনেক তারা
দিন ছিল সূর্য্যে ভরা
আজকের জোছনাটা আরো সুন্দর
সন্ধ্যাটা আগুন লাগা
আজকের পৃথিবী তোমার জন্য
ভরে থাকা ভালো লাগায়
মুখরিত হবে দিন গানে গানে
আগামীর সম্ভাবনায়
তুমি এইদিনে পৃথিবীতে এসেছো
শুভেচ্ছা তোমায়
তাই অনাগত ক্ষণ হোক আরো সুন্দর
উচ্ছ্বল দিন কামনায়
আজ জন্মদিন তোমার।।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিদের জন্য আজকের দিনটি মনে রাখার মতো। জাতীয় দলের টেস্টের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের জন্মদিন আজ। ১৯৮৮ সালের ৯ মে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ ২৯ বছর পূর্ণ করলেন মুশফিক। তার এই শুভ জন্মদিনে প্রতিদিনের সংবাদ অনলাইনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
টাইগার এই ব্যাটসম্যানের জন্মদিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের ফেসবুক পেইজে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছে। এক সময় দেশের সব ফরম্যাটের অধিনায়কও ছিলেন। পরে মাশরাফিকে ওয়ানডে ও সাকিবকে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব দিয়ে তাকে শুধু টেস্টের অধিনায়ক রাখা হয়।
২০০৬ সালে ৬ আগস্ট হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুশফিকের। অবশ্য তার আগেই ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। জাতীয় দলের হয়ে ১৬৮টি ওয়ানডে খেলে ইতিমধ্যে ৪ হাজার ১শ ১৯ রান করেছেন তিনি। যার মধ্যে চারটি সেঞ্চুরি ও ২৩ টি অর্ধশতক রয়েছে ডানহাতি উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যানের।
এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪ টেস্ট খেলে তিন হাজার ২শত ৬৫ রান করেন মুশফিক। পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ১৭ টি হাফ সেঞ্চুরির মধ্যে একটি ডাবল সেঞ্চুরিরও রেকর্ড রয়েছে তার।

এফবিআই প্রধান জেমস কোমি বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ বলছে, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের স্পষ্ট সুপারিশের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করছিলেন কোমি। নির্বাচনের আগেও তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইলের বিষয়ে তদন্তকে কেন্দ্র করে জেমস কোমিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের কাছে দেয়া বক্তব্যে কোমি ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে খবর বের হয়।
কোমির উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বিচার বিভাগের সাথে তিনি একমত যে কোমি এফবিআইকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম নন এবং সেখানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।তবে আকস্মিক এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কোমির বরখাস্তের বিষয়ে তাদেরকে আগে থেকে কোন ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। কোমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সাথে রাশিয়ার যোগাযোগের বিষয়ে একটি তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। 
মার্কিন রাজনীতিবিষয়ক সংবাদ সংস্থা, পলিটিকোর প্রতিবেদক ড্যানিয়েল লিপম্যান বলেন, কোমির পরিবর্তে কে আসবেন, তার ওপরে অনেক কিছুই নির্ভর করছে। ওয়াশিংটনের সবাই এখন ভাবছে, এফবিআইয়ের নতুন পরিচালক কি ট্রাম্পকে জবাবদিহিতার মুখে নিতে পারবেন এবং তার রুশ সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে কি একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন? যদি এখন ট্রাম্পের নিজের কোন লোককে বসানো হয়... তাহলে অনেক আমেরিকান এখন এফবিআইকে যতটা অবিশ্বাস করে, তার চেয়ে আরও বেশি করবে।
৫৬ বছর বয়স্ক কোমিকে চার বছর আগে এফবিআই-এর পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এবং তার মেয়াদ শেষ হতে ৬ বছর বাকি ছিল। নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের কিছুদিন আগে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন। যদিও পরবর্তীতে সেটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল না বলে প্রমাণিত হয়। সেসময় ডেমোক্র্যাটরা তার কড়া সমালোচনা করে। কিছুদিন আগে হিলারি ক্লিনটনও তার পরাজয়ের পেছনে কোমির সেই ভূমিকাকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

টিসিবি নির্ধারিত মূল্যে পাঁচ পণ্যঃ কবে, কোথায় পাবেন

রমজান সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশের ১৮৫টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিপণন কেন্দ্রে সয়াবিন তেল, চিনি, মশুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবি।
১৫ মে থেকে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ৬ দিন নির্ধারিত মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে বলে মঙ্গলবার টিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।এর মধ্যে চিনি ৫৫ টাকা, সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মশুর ডাল ৮০ টাকা ও খেজুর ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে বলে টিসিবি জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, ঢাকায় ৩০টি স্থানে, চট্টগ্রামে ১০টি স্থানে, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং বাকি জেলা সদরগুলোতে ২টি করে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা হবে।এছাড়া টিসিবির নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ও ২ হাজার ৮১১ জন পরিবেশকের কাছ থেকেও ভোক্তারা পণ্য কিনতে পারবে।
একজন ভোক্তা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৩ কেজি মশুর ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৫ কেজি ছোলা ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি তিনশ থেকে চারশ কেজি চিনি, আড়াইশ থেকে তিনশ কেজি মশুর ডাল, তিনশ থেকে চারশ লিটার সয়াবিন তেল, তিনশ থেকে চারশ কেজি ছোলা এবং বিশ থেকে ত্রিশ কেজি খেজুর বরাদ্দ থাকবে।
এছাড়া নিয়মিত পরিবশকরা পাঁচশ থেকে চয়শ কেজি চিনি, তিনশ থেকে চারশ কেজি মশুর ডাল, তিনশ থেকে চারশ কেজি সয়াবিন তেল, পাঁচশ থেকে ৬শ কেজি ছোলা পাবেন।
ঢাকায় টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রিয় কেন্দ্র
১. সচিবালয়ের গেইট, ২. প্রেস ক্লাব, ৩. কাপ্তান বাজার, ৪. ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী মোড়, ৫. সাইন্সল্যাব মোড়, ৬. নিউমার্কেট/নীলক্ষেত মোড়, ৭. শ্যামলী/কল্যাণপুর, ৮. ঝিগাতলা মোড়, ৯. খামারবাড়ি, ১০. কলমীলতা মোড়, ১১. রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, কচুক্ষেত, ১২. আগারগাঁও তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস, ১৩. আনসার ক্যাম্প, মিরপুর পাইকপাড়া, ১৪. মিরপুর-১ নং মাজার রোড, ১৫. শান্তি নগর বাজার, ১৬. মালিবাগ বাজার, ১৭. বাসাবো বাজার, ১৮. বনশ্রী, ১৯. বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, ২০. মহাখালী কাঁচাবাজার, ২১. শেওড়াপাড়া বাজার, ২২. দৈনিক বাংলা মোড়, ২৩. শাহজাহানপুর বাজার, ২৪. ফকিরাপুল বাজার, ২৫. মতিঝিল বক চত্বর, ২৬. খিলগাঁও তালতলা বাজার, ২৭. রামপুরা বাজার, ২৮. মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, ২৯. আশকোনা হাজিক্যাম্প, ৩০. মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, ৩১. দিলকুশা, ৩২ মাদারটেক নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে ও পলাশী মোড়ে।

গ্রীষ্মের শুরুতেই ডায়রিয়ার প্রকোপ

ঘণ্টায় কলেরা হাসপাতালে ২৪ রোগী ভর্তি

চলছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। আর সেই গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে রাজধানীসহ সারা দেশে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ এবং পেটের পীড়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। গরমের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) বা কলেরা হাসপাতালেই প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ২৪ জন রোগী। ফলে রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে ভেতরে জায়গা দিতে না পেরে বাইরে তাঁবু টাঙিয়ে চিকিৎসা সেবার প্রস্তুতি চলছে। এভাবে চললে শিগগিরই ছাড়িয়ে যাবে রোগী ভর্তির আগের সব রেকর্ড।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর কলেরা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ডায়রিয়া-কলেরার উদ্বেগজনক চিত্র। কেন্দ্রের বাইরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় আছেন রোগীর স্বজনরা। কেউ পায়চারী করছেন, কেউবা ছুটছেন এদিক-ওদিক। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ও নারী-পুরুষের মিছিলে তাদের স্বজনরাও যেন দিশাহারা। হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা আর কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন রোগী সেবা আর তাদের স্বজনের ভিড় সামলাতে।
হাসপাতালের করিডরে কথা হয় ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আসা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, সাড়ে তিন বছরের ছেলে তামিম দুপুরে কাঁঠাল খেয়েছিল। রাতেই শুরু হয় পাতলা পায়খানা আর বমি। দুই দিন আগে ভালুকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা ঢাকায় কলেরা হাসপাতালে পাঠান। এখন অবস্থা একটু ভালো।
৯ মাসের মেয়ে মৌরীকে নিয়ে উত্তরা থেকে এসেছেন অবদুর রহমান। আর  ১০ বছরের নেহাকে নিয়ে এসেছেন তার বাবা মো. পারভেজ। দুজনেই জানান, দুই দিন আগে গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাদের মেয়ে। এরপর ঘরোয়া চিকিৎসার পর তাদের আনা হয় হাসপাতালে।
বাবা আবদুল কুদ্দুসকে নিয়ে এসেছেন বাবু নামের একজন। তিনি জানান, প্রচ- গরমে তার বাবা রাস্তার ধারের শরবত খেয়েছিলেন। এর পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় বরিশাল থেকে আসা গৃহবধূ আসমার সঙ্গে। তিনি জানান, গত সোমবার সকাল থেকে দেড় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে এখানে আছেন। এর আগে রোববার বাড়িতে বমি শুরু হয়, সঙ্গে খিঁচুনি ও পাতলা পায়খানা। স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে কলেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতার রোগীরা চিকিৎসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেকটা সুস্থ হয়ে যায়। তখন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এ রোগীর ছুটি দিয়ে দেয়।
কলেরা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ থেকে ৯ মে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১০, ৫৮৭, ৫৭৬ জন ও ২৩৮ জন। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে এ হাসপাতালে। এসব রোগীরা ডায়রিয়া-আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগ হাম, জলবসন্ত, টাইফয়েড ও জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গত বছরগুলোর তুলনায় এই হার বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ায় লোকজন রাস্তার ঠা-া খাবার বিশেষ করে শরবত ও নানা ধরনের পানীয় পান করছে। গরমের এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা উৎস থেকে সংগ্রহ করা পানির সঙ্গে নোংরা পানি দিয়ে তৈরি বরফ মেশানো শরবতের নামে এসব বিষাক্ত পানীয় খেয়ে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই।
রাস্তায় পানীয় শরবত প্রসঙ্গে আইসিডিডিআরবি বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা বলছেন, এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত খেয়ে ডায়রিয়া, হাম, জলবসন্ত, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি এবং সি’সহ পেটের নানারকম রোগ দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে লিভার ও কিডনির। পানীয়টাকে মুখরোচক করার জন্য ব্যবসায়ীরা এতে যোগ করেন নানা রকম রং আর স্যাকারিন। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের প্রধান নার্স মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘কলেরা কট (ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য বিশেষ বিছানা) রোগীর জন্য ভালো। আমরা রোগীর সংখ্যা বাড়লে এ শয্যাগুলো ব্যবহার করি। রোগী বাড়লে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেবা দিতে চেষ্টা করি। রোগীর ভিড়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বারান্দায়ও বসানো হচ্ছে কলেরা কট।’
এসব বিষয়ে কথা হয় হাসপাতালটির ডায়রিয়াল ডিজিজ ইউনিটের প্রধান ও আইসিডিডিআরবির প্রধান চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম খানের সঙ্গে। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে আমরা প্রস্তুত। কলেরা কটের মাধ্যমে ৬৫০ জন রোগীকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বারান্দায় চিকিৎসা দিতে পারি। রোগীর সংখ্যা বেশি হলে তাঁবু টাঙিয়ে চিকিৎসা চলবে।’ রোগী মৃত্যুর হার সম্পর্কে তিনি জানান, ডায়রিয়াজনিত কারণে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। মৃত্যুর হার ০.১ শতাংশ। তবে ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতার কোনো রোগী এখানে এলে মারা যায় না।
ডা. আজহারুল ইসলাম খান আরো বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষ মূলত বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকে। তারাই সাধারণত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাই বেশি গরমে যেমন বেশি করে পানি খেতে হবে, তেমনি ওই পানি যদি বিশুদ্ধ বা নিরাপদ না হয়, সেই জীবন রক্ষাকারী পানিই তখন জীবন নাশের কারণ হতে পারে।’