Friday, February 3, 2017

‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন’

নতুন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) কারা থাকছেন তা জানতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'যথা সময়েই মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।' বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
৩১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের পর গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার কমিশনার পদে পাঁচটি করে নাম নিয়েছে। দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া নাম থেকেই বাছাই করে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি।
নির্বাচন কমিশন গঠন রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার— একথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ায় শাসক দল আওয়ামী লীগের কোনো ভূমিকা নেই। অন্যান্য দল সার্চ কমিটির কাছে যেভাবে নাম প্রস্তাব করেছে, আওয়ামী লীগও সেভাবেই নাম দিয়েছে।
সার্চ কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'সার্চ কমিটির কেউ কোনো দলের সদস্য নন। তারা সবাই নিরপেক্ষ।'
কমিটির প্রস্তাবিত নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে কি-না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নাম মিডিয়াতে আসবে কি-না তা বঙ্গভবন কিংবা সার্চ কমিটি বলতে পারবে।'
তবে প্রস্তাবিত নামগুলো গণমাধ্যমে আসা উচিত নয়— এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের দেশের কালচার হলো ১০/২০ মিলে কোনো মিটিং করি, বলা থাকে কেউ মিডিয়াতে কিছু বলবেন না। কিন্তু কোনো কিছু কি গোপন থাকে?'
এছাড়া রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটি কার কার নাম প্রস্তাব করবে সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

রিমান্ডে জামায়াতের ২৮ নারী

বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আটক জামায়াতের ২৮ নারী কর্মীকে ২ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।শুক্রবার তাদের ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন প্রত্যেকের ২ দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। 
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুর থানার তাজমহল রোডের ১১/৭ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ওই নারীদের আটক করে পুলিশ। আটকের পর মোহাম্মাদপুর জোনের সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুক জানান, আটকরা জামায়াত ও ছাত্রী সংস্থার সঙ্গে জড়িত।
শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গোপন বৈঠকে সরকার উৎখাত ও বড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল আটক জামায়াতের নারী কর্মীরা। তেজগাঁও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন থেকে ওই বাসায় গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছিলেন জামায়াতের মহিলা রোকনরা। আটক হওয়া নারীরা নাশকতার মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তিরা ওই বাসায় যাতায়াত করে বলে গোপন তথ্য ছিল। পুলিশ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ে। এ সময় তারা কেউই দরজা খুলে দিচ্ছিলেন না। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে দরজা খুলে দেয়া হয়। এরপর ওই ফ্ল্যাট থেকে ২৮ নারীকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, আটক নারীরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ডাক্তার রয়েছেন। এছাড়া তাদের মধ্যে অনেক নারী দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ডিসি বিপ্লব আরও বলেন, আটকের সময় নারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বই, লিফলেট ও নাশকতার পরিকল্পনার নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে কেউ কেউ প্রকৃত পরিচয় গোপনের চেষ্টা করছিল। তাদের আদালতে নেয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে সঠিক পরিচয় ও তাদের বৈঠকের রহস্য।

Thursday, February 2, 2017

শব্দদূষণ:আমি এবং আমরা

আমরা রাগ-অনুরাগ, আদর-আবদার, উপদেশ-নির্দেশ প্রকাশ করি শব্দের মাধ্যমে, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের জন্য শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মতোই প্রয়োজনীয়। শব্দের এই প্রয়োজনীয়, নিরীহ, সহনীয় ও রোমান্টিক রূপ সব সময় বজায় থাকলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমরা এক অসহনীয় শব্দের সঙ্গে বসবাস করছি।
পরিবেশবিজ্ঞানের ভাষায়, ভৌত পরিবেশে সহনক্ষমতা বহির্ভূত অপেক্ষাকৃত উচ্চ-তীব্রতাসম্পন্ন শব্দের উপস্থিতিতে জীব-পরিবেশ তথা মানুষের ওপর যে অসংশোধনযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি হয়, সেই পরিবেশ সংক্রান্ত ঘটনাকে ‘শব্দ দূষণ’ বলে। মানুষ বাড়ছে। রাস্তায় নামছে নতুন গাড়ি। গাড়ির চাহিদার জোগান দিতে বেড়েছে শব্দদূষণের মাত্রাও। শব্দদূষণ এক মহামারী আকার ধারণ করেছে। শব্দদূষণ রোধে আইন থাকলেও তা যেন ‘কাজীর গরু, কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’। ২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলা) শব্দদূষণ বন্ধে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। উচ্চ আদালত হাইড্রোলিক হর্ন এবং বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী যেকোনো ধরনের হর্ন সংযোজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং গাড়িতে বাল্ব-হর্ন সংযোজনের নির্দেশ দেন। এরপরও আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে।
রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরই এখন নীরব ঘাতক শব্দদূষণের কবলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ রাজধানী ঢাকায় ১০৭ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দ সৃষ্টি হচ্ছে। আসলে দেশে অসংখ্য দৃশ্যমান সমস্যা আছে। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে আমরা এখনো পড়ে আছি। তাই নীরব ঘাতক শব্দদূষণ নিয়ে কে চিন্তা করবে? আবার বেশিরভাগ লোকই না বুঝে, অসচেতনভাবেই অমন কাজ করে। রাস্তায় হর্ন, অযথা মাইক বাজিয়ে ক্যাম্পেইন, ভিক্ষা, জোরে আওয়াজ দিয়ে গান শোনা, শব্দ করে হাঁটা এবং অতি বিশেষ ব্যক্তিদের জন্মদিনে মাইকে তাদের জন্য গান, বক্তৃতার রেকর্ড বাজানো—এমন ছোটখাটো কিছু দূষণ, যা আমরা সহজেই ত্যাগ করতে পারি। কিন্তু আমরা নিজেরাই এ ব্যাপারে সচেতন নই। যেসব আইন আছে, সেসব আইন প্রয়োগ করি না এবং কখনো কখনো নিজেও ভঙ্গ করে বসি।
উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে বাস করতে করতে মানুষের স্বভাবও খিটখিটে হযে যায়। এ নিয়ে অনেক সময় পারিবারিক বিপর্যয়ও নেমে আসে। একজন অস্ট্রেলীয় ভদ্রলোক প্রায়ই তার পাশের বাড়ির টিভি থেকে ভেসে আসা অস্ট্রেলিয়ান অপেরার ‘থিম সং’-এর উচ্চ শব্দে বিরক্ত হতেন। ক্রমেই সেই সঙ্গীত তার কাছে এমনই যন্ত্রণায় রূপান্তরিত হলো যে, একদিন তা সহ্য করতে না পেরে তিনি তার প্রতিবেশীকে খুন করে বসলেন। ১৯৯২ সালে ঘটা ওই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যাচ্ছে না। কারণ, ‘রাইট টু পিস অ্যান্ড কোয়ায়েট ক্যাম্পেইন’-এর মতে, এই নয়েজকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনে প্রতি বছরই অন্তত পাঁচজন খুন হয়। ভারতের কানপুরে এ ধরনের আরেকটি হত্যার ঘটনায় রেল কলোনির ছাদের ওপর কয়েকটি ক্রীড়ারত শিশুর কোলাহলে দ্বিপ্রাহরিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় একজন কনস্টেবল দুটি বাচ্চাকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলে। এতে একজনের মৃত্যু হয় এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়। আমেরিকায় এমন এক ঘটনায় ক্রীড়ারত শিশুর ওপর বিরক্ত হয়ে গুলি করে বসেন একজন প্রতিবেশী। আসলে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ যদি আমরা দিনের পর দিন শুনতে বাধ্য হই, তাহলে সেই শব্দের দূষণও অন্যান্য পরিবেশ দূষণের মতো মারাত্মক হয়ে ওঠে। আমাদের শরীর ও মনের মাঝে দূষণ যে তীব্র প্রভাব ফেলে, এসব ঘটনাই তার সাক্ষ্য বহন করে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে রয়েছে বেশ কিছু আইন ও নীতিমালা। কিন্তু নাগরিক এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে সেগুলো প্রয়োগ হচ্ছে না। শব্দদূষণের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শহরকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে—নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, শিল্প এলাকা এবং বাণিজ্যিক এলাকা। এসব এলাকায় দিন ও রাত ভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর পুলিশ অর্ডিন্যান্স-১৯৭৮-এর ২৫ অনুচ্ছেদের ‘ছ’ উপানুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাস্তায় বা জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে হর্ন, উচ্চৈঃস্বরে সঙ্গীত, বাদযন্ত্র, ঢাক পেটানো ইত্যাদির মাধ্যমে জনসাধারণের অথবা নিকটবর্তী বাসিন্দাদের প্রতিবন্ধকতা ও বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারেÑ এমন কাজের জন্য পুলিশ কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারসহ যেকোনো শাস্তি প্রদান করতে পারেন।’
এরপর ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শব্দদূষণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবল এবং রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবল। এই বিধির আওতায় স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং অফিস-আদালতকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের চতুর্দিকে ১০০ গজের ভেতরে কোনো ধরনের হর্ন বাজানো যাবে না। আরো বলা হয়েছে, কোনো উৎসব কিংবা সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার অথবা কোনো যান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি লাগবে। এসব কার্যক্রম সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার বেশি হবে না। এর পাশাপাশি রাত ১০টার পর কোনোভাবেই শব্দদূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩-এর ১৪০ নম্বর ধারায় অপ্রয়োজনে হর্ন বাজালে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে এসব বিধি মানা হচ্ছে না। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের এক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার কোনো পাবলিক বা জনসমাগমস্থলেই শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের নিচে নয়। একটি বেসরকারি সংগঠন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা মেপে জানায়, রাজধানীর নীরব এলাকায় দিনেরবেলায় শব্দের মাত্রা ৭৫ থেকে ৯৭ ডেসিবল, যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে দেড়-দুই গুণ বেশি। আবাসিক এলাকায়ও এটা সহনীয় মাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনেরবেলায় শব্দের মাত্রা মান মাত্রার চেয়ে দেড় গুণ বেশি।
বর্তমানে প্রচলিত আইনগুলো বিধিমালা বা নীতিমালা পর্যায়ের, যার আইনি মর্যাদা বেশ কম। সুতরাং সংসদ কর্তৃক একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োজন। এতে শব্দদূষণের বিষয়টিকে যথাযথভাবে আমলে নেয়া হবে এবং প্রণীত আইনটি আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বসহকারে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যান্ডসঙ্গীতের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর ফলে ওই সময় অনাকাক্সিক্ষত শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়ে আশপাশে থাকা শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীসহ প্রায় প্রত্যেকেরই সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ও আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। দূষণের প্রকোপ কমাতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে আমাদের প্রত্যেককেই শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযমী হতে হবে।
‘সুস্বাস্থ্যের জন্য শ্রবণশক্তি রক্ষা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছর শব্দ সচেতনতা দিবস উদযাপন করা হয়। এই দিবসটি পালন উপলক্ষে লীগ ফর দ্য হার্ড অব হিয়ারিং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। তারা এই দিনে এক মিনিট নিঃশব্দে থাকে। এছাড়া বিনা মূল্যে কানের পরীক্ষা এবং শোনার যন্ত্রও দিয়ে থাকে।
‘আগে মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর আওতায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না বিধায় এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল না।’—এমন প্রেক্ষাপটে গত ৩ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে সরকার বিধিমালাটিকে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে মোবাইল কোর্ট আইনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট ৫০০ যানবাহনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১০৩টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
ফিসফিস করে কথা বলার মধ্যে যে মাধুর্য ছিল, তা আমরা হারাতে বসেছি। অন্তরঙ্গ আলাপ হয়তো ভবিষ্যতে হবে বিরাট হাঁকডাক করে। উৎকট শব্দে আমরা আজ পরিশ্রান্ত। আমরা যারা শব্দদূষণের স্রষ্টা এবং যারা শিকার, সবাই-ই কিন্তু এই দেশেরই নাগরিক। মহামারী রূপ ধারণ করার পর নকল তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে, পলিথিন বন্ধ হয়েছে, রাজধানী থেকে থ্রি হুইলার তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে আসুন, আমরা সবাই মিলে সচেতন হই। আমি আপনি মিলেই আমরা। সব আমি দায়িত্বশীল হলে শব্দদূষণও প্রতিরোধ সম্ভব।
লেখক: ড. আহমদ কামরুজ্জামান; চেয়ারম্যান, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

নদী বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ

দেশ যদি মা হয়, তবে নদী হচ্ছে তার দেহে বয়ে যাওয়া রক্তের মতো। এ দেশে আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান উৎসের নাম নদী। অথচ কৃত্রিম কারণে এবং সময়ের বিবর্তনে আজ নদীগুলো বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বাংলাদেশের টিকে থাকার স্বার্থে কিংবা টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক নেই এবং থাকতেও পারে না। তর্ক-বিতর্ক যা আছে বা হয়েছে, তা পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে। বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে ৫৭টি নদী অভিন্ন। এর মধ্যে ৫৪টি নদীরই উৎপত্তিস্থল ভারতে। তাই ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে আমাদের এই অভিন্ন নদীগুলো মারা যাবে এবং যাচ্ছে—এটাই যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
মায়ের যেমন রক্তের প্রবাহ আছে, ঠিক তেমনি নদীরও পানির প্রবাহ আছে। আর এই পানির প্রবাহ, যাকে আমরা নদীর জীবন বলি—এই জীবনের স্পন্দন হারিয়ে গেলে নদীও মারা যাবে। আমাদের নদীগুলোর প্রবাহকে রুদ্ধ করে প্রতিনিয়তই যেন হত্যা করা হচ্ছে। ফলে বিস্তৃত অঞ্চল মরুকরণ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুন্দরবন বিনাশ, কৃষিক্ষেত্র ধ্বংস, মৎস্যসম্পদ নির্মূল, পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূষণ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বেকারত্ব, উপকূল তথা সাগর ভাঙন এবং অকাল বন্যার মতো উপসর্গগুলো দেখা দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যত যে আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়।
টিপাইমুখে বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওই প্রকল্পের ফলে হিমালয় থেকে নিঃসৃত নদীগুলোর ৩৫ ভাগ পানি বাষ্পাকারে আকাশে উড়ে যাবে। সর্বতোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত, যেমনটি হয়েছিল রাশিয়ার গৃহীত নদীশাসন বিষয়ক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর কারণে। এ ধরনের বাঁধ প্রকল্পে দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের জাতীয় স্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী ভারতীয় উগ্র জাতীয়তাবাদীদের স্বার্থই রক্ষা করছে। আর বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য। এ ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলোকেও নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আর ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে একই সঙ্গে নিজ দেশের নদীদস্যু এবং প্রভাবশালী তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বাংলাদেশের নদীগুলোকে বাঁচানোর চেতনা অনেকটাই সঙ্গতিপূর্ণ। ১৯৪৭ সাল-পরবর্তী পাকিস্তান অনেকটাই এ দেশের বহু মানুষের প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের অল্প দিনের শাসন আমাদের অর্থনৈতিকভাবে শোষণ, সাংস্কৃতিকভাবে ধ্বংস এবং রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছিল। এমনই এক কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। পাকিস্তান শাসনামলে আমরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম, ঠিক তেমনি নদীগুলো মরে যাওয়ায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ৫৭টি নদীই অভিন্ন এবং আন্তর্জাতিক। এসব নদীর পানি কোনো দেশের একক সম্পদ নয়; এবং এসব নদীর পানি প্রবাহ সব দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও কঠোর নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু ভারত নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক নদী আইনের তোয়াক্কা না করে অন্যায়ভাবে উজান থেকে নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বর্তমান সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু নদীব্যবস্থাপনার অভাবে আমরা নিজেরাও আমাদের নদীগুলোর ক্ষতি করছি। বাংলাদেশ সরকারও নদীদস্যুদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নদী খনন প্রকল্পগুলো সরকারের ব্যর্থতম প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। আর আমরা ইচ্ছা করলেও ১৯৪৭ সালে ফিরে যেতে পারব না। পার্শ্ববর্তী দেশের উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ইতোমধ্যে অনেকটা পথ হেঁটে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করছে। কার্যত তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করাও অনেক কঠিন। এই অশুভ শক্তিকে মোকাবিলা করে ভারতের সঙ্গে আমাদের নদীর পানি বণ্টনের ন্যায্য হিস্যা বুঝে পেতে হলে রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। আর তার জন্য দরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। এটি একটি যুদ্ধ। সনাতনী অস্ত্র ব্যবহার করে এই যুদ্ধে জয়লাভ করা যাবে না। এই যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে পারে আমাদের সমুদ্রবন্দর, ট্রানজিট এবং ভৌগোলিক অবস্থানের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি প্রধান বিরোধী দলের অভাবে সৃষ্ট রাজনৈতিক অনৈক্য ও দেউলিয়াপনার কারণে ভারত ইতোমধ্যে প্রায় বিনাশর্তে আমাদের সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের এবং ট্রানজিট সুবিধা নিয়েছে। একই কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাও আমরা নিতে পারিনি।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমরা যদি নদী মরে যাওয়ায় দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ভয়াবহ ক্ষতি অনুধাবন করতে না পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির জন্য হবে বড় দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। তাই নদী রক্ষা এবং একে বাঁচানোর প্রক্রিয়ায় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার এবং একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রধান বিরোধী দলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে; এবং গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ নদীমুক্তির আন্দোলন।
লেখক: আলতাফ হোসেন রাসেল

সেই প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের ধমক!

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে ধমক দিলেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে দুজনের মধ্যে হওয়া ফোনালাপ হৃদ্যতাপূর্ণ না হয়ে উল্টোটা হওয়াই এই এই অস্বাস্তিকর ঘটনা ঘটেছে। ফলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে একরকম ধমকের সুরেই ফোন কেটে দিয়েছেন ট্রাম্প। একটি শরণার্থী চুক্তি নিয়ে দু’নেতার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে চুক্তিটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্র। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সিয়ান স্পেইসার এবং অস্ট্রেলিয়ার মার্কিন দূতাবাসও বলেছে, ট্রাম্প চুক্তিটি বহাল রাখবেন। তাছাড়া, ট্রাম্পের কয়েকটি ট্যুইটের পর কয়েকটি গণমাধ্যমকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তার বিশ্বাস চুক্তিটি ঠিক থাকবে।
শনিবার তার সঙ্গে ফোনালাপকালে ট্রাম্পের বিরোধ বাধে এ চুক্তিকে কেন্দ্র করেই। পরে এক টুইটে চুক্তিটি পড়ে দেখবেন বলে জানালেও বৃহস্পতিবার ফের চুক্তির তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াকে এর জন্য দোষারোপ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছেন ট্রাম্প। দুনেতার ফোনালাপ এক ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় ট্রাম্প আচমকা ফোন রেখে দেন।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, আলাপের এক পর্যায়ে টার্নবুলের মুখের ওপর ট্রাম্প বলে দেন, তিনি একইদিনে অনেক বিশ্ব নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত এটিই হচ্ছে তার কাছে সবচেয়ে জঘন্য ফোনালাপ। দু’নেতার এ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে সংশয়ের মুখে পড়েছে শরণার্থী চুক্তি। এচুক্তি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া থেকে পাঠানো ১২৫০ শরণার্থীর যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া এসব শরণার্থীকে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদেরকে নাউরু ও পাপুয়া নিউ গিনির মত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর উপকূলীয় আটককেন্দ্রে আটকে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে নিলে এর বিনিময়ে অস্ট্রেলিয়া এল সালভাদর, গুয়েতেমালা এবং হন্ডুরাসের শরণার্থীদেরকে পুনর্বাসন করবে।
শশুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ দেন। এরপর তার সঙ্গে ফোনলাপে শরণার্থী চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কি সে ব্যাপারেই পরিষ্কার হতে চাইছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আর এতেই রেগে গিয়ে ওই প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্প। পরে ট্রাম্প এক ট্যুইটে চুক্তিটি পড়ে দেখবেন বলে জানালেও এর তীব্র সমালোচনা করে চুক্তিটিকে নির্বোধ আখ্যা দেন।
বৃহস্পতিবার এক ট্যুইটে ট্রাম্প লেখেন, আপনাদের বিশ্বাস হয়? অস্ট্রেলিয়া থেকে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী নিতে রাজি হয়েছিল ওবামা প্রশাসন। কেন? এই নির্বোধ চুক্তিটি আমি পড়ে দেখব। ট্রাম্প এ চুক্তিকে এ যাবতকালের সবচেয়ে বাজে চুক্তি আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া আগামী দিনের বোস্টন বোমা হামলাকারীদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য বলছে, তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে ১২৫০ শরণার্থী নেবে। তবে তাদেরকে নেওয়া হবে চুলচেরা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যদিয়ে।

গুলিস্তানে মার্কেটে আগুন

গুলিস্তানে একটি বিপণি বিতানে আগুন লেগেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগর ভবনের দক্ষিণপাশে জাকের সুপার মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
দেশীয় বাজারের জন্য তৈরি জুতা ও পোশাকের পাইকারি মার্কেট হিসাবে পরিচিত জাকের সুপার মার্কেট। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান বলেন, “আগুন খুব বড়। ১৪টি ইউনিট কাজ শুরু করেছে।”

Wednesday, February 1, 2017

পাতা উল্টে বই পড়ার মজাই আলাদা: প্রধানমন্ত্রী

পাতা উল্টে উল্টে বই পড়ার মজাই আলাদা জানিয়ে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সফটওয়্যারের মাধ্যমে বই পড়ার ব্যবস্থা এখন তৈরি হয়েছে। চাইলেই হাতের মুঠোয় অংসখ্য বই পাওয়া যাচ্ছে। তার পরেও বই হাতে নিয়ে পড়ার একটা আলাদা আনন্দ আছে।বুধবার বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্য শেষে তিনি মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠোনের স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সাহিত্যই পারে আমাদের বিপথগামী ছেলে-মেয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে। তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল মাধ্যামে বই পড়ার অনেক সুযোগ হয়েছে তার পরেও বইয়ের পাতা উল্টে বই পড়ার মজাই আলাদা। এ কারণেই আমি চাই প্রতিবছর আরো নতুন নতুন বই ছাপ হোক এবং বর্তমান প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠুক।   
বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ বছর একাডেমি চত্বরে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে শিশু কর্নারও। ৬০ ইউনিট নিয়ে এ চত্বরে শিশুদের জন্য খেলার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এদিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ঘিরে মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। কমিশনার বলেন, লেখক-প্রকাশকরা নিরাপত্তহীনতা বোধ করলে পুলিশ তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই বের করলে প্রকাশক ও লেখকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।