Wednesday, February 1, 2017

আমি কি ভুলিতে পারি...

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...
রক্তে রাঙানো সেই ফেব্রুয়ারি মাস, ভাষা আন্দোলনের মাস শুরু হলো বুধবার। ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালি জাতি পুরো মাসজুড়ে তাদের ভালোবাসা জানাবে । ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল।
ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন; এ দেশের মানুষের চেতনার অনির্বাণ এক বাতিঘর। এর আলোর স্পর্শে অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার এবং প্রবল দেশাত্মবোধের অন্যরকম এক আবেগ ও উদ্দীপনায় জেগে ওঠে সর্বস্তরের মানুষ।
ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস। বইমেলা প্রিয় মানুষের প্রাণের মাস। অমর একুশে গ্রন্থমেলার কারণে এই মাসটি আমাদের কাছে হয়ে ওঠে চরম ব্যঞ্জনাময়। বইমেলাকে ঘিরে আমরা এক আলাদা দ্যোতনায় উজ্জীবিত হই। বছর ঘুরে আবার সেই ফেব্রুয়ারি এলো।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরে নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বস্তুত ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে আছে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি ভাষার জন্য এ মাসে জীবন দিয়েছিল।
ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে নানা কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আবার হয়ে উঠবে জমজমাট। অন্যদিকে একুশের মাসের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ মাসব্যাপী বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ। বাংলা একাডেমিতে বিকেল ৩টায় এই মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন তিনি উদ্বোধন করবেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭’ উপলক্ষে চারদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শাসমুজ্জামান খান জানান, আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি দেশের ২৭ জন কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-প্রাবন্ধিক অংশগ্রহণ করবেন।
অংশগ্রহণকারী কবি-সাহিত্যিকরা আসবেন রাশিয়া, চীন, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পুয়ের্তোরিকো, সুইডেন ও ভারত থেকে। তিনি বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসবেন ১৮ জন কবি ও কথাসাহিত্যিক। তাঁদের মধ্যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও অধ্যাপক পবিত্র সরকারসহ বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জার্মানির দুজন, অস্ট্রিয়ার একজন, চীনের দুজন, রাশিয়ার একজন, পুয়ের্তোরিকোর দুজন ও সুইডেনের একজন করে কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী সম্মেলনে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে আজ শুরু হচ্ছে দুদিনব্যাপী ‘৩১তম জাতীয় কবিতা উৎসব’। সকাল ১০টায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন কবি বেলাল চৌধুরী। উৎসবের এবারের স্লোগান ‘বর্বরতা মানে না কবিতা’।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি ড. মোহাম্মদ সামাদ বলেন, মানবের অপমানের বিরুদ্ধে এবার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে উৎসবের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কবিতা নিপীড়ন, নির্যাতন ও অত্যাচার মানে না। মানে না দেশের সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা। এসব ভেবেই এবার এ স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মাসে আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।
পটভুমি ৫২
শুরুটা ১৯৪৭ সালের পর থেকেই। পাকিস্তান কৌশলে বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার ওপর প্রথম আঘাত হানে। মায়ের ভাষায় কথা বলাও তারা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু বাংলার মানুষ সেই ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে একবিন্দু পিছু হঠেনি। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে প্রতিদিন রাজপথে চলতে থাকে মিছিল-সমাবেশ। শুরু হয় বাংলাভাষা রক্ষার আন্দোলন। মায়ের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে তারা রাষ্ট্রভাষা উর্দু করতে চেয়েছিল।
আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বায়ান্নর আগুনঝরা সে দিনগুলো বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে, থাকবে। বায়ান্নর পয়লা ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এক স্মৃতিকথনে লেখেন, ‘সে বছর ঢাকায় মাঘের শীতটা বেশি মাত্রায় এসেছিল। মাঘের সে শীত বাঘের গায়ে লাগতে পারে, কিন্তু ঢাকার ছাত্রদের গায়ে তেমন লাগেনি। কারণ একটাই -সাতাশে জানুয়ারি পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন তার দীর্ঘ বক্তৃতায় রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে বলেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দুই হতে যাচ্ছে। এটুকু বলেই তিনি থামেননি।
প্রসঙ্গক্রমে তাদের কায়েদে আজমের ভাষা বিষয়ক মতামত, প্রাদেশিকতা, এক রাষ্ট্রে এক রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি বিষয়েও কথা বলেন তিনি এবং উর্দু বিরোধীদের `পাকিস্তানের দুশমন` বলে ঘোষণা করেন। যেমনটা করেছিলেন, পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকা সফরে এসে।’
তিনি লেখেন, ‘বায়ান্ন ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনটি এই মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষার ধারাবাহিকতার ফসল। সে দিনটিতে ছিল ছাত্রাবাসের বাসিন্দাদের মনে ধিকিধিকি জ্বলা ক্ষোভ। ঐ দিনটিতে বিশেষ কিছু না ঘটলেও কিছু ঘটানোর প্রস্তুতি ছিল মনে। ছিল ধারাবাহিকতার দিনপঞ্জিতে পুরনো পাতাগুলো উল্টে দেখার। সবার না হলেও কারো কারো মনে এমন ভাবনারই উথাল-পাতাল চলেছে তখন।’
তিনি আরো লেখেন, ‘পহেলা ফেব্রুয়ারির দিনলিপিতে ভুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হাতেগোনা কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য `সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ` গঠনের খবর।’ সেই ভাষার মাসের প্রথম দিন আজ। প্রতিবারের মতো আজ থেকে জাতীয় শহীদ দিবস সামনে রেখে প্রাণে প্রাণ মিলবে নানা কর্মসূচীতে। বেদনা সেই দিন হয়ে উঠবে বাঙালি জাতির প্রাণের মিলনমেলা। লাখ কণ্ঠে গাওয়া হবে অমর সেই গানটি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’ অমর একুশের চেতনার রঙে সাজতে শুরু করবে বাংলা। ভাষার মাস ঘিরে নতুন জাগরণের সৃষ্টি হবে।
লেখক: রিহাব মাহমুদ

বাংলাদেশি তরুণীর ডাকে 

বিশ্বজুড়ে হিজাব দিবস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী নাজমা খানের ডাকে চতুর্থ বছরের মতো বিশ্বজুড়ে 'আন্তর্জাতিক হিজাব দিবস' পালিত হল বুধবার।নাজমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রায় ৬৭টি দেশের মুসলিম-অমুসলিম নারীরা হিজাব দিবস পালন শুরু করে। এ বছর 'নারীর হিজাব পরার পক্ষে দাঁড়ান' এ আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্বের ১৯০টি দেশে একযোগে হিজাব দিবস পালিত হচ্ছে।শুরুর পর মাত্র দুই বছরের মাথায় গতবার ১৫০টি দেশে এ দিবস পালিত হয়েছিল।
১১ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়া নাজমা হিজাব দিবস পালনের ব্যাপারে বলেন, তিনি যখন হিজাব মাথায় স্কুলে যেতেন তখন তাকে অনেক অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাকে ব্যাটম্যান এবং নিনজা বলে ডাকা হতো। আর ২০০১ সালের নাইন ইলেভেনের পর তাকে ডাকা হতো ওসামা বিন লাদেন ও সন্ত্রাসী বলে।
তিনি বলেন, হিজাবকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে নারীর প্রতি নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এবং এ জন্য তাকেও অনেক বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আর এই বৈষম্যের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার অমুসলিম বোনদেরও হিজাব পরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আহ্বান জানান। হিজাব দিবসের ডাক দেন।
তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম বছরেই ৬৭টি দেশের মুসলিম নারীরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং নাস্তিকরাও হিজাব দিবস পালন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগমনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলমানরা নানা বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হিজাব পরা মুসলিম নারীরা হয়রানি-বৈষম্য-আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় এবারের হিজাব দিবসকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে'র দাফতরিক ওয়েবসাইটে এবারের দিবসে উগ্র খ্রিস্টান ধর্মান্ধতা, বৈষম্য এবং মুসলিম নারীর অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৬৮ আইএসপি লাইসেন্স বাতিল

অনিয়মের অভিযোগে এবার সাইবার ক্যাফেসহ সারাদেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নবায়নের আবেদন করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স অবৈধ ও অকার্যকর বলে গণ্য হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল প্রকার আইএসপি সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কমিশনের পাওনা বকেয়া আগামী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। বকেয়া পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, বিটিআরসি থেকে ইস্যু করা ‘আইএসপি ইনক্লুডিং সাইবার ক্যাফে লাইসেন্স’ এর শর্তানুযায়ী আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করার বিধান রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের অধীনে সকল কার্যক্রম সম্পাদন অবৈধ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ম্যাট্রিক্স অনলাইন, গ্লোবাল সফট সাইবার ক্যাফে, ইউনিলিংক, এরিকসন টেকনোলিসি, এসএসএন টেকনোলসি, এএসকে নেট টেকনোলসি,নেটগেট অনলাইন, হাইটেক অনলাইন, এনএসএম সফটওয়্যার, অ্যাপপলো কম্পিউটার, সাইবার ওয়াল্ড লিংক, দি কম্পিউটার, টেকপার্ক, রিলায়েন্স নেটওয়ার্ক, স্টার কম্পিউটার এন্ড নেটওয়ার্ক, সিলিকন, হাইলিংক কম্পিউটার, থ্রিজি নেটওয়ার্ক টেকনোলজি, অপটিক টেকনোলজি, ইন্টারপিড ইন্টারন্যাশনাল।
ইজিনেট সিস্টেম, এম টেল, ফিউচার কমিউনিকেশন, ওয়াইড ম্যাক্স কমিউনিকেশন, প্রতিভা কম্পিউটার, স্পিডনেট সাইবার ক্যাফে, ফারহার সাইবার ক্যাফে, স্মার্ট সাইবার ক্যাফে, বিসনেেেসান, লিংক নেট। গ্লোবাস সাইবার ক্যাফে, আযিলা নেটওয়ার্ক, বাংলাস্পিড নেট, নেইন কমিউনিকেশন, ডিজাইন আইডিয়া, পল্ববী বিসনেস সার্ভিস, ঢাকা সিটি লিংক, নো ওয়্যার বিডি, এস এম কম্পিউটার ইন্সস্টিটিউট, মাইক্রো লিডস লিমিটেড, অনলাইন লিংক, গ্রিন কমিউনিকেশন এন্ড সাইবার ক্যাফে, চার্টাড কম্পিউটার, ডট কম, নেক্সস্ট নে কম্পিউটার, সাইবার ইন, গো ফাস্ট সাইবার ক্যাফে, নোভা সাইবার ক্যাফে, সিসিটি সাইবার ক্যাফে।
নিউ ইয়াহু সাইবার ক্যাফে, দেশ সাইবার ক্যাফে, ইসা সাইবার ক্যাফে, আলিফ ইনফোটেক, জিনিয়াস সাইবার নেট, ডলফিন সাইবার ক্যাফে, কম্পু মি, ইউনিক কম্পিউটার এডুকেশন, সাইবারে জান সাইবার ক্যাফে, টেলিকম মিডিয়া সার্ভিস, সাইনোনাম সলুশন, লাইভস সাইবার ক্যাফে, এসডিওটি নেট সাইবার ক্যাফে, গাউসিয়া অনলাইন, রংপুর নেট, ইজন, বিবাড়িয়া নেট এবং লারিনযো।

‘হাইকোর্টেও রায় দেয়া হবে বাংলায়’

অবশেষে হাইকোর্টে বাংলায় রায় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা।বুধবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরস্বতী পুজায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে হাইকোর্টের অনেক বিচারপতি বাংলায় রায় দিয়েছেন। বাংলায় রায় দিতে হলে আইনজীবীদের সহযোগিতা করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ক্রিমিনাল কনস্পারেসিতে কী ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হয়, তা পুলিশ একেবারেই জানে না। এমনকি প্রসিকিউশনে যারা কন্টাক্ট (চুক্তি) করে তারাও জানে না।
প্রধান বিচারপতি বলেন, মুফতি হান্নানের মামলার রায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওই মামলায় ট্রায়াল কোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল, হাইকোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল। সংশোধিত করে আমরা রায় দিয়েছি। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ট্রায়াল কোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল, হাইকোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল। আমরা এটা সংশোধন করে দিয়েছি।
এসকে সিনহা বলেন, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের ত্রুটির কারণে অনেক সময় প্রকৃত আসামিরা খালাস পেয়ে যান। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সাক্ষীর অভাব থাকে। তাই সব পর্যায়ে আরো ট্রেনিং দরকার বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

‘ত্রাণের তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য’!

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছেন জনপ্রতিনিধিদের স্বজন ও অনুসারীরা। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। বুধবার ট্রান্সপারেন্সি বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, আর এ কারণে ত্রাণ বঞ্চিত হয়েছে অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। অনেক এলাকা পরিদর্শন না করেই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্যে বলা হলেও অনেক দুর্গতের কাছে ত্রাণ যায়নি।
‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু : দুর্যোগ মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে টিআইবি। গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন টিআইবির মু. জাকির হোসেন খান, নিহার রঞ্জন রায়, মো. নেওয়াজুল মওলা ও নাহিদ শারমীন।
২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু উপকূলীয় ১৫টি জেলায় আঘাত করে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরগুনা জেলার ১০টি ইউনিয়ন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের তুলনায় বেশি বা ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতির পরিমাণের তুলনায় যেটা প্রাধান্য পেয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রাণের পণ্য ও তহবিল বাস্তবে কতটুকু বিতরণ করা হয়েছে তা নিরুপণ করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বা ব্যবস্থা ছিল না বা নেই। আর এর সুযোগে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটা প্রবণতা দেখা গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে গবেষকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল।

দুদকের 'ঘুষফাঁদে' আটক খাদ্য কর্মকর্তা

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের 'ঘুষফাঁদে' পড়ে বিউটি বেগম (৪৫) নামে এক খাদ্য কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও খাদ্য গুদাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার জানান, গ্রেফতারকৃত বিউটি বেগম তেজগাঁও খাদ্য গুদামে রেশনিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষবাণিজ্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে দুদকের অভিযানিক দল সাদা পোশাকে 'ঘুষফাঁদ' পেতে ৫০ হাজার টাকাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে ।

মনোহরগঞ্জে ভিক্ষুক পেল “স্বপ্নের ঠিকানা”

ভিক্ষা নয়, বিক্রি চাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইউসুপ আলীর নিজস্ব অর্থায়নে একজন ভিক্ষুককে ‘‘স্বপ্নের ঠিকানা” নামে দোকান প্রদান করে পুন:বাসনের ব্যবস্থা করা হলো। দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত ঝলম গ্রামের অন্ধ ভিক্ষুক মনিরুল ইসলাম ওরফে মনু মিয়া মনোহরগঞ্জ বাজারে ভিক্ষা করে আসছিল।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিদিন তাকে আশা যাওয়ার মাঝে পথে ভিক্ষা করতে দেখতেন। তখন তাকে একটি ভ্যানে করে ব্যবসা করার প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় মনোহগঞ্জ স্কুল এন্ড  কলেজের পাশে ওই অন্ধ ভিক্ষুককে একটি দোকান দিয়ে বসিয়ে দেন। তার দোকানের নাম দেওয়া হলো “স্বপ্নের ঠিকানা”।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইউসুপ আলী জানান, মনোহরগঞ্জে স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই দোকান থেকে ছোট খাটো খাবার, কলম, খাতা ক্রয় করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই উপজেলায় প্রায় ১৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিয়ে ভিক্ষুকদের জন্য যদি এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যায়, তাহলে অচিরেই এই  উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করা যাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।