Friday, October 7, 2016

নিজের জীবনী লিখেছিলেন হিটলারই!‌


aajkaal
প্রচার চাই, ক্ষমতায় পৌঁছতে নিজের মাহাত্ম্য লিখে অন্যের নামে প্রকাশ করেছিলেন হিটলার। সেখানে নিজেকে হিটলার তুলনা করেছিলেন যিশুর সঙ্গে, বলেছিলেন ‘‌জার্মানির ত্রাতা’‌ তিনি। কিন্তু বইয়ের লেখক অন্য একজন হওয়ায়, সে সময়ে বোঝার উপায় ছিল না নিজেই নিজের ঢাক পেটাচ্ছেন। কিভাবে নাৎসি নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছলেন হিটলার, তা নিয়ে গবেষণা করতে নেমে এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন লন্ডনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গবেষক থমাস ওয়েহার। বলেছেন, হিটলারের এই জীবনীটি যখন লেখা হয়েছে, তখনও ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছননি হিটলার। খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা প্রয়োজন ছিল। তাই নিজেই নিজের ভাষণ ও লেখালেখি জোগাড় করে একটি বই তৈরি করেছিলেন। তারপরে, ভন কোয়েহার নামে একটি সম্ভ্রান্ত জার্মান ব্যক্তির নামে ছাপিয়ে বের করেছিলেন। গবেষক বলছেন, এই বইটির মাধ্যমে অত্যাধিক প্রচারে জন্যই সেই সময়ে সাধারণ জার্মান মানুষদের মধ্যে এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন হিটলার। শেষে অবশ্য এটাও বলেছেন, ক্ষমতার জন্য কতটা লালায়িত ছিলেন এই জার্মান একনায়ক, এই ঘটনা সেটাই আবার প্রমান করে। নিজের মাহাত্ম্য প্রচার করতে নিজেই  গুনগান করে এমন বই লেখার দৃষ্টান্ত নেই পৃথিবীর ইতিহাসে।   

Thursday, October 6, 2016

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রেকর্ড আবেদন

পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ ঘোষণায় মরিয়া মার্কিন জনগণ। এই সংক্রান্ত একটি আর্জিতে চূড়ান্ত জনমত গণনার আগে মঙ্গলবার আরও ৫০ হাজার নতুন সই জমা পড়ছে বলে জানাল হোয়াইট হাউস। সব মিলিয়ে যা বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ৬ লক্ষ ৬৫ হাজারে। মার্কিন মুলুকের জনপ্রিয়তম ‘পিটিশন’ হিসেবে যা এক রেকর্ডও বটে। আর্জিটির মূল বক্তব্য হল, ‘‘আমরা সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে আবেদন রাখছি, পাকিস্তানকে অবিলম্বে ‘সন্ত্রাসে মদতদাতা দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।’’ এ বার পালা হোয়াইট হাউসের। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত আর্জি দাখিল হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সরকারকে সাড়া দিতেই হবে। গত মাসে উরিতে হামলার পরেই এই আর্জি জানিয়ে একটি বিল পেশ হয় মার্কিন কংগ্রেসে। তার প্রেক্ষিতেই চূড়ান্ত গণনা চলছে এই পিটিশনের। বালুচিস্তানকে পাক কব্জামুক্ত করা নিয়েও আলাদা একটি আর্জি জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর।

হাইতিতে দাপট হারিকেন ম্যাথুর


hurrican

নাসার উপগ্রহ চিত্রে খুলির মতো দেখাচ্ছে হারিকেন হ্যারিকে।

হাইতির বিস্তীর্ণ অংশে আছড়ে পড়ল হারিকেন ম্যাথু। গত কয়েক দশকে হারিকেনের এমন দাপট দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। হাইতিতে তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাথু হানা দিয়েছে কিউবাতেও। এখনও পর্যন্ত হারিকেনের বলি হয়েছেন প্রায় এগারো জন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। উদ্ধার কাজে নেমে কালঘাম ছুটেছে উদ্ধারকারী দলের।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, গত কাল হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে আছড়ে পড়েছিল ম্যাথু। ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। সঙ্গে ছিল অতি ভারী বৃষ্টিও। ওই ঝড়ের জেরে গাছপালা উপড়ে গিয়েছে। উ়ড়ে গিয়েছে অনেক বাড়ির ছাদ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের দিকে প্রভাব পড়েছে সব চেয়ে বেশি। দেশের বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে একটি সেতু। দেশের দক্ষিণ অংশের সঙ্গে রাজধানী পোর্ত-ও-প্রিন্সের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করত ওই সেতুটি। ফলে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। বিচ্ছিন্ন টেলি-যোগাযোগও। এর জেরে এখনও পর্যন্ত হারিকেন-বিধ্বস্ত হাইতির বহু অংশে পৌঁছনো সম্ভবই হয়নি। লরা সিওয়েল নামে এক উদ্ধারকর্মীর কথায়, ‘‘মোবাইল পরিষবাও বিপর্যস্ত হয়েছে। এ দিকে আবার সেতু ভেঙে পড়ায় যোগাযোগে তো সমস্যা হচ্ছেই। এমনকী, ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতেও অসুবিধে হচ্ছে।’’
হাইতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ প্রতিনিধি মুরাদ ওয়াহবা জানিয়েছেন, অন্তত ১০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া। হাসপাতালগুলিতে উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়। সেখানে পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। 
হাইতির পরে ম্যাথুর গন্তব্য ছিল কুবা। সেখানেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। ঝড় এগিয়েছে বাহামার দিকে।

Tuesday, October 4, 2016

কোষের ‘আত্মভক্ষণ’ আবিষ্কারে মিলল নোবেল

nobel

ইওশিনোরি ওসুমি

সব কি ফেলে দেওয়া যায়? ফেলে দেওয়া কত জিনিসই তো অন্য নানা কাজে লেগে যায়। হরলিক্সের শিশিতে ঘি থাকে। ডাবরের ছোট কৌটোয় মশলা রাখা শুরু হয়। এত গেল সংসারের নিত্য দিনের পুনর্ব্যবহারের উদাহরণ। আমাদের, মানে এই জীবজগতের কোষের মধ্যেও এই পুনর্ব্যবহারের প্রচলন আছে। পোশাকি নাম ‘অটোফাজি’। 
দু’টি গ্রিক শব্দের সম্বন্বয়ে তৈরি হয়েছে ‘অটোফাজি’ শব্দটি। ‘অটো’ মানে নিজের থেকে। আর ‘ফাজেইন’র বাংলা দাঁড়ায় খাওয়া। কোষের মধ্যে নিজেকেই নিজে খেয়ে নেওয়ার পদ্ধতিটি অটোফাজি। এই আত্মভক্ষণ কিন্তু কোষের ক্ষতি করে না। বরং কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। আর এই আত্মভক্ষণে কোনও সমস্যা হলেই পার্কিনসন্স, ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস-এর মতো নানা রোগের উৎপত্তি হতে পারে। এই আত্মভক্ষণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেই ২০১৬-এর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন জাপানের বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি। এ বাবদ ৮০ লক্ষ সুইস ক্রোনার বা সাত লক্ষ ১৮ হাজার ডলার মিলবে তাঁর।
আত্মভক্ষণ বলা সহজ। কিন্তু, অতি জটিল একটি প্রক্রিয়া। ১৯৬০-এর দশকে প্রথম এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। কী ভাবে কোষ তার নিজের অপ্রয়োজনীয় অংশ নিজেই ধ্বংস করে ফেলছে তা নিয়ে ধারণা ছিল। প্রথমে কোষ অপ্রয়োজনীয় অংশটির চারপাশ মেমব্রেন বা পর্দা দিয়ে ঘিরে ফেলে থলির মতো তৈরি করে। তার পরে থলিগুলি ভাসতে ভাসতে কোষের পুনর্ব্যবহারের কারখানা ‘লিসোজোমে’ চলে যায়। তার পরে উৎসেচক ধ্বংসের কাজ চালায়। এতে কোষগুলি বর্জ্যমুক্ত হয়ে সজীব হয়। কিন্তু এই ঘটনাটিকে চাক্ষুষ করা খুব শক্ত। ফলে ৯০’-এর দশকের আগে পর্যন্ত ঘটনাটি প্রমাণ করা যায়নি। জাপানে নিজের গবেষণাগারে ‘ইস্ট’-এর কোষে প্রথম ইওশিনোরি ওসুমি এই প্রক্রিয়াটির জন্য দায়ী জিনকে চিহ্নিত করেন। পরে ইস্টে কী ভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় তা দেখান। তার পরে মানবদেহের কোষেও এই জটিল প্রক্রিয়াটি কী ভাবে হয় তাও ব্যাখ্যা করেন। 
‘‘আমি বিশেষ প্রতিযোগিতায় সামিল হতে তাই না। তাই নতুন বিষয় খুঁজি। বিষয়টি বিজ্ঞানের জগতে সে ভাবে জনপ্রিয় না হলেও।’’, ২০১২-এ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন ইওশিনোরি ওসুমি। যখন কাজটি শুরু করেছিলাম তখন এটা নিয়ে বিশেষ চর্চা হত না। নানা বিষয় নিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে এই আত্মভক্ষণ পদ্ধতিটি বিশদে জানাতে আগ্রহ জাগে ইওশিনোরি ওসুমি। ১৯৮৮-তে নিজের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার পরে এ বিষয়ে নজর দেন। এবং এই কাজের জন্য ইস্টের কোষ বেছে নেন। ইস্টের কোষ অনেকটা মানব কোষের মতো। পাশাপাশি ইস্টের কোষে জিনগুলি সহজে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু ইস্টের কোষ এতই ছোট যে তাতে এই প্রক্রিয়াটি অতি শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপের তলায়ও দেখা যায় না। 
তাই ঘুরপথে এগোলেন ওসুমি। তিনি আত্মভক্ষণের প্রক্রিয়াটিকেই বিগড়ে দিলেন। কারখানার মধ্যে যে উৎসেচক প্রক্রিয়াটিকে সম্পন্ন করে তাকে সরিয়ে নিলেন। ফলও মিলল। দেখলেন কারখানা ছোট ছোট থলিতে ভরে গিয়েছে। এই প্রথম ঘুরপথে আত্মভক্ষণের প্রমাণ পেলেন ওসুমি। ১৯৯২-এ এ নিয়ে গবেষণাপত্র বার করেন। এর এক বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রথম জিনটির হদিশও পেয়ে যান ওসুমি। এর পরে বাকিটা ইতিহাস।
ইওশিনোরি ওসুমি-র এই আবিষ্কার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। দেখা গিয়েছে সব কোষেই এই প্রক্রিয়া চলছে। এ ভাবেই কোষগুলি নিজের পুনর্গঠনের শক্তি সঞ্চয় করে। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে ব্যাকটিরিয়া ও ভাইরাস কোষের মধ্যে ঢুকলে ধ্বংস হয়ে যায়। কোনও কারণে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে পার্কিনসন্স থেকে ক্যানসার, বা জিনঘটিত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এই নিয়ে গবেষণা এ সব রোগের নুতন ওষুধ তৈরিতেও সাহায্য করছে।

৩৬৫ দিনে পৃথিবী কেমন ভাবে পাল্টে যায় দেখে নিন


EARTH

ছবি- নাসা

মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখতে কেমন, আমাদের অজানা নয়। মাউসের এক ক্লিকে গুগ্‌লে পৃথিবীর স্যাটেলাইট ইমেজ অনায়াসে দেখা যায়। শুধু দেখা যায় বললেই ভুল হবে, পৃথিবীর আরও গভীরে ঢুকে যাই। মন চাইলে যেখানে খুশি ঘুরে আসতে পারি। আধুনিক প্রযুক্তির দৌলতে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় করতে পেরেছি। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা পৃথিবী কী ভাবে পাল্টে যায়, স্পেস স্টেশনে বসে মহাকাশচারীরা অবিরাম পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন। এবং সে সব ছবিও তাঁরা পাঠিয়ে দিচ্ছেন আমাদের। পৃথিবী থেকে ১০ লক্ষ মাইল দূরে নাসার পলিক্রোম্যাটিক ইমেজিং ক্যামেরা(ইপিআইসি বা এপিক) প্রতি দিন পৃথিবীর ছবি তুলে যাচ্ছে। এই ক্যামেরাটি লাগানো রয়েছে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে নিজের কক্ষপথে ঘোরা ‘ডিপ স্পেস ক্লাইমেট অবসার্ভেটরি’ (ডিএসসিওভিআর) স্যাটেলাইটে। ২০১৫-র ফেব্রুয়ারি থেকে এপিক ৩৬৫ দিনে প্রায় ৩ হাজার পৃথিবীর ছবি তুলেছে। এর পর এপিক-এর একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীর সে সব ছবি নিয়ে এক অনবদ্য ভিডিও তৈরি করেছেন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কী ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, দিন-রাত হওয়ার সময় তার চেহারা কেমন পাল্টে যাচ্ছে, এ সব ভিডিও ও ছবিতে দেখা গিয়েছে।

earth-1
earth-2
earth-4
earth-5
earth-6
earth-7
earth-8
earth-9
earth-10
earth-11
earth-12
earth-13
earth-14
earth-15
earth-17
earth-16

তিন অবস্থার বাইরের পদার্থ নিয়ে নোবেল


nobel

নোবেল পেলেন ডেভিড থৌলেস, ডানকান হ্যালডেন এবং মাইকেল কোস্টেরলিৎজ (বাঁ দিক থেকে, পিছনে পর্দায়)। চলছে পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা। 

পদার্থের ক’টি অবস্থা? প্রশ্ন করলে কচিকাঁচারাও হাত তুলবে। উত্তরটি তো আসলে খুব সহজ। অবস্থা তিনটি— কঠিন, তরল এবং বাষ্প।
কিন্তু পদার্থবিদদের প্রশ্নটি করলে মুচকি হাসবেন। না তিনটি নয়, তাঁরা জানাবেন, অতি উচ্চ তাপে, অতি শীতল অবস্থায় বা অতি তীব্র চৌম্বকক্ষেত্রে পদার্থের নানা বিচিত্র অবস্থা তৈরি হয়, যেমন সুপার কন্ডাক্টর বা সুপার ফ্লুইড। সৃষ্টি হয় নানা বিচিত্র বৈশিষ্টের। এই বৈশিষ্টগুলির পরিবর্তন হয় ধাপে ধাপে। গণিতের ‘টোপোলজি’ শাখাকে ব্যবহার করে এই ধাপে ধাপে পরিবর্তনের (ফেজ ট্রানজিশন) চরিত্র ব্যাখ্যা করেছেন ডেভিড থৌলেস, ডানকান হ্যালডেন এবং মাইকেল কোস্টেরলিৎজ। ২০১৬-এর নোবেল পুরস্কার তাঁদের সেই কাজেরই স্বীকৃতি দিল। এ বাবদ ৮০ লক্ষ সুইস ক্রোনার বা সাত লক্ষ ১৮ হাজার ডলারের অর্ধেক পাবেন থৌলেস। বাকিটা ভাগ করে নেবেন হ্যালডেন এবং  কোসটেরলিৎজ। জন্মসূত্রে তিন জনই ব্রিটেনের নাগরিক। তবে কর্মসূত্রে তিন জনই এখন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
সাধারণত পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণের সময়ে বাধা বা রোধ তৈরি হয়। কিন্তু সেই পদার্থকে অতি শীতল অবস্থায় নিয়ে গেলে অনেক সময়ে সেই বাধা উধাও হয়ে যায়। তৈরি হয় সুপার কন্ডাক্টর। ১৯৩০-এর দশকে রাশিয়ার পদার্থবিদ পিওতর কাপিতসা হিলিয়াম গ্যাসকে অতি শীতল অবস্থায় নিয়ে গেলেন (-২৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। দেখলেন তা হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। কারণ, ওই উষ্ণতায় সান্দ্রতা (ভিসকোসিটি) শূন্য হয়ে গিয়েছে। এই কাজ ১৯৭৮-এ কাপিতসাকে নোবেল এনে দেয়।
কিন্তু পদার্থের এই বিচিত্র আচরণ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি ছিল। তাঁরা মনে করতেন, তাপমাত্রার এই বিপুল হেরফেরে পদার্থের মধ্যে শৃঙ্খল নষ্ট হয়ে যায়। আর যদি কোনও শৃঙ্খলই না থাকে তা হলে অবস্থার পরিবর্তন (ফেজ ট্রানজিশন) কী করে বোঝা যাবে। ১৯৭০-এর দশকে থৌলেস আর কোসটেরলিৎজ এই ভাবনাকেই চ্যালেঞ্জ করবেন বলে ঠিক করেন। তাও খেলার ছলে, ব্রিটেনের বার্মিংহামের এক আড্ডায়। আর এই কাজে ব্যবহার করেন গণিতের ‘টোপোলজি’ শাখাটিকে।। এই শাখায় কোনও পদার্থের অবস্থার তখনই পরিবর্তন হয় যখন পদার্থে থাকা গর্তের সংখ্যা পরিবর্তন হয়। গর্তের সংখ্যা পরিবর্তন না হলে যে কোনও আকারে পদার্থটি একই অবস্থায় রয়েছে।
অতিশীতল অবস্থায় দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্রে পদার্থের মধ্যে ছোট ছোট ভর্টিসেস তৈরি হয়। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই ভর্টিসেসগুলি পরস্পরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। একে পদার্থবিদ্যার ভাষায় বলে ‘ফেজ ট্রানজিশন’। ১৯৮০-র দশকে থৌলেস ও হ্যালডেন পদার্থের বিভিন্ন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল তত্ত্বে এই বিষয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এঁরা অতি শীতল অবস্থায় বা খুব শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে থাকা পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহণ নিয়ে নতুন তত্ত্বের হদিশ দিলেন। এর সঙ্গেই পদার্থবিদ্যার নতুন পথ খুলে গেল। তাঁরা দেখালেন কী ভাবে পদার্থের এই বিচিত্র বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যেও গণিতের প্রয়োগ করে শৃঙ্খলের সন্ধান করা যায়।
এই তিন জনের কাজ ফলিত পদার্থবিদ্যা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে গিয়েছে বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। বিশেষ করে কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং নতুন সুপার কন্ডাক্টর তৈরিতে। বিশেষ করে কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে কাজকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। যে কম্পিউটার আজকের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সুপার-কম্পিউটারের থেকেও অনেক শক্তিশালী।

বস্তুর আজব চালের ব্যাখ্যা তিন দশক আগেই

people

ডেভিড থুলেস, ডানকান এম হ্যালডেন ও মাইকেল কস্টারলিৎজ

স্বীকৃতি এল তিন দশক পর। বিশেষ অবস্থায় পদার্থের কিছু আশ্চর্য আচরণের যে ব্যাখ্যা তাঁরা দিয়েছিলেন গত শতকের ’৭০-’৮০-র দশকে, তারই পথ বেয়ে এত দিন এগিয়েছে ফলিত পদার্থবিদ্যা ও প্রযুক্তি। এখনও এগোচ্ছে। ২০১৬-তে এসে সেই গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হল ডেভিভ জে থুলেস, এফ ডানকান এম হ্যালডেন এবং জে মাইকেল কস্টারলিৎজ-কে। প্রত্যেকেরই জন্ম ব্রিটেনে। কর্মসূত্রে তিন জনেই আমেরিকায়।
কঠিন-তরল-গ্যাস, সাধারণ ভাবে পদার্থের এই তিনটি অবস্থা ও তার ধরন-ধারনের সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু চরম অবস্থায়, যেমন তাপমাত্রা যখন খুবই কম, কিংবা কোনও বস্তু যখন খুবই সূক্ষ্ম পাতে পরিণত হয়, তখন তার মধ্যে আশ্চর্য কিছু আচরণ নজরে আসে। ওই রকম বিশেষ পরিস্থিতিতে বস্তুর নানা রূপ ও রূপান্তর নিয়ে তাত্ত্বিক গবেষণার জন্যই পুরস্কৃত করা হল এই তিন বিজ্ঞানীকে। নোবেল কমিটির মতে, ‘‘অজানা জগতের দরজা খুলে দিয়েছিলেন এঁরা।’’
সাধারণ তাপমাত্রায় যে বস্তু মোটামুটি বিদ্যুৎ পরিবাহী, অতি কম তাপমাত্রায় সেটিই অতি-সুপরিবাহী হয়ে ওঠে বিদ্যুতের। কিংবা খুবই পাতলা ম্যাগনেটিক ফিল্মে পাওয়া যায় বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য। কেন? ৭০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা মনে করছিলেন খুবই কম তাপমাত্রার মতো চরম কোনও পরিস্থিতিতে পদার্থের ধর্মের শৃঙ্খলা বুঝি নষ্ট হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের সামনে প্রশ্ন ছিল, পদার্থের ওই আপাত অস্বাভাবিক আচরণেরও নিশ্চয়ই কোনও সুনির্দিষ্ট ধরন আছে। সেটাই খুঁজতে গিয়ে থুলেস-হ্যালডেন-কস্টারলিৎজ— তিন জনেই আশ্রয় নেন অঙ্কের এক বিশেষ ধারার। টপোলজি। তারই সূত্র ধরে বস্তুর অজানা চরিত্রের হদিস জানান তাঁরা।
ধরা যাক, নরম নিরেট একটা রবারের বল বা খোলা ছাড়ানো সেদ্ধ ডিম। আঙুলের সামান্য চাপে এগুলির আকার বদলে দেওয়া যায়। কিংবা রবারের একটা ফিতে। টানলে লম্বা হয়। বাঁকানো ও মোচড়ানোও যায় একে। জলের ঘূর্ণির মাঝে যেমন  গোল গর্ত (ভর্টেক্স) তৈরি হয়, তেমনই অণুগুলির মাঝে থাকে অনেক গর্ত  বা ভর্টিসেস। বস্তুকে বাঁকানো বা মোচড়ানো হলে ওই গর্তগুলির আকার, আয়তন ও বিন্যাসে ধারাবাহিক কিছু বদল ঘটে।  অবশ্যই বস্তুটি ভেঙে বা ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত। ভিতরের ওই গর্তগুলি বা ভর্টিসেসের বিন্যাস বদলের ধরন ব্যাখ্যা করা হয় অঙ্কের টপোলজি ধারা দিয়ে। থুলেসরা একেই ব্যবহার করেন নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে।
তাপমাত্রা বাড়লে বস্তুর ভিতরে গর্ত বা ফোকরগুলি দূরে সরে যায়। উষ্ণতা কমলে কাছে আসে। এতে দশা পাল্টায় বস্তুর। ১৯৮০ দশকে থুলেস ও হ্যালডেন পদার্থের বিভিন্ন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ নিয়ে কাজ করছিলেন।  অতি শীতল অবস্থায় বা খুব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে থাকা পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহণের মাত্রা কেন বদলে যায়, তারই ব্যাখ্যা তাঁরা দেন টপোলজির মাধ্যমে। দেখান, আপাত ভাবে এলেমোলো বদলের মধ্যেও একটা শৃঙ্খলা আছে। আছে নির্দিষ্ট ছন্দ। পদার্থবিদ্যার নতুন পথ খুলে দেয় তাঁদের তত্ত্ব।
এই তাত্ত্বিক গবেষণাই এখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম কম্পিউটার বা সুপার-কম্পিউটারের হাল-হকিকত বদলে দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। তিন দশক পরে মিলল নোবেল-স্বীকৃতি।
এ বছরের পুরস্কারমূল্য ৮০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৬.২ কোটি টাকা)। সিয়াট্ল ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ‘প্রফেসর এমেরিটাস’, ৮২ বছর বয়সি থুলেস পাবেন এর অর্ধেক। বাকি অর্ধেক ভাগ করে দেওয়া হবে হ্যালডেন ও কস্টারলিৎজের মধ্যে। ৬৫ বছর বয়সি হ্যালডেন বর্তমানে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ‘ইউজিন হিগিনস প্রফেসর’।  আর ৭৪ বছরের কস্টারলিৎজ বর্তমানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, প্রভিডেন্স-এর ‘হ্যারিসন ই ফার্নসওয়ার্থ প্রফেসর’।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা জেনে বেশ অবাক কস্টারলিৎজ। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘কিছুটা চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো। এখনও পুরো বিশ্বাস হচ্ছে না।’’ তিন জনের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ থুলেস। নোবেল কমিটি যখন এই ঘোষণা করে, আমেরিকায় তখন বেশ রাত। ফলে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তুলনায় নবীন হ্যালডেন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বললেন, ‘‘আমি বিস্মিত ও কৃতজ্ঞ।’’
কেন এত দিন পরে এল তাঁদের কাজের স্বীকৃতি?
এরও একটা ব্যাখ্যা মিলল হ্যালডেনের কাছ থেকে। তাঁর কথায়, ‘‘কাজটা হয়েছিল বহু দিন আগে। কিন্তু সেই মূল কাজটিকে ভিত্তি করে সাম্প্রতিক কালে বেশ কিছু দারুণ আবিষ্কার হয়েছে। মূল কাজটিকেও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এই
সব আবিষ্কার।’’