Tuesday, October 4, 2016

এই নবদম্পতি কে? ঠিকানা খুঁজতে সোশ্যাল মিডিয়ার শরণাপন্ন


Photo
শেষ সময়ে দাদুর হঠাৎ মনে পড়েছিল প্রথম প্রেমিকার কথা। নাতি চেষ্টা করেছিল দাদুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে। আর তাই প্রথম প্রেমিকার নাম, ছবি, ঠিকানা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল নাতি। অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল সেই হারানো প্রেমিকাকে। এমনটাই দেখানো হয়েছিল একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে।
কিন্তু এ বার প্রায় একই রকম ঘটনাটি ঘটেছে বাস্তবে। ছাদের উপর ছিলেন নব দম্পতি। তাঁদের ছবি উঠল ক্যামেরায়। কিন্তু ফোটোগ্রাফার তা জানতেও পারলেন না। বাড়ি ফিরে সেই অসাধারণ ছবি দেখেই চমকে গেলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ শুরু করলেন সেই নবদম্পতির। আর পোস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইর‌্যাল হল সেই ছবি। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল?
ট্র্যাভেল ফিল্মমেকার ব্র্যান্ডন লি এবং তাঁর এক বন্ধু হংকং-এর আকাশে ড্রোন দিয়ে পরীক্ষামূলক ছবি তুলছিলেন। যখন ড্রোনের ব্যাটারি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তখন ড্রোনটি নীচে নামানোর সময় হঠাৎই এই ছবি ক্লিক হয়ে যায়। পরে ছবি দেখার সময় এই ছবি দু’টি হাতে আসে ব্র্যান্ডনের। অসাধারণ এই ছবি দু’টি সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি।
পোস্টটিতে তিনি জানিয়েছেন, জায়গাটি সম্ভবত হংকং-এর জে রেসিডেন্সের ছাদ। কিন্তু কারা এই নবদম্পতি? জানেন না ব্র্যান্ডন। তবে এই নববিবাহিত যুগল যাঁরাই হোন না কেন তাঁরা যদি তাঁদের ওয়েডিং ফোটোশুটে অসাধারণ ছবি দু’টি যোগ করতে চান তা হলে যোগাযোগ করতে পারেন ব্র্যান্ডনের সঙ্গে। এমনটাই সকলকে জানিয়েছেন খোদ ফোটোগ্রাফার।

রাশিয়া, আমেরিকার পর এ বার ভারতের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়নও


EU
আমেরিকা, রাশিয়ার পর এ বার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ভারতের পালে বাতাসটা জোরালো হচ্ছে উত্তরোত্তর। উরি হামলা আর ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর পর ভারতের বন্ধু হল এ বার ইউরোপীয় ইউনিয়নও। মঙ্গলবারই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জানিয়ে দিল, ‘ভারতের পাশে আছি।’
সঙ্কটের মূহুর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাশে থাকার একের পর এক বার্তায় নতুন সংযোজন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাইজার্ড ঝারনেকির স্বাক্ষরিত ভাষণ। ঝারনেকি বলেছেন, ‘‘জঙ্গি দমনে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত যে সক্রিয়তা (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) দেখিয়েছে, তা রীতিমতো প্রশংসার যোগ্য। এই সক্রিয়তাকে বিশ্বের সব দেশেরই সমর্থন করা উচিত। ভারতের সমর্থনে বিশ্বের অন্য দেশগুলিরও আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসা উচিত।’’
জঙ্গি দমনের প্রশ্নে ভারতের সমর্থনে ওঠা প্রস্তাবে সিলমোহর লাগাতে গিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, ‘‘ওই ঘটনা (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) যে বার্তাটা পাকিস্তান সহ গোটা বিশ্বের কাছেই পৌঁছে দিয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো। সেই বার্তাটা হল, পাকিস্তানের সীমান্ত-পার সন্ত্রাসকে ভারত আর রেয়াত করবে না। ওই সন্ত্রাস বন্ধ করতে ভারত পাল্টা ও যোগ্য জবাব দেবে। আর সেই জবাবটা দিতে বেশি সময়ও লাগবে না।’’
ভারতের অবস্থানের আরও প্রশংসা করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টে গৃহীত ঝারনেকির ভাষণে স্পষ্টই বলা হয়েছে, ‘‘ভারত খুব জোরালো ভাবে এটাও বুঝিয়ে দিতে পেরেছে, পাকিস্তানকে আক্রমণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না তার। ভারতের লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানের মদতে পাকিস্তানের মাটিতে যে জঙ্গি সন্ত্রাস জন্মে ও বেড়ে উঠেছে, তার মূলটাকে যতটা সম্ভব উৎপাটিত করতে। আর এই প্রথম সেটা বেশ সফল ভাবেই ভারত করে দেখাতে পেরেছে।’’

হাঙ্গেরির গণভোটে শরণার্থী কোটা বাতিলে সায়


referendum

চলছে ভোটগ্রহণ

শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোটা বাতিল করার পক্ষে ভোট দিলেন হাঙ্গেরির বিপুল সংখ্যক মানুষ। তবে ভোটদানের হার প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই এই ফলকে হাতিয়ার করে আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে পারছেন না হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ওরবান। কিন্তু এই ভোটের ফলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুগে ইউরোপীয় ঐক্যের ধারণায় ফের ধাক্কা লাগল বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিয়ার মতো লড়াইয়ে বিধ্বস্ত দেশ থেকে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের গ্রহণ করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির মধ্যে। কোটার ভিত্তিতে দেশগুলিতে নির্দিষ্ট সং‌খ্যায় শরণার্থী গ্রহণ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের মতো নেতারা। আবার সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন দক্ষিণপন্থী ভিক্তর ওরবানের মতো নেতারা। এই বিতর্কে ভিক্তরের সমর্থনে রয়েছে প্রাক্তন কমিউনিস্ট দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা।
শরণার্থীরা ইউরোপে পা রাখতেই হাঙ্গেরির দক্ষিণ সীমান্ত ঘিরে দেয় ওরবান সরকার। তাঁর মতে, হাঙ্গেরি কাদের সঙ্গে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু তাঁদেরই আছে।
এ নিয়ে হাঙ্গেরির মত জানতে গত কাল গণভোট নেওয়া হয়। হাঙ্গেরির জাতীয় নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, ভোটারদের ৫০% মতদানই করেননি। কাজেই আইনত এ নিয়ে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তাদের সঙ্গে দর কষতে নামা সম্ভব নয়। কিন্তু যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৯৮.৩%ই শরণার্থী কোটার বিরুদ্ধে। ফল নিয়ে উৎসাহিত ওরবান বলেন, ‘‘হাঙ্গেরির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান নিয়ে ভোটে মতদানের হারের চেয়ে এই ভোটে মতদানের হার বেশি।’’ তবে বিরোধীদের দাবি, ব্যর্থ গণভোটের দায় নিয়ে তাঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত।
অনেকের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃত্বকে ফের প্রশ্নের মুখে ফেলল এই গণভোট। বোঝাই যাচ্ছে, সদস্য দেশগুলি ইউনিয়নের সব মত মানতে রাজি নয়।

Sunday, October 2, 2016

কাঁধে রাইফেল,হাতে ঝাড়ু


Narendra modi
ডান কাঁধে বেরেটা রাইফেল, বাঁ হাতে ঝাড়ু।
২ অক্টোবর, স্বচ্ছতা দিবসে নরেন্দ্র মোদীর এই কার্টুনকেই প্রচারে নিয়ে এসেছে বিজেপি। বলা হচ্ছে, এটাই হল নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’। জঞ্জাল আর জঙ্গি— দুটোই সাফ করার ক্ষমতা যিনি রাখেন, তিনি নরেন্দ্র মোদী। এক বার সেনা অভিযানের পর সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে মোদী নিজে অবশ্য এখন শান্তির পায়রা ওড়াতে চাইছেন। ভারত যে যুদ্ধবাজ নয়, তা বোঝাতে চাইছেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ভোটে জিততে হলে মোদীর ব্যক্তিত্বকেই যে তুলে ধরতে হবে, তা ভাল ভাবেই বুঝছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সেনা অভিযানের পরে জাত-পাত-ধর্মে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা  উত্তরপ্রদেশে দলের রক্তক্ষরণ আটকানো গিয়েছে ঠিকই, তবে প্রত্যাশামাফিক জাতীয়তাবাদের ঝড় ওঠেনি— এটাই এখন ভাবাচ্ছে বিজেপিকে। তাই প্রধানমন্ত্রী যতই সুর নরম করুন, যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব জিইয়ে রেখেই ভোটের ময়দানে নামতে চান অমিত শাহরা। রাজ্য নেতৃত্বকে তাই মোদীর সেনা অভিযানের সাফল্য-গাথা বেশি করে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির এক নেতার কথায়, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি বা কংগ্রেস— সকলেরই এক-একজন মুখ রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মুখ নেই শুধু বিজেপিতে। উত্তরপ্রদেশে এখনও বিজেপির মুখ নরেন্দ্র মোদীই। লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে সামনে রেখেই বিজেপি এ রাজ্যে আশির মধ্যে সত্তরের বেশি আসন ঝুলিতে পুড়েছে। জাত-ধর্মের উপরে উঠে উন্নয়নের নামে হিন্দু ভোটকে একজোট করতে পেরেছিলেন মোদী। এ বারও সেই অঙ্কে এগোচ্ছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই দলিত-সংখ্যালঘু নিগ্রহের ঘটনাগুলি গুলিয়ে দিয়েছে বিজেপির ভোট-অঙ্ক। দল মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে সেনা অভিযানের ঘটনা বড় সুযোগ এনে দিয়েছে বিজেপির সামনে। একে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদের হাওয়ায় সমাজের সকলকে একজোট করা সম্ভব। কিন্তু গোবলয়ের এই রাজ্যে এই মুহূর্তে জাত-পাত এমন ভাবে শিকড় ছড়িয়েছে যে জাতীয়তাবাদের আবেগ ততটা মাথাচাড়া দিতে পারছে না।
সে কারণেই সেনা অভিযান নিয়ে প্রচারকে চড়া মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। বিজেপির ‘ওয়ার রুম’-এর এক নেতা আজ বলেন, জাতীয়তাবাদের আবেগ সবার মধ্যেই কাজ করে। সংখ্যালঘুরাও এতে সামিল হন। সংখ্যালঘুরা যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে না যায়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। ক’দিন ধরেই তাঁদের কাছে টানার বার্তা দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পঞ্চায়েত শুরু করেছেন।  তবে এর পরও বিজেপি চাইছে, সংখ্যালঘু ভোট না মিললেও তা যেন একজোট হয়ে বিরুদ্ধে না যায়। উত্তরপ্রদেশে দলিত ভোট মায়াবতীর কাছে। যাদব ভোট মুলায়মের ঝুলিতে। কংগ্রেস শীলা দীক্ষিতকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণ ভোট টানতে চাইলেও তাঁরা ঝুঁকে বিজেপির দিকেই। বিজেপি নেতাটির মতে, জাত-পাতের জালের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভোটের  সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সব ধর্ম-বর্গের সমর্থন। সেনা অভিযানের ঘটনায় জাতীয়তাবাদের আবেগ সেই কাজটা করে দিতে পারে। সে জন্য পাকিস্তানকে সামরিক জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যিনি, সেই   নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতাকে তুলে ধরা সব থেকে জরুরি। বিজেপি নেতা শিবরাজ সিংহ চৌহানের কথা সেই ভাবনাকেই তুলে ধরছে। তাঁর মন্তব্য, ‘‘সেনা অভিযানের সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিয়েছে, ৫৬ নয়— মোদীর ছাতির মাপ আসলে ১০০ ইঞ্চি।’’
বিজেপির চাল বুঝতে পেরেই ফোঁস করতে শুরু করেছেন মায়াবতী।  কোনও বিরোধী দলের পক্ষেই সেনা অভিযানের বিরোধিতা করা সম্ভব হয়নি। খোদ রাহুল গাঁধীকেও মোদীর তারিফ করতে হয়েছে। কিন্তু মায়াবতী এখন বিজেপি সভাপতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘সেনা অভিযানকে সামনে রেখে অমিত শাহ যে ভারত উদয়ের নয়া স্লোগান দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন, এটা কাম্য নয়।’’ অমিত শাহ তাতে দমছেন, এমন নয়। তিনি বরং আজ ফের বিবৃতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কালো টাকা উদ্ধারে মোদী কথা রেখেছেন ও এই টাকা দিয়ে গ্রামের উন্নয়ন হবে, তা হলেই ভারত-উদয় হবে— এ সব কথা বলে ‘ব্র্যান্ড মোদী’তে শান দিতে চাইছেন তিনি।

সিরিয়ার শৈশব

child

মর্গের অন্ধকারে দুই ভাইবোন হালা এবং ওমর। রবিবার সিরিয়ার দামাস্কাসে 

জানলা দিয়ে সকাল সকাল বৃষ্টি দেখে ঘুম ভাঙে ফইজের। আকাশধোয়া বৃষ্টি নয়। বোমা-গুলি-বারুদের বৃষ্টি। বাড়িতে একফোঁটা জল নেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বিদ্যুৎ,বন্ধ স্কুল,বন্ধ খেলা। স্তব্ধ জীবন। শৈশবও থেমে আছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া।পাঁচ বছরের টানা গৃহযুদ্ধে দেশটা অনেক দিন আগেই ধ্বংসস্তূপ। সিরিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শহর আলেপ্পো। এখনও পর্যন্ত যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। তার মধ্যে এক লক্ষই শিশু। তিন লক্ষ মানুষ এখনও  আটকে আলেপ্পোয়। আর এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ,শৈশব।সোশ্যাল মিডিয়া আর সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে দুনিয়া চিনেছে আলান কুর্দি থেকে শুরু করে ওমরান দাকনিশকে। কিন্তু ওদের মতোই আরও অসংখ্য শিশু প্রতিদিন মরছে সিরিয়ায়। ফইজরা তারই উদাহরণ।
২০১১সনে গৃহযুদ্ধের শুরু।প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ সরকারের পতনের দাবিতে শুরু হয়েছিল গণঅভ্যুত্থান। সেই সুযোগেই সশস্ত্র সংগঠনগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। একের পর এক ধ্বংসলীলা চালাতে থাকে আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠন। দেশের সেনাবাহিনী আইএসের সঙ্গে যুঝতে পারছে না, এই যুক্তিতে গত বছরের শেষের দিকে সিরিয়ার আকাশ-সীমায় ঢুকেছিল রুশ বোমারু বিমান। তার পর থেকে গত এক বছর ধরে কার্যত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সিরিয়ায় হানাদারি চালিয়েছে তারা। মাঝখানের একটা সময় যুদ্ধ-বিরতিতে সাময়িক স্বস্তি এসেছিল বটে। কিন্তু গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফের যুদ্ধ-বিরতি লঙ্ঘন করে শুরু হয় গুলি-বোমার বৃষ্টি। তার জেরে এর মধ্যেই আলেপ্পোতে অন্তত ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬টিই শিশু বলে জানিয়েছে‌ ইউনিসেফ। আহত প্রায় ৮৪০ জন। গত সপ্তাহেই প্রায় ১৯০০ বার বোমা পড়েছে আলেপ্পোয়। যাতে বাদ পড়ছে না হাসপাতালও। গতকালই শহরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এম-১০বোমারু বিমান হানায়।
জাতিসংঘের শিশু সংক্রান্ত বিভাগের আঞ্চলিক মুখ্য সংযোগকারী জুলিয়েট তৌমা জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে শিশুদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা আলোপ্পো়। খাবার নেই, পানি নেই। বছরের পর বছর বন্ধ স্কুল, বন্ধ হাসপাতাল। যুদ্ধে আহত শিশুগুলির জন্য নেই নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা। এই অবস্থা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে প্রতিটি পরিবার। তবু পরিস্থিতি একই রকম জটিল। তৌমার কথায়, ‘‘ঠিক কত জন শিশুকে যুদ্ধের আতঙ্ক তাড়া করে বেরাচ্ছে, তা বলা অসম্ভব। গত কয়েক সপ্তাহে যে মারাত্মক হিংসার ছবি এখানকার শিশুদের মনে গাঁথা হয়ে গিয়েছে, তা ভয়াবহ।’’শুধু আলেপ্পোই নয়। রাজধানী দামাস্কাসের অবস্থাও প্রায় একই রকম। মাস খানেক আগে বাবাকে হারিয়েছিল হালা আর ওমর।আজ তাদের বাড়ির উপরই একটা বোমা পড়ে।পাঁচ ও সাত বছরের হালা আর ওমরের মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। আর খুদে দুই ভাই-বোনের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মর্গের টেবিলে।
কিন্তু যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণার পরে ক্রমশ ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছিল আলেপ্পো। খুলতে শুরু করেছিল বেশ কয়েকটি স্কুল। মাটির নীচে বাঙ্কারে কোথাও কোথাও শুরু হয় ক্লাসও। তবে বারবার বিমান হামলায় রেহাই পায়নি সেগুলোও। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলেপ্পোয় ১৩টি স্কুল চালায়। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলই বাঙ্কারে। তারই এক সদস্য নিকফিনে জানাচ্ছেন, এই যুদ্ধর অর্থই হল কোথাও শিশুদের জন্য এতটুকু সুরক্ষিত জায়গা না রাখা।
আলেপ্পোর চিকিৎসকেদের দাবি, রিপোর্ট হওয়া মৃত্যুর তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এখানে। কোনও কোনও পরিবার তো হাসপাতাল বা মর্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে বাড়িতেই কবর দিচ্ছেন প্রিয়জনকে। সেই মৃত্যুগুলো কোথাও নথিভুক্তও হচ্ছে না।বাড়ির মধ্যেই অধিকাংশ সময় থাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলা ও শিশুরাই বিমান হামলা বা বোমার শিকার হচ্ছেন বলে জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হাতেম। যুদ্ধের সময় এক এক দিনে একসঙ্গে ৮০-১২০টি শিশুরও চিকিৎসা করতে হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি। সিরিয়ার একটি পর্যবেক্ষক দল জানাচ্ছে, শুধুমাত্র রুশ বিমান হামলায় সিরিয়ায় ৯,৩৬৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে,এর মধ্যে ৯০৬জনই শিশু।এই যুদ্ধের আবহতায় ক্রমশ শেষ হচ্ছে সিরিয়ার শৈশব। গুলি-বোমা-বন্দুক-রক্ত দেখে দেখে ক্লান্ত ফইজরা। প্রতিটি বাড়িই যেন পরিত্যক্ত কসাইখানা। আর যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে ছোট্ট মনগুলোতে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে তারা। কেউ কেউ অত্যন্ত হিংস্র হয়ে উঠছে। কেউ আবার পঙ্গুত্বের শিকার। কেউ হারিয়েছে কথা বলার ক্ষমতা।
তবে এত রক্তপাতের মধ্যেও ভিতরে ভিতরে চলছে অন্য একটা যুদ্ধ,সেটা ঘুরে দাঁড়ানোরযুদ্ধ, প্রত্যেকটা শিশুর জন্য একটা সুস্থ ভোর ছিনিয়ে আনার যুদ্ধ। নিকফিনে বা হাতেমের মত যেখানে সকলেই যে বলছেন, ‘‘লড়াই জারি হ্যায়।’’ 

Saturday, October 1, 2016

এলিয়েন ‘ধরতে’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ তৈরি করল চিন


telescope

অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল রেডিও টেলিস্কোপের ছবি

ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিন্স ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন, ভিনগ্রহীদের ঘাঁটিয়ো না, আখেরে বিপদ আমাদেরই হতে পারে। কিন্তু, মানুষ কবে নিজের বিপদের পরোয়া করেছে? এলিয়েনের অস্তিত্ব খুঁজতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ বানিয়ে ফেলেছে চিন। যার ‘প্রতিফলক’ হতে পারে প্রায় ৩০ টি ফুটবল গ্রাউন্ডের সমান। দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের গুইজহো পর্বতের শীর্ষে এত বড় টেলিস্কোপ দেখে হাঁ বিশ্ব। এই টেলিস্কোপ প্রধানত ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান করবে। এক নজরে জেনে নেওয়া যাক চিনের তৈরি এই টেলিস্কোপ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। 
পাঁচমিশালি সবজি শাক দিয়ে নিরামিষ,
সুন্দর স্বাস্হ্য রক্ষার আদর্শ একটি খাবার


উপকরণঃ লম্বা করে কাটা ৫০গ্রাম মিষ্টি কুমড়া,মুলা ৫০গ্রাম,কাঁচা পেঁপে ৫০গ্রাম,মটরশুঁটি ৫০গ্রাম,
ফুলকপি ৫০গ্রাম,পুঁইশাক ২৫০গ্রাম,সরিষার তেল ২টেবিল চামচ,পাঁচফোড়ন ১চা চামচ,হলুদ গুঁড়া 
আধা চা চামচ,লবন ১চা চামচ,পানি ১কাপ,ঘি ২টেবিল চামচ,চিনি ১টেবিল চামচ,বেরেস্তা ১টেবিল
চামচ আর কাঁচা মরিচ ৭টি।
রন্ধন প্রণালিঃ প্রথমে চুলায় ফ্রাই প্যান বসিয়ে তেল দিন,গরম হলে পাঁচ ফোড়ন,হলুদ দিয়ে মিশিয়ে
একে একে সব সবজি ও পুঁইশাক এবং পানি দিয়ে নেড়ে ১০মিনিট ঢেকে রান্না করুন।এবার ঢাকনা
খুলে ঘি,চিনি,বেরেস্তা ও কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।এরপর সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন
করুন,পাঁচমিশালি সবজি শাক দিয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ সব খাদ্যপ্রাণের সুস্বাদু ও সুষম এক নিরামিষ খাবার।
see more: Goodfood55.blogspot.com
---------------------------------------------------