Wednesday, September 21, 2016

নিউ ইয়র্কে জোড়া আন্তর্জাতিক সম্মানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা

Hasina

নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' এবং 'এজেন্ট অফ চেঞ্জ' সম্মান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
জাতিসংঘের শাখা সংগঠন ‘ইউএন ওম্যান’-এর পক্ষ থেকে 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন' পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে।আবার ‘এজেন্ট অফ চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম।নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। 
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন। আজ  ২১ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন।

দ্বিগুণ হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর আকার


Dhaka

দ্বিগুন হচ্ছে আয়তন।

ঢাকা মহানগরীর আকার বাড়ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন করে আরও ৩৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের আলোচনা চলছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আয়তন অনুসারে দ্বিগুণ হয়েছে ঢাকা নগরীর আয়তন। এই সব ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ২ ঢাকা সিটি করপোরেশনের এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে ঢাকা উত্তরের আয়তন বেশি হবে।
বর্তমানে ঢাকা উত্তরে ওয়ার্ড রয়েছে ৫৭টি আর দক্ষিণে ৩৬টি। যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোকে ওয়ার্ডে রূপান্তর করে দুই সিটিতেই ১৮টি করে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কম-বেশিও হতে পারে। তবে কোন ইউনিয়ন কোন ওয়ার্ড বা কোন জোনে আসবে তা চূড়ান্ত হবে ওয়ার্ড সংখ্যা চূড়ান্ত হওয়ার পর।
ঢাকা মহানগরীর সীমানা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। এখন চলছে সীমানা নির্ধারণের কাজ।
এ ব্যাপারে ঢাকার জেলা প্রশাসক মহম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, “বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে অচিরেই হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এলাকার নামগুলো এলেই আমরা মূল কাজ শুরু করে দেব। নামগুলো চূড়ান্ত হলেই গেজেট দিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর খুনীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ

Noor Chowdhury

নুর চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের ফেডারেল কোর্ট। গত সোমবার তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে কানাডায় অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন নূর চৌধুরী। সরকার ইচ্ছা করলে যে কোনও মূহুর্তে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, কানাডা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নূর চৌধুরীকে দেশে আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র জানান, কানাডায় আইনী লড়াইয়ে নূর চৌধুরী হেরে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনার পর বাংলাদেশের অনুরোধ রেখেছে বন্ধুপ্রতীম দেশটি। এ বার তাঁকে দেশে ফেরত আনার পালা।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের রাতে এই নূর চৌধুরীই গুলি করেছিলেন জাতির পিতাকে। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে কামালের বন্ধু ছিলেন মেজর নূর। ছেলের বন্ধুই ১৫ অগস্টের রাতের মোহাম্মদী বেগ! নূর আজ হাত মিলিয়েছে খুনি চক্রের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির শেষ ধাপে আসতে না আসতেই গর্জে ওঠে নূর-বজলুল হুদার রাইফেল।
সে দিন ভোরের আজানের আগেই গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে বঙ্গবন্ধুর। যা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি। গোলাগুলির শব্দে দোতলা বাড়ির উপরতলা থেকে ঘুমঘুম চোখে নীচে নেমে আসেন বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল। মুহূর্তেই স্টেনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান তিনি। এর পর এলোপাথারি গুলি চলে কিছু ক্ষণ। দোতলা থেকে নেমে আসার সময়ে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে হত্যা করে কুলাঙ্গারের দল।
সেই কালো রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে খুনিরা মেতে উঠেছিল হত্যার উল্লাসে। বঙ্গবন্ধু, তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধু, ভাই, ভাগ্নে, ভাগ্নের স্ত্রী, কাজের লোক-সহ ২১ জনকে হত্যা করা হয় সেই রাতে।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে শেখ রাসেলের বয়স ছিল নয়। বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে তাকে আগেই বন্দি করে খুনিরা। উপরে গুলির শব্দ শুনে মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য আকুতি করে ছোট্ট অবুঝ ছেলেটি। কিন্তু তাকেও ছাড়েনি খুনিরা।
সেই দিন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা আর শেখ রেহেনা ছিলেন বিদেশে। আর সে কারণেই বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁরা।

দেশে ফেরার দিনে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকতে না দেওয়য় বাড়ীর সামন ক্রন্দনরত শেখ হাসিনা।
১৯৯৬ সালের জুনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মুহূর্তেই খুনী নূর চৌধুরী সপরিবারে কানাডায় পালিয়ে যান। কানাডায় গিয়ে ফেড়ারেল কোর্টে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে নূর চৌধুরী নিজেকে চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। আবেদনে বঙ্গবন্ধু সরকারের কুৎসা আর জিয়াউর রহমানের প্রতি নিজের সমর্থন ও যোগসাজশের কথা উল্লেখ করেছেন। মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কানাডা সরকারও তখন তাঁকে শর্তসাপেক্ষে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়।
এর পর থেকে নানা ভাবেই বঙ্গবন্ধুর অন্য খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভাবে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিপক্ষে থাকায় নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়নি কানাডা। তবে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। নানা ভাবে কানাডাকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এই রায় কার্যকরের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার মন্ট্রিলের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে কানাডা সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দু’দেশ নূর চৌধুরীর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মোহম্মদ শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “কানাডা থেকে নূর চৌধুরীকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন এবং এর উপায় খুঁজে বের করবেন।” তিনি আরও বলেন, “এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা।”
এরপর গত সোমবার কানাডার নিম্ন আদালত বাংলাদেশে নূর চৌধুরীর অপকর্মের কথা উল্লেখ করে তাঁর আশ্রয় আবেদনটি বাতিল করে দেয়। এর পর খুনী নূর চৌধুরী উচ্চ আদালতে আপিল করেন। উচ্চ আদালতের বিচারপতি জেমস রাসেল তার আপিল বাতিল করে কানাডা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “দেশে স্বচ্ছতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানি ও বিচার হয়েছে। আসামি সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও নূর চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী যথেষ্ট আইনী লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছেন। ফলে দেশে সুবিচার মিলবে না, নূর চৌধুরীর এমন দাবি সঠিক নয়।”
ফেডারেল আদালত আরও বলেছে, ১৫ অগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার মুহূর্তেই সেনা চেকপোস্ট পেরিয়ে নূর চৌধুরীর অবারিত যাতায়াত সন্দেহ বলে মনে করা হয়। বিচারপতি নূর চৌধুরীকে কানাডায় থাকার অযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, ওই রাতে নিরীহ জনগণ, নারী-শিশুর ওপর যে পরিকল্পিত সুসংগটিত হামলা হয়েছে সে ষড়যন্ত্রে নূর চৌধুরীর যুক্ত থাকার সম্ভাবনা সন্দেহের ঊর্ধ্বে।
১৫ অগস্টের কালো রাতে বাঙালি হারিয়েছিল তাদের প্রিয় নেতাকে, জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের নায়ককে। ষড়যন্ত্র, মিথ্যা আর অপপ্রচারে তাঁর আর বাঙালি জাতির সব অর্জনকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে গত ৩৪ বছর ধরে। কিন্তু দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যে বাংলাদেশে আইন করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রেহাই দেওয়া হয়েছিল, যে দেশ এক সময় সেই ঘাতকদের বিদেশের দুতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করেছিল। সেই বাংলাদেশ আজ অন্য এক ইতিহাস রচনা করছে। এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষে রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ দেশে জাতির জনকের ঘাতকদের বিচার শেষে রায় কার্যকর হয়েছে, এখন পলাতকদেরও ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ যেন সত্য আর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার এক নতুন ইতিহাস তৈরির অনন্য কাল।

সিরিয়ায় কনভয়ে হামলা, জাতিসংঘের ত্রাণবন্ধের সিদ্ধান্ত

truck

ত্রাণবাহী ট্রাকে হামলা

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গিয়েছিল রবিবার মাঝ রাতেই। কনভয়ে হামলার জেরে সিরিয়ায় এ বার ত্রাণ পাঠানোও আপাতত বন্ধ করল রাষ্ট্রপুঞ্জ। সূত্রের খবর, আলেপ্পো প্রদেশের উরুম-আল-কুবরা শহরে গত কাল রাতের একটি বিমান হামলায় উড়ে গিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের অন্তত ১৮টি ত্রাণবোঝাই ট্রাক। ত্রাণকর্মী ও চালক মিলিয়ে নিহত ১২। সব মিলিয়ে ৩১টি ট্রাক ছিল কনভয়ে। অল্পবিস্তর ক্ষতি হয়েছে প্রায় সব ক’টিরই। রাষ্ট্রপুঞ্জের দাবি, তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর, সোমবার রাতে ওই কনভয়টি সবে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোর কাছাকাছি এসে পৌঁছয়। ট্রাক খালি করে এলাকার প্রায় ৭৮ হাজার মানুষের জন্য বস্তা-বস্তা গম, শুকনো খাবার, শীতের পোশাক আর ওষুধপত্র তখন ঢোকানো হচ্ছিল গুদামঘরে। হঠাৎই তাল কাটল বিমান হানায়।
সিরিয়া, নাকি রাশিয়া— হামলার নেপথ্যে কারা? আজ দিনভর তা স্পষ্ট না হলেও বিষয়টি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। সংশ্লিষ্ট ত্রাণ বিষয়ক প্রধান স্টিফেন ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘এই হামলা যদি ইচ্ছাকৃত হয়, নিশ্চিত ভাবেই তা যুদ্ধাপরাধের সামিল।’’ অভিযোগের আঙুল উঠছে মার্কিন সেনার দিকেও। কারণ গত শনিবার, (যুদ্ধবিরতি চলাকালীন) তাদেরই বিমান হামলায় দেইর আল জৌর শহরে অন্তত ৬২ জন সিরীয় সেনার মৃত্যু হয়। সেই হামলা ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে আমেরিকা দুঃখপ্রকাশ করলেও বরফ গলেনি। বরং তার জের মিটতে না মিটতেই ভেস্তে গিয়েছে যুদ্ধবিরতি।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সোমবার থেকেই আলেপ্পো ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধে দেশ জুড়ে প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৩ লক্ষের। সপ্তাহখানেকের যুদ্ধবিরতি মিটতেই তাই ফের সিঁদুরে মেঘ দেখছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলের একটা বড় অংশ। যুদ্ধের মাটিতে দাঁড়িয়ে এখনও যাঁরা ত্রাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা বলছেন— ‘‘কিছু একটা করুন। যুদ্ধের মানে না জেনেও না খেয়ে মরতে বসেছে বাচ্চাগুলো। গত দু’দিন ধরে ভাল করে সূর্য ওঠার আগেই যুদ্ধবিমান উড়ছে আকাশে। এর থেকে বুঝি রেহাই নেই নিরীহ নাগরিকদের।’’
সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি না টিকলে যে দেশটাকে বাঁচানো যাবে না, মার্কিন বিদেশসচিব জন কেরি তা আগেই বলেছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের কনভয়ে হামলার পরে ফের সেই আশঙ্কার কথাই
জানিয়েছে ওয়াশিংটন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘সিরিয়ার এখন যা পরিস্থিতি, তাতে রাশিয়ার ভূমিকাটাই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যে ঠিক কাদের পাশে দাঁড়াতে চায় সেটাই তো স্পষ্ট নয়।’’ পাল্টা তোপ দেগেছে রাশিয়াও। তাদের অভিযোগ, সিরিয়ার যুদ্ধবিরতিকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল মার্কিন বাহিনীই।        

পাকিস্তানকে জঙ্গি রাষ্ট্র ঘোষণা করতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল


Nawaz Sharif

পর্বতপ্রমাণ চাপের মুখে শরিফ।পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ঘোষণা করার জন্য বিল পেশ হল মার্কিন কংগ্রেসে। দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের কারখানা হিসেবে কাজ করছে এবং আমেরিকা ও তার মিত্ররাই পাক সন্ত্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ মনে করছেন। তার প্রেক্ষিতেই পেশ হয়েছে এই বিল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক, দু’দলের মধ্যেই এই বিলের প্রতি সমর্থন রয়েছে।

পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার জন্য বিল পেশ হল মার্কিন কংগ্রেসে। দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের কারখানা হিসেবে কাজ করছে এবং আমেরিকা ও তার মিত্ররাই পাক সন্ত্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ মনে করছেন। তার প্রেক্ষিতেই পেশ হয়েছে এই বিল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক, দু’দলের মধ্যেই এই বিলের প্রতি সমর্থন রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিলটি পেশ হয়েছে। কংগ্রেসের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সাবকমিটির চেয়ারম্যান তথা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টেড পো নিজে বিলটি পেশ করেছেন। বিলের অন্যতম সমর্থক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান তথা সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সাবকমিটির প্রভাবশালী সদস্যা ডানা রোরাবাশার। ‘পাকিস্তান স্টেট স্পনসর অব টেররিজম ডেজিগনেশন আইন’ নামে ওই বিল পেশ করার পর টেড পো বলেছেন, ‘‘পাকিস্তানকে সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে কারণ তারা বেইমানি করছে এবং পাকিস্তান আসলে যে ধরনের রাষ্ট্র, তাদের সেই তকমাই দিতে হবে— সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র।’’ পো আরও বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান সহযোগী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য তো নয়ই, তা ছাড়াও দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তান আমেরিকার শত্রুদের সাহায্য করে আসছে এবং প্ররোচনা দিচ্ছে।’’ মার্কিন কংগ্রেসের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সাবকমিটির চেয়ারম্যানের কথায়, ‘‘ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে দহরম মহরম, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে পাকিস্তান কোন পক্ষে তা বুঝে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে পাকিস্তান মোটেই আমেরিকার পক্ষে নয়।’’ মার্কিন কংগ্রেসে এই বিল পেশ হওয়ায় ওবামা প্রশাসনের উপর পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার জন্য চাপ আরও বাড়ল। সন্ত্রাসবাদকে পাকিস্তান সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে বলে যে অভিযোগ বিলের প্রস্তাবক ও সমর্থকরা তুলছেন, ওবামা প্রশাসনকে এ বার সে প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। পাকিস্তান যে সন্ত্রাসের কারখানা, সে ইঙ্গিত ওবামা ক্যাবিনেটের একাধিক পদাধিকারী তো বটেই, খোদ ওবামার থেকেও একাধিক বার পাওয়া গিয়েছে। ফলে পাকিস্তান সন্ত্রাসে সমর্থন জোগাচ্ছে না, এ কথা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। স্পষ্টতই মার্কিন কংগ্রেসে পেশ হওয়া এই পাকিস্তান বিরোধী বিল ঘোর চাপে ফেলতে চলেছে ইসলামাবাদকে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে পাকিস্তান বিরোধী মতামত ক্রমশই জোরদার হচ্ছে। অন্য একটি বিবৃতিতে আর এক কংগ্রেসম্যান পিট অলসন উরি সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা ঘাঁটিতে যে জঙ্গি হামলায় ১৮ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, আমি তার কঠোর নিন্দা করছি। শান্তির লক্ষ্যে ভারত আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী সহযোগী এবং মিত্র।’’ অলসন আরও বলেছেন, এই হামলার চক্রীদের বিচারের কাঠগড়ায় টেনে আনার জন্য সব রকম উদ্যোগকে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হবে।

কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে দুষছে আমেরিকা


Truck

ত্রাণবাহী ট্রাকে হামলা। ছবি: রয়টার্স।

সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের কনভয়ে হামলার পিছনে রাশিয়ারই হাত দেখছে আমেরিকা। সোমবার আলেপ্পোর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে বিমান হামলার মুখে পড়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৮টি ট্রাক। সেই হামলার ঠিক আগে আলেপ্পোর আকাশে দু’টি রুশ সুখোই বিমান দেখা গিয়েছিল বলে আজ দাবি করেছেন দুই মার্কিন সেনা কর্তা। সরকারি ভাবে কিছু না জানালেও, পেন্টাগনেরও তেমনটাই ইঙ্গিত। মস্কো যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এমনকী প্রথমে বিষয়টিকে ‘নিছক দুর্ঘটনা’ বলে হামলার তত্ত্বও মানতে চায়নি তারা। পরে অবশ্য রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক আলাদা বিবৃতি দিয়ে জানায়, হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরাই।
প্রমাণ কী? মস্কোর দাবি, হামলার আগে ও পরের সবটাই ধরা পড়েছে তাদের ড্রোন-ক্যামেরায়। তাতে নাকি অনেক ক্ষণ কনভয়ের পিছু নিতে দেখা গিয়েছে আইএস জঙ্গিদের। যে সম্ভাবনা আজ বানচাল করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস। তাঁর কথায়, ‘‘মার্কিন সেনা জোট, রাশিয়া কিংবা সিরীয় সেনা— হামলা যে কেউ করে থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের বিমান আলেপ্পোর আকাশে ওড়ে না। ওখানে জঙ্গিদের অস্তিত্বই নেই। তাই সিরীয় সেনা আর রাশিয়াকেই জবাব দিতে হবে।’’
বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন বিদেশসচিব জন কেরির সঙ্গে কথা বলেছেন রুশ কর্তারা। অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করেছে মস্কো। তবে সূত্রের খবর, কনভয়টি আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে ঢোকার পর কোনও ড্রোন-ফুটেজ মেলেনি।
জুতসই প্রমাণ না থাকায় রাশিয়াও দোষারোপের পথে। শনিবার সিরিয়ার দেইর আল জৌর শহরে মার্কিন বিমান হামলায় ৬২ জন সিরীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। তার থেকে নজর ঘোরাতেই ওয়াশিংটন কনভয়ে হামলার পিছনে রাশিয়াকে দুষছে বলে মত তাদের।
হামলার পিছনে যে-ই থাক, ‘কাপুরুষোচিত এই যুদ্ধাপরাধের’ জেরে সিরিয়ায় ত্রাণ পাঠানো বন্ধই রাখতে চাইছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। যুদ্ধবিরতি বানচালের পরে সিরিয়া তাই অাধাঁরে।  কাল রাতেও আলেপ্পোর কাছে খান তুমান গ্রামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিমান হামলার খবর মিলেছে। মারা গিয়েছেন চার স্বাস্থ্যকর্মী। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হামলায় ভবনের তিনটি তলাই ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে বহু। সিরিয়ায় গত এক বছরে শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই ১৩৫টি হামলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও সব চেয়ে বিপজ্জনক দেশ এখন সিরিয়া।
আমেরিকা সিরিয়া থেকে যুদ্ধবিরতি ওঠার কথা মানতে নারাজ। একই অবস্থান রাশিয়ার। শুক্রবার ফের সব পক্ষের আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন জন কেরি। 


চাঁদে অবতরণ ছিল সিনেমা, দৃশ্য ধারণ করেছি আমি’

---চলচ্চিত্র পরিচালক,স্ট্যানলি কুবরিক


‘চাঁদে অবতরণ ছিল সিনেমা, দৃশ্য ধারণ করেছি আমি’
মার্কিনীদের চাঁদে অবতরণ ইস্যুতে আমেরিকার বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিকের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে নতুনকরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, মার্কিনীদের চাঁদে অবতরণের পুরো ঘটনা ছিল সিনেমা। তিনি নিজেই ওইসব দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। তার মতে, সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো করে ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল।
চলচ্চিত্র নির্মাতা টি. প্যাট্রিক মিউরে সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছেন। প্যাট্রিক মিউরে দাবি করেছেন, ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর তিন দিন আগে স্ট্যানলি কুবরিক তাকে এ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদিন তিনি তা প্রকাশ করেননি।
তবে স্ট্যানলি কুবরিকের স্ত্রী ক্রিস্টিনা কুবরিক বলেছেন, তার স্বামীর সাক্ষাৎকারটি বানোয়াট। তিনি এ ধরনের কোনো সাক্ষাৎকার দেন নি বলে দাবি করেছেন ক্রিস্টিনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানোর দাবি করে। কিন্তু বিশ্বের বহু বিজ্ঞানীই যুগে যুগে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, নাসার মাধ্যমে আমেরিকার চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঘটনাটি ছিল শুধুই সাজানো নাটক।
উন্নত বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা চাঁদে যাওয়ার এই নাটকের শুটিং করা হয়েছিল দুর্গম কোনো মরু অঞ্চলে, যেখানে নাটক সাজালে কেউ বুঝতে পারবে না। হলিউডে মার্কিন পরিচালকরা এত অবিশ্বাস্য সব সিনেমা তৈরি করে থাকেন যে তাদের পক্ষে এরকম একটি চন্দ্র বিজয়ের শুটিং করা খুবই সহজ ব্যাপার। কিছু কিছু বিজ্ঞানী এই চন্দ্র বিজয় নাটকের পরিচালকের বলেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, এই মিথ্যা কাহিনীর পরিচালক ছিলেন বিখ্যাত মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক। এবার সেই কুবরিকের সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুনকরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা নাসার সমালোচনা করে বলেন,১৯৬৯ সালে নাসার এমন কোনো উন্নত প্রযুক্তি ছিল না যা দিয়ে মানুষ চাঁদে গমন করতে পারে। এপোলো-১১ নামের মহাকাশ যানটি ছিল সাজানো নাটকের অংশ। মানুষ সত্যিই চাঁদে গেছে নাকি এটা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা সেটা আরো বেশি ঘনীভূত হয় মার্কিন রকেট প্রযুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা বিল কেসিংয়ের বক্তব্যের পর। ১৯৭৪ সালে তিনি একটি বই লেখেন ‘আমেরিকার ৩০ বিলিয়ন ডলারের জোচ্চুরি’ শিরোনামে। এই গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন আমরা কখনই চাঁদে যাইনি। চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি ছিল বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন এপোলো-১১ মহাকাশ যানটি উৎক্ষেপণের কিছু সময় পর যানটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর তিন নভোচারী বিশিষ্ট লুনার ক্যাপসুলটি একটি সামরিক কার্গো বিমানে সরিয়ে ফেলা হয় এবং আট দিন পর ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দেয়া হয়। তারপর নভোচারীদের নিয়ে নেভাদার মরুভূমিতে কঠোর সামরিক প্রহরার মধ্য দিয়ে চন্দ্র বিজয়ের নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়।
মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করার পর সেখানে তাদের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও তোলা হয় এবং চন্দ্র থেকে তারা কয়েকটি পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এই ছবি,ভিডিও ও পাথরগুলো তাদের সত্যিকারের চাঁদে যাওয়ার প্রমাণ বহন করে।
যারা চাঁদে মানুষ অবতরণকে সাজানো নাটক বলে মনে করেন, তারা এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে বেশ কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। পৃথিবী থেকে আমরা রাতের আকাশে নক্ষত্র বা তারকা দেখতে পাই সুতরাং চাঁদের রাতের আকাশে তারকাগুলোকে আরো উজ্জ্বল দেখানোর কথা। কিন্তু নভোচারীরা চাঁদে গিয়ে যে ছবিগুলো তুলেছেন তাতে কোনো ছবিতে চাঁদের আকাশে তারকা দেখা যাচ্ছে না। চাঁদ থেকে ফেরার পর মহাকাশচারীরা বলেছিলেন সেখানে কোনো অক্সিজেন বা বাতাস নেই ফলে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় এক মিনিটও বাঁচা সম্ভব নয়। কিন্তু চাঁদে থাকতে মহাকাশচারীদের যে ছবি তোলা হয়েছিল তাতে দেখা যায় চাঁদে তাদের পুঁতে রাখা মার্কিন পতাকা বাতাসে উড়ছে। তাহলে চাঁদে বাতাস না থাকলে তাদের পতাকা বাতাসে উড়ছিল কীভাবে। সেটা কি তাহলে পৃথিবীর বাতাস ছিল!
ছবিতে দেখা যায় নভোচারীরা যেখানে অবতরণ করেছিলেন সেখানে পাশাপাশি বস্তুগুলোর ছায়া পরস্পরকে ছেদ করেছে এবং বিভিন্ন বস্তুর ছায়া বিভিন্ন দিকে গেছে। কিন্তু চাঁদে শুধু আলোর উৎস সূর্য হয়ে থাকলে বস্তুর ছায়া পরস্পরকে ছেদ না করে সমান্তরাল হওয়ার কথা। তাহলে কি সেখানে শুটিং করার সময় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়েছিল! মানব ইতিহাসে চন্দ্র বিজয় ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা তারপরও এই অভিযানের টেলিমেট্রি ডাটা পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য নাসা বলেছিল এই ডাটা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।
কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ডাটা তাদের কাছ থেকে কীভাবে হারিয়ে যায় সেটা একটি প্রশ্নের বিষয়। এ সব বিষয়গুলো ছাড়াও ছোটখাটো অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন লুকিয়ে আছে চন্দ্র বিজয় কাহিনীতে। চন্দ্র বিজয় কর্মকাণ্ডে জড়িত নভোচারীদের মধ্য থেকে গাস গ্রিসাম নামের এক নভোচারী চন্দ্র জয়ের পর নিহত হন। অনেকের ধারণা, তিনি আমেরিকার ওই প্রতারণার কথা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তাই তাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছিল। চন্দ্র জয় প্রসঙ্গে এ ধরনের আরও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে যেগুলোর যৌক্তিক জবাব এখনও দিতে পারে নি আমেরিকা।
- সূত্র : আইআরআইবি